বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 754

পাকিস্তানের যে বাজারের ছেলেরা বলিউড নিয়ন্ত্রণ করতো

প্রাচ্য ও পশ্চিমের সঙ্গে সেতুবন্ধন সৃষ্টিকারী সিল্করুটের উপর দাঁড়িয়ে পেশোয়ার শহর। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা। বলা যায় বিশাল ভারতবর্ষের সিংহ দুয়ার। তাই প্রাচীনকাল থেকে পেশোয়ার ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এর দখল নিতে আফগানদের সঙ্গে মোগল ও শিখদের বহুবার যুদ্ধ হয়েছে। ব্রিটিশরাও লড়েছে। এখানকার অধিবাসীরা জাতিগতভাবে পাঠান। তাদের নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক মিল আফগানদের সঙ্গে। কিন্তু কয়েকশ বছর ধরে তারা ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে। এই টানাপড়েন যুগ যুগ ধরে এখানকার অশান্তির মূল কারণ।

এই পেশোয়ারের বিখ্যাত একটি বাজারের নাম কিসস্যাকাহানি বাজার। এর বয়স দুই হাজার বছরেরও বেশি। এ বাজার বিখ্যাত এখানকার মানুষের গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য। খাইবার-পাখতুন গিরিপথের মুখে হওয়ায় এখানে আসে আফগান মোগল তাজিক চৈনিক ভারতীয় গ্রিক-এশিয়া ইউরোপের প্রায় সব জাতিগোষ্ঠী। হয় রমরমা বিকিকিনি। এই বিকিকিনির সঙ্গে হয় ভাববিনিময়। বসে গল্পের আসর। গল্পের লোভে পথচলতি মানুষ দাঁড়ায়। চতুর বণিকরা এ সুযোগে তাদের পণ্য এগিয়ে দেয়। বাড়তি কিছু বিক্রি হয়। সঙ্গে ছোট ছোট বাটিতে দেয়া হয় পেশোয়ারের বিখ্যাত সবুজ চা ‘কেহওয়া’। পেশোয়ারের এক সময়কার ইংরেজ কমিশনার স্যার এডওয়ার্ড কিসস্যাকাহানি বাজারকে মধ্য এশিয়ার পিকাডিলির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

 

১৯০০ সালে কিসস্যাকাহানি বাজার

অনুপম চোপড়ার লেখায় কিসস্যাকাহানি বাজারের দারুণ এক বর্ণনা মেলে:
‘প্রাচীন তৈজষপত্র, শাল, পেশোয়ারী জুতো, শুকনো ফল, ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই এ বাজারে পাওয়া যায়। বাজারের ভারী বাতাসে মানুষের কোলাহল, মাংসের গ্রিল, তাজা রুটি আর তাজা ফলের রসের গন্ধ মিশে আছে। দোকানগুলোর উপর আছে মানুষের বাসস্থান। এই দোকানগুলোর পাশ দিয়ে সরু হয়ে ঢুকে যাওয়া অসংখ্য গলিতে আছে বিভিন্ন মহল্লা। ঘনবসতিপূর্ণ এ মহল্লার গলিগুলো এতই সরু যে কোথাও কোথাও দু’জন মানুষ পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারে না।’

এ বাজারের ঐতিহ্য গান ও কবি লড়াই। এ সাংস্কৃতিক পরম্পরা চলে আসছে কয়েকশ বছর ধরে। এর সূত্র ধরে এই বাজারের ছেলেরা একসময় বলিউড নিয়ন্ত্রণ করত। শুরুটা মূলত পৃত্থিরাজ কাপুরের হাত ধরে। ১৯২৮ সালে তিনি মুম্বাইতে গিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে ‘কাপুর সাম্রাজ্যে’র সুচনা। তারপর একে একে রাজ কাপুর, শাম্মী কাপুর, শশী কাপুর, রণধীর কাপুর, ঋষি কাপুর, রাজীব কাপুর, করণ কাপুর, কুনাল কাপুর, সানজানা কাপুর, কারিশমা কাপুর, কারিনা কাপুর, রণবীর কাপুরের আবির্ভাব। এই কাপুর পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে পরবর্তী কালে প্রতিষ্ঠা পায় বচ্চন পরিবার, নাথ পরিবার, সুরিন্দর পরিবার, পতৌদি পরিবার।

