এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

0
188

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

বায়ান্নর দিনগুলো

-শেখ মুজিবুর রহমান

মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন-১

দিনমজুর রফিক তিন বছর ধরে জেলে বন্দি। সে জানে না কী তার অপরাধ। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে স্ত্রী রাশেদা ভিক্ষা করে জীবন কাটায়। স্বামী থাকতেও রাশেদার দেখার কেউ নেই। এমন অবস্থায় রফিকের দিন কাটে চোখের জলে। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে রফিকের ঘটনা প্রচার হলে কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে রফিকের সঙ্গে কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে তাকে মুক্তি দেয়। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে আসে রফিক।

ক) শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন জেলে পাঠানোর হুকুম হয়েছে?

খ) শেখ মুজিবুর রহমান নাশতা করতে চাইলেন কেন?

গ) উদ্দীপকের রফিক কোন দিক থেকে ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনার শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা কর।

ঘ) উদ্দীপকের উদ্দিষ্ট দিক আলোচ্য রচনার একমাত্র দিক নয়- মন্তব্যের সঙ্গে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

প্রশ্ন-২

বহুজাত কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করে সাজ্জাদ। তাকে কোম্পানির নীতিনির্ধারণী সভায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হয়। কোম্পানির পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের দাবির দিকটিও তাকে মাথায় রাখতে হয়। সম্প্রতি কোনো এক সভায় তিনি শ্রমিকদের কয়েকটি মৌলিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিকে সেগুলো মেনে নিতে আহ্বান করেন। কোম্পানির প্রধান এ বিষয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে একমত হননি। ছুটিতে বাড়িতে এলে সাজ্জাদ জানতে পানে ওই দাবিগুলো কোম্পানি মেনে না নেওয়ায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে এবং কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাইরে পাঠানোও বন্ধ রেখেছে। সাজ্জাদ ভাবে কোম্পানি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি না মেনে ভুল করেছে।

ক) ফরিদপুরে শোভাযাত্রা চলে কত তারিখে?

খ) ‘ভরসা হল, আর দমাতে পারবে না’- ব্যাখ্যা কর।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সাজ্জাদের ভাবনা ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনার সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা কর।

ঘ) উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার মূল বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে কি? যুক্তি দাও।

রেইনকোট

-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) বাংলা কথাসাহিত্যে এক অসাধারণ প্রতিভার নাম। তিনি লেখার সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর কখনো জোর দেননি। বরং গুরুত্ব দিয়েছেন লেখার গুণগত মানের ওপর। জীবন ও জগৎকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন গভীর অন্তর্দৃষ্টি সহযোগে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, দারিদ্র্য, শোষণ, বঞ্চনা প্রভৃতি বিষয়কে করেছেন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের জীবনকে সামগ্রিকভাবে অনুধাবন করতে চেয়েছেন এ সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতেই। মানুষের পরম সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রান্তগুলো উন্মোচনেও তার রয়েছে গভীর দক্ষতা। মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকার আতঙ্কগ্রস্ত পরিবেশ নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনা করেন ‘রেইনকোট’ গল্প। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাক সেনারা যখন কোণঠাসা, তখন ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমণ শুরু করে। ‘রেইনকোট’ গল্পটি এমনই এক গেরিলা আক্রমণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেইনকোট প্রতীকী তাৎপর্যে বর্ণিত হয়েছে। নুরুল হুদা এ গল্পের কথক। তার জবানিতে গল্পের ঘটনাবলি বিবৃত হয়েছে। তার কথনের মাধ্যমেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনচিত্র বর্ণিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর তলবের কারণে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে কলেজে যাওয়ার জন্য নুরুল হুদা মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি পরে। রেইনকোটটি পরার পর ভীতু নুরুল হুদার মধ্যে যে সাহসিকাতর জন্ম হয়, তার অনুভূতির জগতে যে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয় তা এ গল্পে বিবৃত হয়েছে। কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার ভীতু মনে যে উষ্ণতা, সাহসিকতা ও স্বদেশপ্রেমের উদ্দীপনার জাগরণ হয়েছে তা এ গল্পকে বিশেষ তাৎপর্যময় করে তুলেছে।

‘রেইনকোট’ গল্পটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে

‘রেইনকোট’ গল্পে কিছু ঘটনার বর্ণনা সরাসরি আর কিছু ঘটনা গল্প কথকের অতীত স্মৃতি থেকে নেওয়া হয়েছে। গল্পের বর্ণনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গেরিলা আক্রমণ। এ গল্পে হাস্যরসাত্মক ভাব যতটা রয়েছে, তার চেয়েও বেশি রয়েছে প্রধান চরিত্রের অনুভূতি বিশ্লেষণ, তার সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের বর্ণনা। গল্পকথকের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রেইনকোটের ভূমিকা কেন এত কার্যকর, কেন মুক্তিযোদ্ধা মন্টুর মানসিক শক্তি নুরুল হুদাকে স্পর্শ করেছে, কেন ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদা সাহসী হয়ে উঠেছে, কেন এ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শহিদ মিনার ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে, কেন অনেক শিক্ষক উর্দুতে কথা বলার চেষ্টা করছে, কেন ইসহাককে দেখে কলেজের সবাই তটস্থ থাকে, কেন নুরুল হুদা বারবার বাড়ি পাল্টাচ্ছে, কেন নুরুল

হুদাকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে যায়-এসব প্রশ্নের উত্তর গভীরভাবে খুঁজতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here