শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 570

অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিয়ে, জামিন পেলেন ক্রিকেটার নাসির

আইনসম্মতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ের মামলায় জামিন পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

এ মামলায় আরও জামিন পেয়েছেন নাসিরের স্ত্রী সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানবালা তামিমা সুলতানা তাম্মীসহ আরো দু’জন।

সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

মামলার বাদী ও তামিমার প্রথম স্বামী ব্যবসায়ী মো. রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশরাত জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের করা মামলায় জামিন পেলেন তারা।

অন্যদিকে নাসির মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।

এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) রাকিব অভিযোগপত্র দিলে ক্রিকেটার নাসির হোসেন, তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আদালতে হাজির হতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সমন জারি করেছিলেন আদালত।

পিবিআইয়ের রিপোর্টে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নাসির-তামিমা বিয়ে করেছেন বলে জানানো হয়।

নাসির-তামিমাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

এরপর মামলার বাদী রাকিবের পক্ষে তার আইনজীবী ইশরাত জাহান তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত তাদের ৩১ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে বাদীর করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাবস্থায় নাসির বিয়ে করেছেন তামিমা, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নাসির নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সি শিশুকন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপে রাকিবের চরম মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আরবিকে আনুষ্ঠানিক ভাষা করতে যাচ্ছে ফিফা

আরবিকে আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

আরব কাপের চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানে এ প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

জানা যায়, সম্প্রতি আরব কাপের আয়োজক দেশ কাতার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার স্টেকহোল্ডার দেশগুলোর প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন ফিফার কর্মকর্তারা। এর পর ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব সাগ্রহে গ্রহণ করেন ইনফান্তিনো।

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে ফিফার চারটি আনুষ্ঠানিক ভাষা রয়েছে— ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও স্প্যানিশ। এবার এ তালিকায় পঞ্চম ভাষা হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে আরবি।

প্রসঙ্গত গত ১৮ ডিসেম্বর ছিল বিশ্ব আরব ভাষা দিবস। বিশ্বে অন্তত ২০ দেশের ৪৫ কোটি মানুষের মাতৃভাষা আরবি। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী অনেক দেশেই আরবি ভাষাভাষী মানুষ ছড়িয়ে আছে। তা ছাড়া ইসলাম ধর্মীয় ভাষা আরবি, বিধায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ে ভাষাটি নিয়মিতই চর্চিত।

ভিক্ষুকের বসতঘর ভাঙচুর করে লুটপাট

ভিটেমাটির সম্পত্তির বিরোধ কেন্দ্র করে কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এক ভিক্ষুক নারীর বসতঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ সময় ওই নারী বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় হামলাকারীরা। ভুক্তভোগী নারীর নাম জাহানারা খাতুন (৬০)। তিনি উপজেলার উলুপাড়ার পণ্ডিত বাড়ির মৃত আবদুল কাদেরের স্ত্রী।

রোববার দুপুরে উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন হামলাকারী দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সদস্যরা আটক আমিনুল ইসলাম টিপু ও আবু জাফরকে থানায় আনা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় রাতে জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে স্থানীয় আমিনুল ইসলাম টিপুকে ১ নাম্বার আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উলুপাড়ার পণ্ডিতবাড়ির মৃত আবদুল কাদেরের স্ত্রী জাহানারা খাতুনের পৈতৃক বসতভিটার সম্পত্তির নিয়ে একই বাড়ির মৃত আনু মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম টিপুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে গত কয়েক বছর আগে জাহানারা খাতুনকে বসবাসের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অর্থ দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়। অসহায় জাহানারা খাতুন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভিক্ষা করে মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে জীবন বাঁচান।

রোববার সকালে পাশের বাড়ির মিনি নামে এক নারী জাহানারা খাতুনকে ভাতার কার্ড করে দেবে বলে ঘর বন্ধ করে দুজন মনোহরগঞ্জ উপজেলায় চলে যায়। সবার অজান্তে দুপুরে আমিনুল ইসলাম টিপুর নেতৃত্বে ১৫-২০ সন্ত্রাসী দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই নারী ভিক্ষুকের বাড়িতে হামলা করে।

হামলাকারীরা এ সময় বসতঘর, টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দুই হামলাকারীকে আটক করে গণধোলাই দেন। অপর হামলাকারীদের আটক করার চেষ্টা চালালে টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন যুগান্তরকে জানান, পৈতৃকবাড়ির সম্পত্তির মালিক আমি। আমিনুল ইসলাম টিপু এ সম্পত্তি মালিক দাবি করে বিভিন্ন সময় আমার ওপর নির্যাতন চালায়। সম্পত্তি বিরোধের জের ধরে স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশও হয়েছে। সে সালিশ দরবার অমান্য করে আমার ওপর জোর জুলুম করে।

তিনি আরও বলেন, আমার কেউ নেই, সারাদিন ঘরে ঘরে মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও চাল-ডাল এনে খেয়ে বেঁচে আছি। গত ৭-৮ বছর আগে বর্তমান চেয়ারম্যান ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি থাকার জন্য একটি নতুন ঘর, টয়লেট, টিউবওয়েল ও রান্নাঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। রোববার দুপুরে বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে দেখলাম আমিনুল বহিরাগত লোকজন এনে আমার সব কিছু ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। আমি এখন কোথায় যাব, কোথায় থাকব, খাব কি?

