টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গাছা জোনের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
রোববার সকালে ‘৩৫নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও শহরের রাজবাড়ী সড়ক দফায় দফায় অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ এসে অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- ৩৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন এমএ, গাছা থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তারেক বিন রশিদ প্রিমাদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মহানগর শ্রমিক লীগ নেতা ইসরাফিল টিক্কা, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইকবাল হোসেন, ৩৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হাজী শাওন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল হত্যা, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রায় তিন ডজনের অধিক মামলার আসামি।
তাকে ‘তেল-চিনি-ডাল চোর’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনের আওতায় এনে কাউন্সিলর পদসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে গাছা থানার বোর্ডবাজারে একজন ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে টিসিবির পণ্য জব্দ করে পুলিশ। এসব পণ্য ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নির্ধারিত কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তিকারী জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে আমার নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বহিষ্কৃত মেয়র আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। রোববার বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কিছু লোকজন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলমের কয়েকজন ব্যক্তিগত কর্মচারী ও অনুসারী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণ আছে দাবি করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে আমি এর বিচার চাই। যারা টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করেছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।


