করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব

0
170

করপোরেট কর কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা। একইসঙ্গে করদাতাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অটোমেশনে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে বুধবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় করব্যবস্থা সংস্কারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউট (পিআরআই), সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি), প্রাইস ওয়াটার হাউজকুপারস (পিডব্লিউসি)। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর সদস্য (কাস্টমস নীতি) মাসুদ সাদিক।

পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের করপোরেট কর হার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এটি কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বর্তমানে দেশের করপোরেট কর হার ৩০ শতাংশ। আর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। অথচ চীন, ভারত ভিয়েতনামসহ আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর করপোরেট কর হার ক্ষেত্রবিশেষ ১৫ শতাংশেরও নিচে। তাই ব্যবসায়ীদের কর কমানোর দাবিকে যৌক্তিক দাবি বলে মনে করেন তিনি।

পিডব্লিউসির ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থার কাছ থেকে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে কর নেওয়া হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসার উৎসাহ পান না। এই কর কমানো উচিত।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, পরোক্ষ করের (ভ্যাট) বোঝা দরিদ্র, প্রান্তিক, নিæবিত্ত, মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এতে তা দারিদ্র্য-বৈষম্য হ্রাস না করে উল্টো আরও বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে পরোক্ষ করের তুলনায় প্রত্যক্ষ করের (আয়কর) বেশি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কর-রাজস্ব ও করবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের সেসব খাত ও ক্ষেত্রকে অনুসন্ধান করা উচিত। যেখান থেকে আয়করের কথা কখনো ভাবা হয় না, যেমন- সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর, কালো টাকা উদ্ধার, পাচার করা অর্থ উদ্ধার থেকে কর আদায় করা যেতে পারে। এসব খাতে কর প্রাপ্তির সম্ভাবনা অনেক। একটু সাহসী ও উদ্যমী হলে সহজেই কর-রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা যায়।

এদিকে বিকালে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা অংশ নেন।

সভায় বিটিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, বর্তমানে সুতার ওপর কেজিপ্রতি ছয় টাকা ভ্যাট দিতে হয়। এটি তিন টাকা করা দরকার। এছাড়া বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের আয়কর হার আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাজারে ম্যান মেড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একইসঙ্গে রিসাইকেলড ফাইবারেও ব্যবহার বাড়ছে। রিসাইকেলড ফাইবার দিয়ে তৈরি সুতায় পোশাক অত্যন্ত আরামদায়ক, ফ্যাশনেবল, বৈচিত্র্যময় ও তুলনামূলক মূল্য সাশ্রয়ী। ফলে দেশি-বিদেশি ক্রেতার কাছে এই ধরনের পোশাক সমাদৃত। ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রিসাইকেলড ফাইবার আমদানিতে শুল্ক-কর মওকুফের দাবি জানান তিনি।

বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির বিপরীতে প্রদত্ত নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। শিল্পের স্বার্থে এটি প্রত্যাহার করা দরকার। এছাড়া করপোরেট কর ১২ শতাংশ ও সবুজ কারখানার জন্য ১০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ রেয়াত প্রদানের বিধান রয়েছে। কিন্তু এত কর্ম উপযোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাওয়া যায় না। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের ন্যূনতম ১ শতাংশ, ২ শতাংশ, ৩ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে ওই করদাতাকে প্রদেয় করের যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ শতাংশ কর রেয়াতের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here