সহজকে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের দায়িত্ব দিয়ে প্রথম দিনই বিপাকে রেলওয়ে

0
237

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই টিকিটিং ব্যবস্থা সচল করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন টিকিটিং অপারেটর সহজ। পুরাতন টিকিটিং অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির সমাপ্তি ও নতুন অপারেটরের কাজ শুরু কারণে প্রথমবারের মতো আন্তনগর ট্রেনের টিকিট ৫ দিনের জন্য হাতে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। এরপরও চুক্তি শুরু প্রথম দিন হোঁচট খেতে হয়েছে তাদের।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে কম্পিউটারাইজ হয়েছে প্রায় ২০ বছর হলো। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন টিকিটিং অপারেটর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ-সিনেসিস-ভিনসেস জেবি টিকিটিং পরিচালনার কাজ পায়। আর বিদায়ী অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে গত ২০ মার্চ। নতুন অপারেটের কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে ২১ থেকে ২৫ মার্চ এই ৫ দিন হাতে টিকিট দিয়েছে রেলওয়ে। কিন্তু কাউন্টারে ২৫ মার্চ ও অনলাইনে ২৬ মার্চ থেকে চালু করার কথা থাকলেও ৭৭টি স্টেশনের অর্ধেকের বেশি স্টেশনে চালু করতে পারেনি সহজ। অনলাইনে ২৬ তারিখ সকাল ৮টায় চালুর কথা থাকলেও সারাদিন চেষ্টা করেও সাইটে ঢোকা যায়নি।

লাল রঙের পোশাকে কেন আকর্ষণীয় দেখায় মেয়েদের লাল রঙের পোশাকে কেন আকর্ষণীয় দেখায় মেয়েদের
এ বিষয়ে সহজের গণযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাত আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার প্রতি মিনিটে সাইটে ২২ লাখ মানুষ টিকিট সংগ্রহের জন্য আসে, যাদের বেশিরভাগই দেশের বাইরের। আমাদের ধারণা, এটি একটি সাইবার হামলা। কারণ বিদেশ থেকে এতো মানুষ দেশে ভ্রমণের জন্য একসঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করতে সাইটে আসার কথা না।

তবে এ সমস্যা শুধুমাত্র অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্টেশনে কম্পিউটার প্রোগ্রামের কোনো সমস্যা নেই। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে, আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ৭৭টি স্টেশনে প্রায় ৪১ হাজার টিকিট বিক্রি করেছি। আমাদের প্রকৌশলীরা এটা নিয়ে কাজ করছেন। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ই-টিকিট সিস্টেম পুনরুদ্ধারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

সাইবার হামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী জানান, ওইদিন কোনো সাইবার হামলার কথা জানানো হয়নি তাদের। বরং বিপুল সংখ্যক যাত্রী অনলাইনে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে চাইলে এ সমস্যা দেখা দেয়। আমরা তাদের বলেছি। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক নাহিদ হাসান খান বলেন, একেবারেই যে ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছিলো না, তা না। হ্যা, অনেকেই টিকিট পেতে পারেননি। আগের সিস্টেমে চার মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধনের ব্যাকলগ ছিল। এখন তাদেরও আবার নিবন্ধন করতে হবে, যেন তাদের সার্ভার আরও বেশি লোড নিতে পারে।

সহজ পরিচালিত বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন ই-টিকিট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে টিকিট কেটে অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। মূল্য পরিশোধ করে গত ২২ মার্চ অনেকে টিকিট পেলেও সেটির বৈধতা নিয়ে দেখা গেছে নানান প্রশ্ন। কারণ বাংলাদশ রেলওয়ের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ২১-২৫ মার্চ পর্যন্ত স্টেশনের কাউন্টার থেকে হাতে ইস্যু করা হয়েছে শতভাগ টিকিট। এ নিয়েও অনেকে সোচ্চার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here