সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 688

পদ্মার চরে রাসেল ভাইপারের কামড়ে জেলের মৃত্যু

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে রাসেল ভাইপারের কামড়ে সুবহান উদ্দিন শেখ (৩৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সুবহান উদ্দিন শেখ পদ্মার চকরাজাপুর ইউনিয়নের দাদপুর চরের তৌলিফ উদ্দিন শেখের ছেলে।

সূত্র জানায়, সুবহান শেখ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালিদাসখালী পাকা রাস্তার পাশে পদ্মা নদীতে ছ্যাকনা জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে হঠাৎ বিষধর রাসেল ভাইপার তাকে কামড় দেয়। ঘটনার পর তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

ঘটনা নিশ্চিত করে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, সাপ কামড় দেওয়ার পর সুবহান চিৎকার করছিল। এ সময় এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তার পাশে থাকা সাপটিকে ধরে মেডিকেলে নিয়ে যায়। সাপটি দেখে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেননি।

বিষাক্ত রাসেল ভাইপার এ বছর বন্যার পানিতে ভেসে এসে পদ্মার বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে চরের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।

যুবকের পেট থেকে উদ্ধার হলো আস্ত মোবাইল

কয়েক দিন ধরেই পেট ব্যথায় ভুগছিলেন এক যুবক। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ভর্তি হন হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পাকস্থলীতে ‘অচেনা বস্তুর’ উপস্থিতি দেখতে পান। ওই বস্তু অপসারণে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে অস্ত্রোপচারের পর তার পেট থেকে আস্ত একটি মোবাইল উদ্ধার করে চিকিৎসকরা।

আরব নিউজ রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিসরের ওই যুবক স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড পেট ব্যথা নিয়ে আসওয়ান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালের কর্মীরা ওই যুবকের পেটে মারাত্মক সংক্রমণ দেখতে পান। ওই যুবকের পেটে এক্স-রে করা হয়। এক্স-রে ‘অচেনা বস্তুর’ উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা পেট থেকে ছোট একটি আস্ত মোবাইল অপসারণ করা হয়। পরে জানা যায়, কয়েকমাস আগে মোবাইল ফোনটি ওই যুবক গিলে ফেলেছিলেন। মোবাইল ফোনের কারণে তার খাদ্য হজমে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য তার পেটে সংক্রমণও দেখা দেয়।

অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবকের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে কেন তিনি মোবাইল ফোন গিলে ফেলেছিলেন তা জানা যায়নি।

কারাগারে ফিরতেই হবে, আতঙ্কে সময় কাটছে নাজানিনের

পাঁচ বছর জেল খেটেছেন ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী নাজানিন জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে ফের তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। তবে কোনো শুনানি ছাড়াই তার আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ২০১৬ সালে নাজানিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই কারাদণ্ডের মেয়াদ গত মার্চে শেষ হয়। এরপর এপ্রিলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় দফায় আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

তবে প্রথম মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে শেষের এক বছর প্যারোলে মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন নাজানিন। দ্বিতীয় মেয়াদের সাজা কাটাতে তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হতে পারে বলে উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের।

নাজানিনের স্বামী রিচার্ড র‌্যাটক্লিফ বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কখন তলব করা হবে তার স্ত্রী এই দুশ্চিন্তায় আছেন। জেলে ফেরার কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তিনি। আপিল আবেদন খারিজ হওয়ার দিন তিনি বেশ কয়েকবার মেয়েকে ফোন করেছেন। তার আশঙ্কা, তার কারাগারে ফিরে না যাওয়ার বিকল্প নেই।

২০১৬ সালের পর থেকে নাজানিন ও স্বামী র‌্যাটক্লিফের মুখোমুখি দেখা হয়নি। নাজানিনের গ্রেফতারের সময় মেয়ে গ্যাব্রিয়েলা তেহরানে মায়ের সঙ্গেই ছিল। ২০১৯ সাল থেকে বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে থাকছে সে।