পৃত্থিরাজ কাপুরের পরপর ত্রিশের দশকে ফলবিক্রেতা পিতার হাত ধরে মুম্বাই চলে আসেন ইউসুফ খান। পৃত্থিরাজ কাপুরের ছেলে রাজ কাপুর ছিল তার শৈশবের বন্ধু। তার সহযোগিতায় তিনি বলিউডে সুযোগ পেয়ে যান। ১৯৪৪ সালে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘জোয়ার ভাটা’ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ছদ্মনাম ধারণ করেন ‘দিলীপ কুমার’। ১৯৪৯ সালে ‘আন্দাজ’ সিনেমা দিয়ে তিনি সাধারণ দর্শকের চোখে পড়েন। আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয় নি। সেই সিনেমায় সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন বাল্যবন্ধু রাজ কাপুরকে।

 

কিসস্যাকাহানি বাজারের বর্তমান অবস্থা

দিলীপ কুমারের পাশের গলি শাহওয়ালি কাতাল মহল্লা থেকে আরেক যুবক মুম্বাইতে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য। তার নাম মীর তাজ। তিনি সাফল্যের মুখ না দেখলেও তার পুত্র পরবর্তী কালে বলিউডের সুপারস্টার হন। তার নাম শাহরুখ খান।

১৯৩০ সালে এই কিসস্যাকাহানি বাজার সারা ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। ২৩ এপ্রিল গান্ধী আদর্শে বিশ্বাসী খুদাই খিদমাতগিরের নেতা আব্দুল গাফফার খান গ্রেপ্তার হলে জনতা সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ পুলিশ উন্মত্ত জনতার উপর গুলি ছুঁড়লে ৪০০ মানুষ মারা যায়।

এক সময় এ বাজার ছিল ভারতীয় কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি। প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চার জন্য এর খ্যাতি ছিল। এ অঞ্চলের মানুষ নিরঙ্কুশভাবে মুসলমান হওয়ার পরও ১৯৩৭ ও ১৯৪৬-এর নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভোট দেয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর সর্দারদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে হিন্দু-মুসলমান-শিখ দাঙ্গা লাগিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়া হয়। সকল অমুসলমানকে জোরপূর্বক দেশত্যাগ করানো হয়।

কৃষ্টি সংস্কৃতির শহর কিসস্যাকাহানি বাজার এখন জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর দখলে। আফগানিস্তান সীমান্ত খুব কাছে হওয়ায় পাকিস্তান সরকার কোনোভাবে এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ৮০-র দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র আফগান সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫০ কিমি দূরত্বের পেশোয়ার শহরকে রসদ সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। ২০০১ সালে তালেবানবিরোধী অভিযানেও পেশোয়ারকে ব্যবহার করা হয়। ২০০৭ সালে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে সারা পাকিস্তানে জঙ্গিরা সহিংস হয়ে ওঠে। পেশোয়ার তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়।

২০১০ ও ১৩ সালে এখানে বোমা হামলা হয়। এই দুই হামলায় ২৫ ও ৪১ জন নিহত হয়। ২০১৩-এর বোমা হামলা সারা দুনিয়ার মিডিয়ার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বোমা হামলাকারী ২২০ কেজি বিস্ফোরক বহন করেছিলেন। একসময় কিসস্যাকাহানি বাজার পাকিস্তানের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ২০০৭ সালের পর এখানে পর্যটক আসা বন্ধ হয়। লাগাতার বোমা হামলার মুখে থিয়েটার, সিনেমা হল, গান বাজার, গল্পের আসর সব বন্ধ।

এতো কিছুর মাঝে ১৯৮৮ সালে দিলীপ কুমার তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শহর দেখতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল কাপুর পরিবারের সদস্য। দিলীপ কুমারকে পাকিস্তান সরকার নিশান-ই-ইমতিয়াজ নামের সর্বোচ্চ বেসমারিক পদকে ভূষিত করেছে।

বাচ্চা হারিয়ে মা দুধরাজ পাখির হাহাকার

চোখে সুন্দর লাগলেই আমরা ‘সুন্দর’ বলি। কিন্তু সেই সুন্দরের অন্তঃপ্রাণে যে কোনো বেদনা থাকতে পারে, বেশির ভাগ সময়ই আমাদের চোখে পড়ে না। মানুষ যেমন মানুষের শক্র হয়, একইভাবে অন্যান্য জীব-জানোয়ার বা পাখির শত্রুও স্বগোত্রিয়রা। আজ বলবো দৃষ্টিনন্দন দুধরাজ পাখির সংগ্রামী জীবন নিয়ে।

