শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 581

আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে মামলা, সাক্ষীর তালিকায় প্রভাবশালী নেতারা

সাবেক চিফ হুইপ পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সাক্ষীর তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ প্রভাবশালী নেতারা।

মঙ্গলবার পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাউফল সদর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক।

একটিমাত্র উপজেলা বাউফল নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি আ স ম ফিরোজের জন্মস্থানও বাউফল। এখান থেকে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ফিরোজ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফিরোজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তার ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগও আনা হয়েছে ফিরোজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ প্রমাণে যে ১০ জনকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এছাড়া বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খান আলতাফ হোসেন ভুলুকেও করা হয়েছে সাক্ষী।

আ স ম ফিরোজ অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন মামলার বিষয়টি। ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেরে না ওঠা আজন্মকালের ষড়যন্ত্রকারীরাই এসব করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অজানা কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো অন্যায় করলে দল নিশ্চয়ই আমার বিরুদ্ধে বহু আগেই ব্যবস্থা নিত।’

এদিকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জুতা পায়ে বাউফলের শহিদ বেদিতে উঠেন সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। জুতা পায়ে শহিদ বেদিতে উঠা এমপি ফিরোজের একটি ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

দায়ের হওয়া মামলা প্রসঙ্গে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালতের বিচারক পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন। এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়ার জন্য ১৯ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন তিনি। বিচারকের দেওয়া এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর।

মামলার আবেদনে ১নং সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা প্রসঙ্গে জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি জাহাঙ্গীর কবির নানক। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি তার।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি ফিরোজ বলেন, আজন্মকাল ধরে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী আমি। দল এ পর্যন্ত ৯ বার আমাকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। পালন করেছি জাতীয় সংসদের হুইপ এবং চিফ হুইপের দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহধন্য এবং পরীক্ষিত কর্মী না হলে তো তিনি আমায় এভাবে বারবার সম্মানিত করতেন না। তাছাড়া জাতির পিতার কন্যা জননেত্রীর অজানা কিছু নেই। তিনি সবই জানেন। তেমন কোনো অপরাধ করলে তিনি নিশ্চয়ই আমাকে এভাবে সুযোগ দিতেন না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্রজীবনে আমি বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি ছিলাম। সেই সময় থেকে যারা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আমার সাথে পেরে ওঠেননি তারাই এখনো আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। এ মামলার বিষয়টিও সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। দল আমাকে বিশ্বাস করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন। তাই এসব ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত সফল হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো- যে নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে ৭ বার এমপি বানিয়েছেন তাদের অসম্মানিত করা হচ্ছে এসব মামলা আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে সত্যিটাই প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনায় আনন্দ মিছিল করেন আ স ম ফিরোজ’

সাবেক চিফ হুইপ পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আনন্দ মিছিল করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে।

মঙ্গলবার পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাউফল সদর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক।

দায়ের হওয়া মামলা প্রসঙ্গে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালতের বিচারক পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন। এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়ার জন্য ১৯ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন তিনি।

বিচারকের দেওয়া এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর।

জাতির পিতার ছবি ভাঙচুর ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রশ্নে দলের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি, স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে কাজ করা, রাজাকার আলবদরদের পুনর্বাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার, চরম অনিয়ম দুর্নীতি এবং নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আনা হয়েছে মামলার আবেদনে।

এসব অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের দেওয়া ভিডিও বক্তব্য এবং ঘটনাসমূহের প্রত্যক্ষদর্শী খান আলতাফ হোসেন ভুলুসহ মোট ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে মামলার আবেদনে। এরা সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা।

মামলার আবেদনে ১নং সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা প্রসঙ্গে জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি জাহাঙ্গীর কবির নানক। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি তার।

একটিমাত্র উপজেলা বাউফল নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি আ স ম ফিরোজের জন্মস্থানও বাউফল। এখান থেকে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ফিরোজ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্বে ছিলেন।