গ্রেফতারের সময় নাজানিন দাতব্য সংস্থা থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইরানি নববর্ষ উlযাপন ও মা-বাবাকে দেখতে মেয়েকে নিয়ে তেহরান যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তেহরানে সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে জড়িত নাজানিন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড অভিযোগ তোলে, তেহরানে বেড়াতে আসার নামে একটি বিদেশি মদদপুষ্ট শত্রু নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এ ত্রাণকর্মী।

ইরানের কারাগারে নাজানিনের মতো পশ্চিমা দেশের অনেক পাসপোর্টধারী বন্দি আছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে ইরান সরকার এ রকম জিম্মি নীতি গ্রহণ করেছে।

অলস অর্থ উদ্ধার

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনার কার্যক্রম ঢিমেতালে চলার সংবাদ অনভিপ্রেত। উল্লেখ্য, স্বায়ত্তশাসিতসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে লাগাতে একটি আইন করেছে সরকার। এটি হলো ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন’, যা ২০২০ সালে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এই আইনের আওতায় সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব পরিচালনা, স্বঅর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে যে পরিমাণ অর্থ লাগে, তা তাদের তহবিলে জমা রাখার পাশাপাশি আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ অর্থ সংস্থাগুলো সংরক্ষণ করতে পারবে। এছাড়া সংস্থার কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ সংরক্ষণের পর যে টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে, তা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। আইনটি পাশ হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ৬১টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনতে পারলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তা ব্যয় করা যাবে, তা বলাই বাহুল্য। আশঙ্কার বিষয় হলো, এরই মধ্যে অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলছে। উদ্বৃত্ত অর্থ উদ্ধার না করা হলে এক সময় তা অনুদান ও ভর্তুকি হিসাবে চলে যাবে, যা মোটেই কাম্য নয়। বস্তুত উদ্বৃত্ত টাকাগুলো বিভিন্ন ব্যাংকে পড়ে আছে। কাজেই এগুলো পুরোপুরিভাবে উদ্ধার হলেও ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের আর্থিক খাতে কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না বলেই মনে হয়। গত দুই অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিলে মোট অলস টাকার পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, টাকাগুলো ব্যাংকে রেখে বড় অঙ্কের সুদ নেওয়া হচ্ছে। এমন কী এ ধরনের সুদ আয় হিসাবে দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা দেওয়ার মতো ঘটনাও ইতঃপূর্বে ঘটেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় উদ্বৃত্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হতো না। শুধু তাই নয়, এ টাকা দিয়ে নতুন কোনো প্রকল্পও গ্রহণ করা হতো না। এ অবস্থায় আইনি বাধ্যবাধকতায় টাকা উদ্ধার হলে তা ঘাটতি বাজেট পূরণে যেমন সহায়তা করবে, তেমনি সরকারের অনেক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কাজ, যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না, সেখানে এ অর্থ ব্যয় করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে।

বন্ধকি সম্পদ বিক্রিতে পরিচালকদের জালিয়াতি রোধে কঠোর তদারকি

ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের জালিয়াতি ঠেকাতে তদারকি জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর বন্ধকি সম্পদ বিক্রির তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদের মূল্য বিভিন্ন সময়ে কত ছিল সেসব তথ্যও জানাতে হবে। সম্পদ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করলে সে বিষয়েও কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, বন্ধকি সম্পদ বিশেষ করে জমি, ভবন বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানাভাবে জাল জালিয়াতি করে। এসব সম্পদের মূল্য কম দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রি করে এগুলো পরিচালক বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডাররা বঞ্চিত হয়। এ প্রবণতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন প্রক্রিয়ায় তদারকি জোরদার করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপে বকেয়া ঋণ আদায় বাড়াতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ জমি, ভবনসহ অন্যান্য নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রি করে সেসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতি ছয় মাস পরপর জানাতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদ বিক্রির তথ্য প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বর ভিত্তিতে জানাতে হবে। ওই দুই মাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট ছকও পাঠিয়েছে। নন ব্যাংকিং সম্পদের মধ্যে জমি, ভবনসহ অন্যান্য সম্পদের মধ্যে যেগুলো থেকে আয় হয় এবং যেগুলো থেকে আয় হয় না সেসব সম্পদের তথ্যও আলাদাভাবে দেখাতে হবে। সম্পদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ উল্লেখ করতে হবে।