অনেক দিন আগের কথা, পাখিটির ছবি দেখার পর পাখি বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ বার্ড ফটোগ্রাফার বন্ধুরা মন্তব্য করেন- ওয়াও, দারুণ, আউটস্ট্যান্ডিং, চমৎকার, ফ্রেমটা আরো সুন্দর হতে পারতো ইত্যাদি। যে কারো গঠনমূলক মন্তব্য কাজের প্রতি আমাকে আরো বেশি মনোযোগী হতে প্রেরণা দেয়। আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে দেখানো ভুলগুলো শোধরানোর জন্য। যা হোক এবার আসি মূল বিষয়ে।

২০১৬ সালে প্রথম এই পাখির দেখা মেলে। তারপর থেকেই পাখিটি নিয়ে জানার আগ্রহ বেড়ে যায়। পাখিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য লেখাপড়া শুরু করি। বিভিন্ন গবেষকের লেখা থেকে জানলাম এদের জীবনচক্র। অবাক হলাম এই ভেবে যে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এরা বেঁচে আছে। এরপরই পাখিটিকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বেড়ে যায়।

২০১৭ সালে পাখিটি নিয়ে কাজ শুরু করি। এদের বাসা বানানো, খাবার, চারিত্রিক বৈশিষ্ট, প্রজনন কাল, প্রজনন শেষে অবস্থান, ডিমে তা’ দেয়ার পদ্ধতি, ছানাদের পরিচর্যা এবং প্রকৃতির বিরূপ আচরণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল সবই জানা হলো। অবাক হলাম এই ভেবে যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা ভালোই জানেন তার সৃষ্টিকে কীভাবে তিনি রক্ষা করবেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রথম বছর কাজ করলাম। পরের বছর আবার সেখানে কাজ করি। তার সঙ্গে যোগ হলো রাজশাহীর বায়া। দুই জায়গায় পাখিটির মোট ১৬টি বাসার সন্ধান পাই। ১৬টি বাসায় গড়ে ৩টি করে ছানা জন্ম নিলে মোট ৪৮টি ছানা প্রকৃতিতে বসবাসের ঠিকানা পায়। অথচ মাত্র দুটি বাসা থেকে মোট ৮টি ছানার প্রকৃতিতে বসবাসের ভাগ্য হয়। একটি ময়মনসিংহে অপরটি রাজশাহীর বায়ায়।

২০১৮ সালের মে মাসের ২৭ তারিখে দুধরাজ নিয়ে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় যাই। যে জায়গায় পাখির বাসা, সেখানে পৌঁছার আগে একটি হাঁড়িচাচা পাখির দেখা পেলাম। জানা ছিল যে, হাঁড়িচাচা পাখি দুধরাজের ছানার জন্য হুমকি। এই পাখিটি দুধরাজের বাসায় হানা দিয়ে বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায়। তাই হাঁড়িচাচা পাখিটিকে ঢিল দিয়ে তাড়িয়ে দেই। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে বাসায় একটি ছানার দেখা পেলাম। এই দৃশ্য দেখে চমকে উঠলাম! সন্দেহের তীর হাঁড়িচাচার উপর।

হঠাৎ নজর পড়লো বাবা দুধরাজের উপর। অন্য একটি গাছের ডালে তিনটি ছানাকে বেঁচে থাকার কৌশল শেখাচ্ছে। বাবা দুধরাজ ছানাদের সঙ্গে নিয়েও উড়ছে। দেখার পর আনন্দে মনটা ভরে গেল। আমি ছানাদের ছবি তুলছিলাম। এমন সময় মা দুধরাজের কর্কশ চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে বাবা দুধরাজও উড়ে এলো। ব্যাপারটা বোঝার আগেই দেখলাম হাঁড়িচাচা বাসায় থাকা ছানাটিকে মুখে নিয়ে উড়ে গেল। মা-বাবার আর্তনাদ এবং চিৎকারে গোটা এলাকায় একটি হৃদয়-বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হলো। আমিও নির্বাক হয়ে মা-বাবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। ওদের সন্তান হারানোর কষ্ট সহ্য করতে না-পেরে ছবি তোলার কথাও ভুলে গেলাম। মন এতোটাই খারাপ হলো রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

আইফোন ১৩ ডিজাইন ফাঁস

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের আইফোনের নতুন সিরিজে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এতে এ-১৫ চিপ ও ফাইভজি মডেম ছাড়া প্রত্যাশিত কিছুই থাকছে না। নতুন আইফোনের ডিজাইন ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। অথচ চলতি বছরের শুরু থেকেই অ্যাপল বড় পরিবর্তনের কথা বলে আসছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ক্যামেরা ও ব্যাটারির পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন ডিসপ্লে এবং এ-১৫ চিপ ও ফাইভ-জি মডেম থাকবে। কিন্তু নতুন সিরিজে থাকছে কেবল এ-১৫ বায়োনেট চিপসেট ও ফাইভ-জি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইফোন ১৩ সিরিজে সন্তুষ্ট না হলে ব্যবহারকারীর জন্য কেবল একটি পথই খোলা রয়েছে। সেটি হলো আইফোন ১৪ সিরিজের জন্য অপেক্ষা করা। তবে নতুন আইফোন সিরিজের ডিজাইন ফাঁসের ঘটনা এই প্রথম নয়।