৪৬ বছর আগে বরিশালের ছাত্রলীগ নেতা থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফিরোজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তার ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগও আনা হয়েছে ফিরোজের বিরুদ্ধে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে বাদী জাহিদুল হক খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকালে বরিশাল শহরে মামলার ২নং সাক্ষী তৎকালীন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদক খান আলতাফ হোসেন ভুলুর নেতৃত্বে বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বরণের সাথে সাথে জাতির পিতার পক্ষ ত্যাগ করে খুনিদের দোসর খন্দকার মোশতাক এবং বরিশালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের পোষ্য ক্যাডার বনে যাওয়া আ স ম ফিরোজ তখন কিছু লোকজন নিয়ে ভুলুর নেতৃত্বাধীন ওই মিছিলে হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করা বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের।

তিনি বলেন, এরপর লোকজন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনায় আনন্দ মিছিল করেন ফিরোজ। একপর্যায়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে নিয়ে ঢোকেন বরিশাল শহরের সদর রোডে টাউন হলের উত্তর পাশে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসে। সেখানে থাকা জাতির পিতার ছবি নামিয়ে তাতে জুতা ও কাঁটার মালা ঝুলিয়ে করেন আনন্দ মিছিল। এরপর বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি খুলে ফেলে রাস্তায় এনে শত শত মানুষের সামনে ভাঙচুর পদদলিত করেন আ স ম ফিরোজ।

এছাড়া বেশ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে একই ঘটনা ঘটান তিনি। বেলা সোয়া ১২টা নাগাদ যান বিএম কলেজে। সেখানে কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যক্ষকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়ালে থাকা জাতির পিতার ছবি খুলে রাস্তায় এনে করেন ভাঙচুর ও পদদলিত। ঘটনার দিন এভাবে বহু জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ভাঙচুর, পদদলিত করাসহ আনন্দ মিছিলের নামে ত্রাস ছড়ান ফিরোজ। পরে লোকজন নিয়ে খিচুড়ি রান্না এবং খেয়ে করা হয় উৎসব।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি ফিরোজ বলেন, আজন্মকাল ধরে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী আমি। দল এ পর্যন্ত ৯ বার আমাকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। পালন করেছি জাতীয় সংসদের হুইপ এবং চিফ হুইপের দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহধন্য এবং পরীক্ষিত কর্মী না হলে তো তিনি আমায় এভাবে বারবার সম্মানিত করতেন না। তাছাড়া জাতির পিতার কন্যা জননেত্রীর অজানা কিছু নেই। তিনি সবই জানেন। তেমন কোনো অপরাধ করলে তিনি নিশ্চয়ই আমাকে এভাবে সুযোগ দিতেন না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্রজীবনে আমি বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি ছিলাম। সেই সময় থেকে যারা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আমার সাথে পেরে ওঠেননি তারাই এখনো আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। এ মামলার বিষয়টিও সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। দল আমাকে বিশ্বাস করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন। তাই এসব ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত সফল হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো- যে নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে ৭ বার এমপি বানিয়েছেন তাদের অসম্মানিত করা হচ্ছে এসব মামলা আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে সত্যিটাই প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

শঙ্কামুক্ত ওবায়দুল কাদের

শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকে তাকে ভর্তি করা হয়। মন্ত্রীর চিকিৎসায় ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি (মন্ত্রী) শঙ্কামুক্ত। তবে কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিতে হবে।

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েকদিন ধরে কিছুটা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথাও অনুভব করছিলেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জানার পর সকালে ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। এরপর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ৩১২ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি জানান, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত। শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে (মার্চ ২০১৯) অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমাদের এখানে প্রায়ই ফলোআপ চেকআপে আসেন তিনি। আজও এসেছিলেন। এ সময় আমাদের ১০ জনের বিশেষজ্ঞ একটি চিকিৎসক দল ওনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তারা বলেছেন, উনি বেশি পরিশ্রম করেছেন, তাই ওনার একটু বিশ্রাম নেওয়া দরকার। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ৩১২ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে।’

