সরকারের দুর্নীতির কারণেই দাম বাড়ছে: মির্জা ফখরুল

0
122

সরকারের দুর্নীতির কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ চিৎকার করে বলছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, আর পারছি না। তাতে সরকারের কিছু যায় আসে না। উন্নয়ন তো হচ্ছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, এখন আর কোনো কথা নেই। একটাই কথা-এখন সরে দাঁড়াও, সরে যাও। অনেক হয়েছে, অনেক মানুষকে নির্যাতন করেছ। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছ, অনেক নেতাকর্মীকে গুম করেছ। ৩৫ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়েছ। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে জনগণই ঘাড় ধরে বের করে দেবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আরেকটা মিথ্যা কথা। কারণ যুদ্ধের আগে থেকেই তো দাম বাড়ছে। চাল-তেল-পেঁয়াজের দাম তো হু-হু করে বাড়ছেই। কারণ একটাই-সব লুট করছে, চুরি করছে, ডাকাতি করছে। আর যারা দাম বাড়াচ্ছে তারা সব আওয়ামী লীগের লোক।

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও প্রচার সম্পাদক শামসুর রহমান শামসের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কৃষক দলের নাসির হায়দার, মামুনুর রশীদ খান, এসএম ফয়সাল, আনম খলিলুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন, সৈয়দ অলিউল্লাহ সিদ্দিকী, টিএস আইয়ুব, ফজলে হুদা বাবুল, শাহ আবদুল্লাহ আল বাকী, শাহ মো. মনিরুর রহমান, মাহমুদা হাবিবা, মনিরুল ইসলাম রয়েল, ইউসুফ আলী মোল্লা, ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, সাখাওয়াত হোসেন নান্নু, শফিকুর রহমান মিঠু প্রমুখ।

টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের চরম দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা বলছে যখন সয়াবিন তেল-চাল-চিনি-লবণ-পেঁয়াজ কিনতে পারি না, বাসায় ফিরে বাচ্চাগুলোর মুখে কী দেব সে চিন্তায় পাগল হয়ে যাই। তখন এই পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু আর উন্নয়ন দেখে কি কোনো লাভ আছে? এটাই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনের কথা।

তিনি বলেন, আজকে মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্য আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই যে করুণ অবস্থা সাধারণ মানুষের, তা সরকারের গায়ে লাগে না। তাদের মন্ত্রীরা সুন্দর সুন্দর কাপড় গায়ে দিয়ে চমৎকার জায়গায় দুদিকে ফুল নিয়ে বসে বক্তৃতা দেয়, বিবৃতি দেয়। কী বলে? আরে দাম তো একটু সারা বিশ্বেই বাড়ছে, সেই সঙ্গে আমাদের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়ে গেছে।

‘ক্রয়ক্ষমতা কাকে বলে?’ প্রশ্ন করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রয়ক্ষমতা মানে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, টরেন্টো, নিউইয়র্কে যারা কেনাকাটা করে অথবা বাড়ি কিনেছে তাদের কথা বলছেন। নাকি আমাদের অসহায়, নিরীহ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতার কথা বলছেন। আমার কৃষক ভাইয়ের তো ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার একদম সোজা কথা-এই দাম বাড়ল কেন? কারণ সরকার সব চুরি করতে শুরু করেছে। চুরি বললে ভুল হবে- ডাকাতি। এসব সাধারণ ডাকাত নয়, বর্গিদের ডাকাতি। এটা বর্গির সরকার। এই সরকারের গায়ের চামড়া গণ্ডারের চেয়েও মোটা। এই সরকার স্বাধীনতাবিরোধী সরকার। এই সরকার জনগণের বিরোধী সরকার, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ মানুষবিরোধী সরকার। মানুষের জন্য এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি যদি ভোটে না যায়, কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে কথা বলতে থাকে তাহলে অতল জলে ডুবে যাবে।’ তাকে (ওবায়দুল কাদের) বলতে চাই-এত ভয় কেন নিরপেক্ষ সরকারে? এত ভয় কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে? নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার দিয়ে দেখেন না-আওয়ামী লীগ ডোবে, না বিএনপি ডোবে।

মানুষ বুঝে গেছে আপনাদের চালাকি, ছক বুঝে গেছে। এজন্য যারা অতীতে আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল তারা এখন বলতে শুরু করেছে আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মিথ্যাবাদী প্রতারক দল, এরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

এরা বিশ্বাসঘাতক দল। তথ্য সন্ত্রাস চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এখন বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্য সন্ত্রাস’। এটা কী? যেটা আসল সেটা বলা হয় না, নকলটা বলা হয়। আজকে এই সরকারের যত তথ্য সব ভুয়া। সরকার বলছে জিডিপি বেড়েছে। যে সংখ্যা বলছে তা ভুয়া। তাদের হিসাব অনুযায়ী এই জিডিপির ৪২% হচ্ছে ঋণ। অর্থাৎ আপনাকে আমাকে, আমাদের সবাইকে ঋণে জর্জরিত করে দিচ্ছে।

কৃষকদের করুণ অবস্থা তুলে ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বিএনপি যদি আবার সরকারে আসতে পারে কৃষকদের উন্নয়ন করবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here