ফেসবুকে যেসব কাজ করা যাবে না

বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। বিশ্বে বর্তমান এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ। ফেসবুকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ফেসবুকের তিনটি প্ল্যাটফরম; মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম। এ চার প্ল্যাটফরমের কমিউনিটি গাইডলাইন মোটামুটি প্রায় একইরকম। যুগান্তরের আজকের আয়োজনে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- বিএনএস বাহার

হঠাৎ করেই ফেসবুকে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো যায় না। কখনো দেখা যায় পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ার বন্ধ হয়ে গেছে। বহু ফেসবুক ব্যবহারকারীকে এসব সমস্যায় পড়তে হয়। ফেসবুকের একেবারে সাধারণ নিয়মনীতি মেনে চললে এসব সমস্যা হয় না। ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের এই নির্দিষ্ট নীতিমালাকে বলা হয় ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’।

সাধারণ আমরা কোনো পণ্য বা সেবা নিলে সেখানে একটি নির্দেশিকা থাকে। তেমনি ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন হলো এই প্লাটফর্ম ব্যবহারকারী কমিউনিটিতে যারা রয়েছেন তাদের জন্য একটি নির্দেশিকা। এখানে কী করা যাবে, কী করা যাবে না এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ফেসবুক নিয়মিত এই নির্দেশিকা আপডেট বা হালনাগাদ করে থাকে। সর্বশেষ গত মে মাসে তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। এখানে মূলত দুই ধরনের নির্দেশিকা রয়েছে। একটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য। অন্যটি বিজ্ঞাপন দাতাদের জন্য।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ৬টি ভাগে বিভক্ত। এক. সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ। দুই. নিরাপত্তা। তিন. আপত্তিজনক কনটেন্ট। চার. সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। পাঁচ. মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রাপার্টি)। এবং ছয়. অনুরোধ ও সমাধান।

সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ

যে কোনো ধরনের সহিংসতা এবং উসকানিমূলক পোস্ট করা যাবে না। এমনকি হিংস বিষয়কে আরও বেশি প্রচারের জন্য বা বিষয়টি নিয়ে মজা করার জন্য তৈরি কোনো গ্রাফিকস পোস্টও করা যাবে না। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো-

* সহিংসতা এবং উসকানিমূলক পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং সংস্থার নেতিবাচক কার্যকলাপ পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* সংঘবদ্ধ সহিংসতা বা অপরাধমূলক কার্যক্রম পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* গণহত্যা (চেষ্টাসহ) বা একাধিক হত্যা ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* মানব পাচারকে উৎসাহিত করে এমন পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* কোনো অপরাধে সহায়তা বা অপরাধ প্রচার করে পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না।

* বিধিবব্ধ যার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন পোস্ট করা বা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না। যেমন : অ্যালকোহল ও অস্ত্র।

* জালিয়াতি এবং প্রতারণামূলক পোস্ট।

নিরাপত্তা

কোনো মানুষের জন্য কোনোভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন পোস্ট করা বা অন্যের করা পোস্ট শেয়ার করা যাবে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো-

* শরীরের নিজের তৈরি আঘাতের চিহ্ন অথবা আত্মহত্যা করার চেষ্টার ছবি পোস্ট করা যাবে না। তবে আত্মহত্যা সম্পর্কিত যে কোনো সংবাদ (বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত) শেয়ার করা যাবে।

* শিশু যৌন নির্যাতনের কোনো ধরনের লেখা, ছবি বা ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার দেওয়া যাবে না। অন্যের পোস্ট করা কনটেন্টও শেয়ার করা যাবে না।

* প্রাপ্তবয়স্কদেরও কোনো নগ্নতাপূর্ণ লেখা, ছবি বা ভিডিও পোস্ট বা শেয়ার করা যাবে না।

* ফেসবুক ব্যবহার করে কাউকে কোনো ধরনের হুমকি এবং হয়রানি করা যাবে না।

* যে কোনো ধরনের মানব শোষণের ভিডিও কিংবা ছবি ফেসবুক গ্রহণ করে না। যেমন : মানবপাচার, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক শ্রম বা অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ।

* কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফেসবুকে ফাঁস করা যাবে না। একান্ত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা যাবে না।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নিজস্ব প্রপার্টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাদের ক্রয়কৃত প্রপার্টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে মঙ্গলবার।

এতে ক্লাবটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে সব প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, ট্রেজারার, ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থেকে ক্লাবের প্রপার্টির উদ্বোধন করেন।

পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে প্রপার্টি ক্রয় এবং ক্রয়পরবর্তী মেরামতসহ প্রায় ২০০ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। এই পুরো টাকাটাই গত ২৮ বছর ধরে বিভিন্ন সময় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, নেতাদের লাইফ মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জমা হয়েছে। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে যুক্তরাজ্যে কর্মরত সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মী মিলিয়ে ৩১৭ জন মেম্বার রয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান, আমিরুল চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মুসলেহ উদ্দিন, বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়ের, কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, সহ-সেক্রেটারি মতিউর রহমান, কমিউনিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, আইটি সেক্রেটারি সালেহ আহমেদ, ইভেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ূম, পলি সুলতানা, রুপি আমিন ও শাহনাজ সুলতানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, জীবনে ব্যক্তিগতভাবে নানা প্রপার্টি ক্রয় করেছি। কিন্তু সম্মিলিতভাবে এ কাজটির শুরু আমার নেতৃত্বে হয়েছিল, সেটা আজ বাস্তবায়ন হলো- যেটা আমার জীবনের অন্যতম বড় তৃপ্তি।

সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ বলেন, গত ২৮ বছরের স্বপ্ন এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো এই প্রপার্টি। সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, প্রথম যখন ফান্ড রেইজিং শুরু হয় তখন মাইলের পর মাইল ড্রাইভ করে ব্রিটেনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েছি। এত বছর ধরে সেই টাকাগুলো সঠিকভাবে কাজে লেগেছে এটা বিশাল অর্জন।

ক্লাবের বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, এ অর্জন পুরো ক্লাবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা দায়িত্বে আছেন তাদের। আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের দাতা ও আজীবন সদস্যদের প্রতি। উনাদের সংশ্লিষ্টতা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে কমিউনিটির মধ্যে অন্যতম মর্যাদাশীল সংগঠনে পরিণত করেছে।

বর্তমান সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, এ অর্জনের সাফল্য সবার। শুরু থেকে যাদের ডোনেশন ক্লাবকে আর্থিক সম্মৃদ্ধি দিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এসে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহে অনেকে কর্পোরেট সদস্যও হয়েছেন; যা আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে।

বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম বলেন, দাতা ও সাধারণ মেম্বারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই প্রপার্টি কেনার মধ্য দিয়ে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। এখান থেকে বছরে যে ভাড়া আসবে সেটা দিয়ে ব্রিকলেনের অফিসের খরচ চলবে, সেই সঙ্গে ক্লাবের সদস্য ফি ও অন্যান্য যেসব আয় আছে সেগুলো দিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমগুলো ভালোভাবে চলবে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচতে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

শারজার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ সমিতির শারজার সহ-সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার চালোনোর প্রতিবাদে ৬ জুলাই মঙ্গলবার রাতে সারজা জেএনপি নিজ অফিস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ সপরিবারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করে আসছি। আমিরাতে শারজাহে একজন ইউজড কার অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি এবং উক্ত সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

এছাড়া বাংলাদেশ সমিতির শারজা শাখার সহ-সভাপতিসহ দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। হাটহাজারী থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা আমরা পাঁচ ভাই দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে অবস্থান করছি।

আমাদের নিজ বাড়িতে আমার বৃদ্ধ মা ও চার ভাইয়ের পরিবার অবস্থান করছে। আমি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে আমার পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমি নিজেকে বাংলাদেশের একজন দায়িত্ব সম্পন্ন সুনাগরিক বলে মনে করি। এছাড়াও আমি একজন সফল রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রেখে যাচ্ছি। তারপরও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, গত ১ জুলাই বৃহস্পতিবার আমার নিজ গ্রামের বাড়িতে একটি নিন্দনীয় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বহিরাগত কিছু বিপথগামী মানুষ ডাকাতি, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রয়াসে আমার বাড়িতে হামলা করে। তারা ভাংচুরসহ আমার বাড়ি থেকে বেশকিছু নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে। লুটপাট ও ভাংচুরের পর এসব দুর্বৃত্তরা পলায়ন করতে গেলে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের প্রয়াসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধরা পড়ে। এমতাবস্থায় আমি আমার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও আমার সামাজিক অবস্থানকে স্থানচ্যুত করার লক্ষ্যে কিছু অসৎ চরিত্র বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে আমার মান সম্মান হানি করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো কিছু পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে আমার অনুপস্থিতিতে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে কিছু স্বার্থলোভী তৃতীয় পক্ষ।

