পাচারের সময় ভিজিএফের ১২৮ বস্তা চাল জব্দ

0
232

নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দায় ভিজিএফের ১২৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চালগুলো অন্যত্র পাচারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি অভিযান চালিয়ে ওই উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বাউসাম বাজার থেকে সরকারি ওই চাল জব্দ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দার খারনৈ ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকের বাউসাম বাজারের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ের পেছন থেকে ১২৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ভেতর থেকে নৌকার উঠিয়ে পাচারের সময় ৩০ কেজি চালের ১২৮টি বস্তা জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় নৌকার মাঝি খারনৈ ইউনিয়নের গজারমাড়ি গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে জজ মিয়াকে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তাকে আটকের পর কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় পুলিশ নৌকায় থাকা আরমান (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে। আরমান গজারমারি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে।

আটক নৌকার মাঝি জজমিয়া বলেন, চালগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালামের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তাকে নৌকায় করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খারনৈ ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক জানান, উদ্ধার হওয়া চালগুলো তার নয়। তিনি গতকাল সরকারি চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে নিয়ে চাল স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করেছেন। কিছু চাল আজ শুক্রবার বিতরণের কথা রয়েছে। এই চাল তার না। তিনি ট্যাগ অফিসারকে নিয়ে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাল বিতরণ করেছেন। তিনি যড়যন্ত্রের শিকার বলেও জানান।

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, সারা দিন চাল বিতরণের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় চলে আসেন। দুই ট্যাগে ২৮ বস্তা ও এক-দুই বস্তা খোলা অবস্থায় ছিল তা দেখে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি আসার পর পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান চাল বিতরণ করে থাকতে পারে। তবে মাস্টাররোলে তিনি স্বাক্ষর করেননি।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে সরকারি সিলমোহর যুক্ত ১২৮ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বাদি হয়ে চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here