‘নারীর উন্নয়নে প্রতিদিন’ স্লোগান নিয়ে কাজ করছে নারীদের সংগঠন ‘উইমেন বাংলাদেশ’। সংগঠনটির সফল এগিয়ে চলার ধারাবাহিকতায় নারীদের মুখপত্র ‘ডেইলি উইমেন বাংলাদেশ’ পত্রিকায় সম্পাদক পদে যোগ দিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব রেহানা পারভীন।
রেহানা পারভীন, নামেই যার পরিচয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই স্বর্নালী সময় হাতে গোনা যে কয়জন নিউজ প্রেজেন্ট করতেন, তাদের অন্যতম এই স্মাইলী গার্ল রেহানা পারভীন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ডাকসুতে নির্বাচনও করেছেন। দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন খেলার মাঠ। বাংলাদেশ মহিলা হকি টিমের প্রথম ক্যাপ্টেন এবং জাতীয় মহিলা ভলিবল দলেরও ক্যাপ্টেন ছিলেন রেহানা পারভীন।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, এমনকি রমনা বটমূলেও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন তিনি। চার দশক ধরে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে চলেছেন রেহানা।
বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি বুকে জড়িয়ে নিয়ে গেছেন অনুষ্ঠান করতে। বঙ্গবন্ধু রেহানার ভালোবাসা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য প্রতি ওয়াক্তে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। ১৯৭২ সনের ২৬শে মার্চ আজিমপুর গার্লস স্কুলে ন্যাশনাল প্যারেডে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট প্রদান করেছেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেছেন। বঙ্গবন্ধু রেহানার মাথায় আশীর্বাদের হাত রেখেছেন। এগুলোই রেহানা পারভীনের এগিয়ে যাবার চালিকা শক্তি। আওয়ামী লীগের ৫০ বছর পূর্তির তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব একাই পরিচালনা করেছেন তিনি। যা তার পেশাগত জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে আছে। এখনও দেশে- বিদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে চলেছেন। রেহানা ঝুলিতে দর্শকের ভালোবাসাসহ সেরা প্রেজেন্টার হিসেবে বহু সংগঠনের স্বীকৃতি রয়েছে।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালিন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করছেন।
গত বছরের শুরুর দিকে মুক্তিযুদ্ধর চেতনায় অবিচল ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্যক্তি জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী রেহানা পারভীন এখনও দৈনিক ১৬ ঘন্টা কাজ করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে ‘উইমেন বাংলাদেশ’ আরও এগিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা তার সহকর্মীদের।