একই সঙ্গে সম্পদের বিভিন্ন সময়ের মূল্যের তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এর মধ্যে সাত বছরের কম সময়ের, ৭ থেকে ১২ বছরের এবং ১২ বছরের বেশি সময়ের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ব্যাংকগুলো কী সম্পদ, কী পরিমাণে এবং কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে সেসব তথ্যও জানাতে হবে। কোনো নন ব্যাংকিং সম্পদকে স্থায়ী সম্পদে রূপান্তর করে থাকলে সেগুলোর তথ্যও জানাতে হবে।

সূত্র জানায়, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে দুটি সার্কুলারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে। এর মধ্যে ঋণ দেওয়ার সময় বন্ধকি সম্পদের মূল্য কত ছিল। ঋণটি খেলাপি হওয়ার পর বিক্রির সময় এর মূল্য কত হলো। আগের মূল্যের চেয়ে বিক্রি মূল্য কম হলে কেন কম হলো তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কারণ গ্রহণযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে ব্যাংকের এমডিকেও জবাবদিহি করতে হবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্পদকে কম দামে নিলাম করে পরিচালক বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কেনা হয়েছে। এভাবে অনেক পরিচালক ব্যাংককে বঞ্চিত করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন। এ প্রবণতা ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নন ব্যাংকিং সম্পদের ওপর তদারকি বাড়িয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বন্ধকি সম্পদ ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়লেই গ্রাহককে নোটিশ দিয়ে ব্যাংক সরাসরি বিক্রি করতে পারে। এতে ঋণের টাকা পরিশোধিত না হলে ঋণ গ্রহীতার অন্য সম্পদের ওপর ব্যাংক অধিকার দাবি করে মামলা করতে পারে।

বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টায় সরকার: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতায় টিকে থাকতে স্পর্শকাতর বিষয়ে উসকানি দিয়ে সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার শুরু থেকেই সরকার বিএনপিকে জড়ানোর অচেষ্টায় লিপ্ত। শুধু এখন নয়, যখনই দেশে কোনো ঘটনা ঘটে তখনই সেখানে বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ কাজগুলো করে আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় সরকার এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। রোববার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের মদদপুষ্টেই দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি দলটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। তাদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এই দুষ্কৃতকারীরা প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের লোক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের নিরাপত্তার অভাবসহ যেসব সংকট রয়েছে সেখান থেকে দৃষ্টি দূরে সরাতে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। সরকার তার এজেন্ট দিয়ে ঘটিয়ে গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির সংগ্রামকে ভিন্ন খাতে নিতে চাচ্ছে। বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের উদাসীনতার কারণে এগুলো হয়েছে। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নানুয়া দীঘির পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াত না। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের এসএম জাহাঙ্গীর, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, পবিত্র কুরআন অবমাননা, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে নিরাপত্তা বিধান না করে হামলা-ভাঙচুর-সংঘাত ও সংঘর্ষকে উসকে দিয়ে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে সরকার। এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চক্রান্তে মেতে উঠেছে ক্ষমতাসীনরা। গণতন্ত্রের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সাম্প্রদায়িক সংঘাতের উপকরণ ছড়িয়ে সহিংস রক্তাক্ত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্তার ভূমিকায় অভিনয় করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদৃষ্টি পেতে চায়। কিন্তু বর্তমান যুগে কিছুই ঢেকে রাখা যায় না। সত্য প্রকাশ পাবেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাদের নামে গুজব ছড়াতে প্রায় এক লাখ লোক ভাড়া করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার সঙ্গে ফোনালাপের একটি অডিও কল ভাইরাল করা হয়েছে। কণ্ঠ কাটপিস করে সুপার এডিটিংয়ের মাধ্যমে বানোয়াট ফোনালাপ ইতোমধ্যে অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ভাইরাল করা হয়েছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করা হয়েছে মর্মে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এই প্রযুক্তির যুগে কণ্ঠের শব্দ ভেঙে-ভেঙে নানা কিছু করা যায়। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কথায় এটা প্রমাণিত যে, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে ফোনালাপ ভাইরাল করা হয় সেটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। এই চক্রান্তমূলক ফোনালাপ ভাইরালের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন পবিত্র কুরআন অবমাননা, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটল। এখন একটি প্রশ্ন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, কে বা কারা পবিত্র কুরআন শরিফ পূজামণ্ডপে নিয়ে গেছে? সরকারের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পর কেবল ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট দুষ্ট চক্র ছাড়া দেশের জনগোষ্ঠীর কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ই এই কদর্য কাজ করবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা মন্দিরে হামলা করেছে তাদের পেছনেও সরকারের মদদ আছে। কুমিল্লার ওসিকে এখনো কেন বরখাস্ত করা হয়নি? তিনি বলেন, হিন্দুদের তাড়াতে পারলে সম্পত্তি পায়, আর রাখতে পারলে ভোট পায়।