তাদের প্রধান লক্ষ্য আমার মনোবল নষ্ট করে আমার সামাজিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা। আরো কিছু এলাকার অসাধু চরিত্রের লোক আমার বৃদ্ধ মা ও কিছু আত্মীয় স্বজনকে প্ররোচিত করে স্বার্থোদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং তাদের দ্বারা কৃত ঘৃণ্য অপরাধের দায়ভার আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার পরিবার আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের মালামালের ক্ষয়ক্ষতি আমার কাছে মুখ্য নয়। আমি প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যে, তারা সঠিক সময়ে আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি হওয়ার পূর্বেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সবুর, সংগঠক মহিউদ্দিন মহিন, মহিউদ্দিন ইকবাল, আলম গফুর, মোহাম্মদ বদিউল আলম, তহিদুল আলম জিলানী, মোহাম্মদ আমিন, মোহাম্মদ আবু বক্কর, মীর কামালসহ বাংলাদেশি বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

ওয়ালটন ডিজি-টেকে একাধিক চাকরির সুযোগ

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ‘ব্র্যান্ড ম্যানেজার-আইটি প্রডাক্টস’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

পদের নাম: ব্র্যান্ড ম্যানেজার-আইটি প্রডাক্টস
পদসংখ্যা: ০২ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/এমবিএ ইন মার্কেটিং
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ২৬ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের শেষ সময়: ২৪ জুলাই ২০২১

টিএসএস পদে চাকরির সুযোগ দিচ্ছে এসিআই

অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে (এসিআই) ‘টেরিটরি সেলস সুপারভাইজার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই)
বিভাগের নাম: ফুড কমোডিটি

পদের নাম: টেরিটরি সেলস সুপারভাইজার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/বিবিএ/এমবিএ
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়স: ২৫-৪০ বছর
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ জুলাই ২০২১

সংসার খরচ বাঁচাতে যা করবেন

কথায় আছে, অভাব যখন দরজা দিয়ে ঢোকে প্রেম তখন জানালা দিয়ে পালায়। সেই কথা সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন, জীবনে ভালো থাকতে গেলে সংসারে সচ্ছলতা খুব দরকার। তাই আয় অনুযায়ী ব্যয় করার পাশাপাশি সঞ্চয় করা উচিত। সংসারের অপচয়ও কমাতে হবে। একটু কৌশলী হলে বাঁচাতে পারেন সংসারের বাড়তি খরচ।

অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন
কোন খাতে কতটা খরচ করবেন তা ঠিক করে নিন। অতিরিক্ত খরচ করবেন না। আয় বুঝে খরচ করুন। কেউ হয়তো ডিপ ফ্রিজ কিনলো, সেটা হয়তো তার প্রয়োজন। কিন্তু এখন যদি আপনি তার কেনা দেখে অপ্রয়োজনে একটা ডিপ ফ্রিজ কিনে ফেলেন তাহলে সেটা কিন্তু আপনার জন্য বাড়তি খরচ। তাই কারো সাথে অসুস্থ প্রতিযোগিতা করবেন না।

অপ্রয়োজনে খরচ করবেন না
আগে থেকেই সংসারের ব্যয়ের হিসাব ঠিক করে রাখুন। এবার ঠিক করুন কোন কোন খাতে চাইলেই আপনি খরচ কমাতে পারবেন। যেমন, আপনার বাসায় যদি এসি থাকে তাহলে অপ্রয়োজনে সব সময় তা চালিয়ে বিদ্যুতের খরচ কমাতে পারেন।

ব্যয়ের সমতা রাখুন
যদি দুজনেই আয় করেন তাহলে ব্যয়ের মধ্যে সমতা রেখে চলুন। সংসারের খরচ ভাগ করে নিন। একজনের উপর সব চাপিয়ে দেবেন না। কেউ সংসারে খরচ করলে অন্যজন ঋণ মেটান। প্রয়োজনে আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট করে রাখুন। এতে দুজনের সমঝোতায় বাড়তি খরচ অনেকটাই কমাতে পারবেন।

চিকিৎসা খাতে টাকা রাখুন
চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে অবশ্যই কিছু টাকা আলাদা করে রাখবেন। এতে হঠাৎ প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়বেন না।