স্থানীয় চেয়ারম্যান এমএ হান্নান হিরণ বলেন, খবর পেয়ে অসহায় ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বসতঘরে হামলা চালিয়ে সব ভাঙচুর করা হয়েছে, কিছুই রাখল না হামলাকারীরা।

রাতে এ বিষয় জানতে চাইলে নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ওসি জাফর ইকবাল বলেন, ভুক্তভোগী জাহানারা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আটক দুই আসামিকে মনোহরগঞ্জ থানার সহযোগিতায় আদালতে পাঠানো হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারসহ ৬ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সময় ঋণ খেলাপি ও ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় ২ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার আবেদনকারীদের উপস্থিতে শুনানি করেন।

মাহফুজা আক্তার বলেন, মেয়র পদে আবেদনকারী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থী মো. রাশেল ফেরদৌসের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদের জমা দেওয়া ৩০০ ভোটার তালিকায় গরমিল পাওয়া গেছে। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম এবং তার কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার দাখিল করা ৩০০ ভোটার তালিকায় গরমিল রয়েছে। ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

মিয়ানমারে আবারও গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত জুলাই মাসে বেসামরিক লোকদের ওপর একের পর এক গণহত্যা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা বলেছেন, সৈন্যরা গ্রামবাসীকে জড়ো করে তাদের মধ্য থেকে পুরুষদের আলাদা করে হত্যা করে। এদের মধ্যে অনেকের বয়স ১৭ বছর ছিল। খবর বিবিসির।

ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং ছবি দেখে জানা যায়, নিহতদের বেশিরভাগকে প্রথমে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরে অগভীর কবরে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল।

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং জেলায় বিরোধীদের শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানি শহরাঞ্চলে চারটি আলাদা ঘটনায় গত জুলাই মাসে এ হত্যাকাণ্ড হয়।

অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।

কানির অন্তত ১১ প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং তাদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি এনজিও মিয়ানমার উইটনেসের সংগ্রহ করা মোবাইল ফোনের ভিডিও এবং ছবি দেখে তুলনা করেছে।

মিয়ানমার উইটনেস নামে সংস্থাটি মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত করছে।

সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ডটি ইয়িন গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে কমপক্ষে ১৪ জন পুরুষকে নির্যাতন করে বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরে তাদের মৃতদেহ একটি জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে বলেছেন, হত্যা করার আগে ওই ব্যক্তিদের দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়েছিল। এখানে নিরাপত্তার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

এক নারী বলেন, আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ নির্যাতন দেখতে পারছিলাম না। তাই আমরা মাথা নিচু করে কাঁদছিলাম। তারা আমাদের ভাই, ভাগ্নে ও দেবরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

হত্যাকাণ্ড থেকে পালাতে সক্ষম একজন ব্যক্তি বলেছেন, হত্যা করার আগে সেনারা কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই ব্যক্তিদের ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালায়।

বেঁচে যাওয়া ওই ব্যক্তি বলেন, তাদের বেঁধে রাখা হয়েছিল, পাথর ও রাইফেলের বাঁট দিয়ে মারধর করা হয়েছিল এবং সারাদিন নির্যাতন করা হয়েছিল।

জি বিন ডুইন গ্রামে জুলাইয়ের শেষের দিকে ১২টি বিকৃত মৃতদেহ অগভীর গণকবরে মাটি চাপা অবস্থায় পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ছোট মৃতদেহ রয়েছে, যেটি সম্ভবত একটি শিশুর এবং একটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মৃতদেহও ছিল।

পাসের একটি বরইগাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ৬০ বছরের মতো বয়সি এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। তার মৃতদেহের ভিডিও পর্যালোচনা করেছে বিবিসি।

এতে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। তার পরিবার বলেছে যে, সামরিক বাহিনী গ্রামে প্রবেশ করার সময় তার ছেলে এবং নাতি-নাতনি পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে থেকে গিয়েছিল এই মনে করে যে, বেশি বয়সি হওয়ার কারণে হয়তো তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

‘১৮ বছরে প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে বিয়ে করতে পারবে না কেন?’