নোয়াখালীর চৌমুহনী মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে যেই অপরাধী হোক, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

‘যারা রাজপথ পাহারা দেবে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থান করলেও দল পুনর্গঠনে কাজ করছেন। তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি নতুন রূপরেখা দিয়েছেন। সেই রূপরেখা অনুসরণ করে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠিত হবে। আগামী দিনে যারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে পারবেন, রাজপথ পাহারা দিতে পারবেন, আন্দোলনের সময় রাজপথে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবেন- তাদেরই দলের নেতৃত্বে আনা হবে।’

রোববার নগরীর দৌলতপুরের ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল এসব কথা বলেন।

থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মিসভার উদ্বোধন করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি শেখ তৈয়েবুর রহমান। থানা কমিটির সদস্য সচিব আল আমিন সরদার রতনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম মুর্শিদ কামাল, আজিজুল হাসান দুলু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, এহতেশামুল হক শাওন প্রমুখ।

কর্মিসভায় বকুল আরও বলেন, এ সরকার দিনের চাইতে রাতের বেলায় কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা রাতের বেলায় ভোট করে। রাতের অন্ধকারে শাসক দলের সোনার ছেলেরা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে। আর পরিকল্পিকভাবে শিল্পনগরী দৌলতপুরের একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। কাজের অভাবে শ্রমিকদের রিকশা কিংবা ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতে হয়। বন্ধ মিলের জমি দখল করে নেয় শাসক দলের নেতারা। সাংবাদিকরা সত্য বলতে পারেন না।

প্রবাসী সাংবাদিকের বোনকে মিথ্যা অজুহাতে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়। সাগর-রুনী হত্যার বিচার হয় না। সরকার উন্নয়নের গল্প শোনালেও রাতের বেলায় বানানো রাস্তা, সকালে উঠে দেখা যায় পিচ উঠে গেছে। এই হচ্ছে লুটপাটের উন্নয়ন।

দুই বিষয় সামনে রেখে চলছে তদন্ত

কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হামলার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ইউনিট। এক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তাদের তদন্ত চলছে। প্রথমত, দেশের একাধিক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। দ্বিতীয়ত, তৃতীয় কোনো শক্তি। এছাড়া বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধন আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তদন্ত যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে খুব শিগগির দায়ীরা গ্রেফতার হবে বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন দু-তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রীতি বিনষ্ট করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারও ইন্ধনে হয়েছে। এর সঙ্গে তৃতীয় কোনো শক্তিও জড়িত থাকতে পারে। আমরা অনেক কিছুই দেখছি, অনেক কিছুই অনুমান করছি। প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব। ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এটি আমরা আরও ক্লিয়ার করতে পারব। একটা নির্ভুল তদন্তের পর সব ঘটনা জানাব।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু কুমিল্লায় নয়; রামু, নাসিরনগরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মান্ধ নয়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে-আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার।’

