ব্যাটাররা বাজে পারফরম্যান্স করেই যাচ্ছেন। আর স্কোরবোর্ডে জমা হওয়া অল্প পুঁজি নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন বোলাররা। বড় রান ছাড়া বোলারদের লড়াইটা যে কঠিন সেটা ভালোই জানা সবার। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ১০৩ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে দল ১০৯ রানে ছয় উইকেট হারায়। এরপর সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের ১২৩ রানের জুটিতে কিছুটা মুখ রক্ষা হয়। তবে শেষ চার উইকেট পড়ে আবার ১৩ রানের মধ্যেই। শেষ পর্যন্ত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে সাত উইকেটে।
যে হারের পুরো দায় ব্যাটারদের। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পরও ব্যাটারদের আলগা শট দেখে বিরক্ত কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, ‘দুই ইনিংসেই ব্যাটিং মোটেও ভালো হয়নি। খুব বেশি আলগা আউট, ব্যাটিংয়ে বাজে সিদ্ধান্ত খুব বেশি।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫। দুই ইনিংসেই আলগা শট অনেক বেশি হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের (ব্যাটার) সবার আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। আমাদের কয়েকজন বড় ক্রিকেটার মুমিনুল, শান্তদের আত্মবিশ্বাস নেই এখন। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস অনেক বড় ব্যাপার। এই মুহূর্তে ব্যাটিং লাইন আপে সেটা নেই।’
এদিকে বোলারদের সবাই কম-বেশি অবদান রেখেছেন। তাদের চেষ্টায় কোনো কমতি দেখছেন না প্রধান কোচ। প্রথম ইনিংসে কিছুটা খারাপ করা খালেদ দ্বিতীয় ইনিংসেই নিয়েছেন প্রথম তিন উইকেট। ডমিঙ্গো বলেন, ‘বোলাররা দুই ইনিংসেই অসাধারণ বল করেছে। প্রথম ইনিংসে যেভাবে বোলিং করেছে, এতটা ভালো কমই দেখেছি। এই পিচে ২৬০ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে রাখা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। বোলারদের পারফরম্যান্সে তাই আমি গর্বিত।’ তবে খালেদকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে বলে জানালেন কোচ। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে কোনো উইকেট নেই। অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসেও আলগা বল করে প্রতিপক্ষকে সেট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিলেও খালেদকে আরও ধারাবাহিক হওয়ার পরামর্শ দিলেন ডমিঙ্গো।
তিনি বলেন, ‘খালেদ তিন উইকেট নিলেও এখনো অনেক উন্নতি করতে হবে। তাকে ধারাবাহিক হতে হবে।
অনেক সময় এমন হতে পরে যে সে ভালো বল করছে; কিন্তু উইকেট পাচ্ছে না। আবার কখনো ভালো বোলিং না করেও উইকেট পাবে। এটাই খেলার ধরন।’ এদিকে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলের বিপর্যয়ে তার ব্যাটিংয়েই কিছুটা সম্মান বাঁচিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধান কোচ অধিনায়কের কাছ থেকে চান সেঞ্চুরি।
তিনি বলেন, ‘সাকিবের ব্যাটিংয়ে সব সময়ই তাড়না দেখা যাবে, অভিপ্রায় নিয়েই ব্যাট করে সে। আমরা চাই না সে স্লগ করুক, চাই যে শুরুর ওই পর্যায়টা পেরিয়ে গেলে সে যথাযথভাবে ব্যাট করবে এবং শেইপ ধরে রাখবে।’ অ্যান্টিগা টেস্ট তিনদিনেই শেষ হতে পারত। তবে চতুর্থদিনে গড়ানো ম্যাচটি প্রথম সেশনেই শেষ হয়ে গেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ১০৩।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস ২৬৫ (ক্রেগ ব্রাফেট ৯৪, এনক্রুমা বোনার ৩৩, জার্মেইন ব্ল্যাকউড ৬৩। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/৫৯)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ২৪৫ (তামিম ইকবাল ২২, মাহমুদুল হাসান ৪২, সাকিব আল হাসান ৬৩, নুরুল হাসান ৬৪। কেমার রোচ ৫/৫৩, আলজারি জোসেফ ৩/৫৫, কাইল মেয়ার্স ২/৩০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস ৮৮/৩ (জন ক্যাম্পবেল ৫৮*, জার্মেইন ব্ল্যাকউড ২৬*। খালেদ আহমেদ ৩/২৭)।
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কেমার রোচ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।


