রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 528

নারীরা যেসব ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হন

একজন নারী সাধারণত শারীরিক গঠন এবং বিশেষ হরমোনজনিত কারণে পুরুষের থেকে আলাদা। নারীরা আবার নারী হওয়ার কারণেই কিছু ক্যান্সার তথা গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. লুবনা মরিয়ম।

তিনি বলেন, নারীদের ক্যান্সার নিয়ে আমি আসলে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। আমি একজন নারী এবং নারীদের ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন করতে, মানুষকে জানাতে আমি পছন্দ করি সবসময়।

ডা. লুবনা মরিয়ম বলেন, নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি একটা বড় আকার ধারণ করেছে। এটি নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম। দ্বিতীয় হচ্ছে জরায়ু ক্যান্সার। নারীদের গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের মধ্যে- জরায়ুমুখ ক্যান্সার, এন্ড্রোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার, ভালবা রিজন অন্যতম। এই জায়গাগুলোতে যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে আমারা সাধারণত নারীদের ক্যান্সার বলে চিহ্নিত করে থাকি। কারণ, এগুলো শুধু নারীদের শরীরেরই আছে এবং নারীদের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, আগে ধারণা করা হতো, স্তন ক্যান্সার যারা পশ্চিমা দেশগুলোতে থাকেন, তাদের হয়ে থাকে। কারণ, তারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান না। পশ্চিমা জীবনযাপন করেন। এজন্য ভাবা হতো যে, আসলে বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের সংখ্যা বেশি না। কিন্তু এটা একদমই ভুল ধারণা। কারণ, বাংলাদেশেও এখন দেখা যাচ্ছে- নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে স্তন ক্যান্সার এক নম্বরে চলে এসেছে। ৬/৭ বছর আগেও আমরা দেখতাম জরায়ু ‍ক্যান্সারটা এক নম্বরে ছিল। কিন্তু এখন স্তন ক্যান্সারের সংখ্যা এতা বেড়ে গেছে যে, এটা এক নম্বরে চলে এসেছে এবং জরায়ু ক্যান্সারটা দুই নম্বরে নেমে এসেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চিত্রও কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে আলাদা কিছু না। বাংলাদেশেও এক নম্বরে স্তন ক্যান্সার, দ্বিতীয় জরায়ুমুখে ক্যান্সার। তৃতীয়ত জরায়ু ক্যান্সার যেটাকে বলি এন্ড্রোমেট্রিয়াল ক্যান্সার এবং পরবর্তীতে আমরা ওভারিয়ান ক্যান্সার বা অন্যান্য ক্যান্সারের কথা বলতে পারি।

হাড় ক্ষয়ে যেসব ঝুঁকি সৃষ্টি হয় শরীরে, করণীয়

অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় বলতে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বুঝায়। অস্টিওপরোটিক হাড় অনেকটা মৌচাকের মতো হয়ে যায়। এতে হাড় ঝাঁজরা বা ফুলকো হয়ে যায় বা এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মারাত্মক হাড় ক্ষয়ে হাঁচি বা কাশি দিলেও হাড় ভেঙে যেতে পারে।

পঞ্চাশ বছরের পর থেকে শরীরে হাড় ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। হাড় ক্ষয়ের শুরু কিন্তু অনেক আগে থেকেই হতে থাকে। পুরুষ বা নারীর দেহের হাড় সাধারণত ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত ঘনত্বে বাড়ে; ৩৪ বছর পর্যন্ত তা বজায় থাকে। এরপর থেকে হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

মানবশরীরে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাদা সেলিম।

যাদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত কমতে থাকে। নারীদের মাসিক পরবর্তী সময়ে হাড় ক্ষয়ের গতি বাড়ে। এ ছাড়াও অনেক কারণ বা ঝুঁকি হাড় ক্ষয়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০% রজঃনিবৃত মহিলা হাড় ক্ষয়ে আক্রান্ত। ইউরোপের চিত্রও অনেকটা তেমনই। অন্ততপক্ষে ৪০% নারী ও ১৫%-৩০% পুরুষ তাদের জীবদ্দশার বাকি সময়ে স্বল্প আঘাতে হাড় ভাঙার শিকার হন যা হাড় ক্ষয়ের কারণেই হয়ে থাকে।