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘আমরা একটু আগেই দেখে এসেছি, ওনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৯, পালস রেট ৭৩। তার মানে সবকিছু স্বাভাবিক।’ বয়সের কারণে ওবায়দুল কাদেরের ডায়াবেটিসসহ উচ্চরক্তচাপ রয়েছে বলেও জানান শরফুদ্দিন। ওষুধের মাধ্যমেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য আরও বলেন, ‘উনি শঙ্কামুক্ত। ওনার জন্য সবাই দোয়া করবেন। চিকিৎসার জন্য উনি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য একটুও লালায়িত নন। এ বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে। বিশেষজ্ঞ হিসাবে আমরা যে সবাইকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম, তার প্রমাণও উনি রাখলেন। বুধবার সকাল ১০টায় মেডিকেল বোর্ড ওবায়দুল কাদেরকে আবার দেখবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ওনার করোনাজনিত কোনো সমস্যা পাইনি। তবে করোনা যেহেতু আছে, তাই ওনার কাছে কেউ যাতে না আসে, তাই আমরা সব সংরক্ষিত করে দিয়েছি।’

ওবায়দুল কাদেরের শ্বাসকষ্ট আছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বয়সে হাঁটলে অনেকের এমন হয়। তবে সেটা বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে। ফুসফুসে সংক্রমণ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শরফুদ্দিন বলেন, ‘এজাতীয় কিছু থাকলেও থাকতে পারে। সেটার জন্য আমরা সংক্রমণের ওষুধ দেব। এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমরা নরমাল মনিটরিং করে দেখেছি। এখন উনি শঙ্কামুক্ত, ভালো আছেন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওনার ফুসফুসে পানি আছে কি না, সেটা আগামীকাল (আজ) বোর্ডের পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারব। এখনো আমরা এ বিষয়টি জানতে পারেনি। এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান করে জানতে পারব।’ উল্লেখ্য, উপাচার্য নিজেই ওবায়দুল কাদেরের মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে আছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে গিয়ে ‘অহেতুক ভিড়’ না করতে নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৬৯ বছর বয়সি ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৯ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। পরে তাকে সিঙ্গাপুরে থেকে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নিতে হয়।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, সেতুমন্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এদিন বিকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ, উপজেলা জামে মসজিদ ও কোম্পানীগঞ্জ থানা মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছামিউল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, কৃষি অফিসার বেলাল হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমেন, ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই শিশু ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানি মায়ের কাছে থাকবে

দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের মা জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে। তবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে যেকোন সময় বাবা ইমরান শরীফ সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে ১২ ডিসেম্বর দুই শিশুকে দুদিন গুলশানে তার মায়ের বাসায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। আদেশ অনুযায়ী, সেই দিন রাত ১০টা থেকে মায়ের সঙ্গে থাকার কথা ছিল শিশু দুটির। কিন্তু বাবা এবং তার মায়ের পক্ষ থেকে সেই আদেশ প্রতিপালন করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ মায়ের কাছে দুই শিশু কন্যাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি ওই দিন রাতে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় সোমবার সকালে জাপানি মায়ের পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিষয়টি অবগত করা হয়। সেদিন আদালত তাৎক্ষণিক কন্যাদেরসহ বাবাকে তলব করেন আপিল বিভাগ।

এরপর ওইদিন বেলা ১১টার পর দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে বাবা আপিল বিভাগে হাজির হন। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিরা খাসকামরায় ডেকে নেন দুই শিশু কন্যাকে। তাদের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলার পর তাদের বাবা-মাকেও বিচারকদের খাস কামরায় ডেকে নেওয়া হয়। বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকরা বসে কথা বলেন।

এরপর এজলাসে উঠে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সোমবার রাতেই মায়ের কাছে শিশুদের বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া বাবা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে আদালত অবমাননা করেছেন বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।

আদালতে জাপানি মায়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম। বাংলাদেশি বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম।