মাসিক বাজার একসাথে কিনুন
কাঁচা বাজার ছাড়া চাল, ডাল, তেল, লবনসহ বাকি সব কিছু এক মাসের জন্য একবারে কিনে রাখুন। এতে আপনার বারবার বাজারে যাওয়ার জন্য খরচ আর সময় দুটোই বাঁচবে।

শমসেরনগর গলফ গ্রাউন্ডে

জরের আজানের সুমধুর কণ্ঠ ধ্বনিত হচ্ছে। সূর্যদেব তার নয়ন তখনো মেলেনি। আমরা নিদ্রা ভঙ্গ করে নতুন গন্তব্য পানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম।

আমাদের আজকের গন্তব্য সিলেটের ভানুগাছে। সকাল বেলার ট্রেনে চেপে যেতে হবে গন্তব্য পানে। এরপরও মানে দিবা দ্বিতীয় প্রহরেও ট্রেন আছে কিন্তু যত আগে ভানুগাছ পৌঁছতে পারব তত বেশি সময় পাব ঘুরার জন্য। তাই সেই ভোর ছয়টা পঁয়ত্রিশের পারাবত ট্রেনই আমরা বেছে নিলাম।

আমরা বের হলাম আমাদের অস্থায়ী ডেরা থেকে। রাস্তায় জনমানবের পদচারণা নেই বললেই চলে। কিছু সময় অপেক্ষা করতে হলো ত্রি-চক্রযানের জন্য। ত্রি-চক্রযানে চেপে এগিয়ে চললাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা পৌঁছলাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। প্রথমে ভেবেছিলাম এত সকাল বেলা হয়তো যাত্রী কম হবে কিন্তু আমার ভাবনা ভুল; যাত্রীতে ভরপুর ট্রেনের বগি।

 

ট্রেন ছুটে চলছে স্নিগ্ধ সকালে। এয়ারপোর্ট স্টেশনে খানিক সময় বিরতি দিয়ে ছুটে চলল ট্রেন। সূর্যদেব নয়ন মেলার পূর্বেই ঘুম থেকে উঠেছি তাই ঘুমের ভাব এখনো কাটেনি। চলতি পথে কখন যে নিদ্রাদেবীর আবেশে চলে গেলাম টেরই পেলাম না। ভ্রমণসঙ্গী সহধর্মিণী সানন্দার ডাকে নিদ্রা ভঙ্গ হলে ঘড়ির কাঁটায় তাকিয়ে দেখি সকাল এগারোটা বাজে বাজে। ভ্রমণসঙ্গী সাথে সাথে বলে উঠলেন ভালোই তো ঘুম দিলে।

আমরা পৌঁছলাম ভানুগাছ স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমেই আমরা এগিয়ে চললাম শমসেরনগরে অবস্থিত সুইস ভ্যালি রিসোর্টের দিকে। সূর্যদেবের প্রখরতা সড়কজুড়ে। স্বল্প সময়ের ভেতরে আমরা এসে পৌঁছলাম সুইস ভ্যালির প্রবেশ দ্বারে। অনেক দিনের পরিকল্পনা শেষে আজ পৌঁছলাম সুইস ভ্যালি রিসোর্টে। বেশ ছিমছাম সুন্দরভাবে গোছানো রিসোর্ট। রিসোর্টের কর্মীরা আমাদের রুমে পৌঁছে দিলেন।

 

কিছু সময় বিশ্রাম নিয়েই তৈরি হয়ে নিলাম নতুন গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য। কিন্তু কোথায় যাব কিছুই তো চিনি না। রিসোর্টের কর্মীদের কাছে জানতে চাইলাম আশপাশে ঘুরতে চাই- কোথায় যাওয়া যায় আর গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা কী? উনারা বললেন কিছু দূরে গেলে পাবেন শমসেরনগর গলফ ক্লাব; যা গুলটিলা নামেও পরিচিত। চা বাগান ঘেরা সবুজের মাঝে গলফ ক্লাবে ঘুরে আসতে পারেন। আমি বললাম যাবো কীভাবে? বললেন আমরা গাড়ি ঠিক করে দিচ্ছি। আমাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে দিলেন রিসোর্টের কর্মীরা।

অল্প সময়ের মাঝে আমরা রওনা দিলাম গন্তব্য পানে। আঁকা-বাঁকা পথ, কোথাও মসৃণ আবার কোথাও অমসৃণ। আমরা চলছি শমসেরনগর গলফ গ্রাউন্ডের দিকে। চলতি পথে দেখতে পেলাম চা বাগানের কর্মীরা চা পাতা তুলছেন। আশপাশে চা গাছ নতুন গজিয়েছে। চা বাগানের সবুজ সতেজ দৃশ্য আমাদের ছয় ঘণ্টার ভ্রমণ ক্লান্তি যেন নিমিষে দূর করে দিল। দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছলাম গলফ গ্রাউন্ডে। গলফ গ্রাউন্ডে প্রবেশ পথেই বাধার সম্মুখীন হতে হলো। বড় সাহেব আসবেন খেলতে তাই মাঠে প্রবেশ করা যাবে না। অনুরোধ করার পর প্রবেশ করার অনুমতি পেলাম। দেখে মনে হলো সবুজ ঘাসের গালিচা।

