প্রথমেই দেশবাসী এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০২৩ এর শুভেচ্ছা জানান তিনি।
সরকারপ্রধান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। এরপর স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাকে। শ্রদ্ধা জানান ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। সালাম জানান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মী এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে স্মরণ করেন।
২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণ করে আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
গত কয়েকদিনের শীতের প্রভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থী এবং ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল। তবে মেলার ৬ষ্ঠদিনে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়াতে অন্য দিনগুলোর তুলনায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
সেই সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে। ফলে একপ্রকার আনন্দ বিরাজ করছে মেলার স্টলগুলোর বিক্রয় কর্মীদের মধ্যে।
শুক্রবার দুপুর থেকে সরেজমিনে বাণিজ্য মেলা ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন মেলার গেট খুলে দেওয়ার পর সকালের দিকে লোক সমাগম কিছুটা কম ছিল। পরবর্তীতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগম বাড়তে থাকে এবং এক সময় ভিড়ে পরিণত হয়।
সেভয় আইক্রিম গ্যালারির বিক্রয় প্রতিনিধি নাদিয়া ইসলাম ইকরা বলেন, গত কয়েকদিন প্রচণ্ড শীতের কারণে মেলায় ক্রেতা কম ছিল। তাই বেচাকেনা তেমন একটা ভাল হয়ান। সে তুলনায় আজ ছুটির দিন হওয়ায় দর্শণার্থী বেশি। যদিও এখন পর্যন্ত বেচাকেনা কম। আশাকরি শীতের তীব্রতা কমলে বেচাকেনা বাড়বে।
বাণিজ্য মেলার ৬ষ্ঠ দিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। কেউবা এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে ছবি তুলে সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে পছন্দের পণ্যটি খুঁজছেন এবং কেনা-কাটা করছেন।
মেলায় সুপার ডুপার সবজি কাটার স্লাইসার মেশিন বিক্রি করছেন মিরপুরের বাসিন্দা আকরাম। বিগত ১৪ বছর যাবত মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এবারের মেলায় তিনি ৬ পিসের সবজি কাটার মেশিন বিক্রি করছেন। যেগুলো দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের বা আকৃতির সবজি কাটা যায়। এই ৬ পিসের সবজি কাটার দাম ১৪০০ টাকা। তবে মেলা উপলক্ষে ৫৭ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করছেন ৬০০ টাকায়।
মেলায় ‘বিনিঘর’ নামের একটি স্টলে হাতে বানানো পাটজাত পণ্য বিক্রি করছেন। তারা হাতে বানানো পাটের ফ্লোর মেট বিক্রি করছেন ১৩৯০ টাকায়। তবে মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ে এই ফ্লোর মেট বিক্রি করছেন ৯৯০ টাকায়। সঙ্গে প্লান্ট বাসকেটও বিশেষ ছাড়ে বিক্রি করছেন ৫৫০ টাকায়। এই প্লান্ট বাসকেট অনেকে ঘরে থাকা টবগুলোকে সাজানোর জন্য ব্যবহার করেন।
বিনিঘরের সিইও হোসাইন মাহমুদ এ পর্যন্ত বাণিজ্য মেলায় ৪ বার অংশ নিয়েছেন। তবে পূর্বাচলের মেলায় এবারই প্রথম তিনি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত এসএমই মেলায়ও অংশ নেন তিনি।
বিনিঘরের সিইও বলেন, পাটজাত পণ্য হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব। এগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সর্বোপরি পরিবেশকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাট জাত পণ্য আমাদের ব্যবহার করা উচিত।
মেলা থেকে পাটজাত পণ্য কিনতে এসেছেন যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা বেসরকারি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান। ঘর সাজানোর জন্য পাটের তৈরি ফ্লোরমেট, দেয়ালের ওয়ালমেট এবং ব্যাগ কিনেছেন তিনি। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ও এধরনের হস্তশিল্পের প্রতি ভালবাসা থেকে তিনি এসব পণ্য কেনেন।