যাদের একবার হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটে তাদের পরবর্তীতে হাড় ভাঙার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। একবার পাঁজরের হাড় ভাঙলে কোমরের হাড় ভাঙার আশঙ্কা ২-৩ গুণ বৃদ্ধি পায় এবং উরুর হাড় ভাঙার আশঙ্কা ১-৪ বাড়ে।

হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি (অসংশোধনযোগ্য ঝুঁকি)

* বয়োবৃদ্ধি

* স্ত্রী লিঙ্গ

* জিনগত ত্রুটি

* অপারেশনের কারণে ডিম্বাশয় না থাকা

* হায়পোগোনাডিজম (পুরুষ ও মহিলার)

* অতি খর্বাকৃতি

সংশোধনযোগ্য ঝুঁকি

* ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি

* ধূমপান

* অপুষ্টি (ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, কে ইত্যাদি)

* ক্ষীনকায় দৈহিক আকার

* আমিষনির্ভর খাদ্যাভ্যাস

* বেশি বয়সে অতিরিক্ত চা/কফি/ চকোলেট গ্রহণের অভ্যাস।

* খাদ্যে বা বাতাসে ভারি ধাতু

* কোমল পানীয় ও মদ্যপান

মেডিকেল ঝুঁকি

* দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা

* স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন (বাংলাদেশের রোগীদের মাঝে এটি খুব ব্যাপক; বিশেষ করে অস্বীকৃত/আস্বীকৃতদের দ্বারা নির্দেশিত হয়ে যারা ওষুধ সেবন করছেন, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির (কবিরাজি, আয়ুর্বেদী, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ইত্যাদি) মাঝে স্টেরয়েডের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি]

* অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ : হাইপার-থাইরয়ডিজম, হাইপার-প্যারাথাইরয়িডিজম, কুসিং সিনড্রম, ডায়াবেটিস, এক্রমেগালি, অ্যাডিসন রোগ, রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, এসএলই, কিডনি অকার্যকারিতা ইত্যাদি।

উপসর্গ : প্রথমত কোনো শারীরিক লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে কোমরে বা পিঠে বা অন্য কোথাও ব্যথা, বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধেও তা কমছে না, এমন চরিত্রের। কারও কারও দৈহিক উচ্চতা কম থাকবে, কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে থাকা। সংগোপনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হল, মেরুদণ্ডে ফাটল বা চিড় ধরা এবং ঠুনকো আঘাতেই হাড় ভাঙা।

শনাক্তকরণ : অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হতে পারে : কিছু ঘনত্ব পরিমাপের জন্য, কিছু আবার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করার জন্য। বিএমডি পরীক্ষাটি এ কাজে সবচেয়ে ভালো।

চিকিৎসা : এ রোগে প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হবে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সম্ভব হলে তা রহিত করা। এরপর বেশ কিছু ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগীর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।

যেহেতু, হাড় ক্ষয় (অস্টিওপরোসিস) একবার হলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাই একে আগে ভাগেই রোধ করার জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে কারা কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন বা কারা এর মধ্যেই হাড় ক্ষয়ে ভুগছেন, তা নির্ধারণ করতে হবে এবং উপযোগী চিকিৎসা নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে হবে।

হাড় ক্ষয় রোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে-

* নিয়মিত ব্যায়াম

* স্টেরয়েডসহ ক্ষতিকারক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা

* পুষ্টি নিশ্চিতকরণ

* ধূমপান ত্যাগ

* প্রয়োজনে পরিমিত ক্যালসিয়াম সেবন

অভাবে পড়ে একসময় ঢাকা ছেড়েছিলেন পরীমনির স্বামী রাজ

মা হতে চলেছেন জানিয়ে হঠাৎ সবাইকে চমকে দেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার সন্তানের বাবার নামও জানান তিনি। বলেন, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুনিন’ ছবিতে অভিনেতা শরিফুল রাজের বিপরীতে অভিনয় করতে গিয়ে প্রেম, প্রেমের ঠিক সাত দিনের মাথায় গেল বছরের ১৭ অক্টোবর বিয়ে করেন তারা।

পরীমনি রহস্য খোলাশা করে দিলেও তার ভক্ত-অনুরাগীরা যেন সন্তুষ্ট হতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে কে এই রাজ?