এর আগে ৫ ডিসেম্বর দুই শিশুকে নিজের জিম্মায় নিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো। এর আগে ২১ নভেম্বর দুই শিশু বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। তবে রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। ছুটির দিনে অন্তত দুইবার বাবা সন্তানদের মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত নির্দেশনা দেন, গত কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ শিশুদের মা নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দেবেন বাবা ইমরান শরীফ। সাত দিনের মধ্যে তাকে এ অর্থ দিতে বলা হয়। রায়ে আদালত বলেন, রিটটি চলমান থাকবে। রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে উভয় পক্ষ আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবে। প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। জাপানে থাকা ছোট মেয়ে হেনাকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা রিট খারিজ করে দেন আদালত।

গত ১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবেন, না মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে জাপানে চলে যাবেন, সে বিষয়ে শুনানি শেষ হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট আদেশ দেন বাবা-মাসহ রাজধানীর গুলশানের চার কক্ষের একটি বাসায় থাকবে দুই শিশু। সেখানে তারা ১৫ দিন থাকবে। ফ্লাটের ভাড়া উভয় পক্ষ বহন করবে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন রাজধানীর গুলশানের ফ্লাটে দুই শিশু জাপানি মা রাতসহ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন। বাংলাদেশি বাবা শুধু দিনের বেলা সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এ সময়ে ওই ফ্লাটের ভাড়া শিশুদের বাবা-মাকে সমানভাবে বহন করতে হবে। আদেশ অনুযায়ী এতদিন বাবা-মা শিশুদের সঙ্গে অবস্থান করে। পরে নাকানো এরিকোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন দুই শিশুকে নিয়ে বেড়ানো বা মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাইরে যেতে পারবেন জাপানি মা।

দেশে এয়ারগান বহন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জীববৈচিত্র্য, পাখি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এয়ারগান বহন বা ব্যবহার।

সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৪৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এয়ারগান ব্যবহার বা বহন নিষিদ্ধ করা হলো।

এক্ষেত্রে শর্ত পরিপালনের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

শর্ত অনুযায়ী জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের নিবন্ধিত শুটিং ক্লাব ও বনাঞ্চল সন্নিহিত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী তাদের নিরাপত্তা, দৈনন্দিন প্রয়োজন ও সামাজিক প্রথার কারণে নিষেধাজ্ঞার আওতার বহির্ভূত থাকবে।

২০১২ আইনের আওতায় বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ করা হযেছিল।

কিন্তু এয়ারগান বহন বা কেনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম না থাকায় অনেকেই এ অস্ত্র কিনছে। এ ছাড়াও এ অস্ত্র ব্যবসার ওপর কোনো নজরদারি নেই।

রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে— উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

করোনায় আরও তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৫

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩৪ জনে।

মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯৫ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৮৭০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৪৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের ২ জন পুরুষ, একজন নারী। একজন করে মারা গেছেন ঢাকা চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ।সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো গেল বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।

ওমিক্রন অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

বিশ্বের ৭৭ দেশে এ পর্যন্ত নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের রোগী শনাক্ত হয়েছে। খবর বিবিসির।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, হয়তো আরও অনেক দেশেই ছড়িয়েছে এই ভ্যারিয়েন্ট, যা এখনও শনাক্ত হয়নি।

তিনি বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি উদ্বিগ্ন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, আমরা এখন নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি যে, এই ভাইরাসকে শুরুতে একেবারেই গুরুত্ব দিইনি আমরা। এখন ওমিক্রন যদি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগও হয়ে থাকে, আক্রান্তের হারে যে ঊর্ধ্বগতি তার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রস্তুত নয়; ফলে আবারও পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি বেকায়দায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে অতি সংক্রমণশীল এবং সারা বিশ্বে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে, কিন্তু এর লক্ষণগুলো খুবই মৃদু।

