বাঁচতে চান নাটোরের চা দোকানি আদুরী

0
217

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির নানা রোগে আক্রান্ত নাটোর শহরের উত্তর পটুয়াপাড়ার চা দোকানি আদুরী (৪৮)। গুরুতর অসুস্থ হয়ে আদুরী এখন আর তার চায়ের ছোট্ট দোকানটি চালাতে পারছেন না।

শয্যাশায়ী আদুরী জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী মীর হাসান মারা যাওয়ার পর থেকে শীতকালে ভাপা পিঠা আর অন্য সময় চা বিক্রি করে কোনো রকম তার ছোট সংসার চলে যেত। টিকা না নিলে তার কাছ থেকে মানুষ ভাপা পিঠা আর চা খাবে না এই ভয়ে তিনি কিডনির নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়েও নিয়েছেন করোনার টিকা। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর থেকেই তার তলপেটসহ প্রায় সারা শরীরে জমেছে পানি। ফুলে গেছে হাত ও পা।

সর্বশেষ লকডাউনের সময় বিকাল ৪টার পর দোকান খোলা রাখায় এক ম্যাজিস্ট্রেট চায়ের কেটলির পানি তার হাতে পায়ে ঢালার নির্দেশ দেন। ভয়ে আদুরী নিজে নিজেই গরম পানি ঢেলে দেন নিজের হাত ও পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে হাত ও পায়ে ফোসকা পড়ে যায়। খবর পৌঁছে যায় জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে তিনি ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠান আদুরীর ঘরে। ম্যাজিস্ট্রেট এসে আদুরীর হাত-পায়ের অবস্থা দেখে নিজের ভুল বুঝতে পারেন। অনুতপ্ত হয়ে বারবার আদুরীর কাছে তিনি ক্ষমা চান।

জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা করেন আদুরীর পরিবারের খাবারের। এখনও তিনি মাঝে মাঝেই খাবার পাঠান আর নিয়মিত দেন তার মাধ্যমিক পড়া মেয়ের লেখাপড়ার খরচ। ভালো চিকিৎসার জন্য নাটোরের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম লিপন তাকে পাঠিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট ডা. আজিজুল হক আব্দুল্লাহর কাছে। এখন আদুরী আজিজুল হকের অধীনে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য নিয়মিত প্রয়োজন অনেক টাকার।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আদুরীর মতো অসহায় অসুস্থ মানুষদের পাশে আমাদের সবার দাঁড়ানো উচিত। আমাদের একটু সহযোগিতাই তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারে। আদুরীর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here