সেটাই স্বাভাবিক, কারণ শরিফুল রাজ ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় সব নায়ক শাকিব, শুভ, বাপ্পী, ইমনদের মতো কেউ নন।

২০১৭ সালে তানিম রহমানের ‘ন ডরাই’ ছবিতে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের কিছুটা নজরে পড়েছেন এই অভিনেতা। ক্যারিয়ারে তার ছবির সংখ্যা মাত্র দুটি। অবশ্য ‘পরান’, ‘হাওয়া’ও ‘গুনিন’ নামে তার তিনটি ছবি এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এছাড়া বাংলাদেশি ওয়েব চলচ্চিত্র ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

তবে জনপ্রিয় বা পরিচিত মুখ হতে এই ক্যারিয়ার যথেষ্ঠ নয়।

জানা গেছে, একসময় র‌্যাম্প মডেল হিসেবে টুকটাক কাজ করতেন শরিফুল রাজ। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের স্থিরচিত্রের মডেল হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৬ সালে রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ ছবিতে অভিনয় করে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।

সিনেমায় কাজ পাওয়ার আগে স্বচ্ছল ছিলেন না শরিফুল রাজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার আলমপুর গ্রামের জন্ম তার। পড়াশোনার জন্য ঢাকায় এলেও অর্থ সংকটের কারণে এক বছরও থাকতে পারেননি রাজধানীতে। অভাবে পড়ে নারায়ণগঞ্জে মামার কাছে চলে যান।

অর্থের অভাবে একটা সময় লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় তার। বন্ধুর মেসে ১৫ জনের ঠাসাঠাসি করে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যান।

সেসব দুঃসহ স্মৃতির কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শরিফুল রাজ নিজেই। বললেন, ‘সে এক কঠিন সময় গিয়েছে। বন্ধুর কল্যাণে মেসে থাকার জায়গা হলো। ১৫ জন একসঙ্গে থাকি। পকেটে টাকা নেই। পড়ালেখা বন্ধ হয় হয় অবস্থা। কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তখন পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগটাও ছিল না। দিশাহারা অবস্থা আমার।’

এমন সময় ধানমন্ডির ৮ নম্বরে আড্ডাটা সুযোগ এনে দেয় তাকে। সেখানে আড্ডার ফাঁকে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সঙ্গে খাতির হয়। কাজ পান বিজ্ঞাপনচিত্রে ‘সাইড আর্টিস্ট’ হিসেবে।

সেই বিজ্ঞাপনচিত্রের মূল মডেল ছিলেন আরিফিন শুভ, সারিকা, নিলয়। শরিফুল রাজ ছিলেন পেছনের এক্সট্রার মতো।

শরিফুল বলেন, সেই কাজে ৮ হাজার টাকা পেয়ে আমার তো আনন্দ আর ধরে না।

এরপরই মডেলিং জগতে নিজের একটি অবস্থান গড়ে তুলেন।

২০১৫ সালে ‘আইসক্রিম’ ছবিতে অভিনয়ের ডাক পেলে র‌্যাম্প মডেলিং ও ফটোশুট ছেড়ে দেন।

শ্রীদেবীর দুই কন্যা জাহ্নবি ও খুশি করোনা আক্রান্ত

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে একসঙ্গে অনেক তারকা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গত কয়েক দিন আগে করোনার পজিটিভ রিপোর্ট এসেছিল শ্রীদেবীর দুই কন্যা জাহ্নবি কাপুর ও খুশি কাপুরের। জ্বর, সর্দির মতো মৃদু উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন এ দুবোন। খবর জি নিউজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের জাহ্নবি জানিয়েছেন, ৩ জানুয়ারি তিনি এবং তার বোন খুশি কোভিডে আক্রান্ত হন। তখন থেকে আইসোলেশনে তারা। মুম্বাই পৌরসভার নিয়মানুসারে সাত দিন নিভৃতবাসে ছিলেন। মঙ্গলবার তাদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দুদিন ভীষণ ভুগেছেন তারা। শয্যাশায়ী ছিলেন দুজনেই। তবে তার পর থেকে সুস্থবোধ করতে থাকেন শ্রীদেবীর কন্যারা।