নভেম্বরে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় এবং দেশটিতে এখন পর্যন্ত নতুন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সেরিল রামাফোসা নতুন এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন এবং এখন তার শরীরে মৃদু উপসর্গ রয়েছে।

ওমিক্রনের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, ফলে চাপে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি।

কিন্তু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ওমিক্রনের ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায়নি। মঙ্গলবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশে দেশে বৈষম্যের বিষয়টি আবারও তুলে ধরেন।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে অনেক দেশই এখন বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করছে। ফাইজার/বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মূল স্ট্রেনের তুলনায় ওমিক্রনের বিরুদ্ধে অনেক কম অ্যান্টিবডি তৈরি করে।

কিন্তু এই ঘাটতি তৃতীয় একটি ডোজ বা বুস্টার ডোজের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব।

ট্রাক প্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। সে অনুযায়ী সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। উলটো বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যৌক্তিকভাবে সবজির দাম বাড়ার কথা প্রতি কেজিতে ১১ পয়সা।

কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৩৬ পয়সা পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। সে অনুযায়ী বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রতি কিলোমিটারে পরিবহণ খরচ বাড়ার কথা ছয় টাকা। কিন্তু বেড়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা।

এর মূল কারণ চাঁদবাজি। ট্রাক থেকে প্রতি ট্রিপে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া তিনটি পয়েন্ট থেকে পুলিশ খরচ বাবদ প্রতি ট্রাক থেকে আদায় করা হয় এক হাজার ৫০০ টাকা। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এরকম তথ্য।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সবজির খুচরা বিক্রেতা লাভ করছেন ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অনুযায়ী যে হারে পরিবহণ ব্যয় বাড়ানোর কথা তার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে পণ্য পরিবহণে বগুড়া পৌর টোল পরিশোধ ও চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো পৌরসভা এ ধরনের টোল আদায় করতে পারে না।

নিয়মবহির্ভূতভাবে যেসব পৌরসভা টোল আদায় করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া, শেরপুর ও সিরাজগঞ্জ। সিরাজগঞ্জ ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি আদায় করা হয় ৫০ টাকা।

অপরদিকে সিরাজগঞ্জ মোড়, যমুনা সেতু গোলচত্বর ও টাঙ্গাইল মোড়ে ট্রাকপ্রতি হাইওয়ে পুলিশকে দিতে হয় মাসে ৫০০ টাকা। ট্রিপপ্রতি যমুনা সেতু টোলে এক হাজার ৪০০ ও কাওরানবাজারে পার্কিং বাবদ দিতে হয় ৫০০ টাকা। সাভারের আমিনবাজারে লাঠিয়াল বাহিনীকে দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা।

টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা যুগান্তরকে বলেন, ট্রাক থেকে কোনো পৌর টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। যদি কেউ টাকা তুলে থাকে তাহলে সে চাঁদাবাজি করছে। এর সঙ্গে পৌরসভার কোনো সম্পর্ক নেই।

বগুড়ার শেরপুরের পৌর মেয়র জানে আলম খোকা যুগান্তরকে বলেন, সবজির ট্রাক থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। তবে বাস টার্মিনাল থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলের দাম বাড়ার আগে মহাস্থানহাট থেকে পাঁচ টনের একটি ট্রাক কাওরানবাজারে আসতে ভাড়া নিত ১২ হাজার টাকা। আর এখন নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। রাস্তায় যত খরচ হয় সবই ট্রাক ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

সবজি বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতাদের অস্বাভাবিক লাভের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর এক সবজি বেপারী মহাস্থানহাটে কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ কেনেন ৪০ টাকায়। কাওরানবাজার পর্যন্ত আনতে খরচ হয় আরও পাঁচ টাকা।

তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ৪৮ টাকা দরে। পাইকার প্রতিকেজি কাঁচামরিচে আড়তের খাজনা দেন এক টাকা করে। দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয় আরও এক টাকা করে। এ হিসাবে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের পেছনে পাইকারের মোট খরচ ৫০ টাকা।