শুক্রবার বন্ধের দিন উপলক্ষে মেলায় আসা যাত্রীদের জন্য ১২০টি বিআরটিসি বাস বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে দুপুর পর্যন্ত ৬৬টি বাস সার্ভিস দেওয়া শুরু করেছে। প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির শাটল সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক অফিসার জাফর আহমেদ।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের ১২০টা বাস বসুন্ধরার আশপাশে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৬টা দুপুর পর্যন্ত সার্ভিস দিচ্ছে। বসুন্ধরার বাইরে বিআরটিসি ডিপোতে আরও ৩০টি বাস রাখা আছে। শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় লোকসমাগম বাড়বে। সে কথা মাথায় রেখে আজ এতগুলো বাস নামানো। গত দুইদিন শীতের কারণে দর্শনার্থী কম থাকায় ২৫টি করে বিআরটিসির শাটল সার্ভিস চালু ছিল। আজকে মেলা ১০টা পর্যন্ত চলবে। তবে যাত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে, ততক্ষণ চলবে। একজন যাত্রী থাকলেও আমরা বাস পরিচালনা করব- এমনটাই জানিয়েছেন বিআরটিসির এই কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সময় মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সাবেক নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বলে কিছু একটা বলার আগেই মঞ্চ ভেঙে যায়। এ সময় তিনিসহ মঞ্চের অনেকেই পড়ে যান।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের মিলনমেলার মঞ্চ ভেঙে যাওয়ার পর ভিড। ছবি: আমাদের সময়
মঞ্চ ভেঙে পড়ার কিছুক্ষণ পর আবারও বক্তব্য শুরু করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকা মঞ্চ ভেঙে পড়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। মঞ্চে অনেক নেতা ছিলেন। আমি বলব, আমাদের আরও কর্মীর দরকার। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট কর্মী দরকার। এত নেতা দরকার নেই। যেকোন মঞ্চে গেলে সামনের লোকের চেয়ে মঞ্চের লোকের সংখ্যা বেশি হয়। এতো নেতা কেন?’
ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা মনে করছেন, মঞ্চে অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এর আগে বিকেল ৩টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে র্যালি পূর্ব অনুষ্ঠান শুরু হয়। গত ৪ জানুয়ারি ছিল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ র্য্যালি করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। পরে দলীয় সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। প্রতি বছর চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখায় এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রতি বছর ২৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়। তবে এ বছর ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার দেওয়া হবে। এ বছর ‘শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক’ ক্যাটাগরিতে কোনো প্রার্থী যোগ্য বিবেচিত হয়নি। সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চূড়ান্ত তালিকার অনুমোদন দিয়েছেন।
জানা যায়, চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় এ বছর যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র যৌথভাবে মাতিয়া বানু শুকু (লাল মোরগের ঝুঁটি) ও রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আকা রেজা গালিব (ধর), শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র কাওসার চৌধুরী (বধ্যভূমিতে একদিন), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা যৌথভাবে মো. সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির মাহমুদ (রাতজাগা ফুল), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী যৌথভাবে আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনোভা তামান্না (নোনাজলের কাব্য), পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতাএম ফজলুর রহমান বাবু (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পাশর্ চরিত্রে শম্পা রেজা (পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে মো. আবদুল মান্নান জয়রাজ (লাল মোরগের ঝুঁটি)।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে প্রভাষ কুমার ভট্টাচার্য্য মিলন (মৃধা বনাম মৃধা), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী আফিয়া তাবাসসুম (রেহানা মরিয়ম নূর), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া ঝিলিক (যা হারিয়ে যায়), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম (যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ গায়ক কে. এম. আবদুল্লাহ-আল-মুর্তজা মুহিন (শোনাতে এসেছি আজ-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গায়িকা চন্দনা মজুমদার (দেখলে ছবি পাগল হবি-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গীতিকার প্রয়াত গাজী মাজহারুল আনোয়ার (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ সুরকার সুজেয় শ্যাম (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার নূরুল আলম আতিক (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা তৌকীর আহমেদ (স্ফুলিঙ্গ)।