ভক্তদের উদ্দেশে জাহ্নবি লিখেছেন— করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে মাস্ক এবং টিকা প্রধান হাতিয়ার সবার।

কিছু দিন আগেই বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছিলেন জাহ্নবি। থার্মোমিটার মুখে নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল এ অভিনেত্রীকে। তার পাশে ছিলেন বোন খুশি। তা ছাড়া কোভিড নিয়ে কখনও বই পড়ে, কখন আবার ছবি এঁকে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

জাহ্নবি খুশি আক্রান্ত হওয়ার কিছু দিন আগেই কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসে অর্জুন কাপুরের। তার আগে করোনা আক্রান্ত হন অনিল কাপুরের বড় মেয়ে রিয়া কাপুর। মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন বর্ষীয়ান গায়িকা লতা মঙ্গেশকর।

ক্রিকেটই ছেড়ে দিলেন আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি তারকা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) গত মৌসুমজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন প্রোটিয়া তারকা ক্রিস মরিস।

১৬.২৫ কোটি রুপিতে (বাংলা মূদ্রায় ১৮.৮৭ কোটি টাকায়) তাকে কিনে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস।

মরিসকে এতো দামে কেন কিনল রাজস্থান বা সত্যি তিনি এতো দামি তারকা কি না সে প্রশ্ন গোটা টুর্নামেন্টে ঘুরপাক খেয়েছে।

আসন্ন মৌসুমে এ পেস অলরাউন্ডার কত মূল্য পান – সে কৌতূহল হৃদয়ে পুষে রেখেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

আর সবাইকে হতবাক করে দিয়ে গত মৌসুমের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় অবসরই নিয়ে নিলেন। ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দিলেন তিনি!

ইনস্টাগ্রামে মঙ্গলবার এক পোস্টে মরিস বলেছেন, ‘আজ আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করছি। এ অভিযাত্রায় আমার পাশে যারা ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ। ক্যারিয়ারটা আনন্দে কেটেছে। টাইটানসের কোচ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত।’

 

এমবাপ্পেকে হত্যার হুমকি

হত্যার হুমকি পেয়েছেন ফরাসি ফুটবলের সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

নিজ শহর বন্ডিতেই এ হুমকি পেয়েছেন এমবাপ্পে। যে খবরে বিস্মিত ফুটবলবিশ্ব।

সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, বন্ডিতে এমবাপ্পের বিশাল এক ম্যুরালে গ্রাফিতি একে কে বা কারা বার্তা দিয়েছেন, ‘এমবাপ্পে, তোমার দিন ফুরিয়ে এসেছে।’

এমন হুমকি পাওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে পিএসজি তারকার একটি টুইট।

মঙ্গলবার এক শিশুকে অনলাইনে কটূক্তি করার প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটারে পোস্ট করেছিলেন এমবাপ্পে। সে ঘটনার পরই হত্যার হুমকি পান এমবাপ্পে।

উল্লেখ্য, ওই শিশুর নাম কামিলে। ছোট্ট মেয়েটি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। এক ভিডিওতে দেখা গেছে কামিলে এমবাপ্পেকে পিএসজিতে রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলছে, ‘প্যারিস ও ফ্রান্সে আমার মতো লাখো সমর্থক আছে, যারা তোমাকে (এমবাপ্পে) অনেক ভালোবাসে। দয়া করে পিএসজিতে থেকে যাও এবং আরও বহুদিন আমাদের স্বপ্ন দেখাও। কিলিয়ান, আশা করি পিএসজি ও ফ্রান্স দলে দারুণ এক বছর কাটাবেন।’

ধানের জেলা দিনাজপুরেও অস্থির চালের বাজার

ধানের জেলা দিনাজপুরে চালের বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রকারভেদে ৪ থেকে ৬ টাকা। আর ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কাটারি চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