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ করার প্রস্তাব পাস হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। যদিও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন দেশটির একাধিক নেতা।

এদের মধ্যে অন্যতম হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাউদ্দিন ওয়াইসি।

মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বয়স বাড়ানো তো দূরের কথা, উল্টো ছেলেদেরও বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা উচিত। একজন ১৮ বছর বয়সি মেয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেন, তা হলে জীবনসঙ্গীও নির্বাচন করতে পারবেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘১৮ বছর বয়সে একজন মেয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, ব্যবসা শুরু করতে পারে, সংসদ সদস্য হতে এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পদে নির্বাচন করতে পারে। তা হলে জীবনসঙ্গী নয় কেন? আমি মনে করি যে, ছেলেদেরও বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা উচিত।’

পাস হওয়া প্রস্তাবনাকে বিজেপি সরকারের ‘পিতৃত্ববাদের একটি খুব ভালো উদাহরণ’ বলে কটাক্ষ করেন ভারতের এই মুসলিম সংসদ সদস্য।

অবশ্য শুধু ওয়াইসিই নয়; মোদি সরকারের এই বয়স সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন সমাজবাদী পার্টির একাধিক নেতা।

এ বিষয়ে সৈয়দ তোফায়েল হাসান নামের এক নেতা যুক্তি দেখান, ‘১৬ বছরেই মেয়েরা বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায়। নারীর বয়স বেশি হলে দুই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত বন্ধ্যত্বের আশংকা। দ্বিতীয়ত সন্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া, যা প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধ।’

প্রসঙ্গত, মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স কত হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে গত বছরের জুনে ভারতের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। গত বছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেছিলেন—‘মা ও বোনেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। মেয়েদের অপুষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে হলে তাদের সঠিক বয়সে বিয়ে করা প্রয়োজন।’

নতুন ব্যয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ

চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) সংশোধিত বাজেটের পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোনোভাবেই অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি ও উন্নয়ন ব্যয়ের সাশ্রয় হওয়া অর্থ পরিচালনা বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না। পাশাপাশি যেসব প্রকল্প অনুমোদন হয়নি সেসব স্কিমে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। আর ভিন্ন খাতে স্থানান্তর করা যাবে না উন্নয়ন প্রকল্পের সাশ্রয়কৃত অর্থ। জারি করা পরিপত্রের আলোকে চলতি অর্থবছরের বাজেট সংশোধনের প্রস্তাব সব মন্ত্রণালয়কে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় বলা হয়, মূল বাজেটে সংস্থান ছিল না, এমন কোনো সম্পদ সংগ্রহের নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। আর সরবরাহ ও সেবা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যাবে না। তবে কোনো আইটেমের মূল্য বাড়লে সেটি বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত খাত থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকলে সংশোধিত বাজেটে তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ পুরোটা খরচ করতে পারে না অনেক মন্ত্রণালয়। ফলে নতুন করে অর্থ চাইবে কেন। নতুন বরাদ্দ দিলেও ব্যয় করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর যে প্রকল্প আছে সেখানে অর্থ ব্যয়ের প্রভিশন আছে। সেটি সীমিত রাখাই উচিত। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে নেওয়ার প্রবণতা থাকা উচিত নয়। এই অর্থনীতিবিদের মতে, এমনিতে অনেক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় একনেকে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পে অর্থ সংস্থান থাকে না। ফলে অনুমোদন প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখানে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা এবং ঘাটতি (অনুদানসহ) দুই লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা এবং পরিচালন ব্যয় তিন লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ধারাবাহিক নিয়মে প্রতি বছরের মাঝামাঝি এসে বাজেট সংশোধন কার্যক্রম শুরু করে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সংশোধিত পর্যায়ে এসে নতুন ব্যয় যাতে না বাড়ে সেদিকে মনোযোগ বেশি দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বরাদ্দের ৫০ শতাংশ করতে পারবে। পাশাপাশি জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র ছাড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবে না। ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে ৫০ শতাংশের বেশি ব্যয় করা যাবে না। ভ্রমণ ও যানবাহন কেনার বাকি ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। এই দুই খাতের বরাদ্দ অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের নীতি ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এডিপির বরাদ্দ থেকে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শতাংশ হিসাবে ৫ দশমিক ৩১ ভাগ। এডিপি সংশোধনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোকে ১৪টি নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে ওই পরিপত্রে। সেখানে ধীরগতির প্রকল্পের টাকা কেটে দ্রুতগতির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যাত্তোর, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসনসংক্রান্ত প্রকল্প। মন্ত্রণালয়গুলোর উদ্দেশে বলা হয়, সংশোধিত এডিপিতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে, তবে সে ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ও ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয়ের ভিত্তিতে যুক্তিসঙ্গত ও সম্ভাব্য ব্যয়কে বিবেচনায় নিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, আগামী জানুয়ারির মধ্যে যেসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো সম্ভব হবে না- সেগুলো আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এ ছাড়া অনুমোদনহীন কারিগরি সহায়তা প্রকল্পও সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা যাবে না। তবে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাত্তোর পুনর্বাসন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখা, অগ্রাধিকার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দেওয়া, আরএডিপিতে মূল অংশে বরাদ্দবিহীনভাবে কোনো প্রকল্প না রাখা এবং চলতি অর্থবছরে শেষ হবে এমন নির্দিষ্ট প্রকল্পের বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নানা কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে এক লাখ ২৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৩ হাজার ৯৮ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। রাজস্ব সংশোধনের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, বিগত দুই অর্থবছরের (২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১) প্রথম ছয় মাসে এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আদায়ের গতিধারা বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল

দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল। দুই দেশের মধ্যে রোববার এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ স্মারক সই হয়। নতুন চুক্তির ফলে শ্রমিকদের দেশটিতে যাওয়ার খরচ আগের চেয়ে অনেক কমবে। বাংলাদেশের পক্ষে স্মারকে সই করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। যেমন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া, তাদের আবাসন, কর্মে নিয়োজিত করা এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবেন। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন খরচ অনেক কমে যাবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া সরকার। পরে নতুন করে কর্মী নিয়োগ শুরুর লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সভা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরামর্শ এবং কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এই সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাবাসনের আদর্শ কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। চুক্তির সময়ে দুই দেশের মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু মুহাম্মদ খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার, বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলমসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিতে ফেরার ডাক ওবায়দুল কাদেরের

বিএনপিকে ‘ষড়যন্ত্র, অপকৌশল ও অপপ্রচারের রাজনীতি’ পরিত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক ও সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, গোটা জাতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুগপৎভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ ‘মুজিববর্ষ’ মহা আড়ম্বরে উদযাপন করেছে। এমন একটি মহতীক্ষণে বিএনপি দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে কোনো প্রকার ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলে না ধরে চিরাচরিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনো প্রাপ্তি খুঁজে পাননি। তার এই না পাওয়ার মর্মবেদনার উৎসমূল সম্পর্কে আমরা উপলব্ধি করতে পারি। দেশবাসী জানে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে এদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়েছিল। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়েও তাদের স্বপ্নের পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। সেই পরাজিত অপশক্তি ও তাদের উত্তরাধিকারীদের ষড়যন্ত্রের হিসাব আজ অসার শূন্যতায় পর্যবসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার জিয়া-মোশতাকের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার গভীর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির উত্তরাধিকার এবং একাত্তরের ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও তাদের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামের এই হতাশা ও মর্মবেদনাই দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ বিকাশের প্রধান অন্তরায়।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের মঙ্গা-খরা দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষ কবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশ যখন জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এতে বিএনপি নেতারা কোনো প্রাপ্তি খুঁজে পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মাইলফলক স্পর্শকারী বাংলাদেশের অসংখ্য প্রাপ্তি বিএনপি নেতাদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে জাতিদ্রোহী-দেশদ্রোহীদের যেমন গাত্রদাহ হয়- ঠিক তেমনি বিএনপি নেতাদেরও সহ্য হয় না।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক হীনমন্যতার কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যে বিচলিত হয়ে পড়ে বিএনপি। নিজেদের পরাজয় মনে করে। এমনকি সত্যকে স্বীকার করার সাহস পর্যন্ত রাখে না। দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যত বিনির্মাণ গতিশীল হয়; উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অস্বীকার করাও এক ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের শামিল। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিএনপি এতই অন্ধ যে, কোনো উন্নয়ন ও প্রগতি তাদের চোখে পড়ে না। বিএনপি নামক যে দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপরাজনীতিতে লিপ্ত, যারা ত্রিশ লাখ শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের কাছ থেকে ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনো প্রাপ্তি খুঁজে পাইনি’ এ ধরনের মন্তব্যই স্বাভাবিক।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যে বাংলাদেশ এক সময় বৈদেশিক ঋণ ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে পারত না। সেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দৃঢ় রাষ্ট্রনায়োকোচিত ভূমিকার কারণে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিপিতে প্রথম স্থান অধিকারের অনন্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশ যখন প্রশংসা ও সমীহ অর্জন করছে, তখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিভূ বিএনপি নেতারা নেতিবাচক মন্তব্য করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে রিট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বারবারতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।