চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ ইউনিয়নের ১৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, ৭ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবং ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
গত ২৮ নভেম্বর আলমডাঙ্গা উপজলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী নির্বাচনে পোলকৃত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়া প্রার্থীদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী ১৬ জনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নে মোট ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৫টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) সমীর কুমার দে পেয়েছেন ১০২ ভোট, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের শতকরা মাত্র ১ ভাগ।
চিৎলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৮২৭ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের শতকরা ৬ ভাগ। একই ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইমদাদুল হক পেয়েছেন ৬৬৪ ভোট যা, পোলকৃত ভোটের প্রায় ৫ শতাংশ। একই ইউনিয়ন অটোরিকশা প্রতীকের স্বতন্ত প্রার্থী উজির আলী পেয়েছেন ৪২ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের এক শতাংশেরও কম।
কালীদাসপুর ইউনিয়ন চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসান উল্লাহ পেয়েছেন ৬৮০ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৪ শতাংশ।
খাসকররা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশের প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন পেয়েছেন ৪১৩ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ।
ডাউকি ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউসার আহমদ পেয়েছেন ৫৯১ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের প্রায় ৪ শতাংশ। একই ইউনিয়ন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল মজিদ পেয়েছেন ৭৫ ভোট, যা ভোটের ১ শতাংশের কম। একই ইউনিয়ন স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহানুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৪ ভোট, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের ১ শতাংশের কম।
হারদী ইউনিয়নে পোলকৃত ভোটের মধ্যে মাত্র ৪২৮ ভোট পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিনুল হক, যা পোলকৃত বৈধ ভোটের শতকরা প্রায় ২ ভাগ।
ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মাত্র ৭৪ ভোট পেয়েছেন, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের এক শতাংশের নিচে।
বাড়াদী ইউনিয়ন ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৫৭০ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের ৪ শতাংশ।
জেহালা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ৩৯০ ভোট, যা ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ। একই ইউনিয়ন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ।
গাংনী ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাজিম উদ্দীন ৩১৯ ভোট পেয়েছেন, যা ভোটের প্রায় ২ শতাংশ। একই ইউনিয়ন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলাম মামুন পেয়েছেন মাত্র ২৭ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের এক শতাংশের কম।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, কোনো প্রার্থী কাস্টিং ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে না। অন্যথায় বাজেয়াপ্ত হবে। আর বাজেয়াপ্ত হলে জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।