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সামির আহমেদ (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক শিহাব নূরুন নবী (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক দলগত-সৈয়দ কাশেফ শাহবাজি, সুমন কুমার সরকার, মাজহারুল ইসলাম রাজু (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক শৈব তালুকদার (রেহানা মরিয়ম নূর), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা ইদিলা কাছরিন ফরিদ (নোনাজলের কাব্য)। শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান দলগত- মো. ফারুখ, মো. ফরহাদ রেজা মিলন (লাল মোরগের ঝুঁটি)।
উল্লেখ্য, ১৬ আগস্ট জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড গঠন করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ২০২১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ২১টি পূর্ণদের্ঘ্য, ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ৭টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রসহ মোট ৪৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। পুরস্কার হিসেবে মূল্যমান নির্বাচিত প্রত্যেককে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও এককালীন নির্ধারিত পরিমাণ সম্মানী ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে। আজীবন সম্মাননার জন্য ৩ লাখ, শ্রেষ্ঠ পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের জন্য ২ লাখ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেওয়া হবে ১ লাখ টাকা।
খাটের চার কোণে পায়া থাকার কথা সেখানে শোভা পাচ্ছে ডানা মেলে দাঁড়ানো অবস্থায় চারটি কাঠের তৈরি পরী। সেই পরীদের ডান হতে রয়েছে আবার প্রজাপতি। ওই চারটি পরীর মাথার ওপর থেকে পরষ্পরের সঙ্গে সংযুক্ত কাঠের ফ্রেম। খাটের চারপাশজুড়ে ছোট ছোট পরী এবং দৃষ্টিনন্দন নকশা। যদি কোনো রাজা মহারাজা থাকতেন তবে দৃষ্টিনন্দন ওই খাটের দিকে তাদের নজর আটকে যেতো। রাজার শোয়ার ঘরেই শোভা পেতো খাটটি। তা যত দামই হোক না কেন।
সেগুন গাছ দিয়ে সম্পূর্ণ হাতে খোদাই করে বানানো রাজকীয় ওই খাট। যা নজর কাড়ছে খাগড়াছড়িবাসীর। খাগড়াছড়ির গুইমারা ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো. আবু বক্কর (৩৫) খাটটি তৈরি করেছেন।
সম্প্রতি পরী পালং খাটটির ছবি সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় খাটটি। সেটির কথা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় ছড়িয়ে পড়লে তা দেখার জন্য ভিড় করছেন।
এ খাটটি বানিয়েছেন জেলা গুইমারা উপজেলা মো. নুরন্নবী। মূলত শখের বসে কাঠমিস্ত্রি আবু বক্করকে দিয়ে কাঠটি বানিয়েছেন তিনি।
তার দাবি, কাঠের খাটটি বানাতে তার খরচ হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। পারিশ্রমিক বাবদ দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর খাটটি তৈরিতে সময় লেগেছে ৩ বছরেরও বেশি। জানা যায়, ২০১৭ সালে নুরন্নবী নিজের শখের কথা স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি আবু বক্করকে জানান। তারপর শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। সম্পূর্ণ নিজের ডিজাইনে হাতে খোদাই করে সেগুন গাছের রাজকীয় খাটটি তৈরি করে। কাঠ তৈরিতে বিভিন্ন সময় অন্য শ্রমিকদের সহযোগিতা নেয় আবু বক্কর। প্রায় ৩ বছর ৩ মাস ধরে চলে এই কাজ। কাঠ তৈরিতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১শ ফুট সেগুন গাছ। পুরো খাটজুড়ে রয়েছে খোদায় করা নকশা। বড় চারটি পরী ছাড়াও খাটটির পায়ের পাখা, জলম এবং বক্সের অংশে রয়েছে ছোট বড় আরও ১২টি পরী সদৃশ্য। সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ খাটটি তৈরি শেষে নুরন্নবীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আবু বক্করও কিশোর বয়সে কাঠের শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। তারপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন গুইমারাতে কাঠমিস্ত্রি হয়ে কাজ করছেন তিনি।
ফাতেমা এন্টার প্রাইজের সতাধিকারী মোঃ নূরন্নবী বলেন,শখের বসে খাটটি বানিয়েছি। সম্পূর্ণ হাতে খোদায় করে পরী পালং খাটটি বানানো। বানিজ্য মেলায় এখন প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে উৎসুক লোকজন খাটটি দেখতে আসছেন। এমন খাট আর একটাও নেই বললে চলে। ইতোমধ্যে ঢাকার এক ব্যক্তি ৭০ লাখ টাকা বলেছেন। আমি এক কোটি হলে খাটটি বিক্রি করবো। ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় খাটটি বিক্রির জন্য এনেছি। পরী পালং খাটটি যিনি নিবেন তার জন্য উপহার হিসেবে থাকবে এফজেট নতুন ভার্সন হোন্ডা এবং এক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার।