আগামী ২ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ কারণে ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
তিনি জানান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ পরীক্ষর্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ ও ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২। গত বছরের চেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে অংশ নেবে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭। এর মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ ও ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ পরীক্ষার্র্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ ও ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬। এছাড়া এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। যার মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ ও ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার রয়েছে। কখনো কখনো এসব কোচিং সেন্টারকে ভিত্তি করেই বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হয়। তাই সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদারক করছে।
তিনি মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কেউ যদি তার পরে আসে তবে তাকে গেটে রেজিস্টার খাতায় পরিচয় ও দেরি হওয়ার কারণ উল্লেখ করে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্রের সেট নির্বাচন কেন্দ্রে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু কেন্দ্র সচিব মোবাইল ফোন (ছবি তোলা যায় না) ব্যবহার করতে পারবেন।
যানজটের কারণে পরীক্ষার হলে পৌঁছতে শিক্ষার্থীদের দেরি হচ্ছে-সাংবাদিকরা এ বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, আগামী বছর থেকে যেসব পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রী বেশি থাকে সেগুলো দেরিতে বা ‘অফিস আওয়ার’ শুরুর পরে পরীক্ষা শুরু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেবিক্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তাদের জন্য অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় বেশি দেওয়া হবে। তবে অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেবিব্রাল পালসিদের ২০ মিনিট সময় বেশি থাকবে।
নতুন বছরে পাঠ্যবই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, প্রতিবছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে। তবে গত বছর পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা সম্ভব হয়নি, এবারও হয়তো পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।