এখানে চারটি মাঠ আছে। মাঠের পাশে বসার জন্য বেঞ্চ করে দেয়া আছে। অসাধারণ পরিবেশ, নেই কোনো নগর জীবনের যন্ত্রণা। পদব্রজে আমরা সম্মুখপানে এগিয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে গাছের ছায়া ক্লান্ত পথিককে প্রশান্তি দিচ্ছে। আমরা এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। বেশ ভালোই লাগছিল। আমরা ঘাসের উপর পা ছড়িয়ে বসলাম। আমাদের ভ্রমণে পথ প্রদর্শক রাহাত ভাই আমাদের দুইজনের ছবি তুলে দিলেন।

কিছু দূরে যেতেই দেখা পেলাম লেকের। লেকের জলে ভেসে আছে পদ্ম ফুল। রোদের ঝলকানি আর তার মাঝে পদ্ম ফুলের মিতালী যেন এক অন্যরূপ ফুটে উঠেছে প্রকৃতির মাঝে। আমি একের পর এক ছবি তুলতে লাগলাম। বলে রাখা ভালো গলফের উদ্ভব নিয়ে প্রচুর বিতর্ক আছে।

কোনো ঐতিহাসিকের মতে প্রাচীন রোমান খেলা পাগানিকা, যাতে অংশগ্রহণকারীরা একটি বেঁকানো লাঠি দিয়ে চামড়ার বল মারতে হতো। এটা থেকেই গলফের উদ্ভব। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে রোমানদের সাথে এই খেলা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে ও আস্তে আস্তে আজকের গলফের চেহারা নেয়। অন্যদের মতে, অষ্টম ও চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যে চীনের চুইওয়ান (“চুই” মানে মারা ও “ওয়ান” মানে ছোট বল) খেলাই গলফের পূর্বসূরি।

মধ্যযুগে এই খেলা ইউরোপে আসে। ইংল্যান্ডের ক্যাম্বুকা বা ফ্রান্সের ক্যাম্বট আর একটি প্রাচীন খেলা; যার সাথে গলফের সাযুজ্য আছে। পরে এই খেলা “পেল মেল” নামে ছড়িয়ে পড়ে। কারো মতে, পারস্যের চুঘান থেকে গলফের সৃষ্টি। ওদিকে হল্যান্ডের লোনেনে পঞ্চম ফ্লোরিসের খুনির ধরা পড়ার দিনটি মনে রাখতে কোলভেন নামে বাঁকা লাঠি ও বলের একটি বার্ষিক খেলা প্রচলিত ছিল ১২৯৭ সাল থেকে।

তবে বহুল স্বীকৃত মত অনুযায়ী, আজকের গলফের উদ্ভব দ্বাদশ শতাব্দীর স্কটল্যান্ডে। সেখানে আজকের সেন্ট অ্যান্ড্রুজের পুরনো মাঠে মেষপালকেরা খরগোশের গর্তে পাথর লাঠি দিয়ে মেরে ঢোকাতো।

আমরা পদব্রজে হেঁটে চলছি; সূর্যদেবের প্রখরতায় বেশ ঘামছিলাম। হঠাৎ দেখা পেলাম ক্লান্ত খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি ঘরের। ছনের চাল দেয়া; যার দরুন ঘরের ভেতর যেন শীতল প্রশান্তি। দেখতে দেখতে কীভাবে যে সময় পেরিয়ে গেল টেরই পেলাম না। আমরা ফিরে চললাম।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেনে বা সড়কপথে সরাসরি শমসেরনগর আসা যায়। ঢাকা থেকে আন্ত:নগর উপবন ট্রেনে সরাসরি শমসেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে নামা যাবে।

এছাড়া আন্ত:নগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সাত কিলোমিটার দূরের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে নেমেও আসতে পারেন শমসেরনগর। আন্ত:নগর পারাবত ট্রেনে শ্রীমঙ্গল অথবা কুলাউড়া স্টেশনে নেমেও আসা যাবে। সেখান থেকে শমসেরনগর গলফ গ্রাউন্ডে যাব বললেই নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।