 

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাটারি চালের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিকরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। আর মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশির কারণে দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নাজিরশাইল চাল কেজিতে ৬২ থেকে বেড়ে ৬৮ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৮ থেকে বেড়ে ৫৪ টাকা, বিআর-২৯ চাল ৪৪ থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা এবং মিনিকেট ৫৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাটারি ভোগ চালের দাম ৯০ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকা।

বাহাদুর বাজারের চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে চাল কিনে তাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের বচসা হচ্ছে। তিনি বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের বিক্রি কিছুটা কমেছে। বেশি দাম থাকার কারণে ক্রেতারা বাজারে ছোটাছুটি করছেন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে চাল আমদানির পাশাপাশি খোলা বাজারে চাল বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাহাদুর বাজারের আরেক চাল ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ কুন্ডু বিশু জানান, ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়ছে। বাজারে ধানের দাম ৫০ টাকা বাড়লে মিল মালিকরা চালের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়িয়ে দেন।

তবে মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেড়েছে চালের দাম। দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী জানান, তারা বাজারে ধান কিনে চাল উৎপাদন করে বিক্রি করেন। বেশি দামে ধান কিনে চাল উৎপাদন করতে তাদের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণেই বেড়েছে দাম।

বাংলাদেশ মেজর ও অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শহীদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, কৃষকরাও এখন অনেক স্বাবলম্বী। অনেক কৃষক ধান মজুত করে রেখেছেন। দাম বেশি না হলে তারা বাজারে ছাড়ছেন না। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

দিনাজপুরে প্রতিবছর চাল উৎপাদন হয় ১৪ লাখ টনেরও বেশি। এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ৯ লাখ টন চাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। এদিকে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নিু আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে‌ মারধরের প্রতিবা‌দে ঘর-বা‌ড়ি ভাঙচুর, শিক্ষার্থী‌দের আলটি‌মেটাম

স্বামীসহ এক ছাত্রীকে মারধরের প্রতিবাদে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় এলাকায় ঘর-বা‌ড়ি‌তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপা‌টের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা দু‌টি বা‌ড়ি‌তে ও একটি ক্লা‌বে হামলা ও ভাঙচু‌র করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সহপাঠীকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার রাত ৯টার দি‌কে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক কিছু সম‌য়ের জন‌্য অব‌রোধ ক‌রে বি‌ক্ষোভ করে। প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়ন করা হ‌য়ে‌ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, চরকাউয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার সাইদুল আলম লিটনের অনুসারী জা‌হিদ হো‌সেন জয় নামের এক যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রায়ই উত‌্যক্ত করত। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্রী তার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে গেলে আটকে রেখে স্থানীয় যুবক জয়ের নেতৃত্বে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়।

ঘটনা জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল পাঠাগার নামে একটি সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর করে। প‌রে ইউ‌পি সদস‌্য লিটন ও তার অনুসারী জ‌য়ের ঘর বাড়ি‌তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রকিকুল ইসলাম ইয়া‌মিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই আনন্দ বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থী তার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে যায়। এ সময় তাদের সাথে অশোভন আচরন করে মেম্বার লিটনের অনুসারী জয়সহ কিছু লোক। এরপর ছাত্রীর স্বামীকে মারধর শুরু করে তারা। প‌রে ওই ছাত্রী‌কেও মারধর করা হয়। বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

সৈকত না‌মে আরেক শিক্ষার্থী জানান, ম‌্যা‌নেজ‌মেন্ট বিভা‌গের এক ছাত্রী ও তার স্বামীর সা‌থে এই ঘটনা। আমরা তাৎক্ষ‌নিক ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে প্রতিবাদ জা‌নি‌য়ে‌ছি। ত‌বে কারা ঘর বা‌ড়ি ভাঙচুর ক‌রে‌ছে তা জা‌নি না। আমরা লিটন ও জয়‌কে গ্রেফতা‌রের জন‌্য ১২ ঘন্টার আল‌টি‌মেটাম দি‌য়ে‌ছি। এই সম‌য়ের ম‌ধ্যে তা‌দের গ্রেফতার করা না হ‌লে বড় আন্দোলন করা হ‌বে।

