শিয়ালের উপদ্রবে আতঙ্কে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

0
154

ঢাকার ধামরাইয়ের বাড়িগাঁও এলাকায় বন্য শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। দলবেঁধে লোকালয়ে এসে পথচারী ও গ্রামবাসীদের এলাপাতাড়ি কামড়িয়ে আহত করছে শিয়ালগুলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুসহ ১৫ জনকে কামড়িয়ে গুরুতর জখম করেছে শিয়াল। এই ভয়ে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

আহতদের উদ্ধার করে ধামরাই সরকারি আবাসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলীমুদ্দিনের স্ত্রী দুলিমন বেগম, আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী রংমালা বেগম, সুরত আলীর স্ত্রী কাজুলী আক্তার, মো. সাহাজুদ্দিন, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হৃদয় হাসান, আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে মো. মনির হোসেন মোল্লা, মো. সোহেল রানা, মো. রেদুয়ান হোসেন ও মো. সুমন আহাম্মেদের অবস্থা গুরুতর।

এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শিয়ালগুলোতে হামলা করে একটি শিয়ালকে মারতে সক্ষম হয়েছে। এক সপ্তাহে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে শিয়ালে কামড়িয়েছে। ফলে শিয়াল আতঙ্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ ও মক্তব-মাদ্রাসায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার মনির হোসেনের পুকুর, পরিত্যক্ত খামার, স্থানীয় কবরস্থান, পরিত্যক্ত ভিটা ঝোঁপঝাড় ও বংশী নদীর অববাহিকার কাশবন থেকে এ শিয়াল লোকালয়ে এসে হামলা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিয়ালের কবল থেকে এলাকাবাসীর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মাঠে ময়দানে কাজ করা তো দূরের কথা আমরা ঘর থেকে বের হলেই শিয়াল আমাদের কামড়াচ্ছে। দলবেঁধে লাঠিসোটা নিয়ে পাহারা দিয়েও শিয়ালের আক্রমণ প্রতিহত করা মোটেও সম্ভব হচ্ছে না। এ সপ্তাহে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে কামড়িয়ে জখম করেছে শিয়াল। বিষয়টি থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও তারা এলাকাবাসীর রক্ষায় বা শিয়ালের আক্রমণ প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেননি। ফলে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েরা ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মো. নজরুল ইসলাম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, শিয়ালগুলো বেশ বড় বড়। মনিরের পুকুর ও পরিত্যক্ত খামার, বংশী নদীর তীরে কাশবন ও পরিত্যক্ত ভিটার ঝোঁপঝাড়ে রয়েছে শিয়ালের আস্তানা। এরা এতটাই সাহসী যে ২-৪ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করলেও বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here