ইবিতে চোরের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

0
277

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ কিংবা খোলা সব অবস্থাতেই চোরের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না। সংরক্ষিত আবাসিক এলাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ, আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঘটছে চুরির ঘটনা। এসব ঘটনা নীরব পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফলে গত এক বছরে ছোট-বড় প্রায় এক ডজনের বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে। কখনো বন্ধ হলের কক্ষের তালা ভেঙে আবার হল খোলা থাকা অবস্থাতেও ঘটছে চুরি। এসব ঘটনার একটিরও কিনারা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। চোরের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না মসজিদের সরঞ্জামাদিও। প্রত্যেক চুরির ঘটনা পাশ কাটিয়ে যাওয়া আর দায়সারা তদন্ত কমিটি করেই নীরব থাকে প্রশাসন। ফলে চুরির ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ক্যাম্পাসে কায়েম হয়েছে চোরের রাজত্ব।

কর্তৃপক্ষের দায়সারা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বুলিতে ভরসা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে বন্ধ ক্যাম্পাসে হল ও বাসাবাড়িতে মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে আতঙ্কে রয়েছেন তারা। ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই বেড়ে যায় চুরির ঘটনা। কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকবার ছুটির পূর্বে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা সেল নিয়ে কয়েক দফায় মিটিং করলেও আসলে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয় কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে ক্যাম্পাস। একইসঙ্গে বন্ধ ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে কীভাবে নিরাপত্তার চাদর ভেদ করে এসব চুরির ঘটনা ঘটছে এ প্রশ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

তথ্যমতে, সাম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক কোয়ার্টারের গ্রিল ভেঙে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিনের বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওই ভবনে থাকেন। এর আগে চলতি বছরের ৬ জুন দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের জানালা দিয়ে এক ছাত্রীর টাকা চুরি হয়। ৮ই জুন কেন্দ্রীয় মসজিদের চারটি স্ট্যান্ড ফ্যান চুরি। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ছাত্রী হলের সামনের দোকান থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি, বঙ্গবন্ধু হলের দেশীয় ব্লক-১ এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে ১০টি পিতলের পাতিল চুরি হয়ে যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি। এর আগে ১৯ জানুয়ারি ক্রিকেট মাঠ থেকে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের খেলার সামগ্রীসহ লাইট সেট চুরি হয়।

এছাড়া করোনাকালীন বন্ধে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনে অন্তত ১০টি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। যার একটিরও সুরাহ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে খালেদা জিয়া হলের পুরাতন ব্লকের নয়টি কক্ষে চুরি, সাদ্দাম হোসেন হলের চার কক্ষের তালা ভেঙে চুরি ও ওয়াশরুমের ফিটিংস চুরি, শহিদ জিয়াউর রহমান হলের চার কক্ষে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে শেখ রাসেল হলের দুই লক্ষাধিক টাকার সাবমার্সিবল পাম্প চুরির ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। চুরি হয় নির্মাণাধীন রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের নির্মাণসামগ্রী। একই সময় ভবনের সামনে থেকে একটি ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু চুরিই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংলগ্ন এলাকা থেকে এক ছাত্রীর মোবাইল ও ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধের ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- প্রশাসনের এমন আশ্বাসে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তবে লিখিত অভিযোগে কোনো কাজ তো হয়নি বরং অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে বেশ কয়েকবার হাতেনাতে চোর আটক হলেও অদৃশ্য কারণে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি চুরির ঘটনার তিন দিন পূর্বে দুই চোরকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চুরির সময় হাতেনাতে আটক হয় চোর। তার স্বীকারোক্তিমতে অন্তত দুই লাখ টাকার সমপরিমাণ চুরি করে চোরচক্র। জিজ্ঞাসাবাদে গ্যাংদের তথ্য ও শেখ রাসেল হলের সাবমার্সিবল পাম্প চুরি ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার নামও জানায়। তবে অদৃশ্য কারণে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবাসিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান বলেন, আবাসিক ভবনে চুরির ঘটনা দুঃখজনক। প্রশাসনের সঙ্গে বসে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক ভবনে সিকিউরিটি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ছোট হোক আর বড় এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছোট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে চুরির ঘটনাগুলো জানতে পেরেছি তা অধিকাংশ মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্তদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রক্টরিয়াল বডিকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here