আর পাইকার ওই মরিচ খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ৫৫ টাকা দরে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর ওই মরিচ শান্তিনগর খুচরা বাজারে ১০০ টাকা ও হাতিরপুল বাজারে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

১৫ নভেম্বর নাটোরের হবিতপুর থেকে কাওরানবাজারে আসা একজন শিম ব্যবসায়ী গোয়েন্দাদের জানান, কাওরানবাজার পর্যন্ত শিম নিয়ে আসতে তার খরচ হয়েছে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা। ওই শিম তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন ৩৩ টাকা দরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়তের খাজনা ও দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয় আরও দুই টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি শিমে তার খরচ হয় ৩৫ টাকা করে। তিনি খুচরা বিক্রেতার কাছে ওই শিম বিক্রি করেন ৪০ টাকা দরে।

পরদিন ১৬ নভেম্বর শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ওই শিম বিক্রি করছেন ৭০ টাকা দরে। আর হাতিরঝিলে ওই শিম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

বেগুন, শশা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পটল, পেঁপে, মূলা, ধনেপাতা ও ঢেঁড়সসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। এর কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা ডিজেলের দাম বাড়াকে দায়ী করছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, যে হারে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছেন।

সেই হিসাবে বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত রাস্তায় (২০২ কিলোমিটার) একটি পাঁচ টনের ট্রাকের জ্বালানি খরচ বেড়েছে এক হাজার ২১২ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল ছয় টাকা।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাড়ানো হয়েছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে প্রতিকেজি সবজির পরিবহণ ব্যয় ১১ পয়সা বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ৩৬ পয়সা।

গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরকেন্দ্রিক ভোক্তার কাছে সবজি পৌঁছার আগে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়। হাত বদল ও পরিবহণ চাঁদাবাজি ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী মনোভাবসহ নানা কারণে সবজির দাম বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারি ক্রয়মূল্যের ৭০-৮০ ভাগ লাভ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তারা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গোয়েন্দাদের সুপারিশ, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত হাত বদল কমাতে হবে। পরিবহণ ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

পাইকারি বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি খুচরা বাজারের মূল্য তালিকা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া সব স্তরের সবজি ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি জরুরি। একইসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যবসায়ীদের এর আওতায় এনে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

মাত্র ৫ মাসে হাফেজ হলো ৯ বছরের শিশু সিয়াম

মাত্র ৫ মাসে সম্পূর্ণ কুরআনে কারিম হিফজ সম্পন্ন করার অনন্য গৌরব অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা শহরের মোগলটুলীতে অবস্থিত ব্যতিক্রমী ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন-নূর তাহফিজ মাদরাসার ছাত্র সিয়াম।

রোববার (১২ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ বছর বয়সী এই শিশুর হিফজ সম্পন্ন হয়। সে জেলার চান্দিনা থানার লোনা গ্রামের বাসিন্দা হায়াতুল্লাহর বড় ছেলে।

আন-নূর তাহফিজ মাদরাসার সহকারী পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহদী হাসান জানান, হিফজ শুরু করার পরই আমরা সিয়ামের মধ্যে ভিন্নরকমের প্রতিভা অনুভব করি। সে মাত্র ৫ মাসে হিফজ সমাপ্ত করেছে-আলহামদুলিল্লাহ। তবে সে খুব চঞ্চল প্রকৃতির, যদি একমনে সময় কাজে লাগাত তাহলে তার পক্ষে আরও শিগগিরই হাফেজ হওয়া সম্ভব ছিল। কেননা শেষ দিকে সে ১৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুখস্থ শুনিয়েছে।

ভালো হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সিয়াম ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায়। আন-নূর তাহফিজ মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আব্দুস সালাম আইয়ুবি এমনটিই জানালেন। তিনি সিয়াম ও তার মাদরাসার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, সিয়ামের ঐকান্তিক ইচ্ছা, শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং তার পরিবারের সহযোগিতায় আল্লাহ তাকে খুব শৈশবেই এই মহাপুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এজন্য আমরা সবাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।