বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন। ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে অবস্থিত রেলপথের লেভেল ক্রসিং গেটটি প্রায় দুই বছর ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিনটি জায়গায় চলাচলের রাস্তা থাকলেও সেখানে কোনো লেভেল ক্রসিং না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। কিছু দিন পর পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা; যা বর্তমানে খুবই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শঙ্কায় রয়েছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র জব্বারের মোড়ে থাকা লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্যে থাকা এক সেট যন্ত্রের একটি অংশ কাজ করলেও অপর অংশ নষ্ট। ট্রেন আসার মুহূর্তে দেখা যায় গেটম্যান একপাশে যন্ত্রের মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করলেও অপর পাশ অরক্ষিত থাকে। মাঝে মাঝে অপর পাশে পতাকা নিয়ে গেটম্যানকে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি আটকাতে দেখা যায়। এরপরও কেউ কেউ বাধার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়েই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নষ্ট হওয়া যন্ত্রের সুযোগ নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন থেকে যন্ত্রটি এক বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সকলেই রয়েছে ঝুঁকিতে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশন থাকা সত্বেও তিন যুগের বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো ট্রেন থামে না। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করা হলেও বরাবরের মতো আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চাকরিপ্রার্থী প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত ঢাকায় যাওয়া আসা করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত বাড়তি ভাড়া দেওয়া, সময়মতো ট্রেনে উঠতে না পারাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন চালু করা হোক- এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনই অনেক মূল্যবান। কিছু মানুষের কাজের অবহেলায় সে জীবন নষ্ট হোক সেটা কারো কাম্য না। জব্বারের মোড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র। এমন জায়গায় লেভেল ক্রসিং দীর্ঘ সময় ধরে বিকল থাকা মেনে নেওয়ার মতো না। শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপত্তায় অবিলম্বে রেলগেট মেরামত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন অতিদ্রুত চালু করাও এখন সময়ের দাবি।
অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, আমি প্রায় ৪ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশা চালাই। এখন একপাশে একটি রেলগেট নষ্ট হওয়ায় অনেকেই রেল ক্রসিং পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, ট্রেন চলে আসছে কিন্তু পোল নামানো হয়নি, তাড়াহুড়া করে পোল নামানো হয়। এতে আমাদের ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ট্রেন ক্যাম্পাসের মধ্যে দিয়ে আসার সময়ও বোঝা যায় না পর্যাপ্ত হর্নের অভাবে।
কেওয়াটখালীতে লোকোশেডে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী কবির হোসেন রানা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপনের জন্য টেন্ডার এখনো হয়নি। যার জন্য আমরা এটি মেরামত করতে পারিনি। তবে ওপর মহলে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। আর আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাঁশের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী ক্রসিং গেট স্থাপনের ব্যবস্থা করব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।