সাম্প্রতিক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে দফায় দফায় বৈঠক করছেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের হাইকমান্ডও বৈঠক করছে। রোববারও পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিমা ভাঙচুরের উসকানিদাতা ও হামলায় জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পুলিশের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তদন্তে ইতোমধ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এসব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে ফেসবুকের দুইশ’ এডমিনের প্রোফাইল কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। এমনকি কয়েকজনের ভয়েস বার্তাও পেয়েছে পুলিশ। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরিফ রাখার ঘটনার জেরে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শনিবার রাতে ফেনীতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত ৩৫টি পূজামণ্ডপে হামলা করে মূর্তি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। মণ্ডপে হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের ধরতে পুলিশের সব কটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও মেট্রো পুলিশ কমিশনাররা আলাদাভাবে বৈঠক করে নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন থানার ওসিদের। পাশাপাশি সবকটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে আছে। হামলার আশপাশে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিমা ভাঙচুরে যারা অংশ নিয়েছে ওইসব ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আড়ালে থেকে যারা উসকানি দিয়েছে তাদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়াদের পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও মণ্ডপে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের জোরালো চেষ্টা চলছে। সর্বশক্তি দিয়েই তদন্ত চলছে। যারা মণ্ডপে কুরআন শরিফ রেখে গেছে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোনো পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে উসকানিদাতা ও হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন যুগান্তরকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার সঙ্গে জড়িতরা শনাক্তের পথে। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে ভুল তথ্য দিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে ২০০ এডমিনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ত্রিনয়নী সংঘ শ্রী শ্রী রাজলক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।

রাসেল বেঁচে থাকলে দূরদর্শী নেতা পেতাম: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাসেল যদি বেঁচে থাকত, তাহলে হয়তো একজন মহানুভব, দূরদর্শী ও আদর্শ নেতা আজ আমরা পেতাম, যাকে নিয়ে দেশ ও জাতি গর্ব করতে পারত। শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাসেল আজ বেঁচে থাকলে কী করত-এই ভাবনাটা আমাকে প্রায়ই ভাবায়। আজ এত বছর পরও শেখ রাসেলকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। কারণ রাসেল তার মহানুভবতা ও ব্যবহারে ছিল অমায়িক।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিভীষিকাময় সেই রাতের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত এখনো গভীর শোকের সঙ্গে স্মরণ করি। এখনো ভাবি, কারও বিরুদ্ধে শত্রুতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভ একজন কোমলমতি শিশুকে কেন কেড়ে নেবে? এই শিশু কী দোষ করেছিল? সে তো কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অংশ হবে? এতসব স্মৃতি স্মরণ করতে কষ্ট হয়। বুকে পাথর বেঁধে সেসব স্মৃতির সাগরে ডুব দিই। কারণ সেদিন ঘাতকের বুলেট যে কোমলমতি শিশুটির প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সে ছিল নির্দোষ-নিষ্পাপ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিবের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমি তাকে গভীর ভালোবাসা ও পরম মমতায় স্মরণ করি এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, “শিশু রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছর তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথমবারের মতো পালিত ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’-এর প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’-যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় জন্মগ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। জাতির পিতা বার্ট্রান্ড রাসেলের বই পড়ে বঙ্গমাতাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। তাই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতা দুজনে মিলে শখ করে তাদের আদরের ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘রাসেল’। রাসেল নামটি শুনলেই প্রথমে যে ছবিটি সামনে আসে তা হলো-হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণচঞ্চল এক ছোট্ট শিশুর দুরন্ত শৈশব; যে শিশুর চোখগুলো হাসি-আনন্দে ভরপুর। মাথাভর্তি অগোছালো চুলের সুন্দর একটি মুখাবয়ব, যে মুখাবয়ব ভালোবাসা ও মায়ায় মাখা।