ইউ‌পি সদস‌্য সাইদুল আলম লিট‌নের পিতা বৃদ্ধ আলতাফ হো‌সেন হাওলাদার ব‌লেন, কো‌নো কিছু বোঝার আগেই আমার ঘ‌রে হামলা কর‌ছে, ভাঙচুর কর‌ছে। আমি বার বার কই‌ছি বাচাও, কেউ কথা শু‌নেনাই। আমি বুড়া মানুষ, আমার পি‌ঠেও দুইটা ঘু‌ষি দে‌ছে।

লিট‌নের মা নুরজাহান বেগম ও ভাই ফারুক হো‌সেন ব‌লেন, অত‌র্কিত হামলা করা হইছে আমা‌গো ঘ‌রে। বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের পোলাপান এইয়া কর‌ছে। লিট‌নেরও খোজ নাই আমা‌গো ধা‌রে।

জা‌হিদ হো‌সেন জ‌য়ের মা জোসনা বেগম ব‌লেন, আমার ছে‌লে কিছুই জা‌নে না। এর আগেও আমা‌গো ঘর ভাঙচুর হইছে। আমা‌রে একজ‌নে ফোন দিয়া কইছে আপ‌নে ঘর দিয়া বাইরান, বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের ছাত্ররা যাইতে আছে ঘর ভাঙ‌তে। ২-৩শ পোলাপান আইয়া আমার ঘ‌রের টি‌ভি, ফ্রিজ, আল‌মিরা ভাঙ‌ছে। স্বর্ণ ও নগদ টাকা পয়সা লুটপাট কইরা নে‌ছে। আমরা জি‌ম্মি, এইসব পোলাপান পড়া‌লেখা কর‌তে আয় না গুন্ডা হই‌তে আয় বু‌ঝিনা।

ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের প্রক্টর খোর‌শেদ আলম ব‌লেন, শিক্ষার্থী‌দের বু‌ঝি‌য়ে ঘটনাস্থল ও সড়ক থে‌কে স‌রি‌য়ে আনা হ‌য়ে‌ছে। লিটন মেম্বর জনপ্রতি‌নি‌ধি সুলভ আচরণ ক‌রেন নাই। প‌রি‌স্থি‌তি বর্তমা‌নে শান্ত র‌য়ে‌ছে। শিক্ষার্থীরা কিছু দাবী ক‌রে‌ছেন, সেগু‌লো আমরা দেখ‌ছি। ভাঙচু‌রের বিষ‌য়ে আ‌মি কিছু জা‌নিনা।

ব‌রিশাল বন্দর থানা পু‌লি‌শের ওসি মো: আসাদুজ্জামান ব‌লেন, পু‌রো বিষয়‌টি আমরা জে‌নে‌ছি। ঘটনাস্থ‌লে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়ন করা হ‌য়ে‌ছে। প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অবশেষে বনকর্মীদের জালে ধরা পড়ল গ্রামে ঢুকে পড়া সেই বাঘ

অবশেষে ধরা পড়ল ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার মথুরাখণ্ড গ্রামে ঢুকে পড়া বাঘটি। বুধবার ভোরে ওই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে খাঁচাবন্দি করতে সমর্থ হয়েছেন বনকর্মীরা। বাঘ ধরা পড়ায় স্বস্তিতে মথুরাখণ্ড এলাকার বাসিন্দারা।

সোমবার গভীর রাতে পিরখালি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পঞ্চমুখানি নদী সাঁতরে মথুরাখণ্ড গ্রামে ঢুকেছিল বাঘটি। সেখানে এক গ্রামবাসীর গোয়ালে ঢুকে তিনটি ছাগল এবং একটি গরুকে মেরে ফেলে সে। মঙ্গলবার ভোরে গ্রামের আশপাশে বাঘের পায়ের ছাপ এলাকাবাসীর আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছিল। ঘটনার খবর জানতে পেরে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বাঘের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন।