শেখ হাসিনা বলেন, এই কোমলমতি শিশু রাসেলকে আমরা হারিয়েছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ইতিহাসের এক নির্মম, জঘন্য ও বিভীষিকাময় রাতে। স্বাধীনতাবিরোধী, ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য শহিদ হন ওই কালরাতে। সেদিন ছোট্ট শিশু রাসেলও খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। রাসেল তো বাঁচতে চেয়েছিল। বাঁচার জন্য ঘাতকদের কাছে আকুতি জানিয়েছিল, মায়ের কাছে যাওয়ার কথা বলেছিল।

মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আছে তার পবিত্র স্মৃতি। বাংলাদেশের সব শিশুর মধ্যে আজও আমি রাসেলকে খুঁজে ফিরি। এই শিশুদের রাসেলের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। এমন এক উজ্জ্বল শিশুর সত্তা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিশুরা বড় হোক। খুনিদের বিরুদ্ধে তারা তীব্র ঘৃণা বর্ষণ করুক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে তারা এগিয়ে আসুক-আজ এ প্রত্যাশাই করি।’ প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

রক্তচাপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় বাঁধাকপি

সামনেই আসছে শীতকাল। আর শীতকালে আমাদের দেশের বাজারে দেখা মেলে নানা রকম বাহারি সবজির। এসব সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাঁধাকপি।

বাঁধাকপি চাষের ইতিহাস মেলে চার হাজার বছর আগে থেকে। নানান দেশে বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া হয়ে থাকে এটি। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফোলেটসহ আরও অনেক কিছু।

বাঁধাকপির অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, হজম শক্তি বৃদ্ধিসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগেও উপকারী হিসেবে কাজ করে।

আসুন জেনে নিই বাঁধাকপি খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে—

১. প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে
আমাদের শরীর বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে বা নিরাময়ের বিষয়টি নির্ভর করে প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার ওপর। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদরোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগসহ অনেক রোগের কারণ হতে পারে। বাঁধাকপিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁধাকপি জাতীয় শাকসবজি খেলে তা রক্তের প্রদাহ কমায়।

২. ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
ভিটামিন সি আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যাল দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে ক্যান্সারসহ অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয়। ২১টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রতিদিন ১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করলে তা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বাঁধাকপি ভিসামিন সির আঁধার।

৩. হজম শক্তির উন্নতি করে
হজম শক্তিকে উন্নত করতে চাইলে ফাইবার সমৃদ্ধ বাঁধাকপি বেছে নিতে পারেন। বাঁধাকপিতে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার আপনার মলত্যাগে উৎসাহিত করে পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি করে। আর এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো ইমিউন সিস্টেমকে রক্ষা করে এবং ভিটামিন কে২ ও বি১২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উৎপাদনে সহায়তা করে।

৪. হার্টকে সুস্থ রাখে
লাল বাঁধাকপিতে অ্যাস্থোসায়ানিন নামে একটি শক্তিশালী যৌগ থাকে। আর অ্যান্থোসায়ানিন হল উদ্ভিদ রঙ্গক, যা ফ্লেভোনয়েড পরিবারের অন্তর্গত। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই রঙ্গক সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। ৯৩ হাজার ৬০০ নারীসহ একটি গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন যে, যারা অ্যান্থোসায়ানিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান, তাদের হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

৫. রক্তচাপ কমায়
বাঁধাকপি পটাশিয়ামের অন্যতম একটি ভালো উৎস। আর পটাশিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরের সঠিকভাবে কাজ করার প্রয়োজন। শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব মোকাবিলা করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা পটাশিয়ামের অন্যতম প্রধান কাজ। তাই বাঁধাকপি খেলে তা আমাদের রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

৬. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
সঠিক হজম, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং ভিটামিন ডির সংশ্লেষণের মতো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো কোলেস্টেরলের ওপর নির্ভর করে। উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে শরীরে খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে তা হৃদরোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। আর বাঁধাকপিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার ও উদ্ভিদ স্টেরোলস পদার্থ এলডিএল কোলেস্টেরলের অস্বাস্থ্যকর মাত্রা কমাতে