যে কৌশলৈ ধরা হয় বাঘ
বন দফতরের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ম্যানগ্রোভের জঙ্গল নাইলনের জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর ব্যাপক বাজি–পটকা ফাটানো হয়। দু’টি খাঁচাও পাতা হয়েছিল। আর গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় জ্বালানো হয় আলো।

রাতভর চলে পাহারা। গ্রামের বিভিন্ন পথে বন দফতরের কর্মীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েন।

দিনভর বাজি পটকা ফাটানো হয় যাতে বাঘ জঙ্গলে ফেরত যায়। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঘ জঙ্গলে ফিরে না যাওয়ায় দু’টি খাঁচা পাতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উদ্দেশ্য একটাই কোনওভাবেই বাঘটি যাতে গ্রামের ভেতরে ঢুকে না পড়ে।

অবশেষে বুধবার ভোর ৫টা নাগাদ খাঁচাবন্দি হয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাঘ ধরা পড়ায় খুশি বন দফতরের কর্মীরা। সেই সঙ্গে স্বস্তি পেয়েছেন মথুরাখণ্ড গ্রামের বাসিন্দারাও। শারীরিক পরীক্ষার পর বাঘটিকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সুন্দরবনের একাধিক এলাকায় বাঘ ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বনকর্মীদের চেষ্টা সেগুলিকে ধরে জঙ্গলে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সেই ‘হিরো’ ইঁদুরের মৃত্যু

শত মানুষের মানুষের প্রাণ বাঁচানো স্বর্ণপদক জয়ী ইদুর মাগওয়া মারা গেছে।

দাতব্য প্রতিষ্ঠান অ্যাপোপো ইঁদুরটির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটিতে বলেছে, আট বছর বয়সী মাগওয়া আর নেই।

মৃত্যুর খবর জানানো বিবৃতিতে বলা হয়, সপ্তাহের শুরুর দিনগুলোতে তার স্বাস্থ্য ভালো ছিল। অধিকাংশ দিনই সে স্বভাবগত ভঙ্গিতে খেলেছে। কিন্তু সপ্তাহের শেষ দিকে খাবারে অনিহাসহ সে ঝিমাতে থাকে।

শোক বার্তায় অ্যাপোপো আরও বলে, আমরা মাগওয়ার হারিয়ে যাওয়া অনুভব করছি। যে অবিশ্বাস্য কাজ সে করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তার অবদানের ফলেই কম্বোডিয়ার মানুষ ভয় ও জীবন হারানোর শঙ্কা ছাড়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করতে পারে।

আফ্রিকার দেশ তানজানিয়াভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান অ্যাপোপো প্রাণীটিকে প্রশিক্ষণ দেয়। মাগওয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানজানিয়ায়। ওজন ছিল ১ দশমিক ২ কিলোগ্রাম, লম্বা ৭০ সেন্টিমিটার। এই প্রজাতির ইঁদুর অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক বড় হলেও মাগওয়া ছিল ছোট ও হালকা–পাতলা গড়নের।

পেশাজীবনে মাগওয়া দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় শতাধিক স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলা শনাক্ত করেছে। স্থলমাইন শনাক্তের মতো অতিঝুঁকিপূর্ণ বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য গত বছর মাগওয়া স্বর্ণপদক জিতেছিল। ২০২০ সালের জুনে তাকে অবসর দেওয়া হয়।

বহু প্রাণঘাতী যুদ্ধের সাক্ষী কম্বোডিয়া। সেখানে এখনও বহু জায়গায় মাটির নিচে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা আছে। সেইসব ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মাঝেমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মাগওয়ার ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজে লাগানো হতো। যে জায়গা বম্ব–ডিটেকটর হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে প্রায় চারদিন সময় লাগবে সেখানে ৩০ মিনিটে সফলভাবে সার্চ অপারেশন চালাতো মাগওয়া।

কম্বোডিয়ায় ৬০ লাখের বেশি স্থলমাইন রয়েছে। স্থলমাইন অপসারণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) হালো ট্রাস্টের তথ্যমতে, ১৯৭৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে দেশটিতে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সত্তরের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত চলা দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়।