শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 473

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ওপর বন্দুক হামলা

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহর ওপর বন্দুক হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার ওপরে এই হামলা চালায়। প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের বাসভবনে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহের গাড়িবহরে বন্দুক হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এটিকে স্পষ্টতই পরিকল্পিত একটি হত্যাচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে সূত্রটি। বন্দুক হামলার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারা এই হামলার ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ পায়নি এমনকি হামলার পরবর্তী অবস্থারও কোনো ছবি বা ফুটেজ তাদের হাতে আসেনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহকে হত্যাচেষ্টার প্রত্যক্ষদর্শী কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও তারা কথা বলতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্বৃত্তদের হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন লিবিয়ার প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাতি বাশাগা। যদিও সেসময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে বিক্ষোভ ও গৃহযুদ্ধে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের একনায়ক শাসক মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর দেশটি দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার সরকার রাজধানী ত্রিপোলিসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে বেনগাজিকে কেন্দ্র করে মিসর, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলের দখল নেয়।

ডেনমার্কের রানি ও স্পেনের রাজা করোনায় আক্রান্ত

ডেনমার্কের রানি দ্বিতীয় মার্গারেট এবং স্পেনের রাজা ৬ষ্ঠ ফিলিপ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার দুদেশের রাজপ্রাসাদ থেকে পৃথক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, রানি দ্বিতীয় মার্গারেট ও রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের করোনা পরীক্ষার পর ফল পজিটিভ এসেছে। তবে দুজনেই আশঙ্কামুক্ত। তাদের দুজনের উপসর্গই মৃদু। খবর এএফপির।

৮১ বছর বয়সি রানি গত নভেম্বরে করোনার ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন। মঙ্গলবার তার করোনা ধরা পড়ে।

ডেনমার্কেন রানি দ্বিতীয় মার্গারেট খুবই জনপ্রিয়। সম্প্রতি তিনি রাজসিংহাসনে আরোহণের ৫০ বছর উদযাপন করেছেন। তার নরেওয়ে যাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে সেই সফর বাতিল করেছেন। তিনি এখন কোপেনহাগেনের রাজপ্রসাদে আইসোলেশন করছেন।

ডেনমার্ক করোনার বিধিনিষেধ তুলে নিলেও চার দিন আইসোলেশন বাধ্যতামূলক রেখেছে।

এদিকে স্পেনের রাজপ্রাসাদ বিবৃতিতে বলেছে, ৫৪ বছর বয়সি রাজার করোনা ধরা পড়ে বুধবার। আগের রাতে মৃদু উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কোভিড পরীক্ষা করান তিনি।

রাজা সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন জানিয়ে রাজপ্রাসাদ বলেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো। কোয়ারেন্টিনে থেকেই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজা ফিলিপ ২০২১ সালে মে মাসে টিকার প্রথম টিকা ডোজ নেন। তিনি দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন কি না, তা জানতে এএফপি যোগাযোগ করে রাজপ্রাসাদের সাড়া পায়নি।

বাড়ল স্বর্ণের দাম

২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে এক হাজার ৮৬৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে‌ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে দে‌শের বাজা‌রে এই মা‌নের স্বর্ণ প্রতি ভ‌রির দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৪ হাজার ৯৯৯ দশমিক ৫২ টাকা।

বুধবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণের খবর গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের ভরির দাম পড়বে ৭৪ হাজার ৯৯৯ দশমিক ৫২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭১ হাজার ৬৭৫ দশমিক ২৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৬১ হাজার ৮১৯ দশমিক ২০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতিতে ৫১ হাজার ২০৪ দশমিক ৯৬ টাকায়।

এর আগে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট মা‌নের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ৬৯ হাজার ৯৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ৬১ হাজার ২৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হ‌য়ে‌ছিল ৫০ হাজার ৯১৩ টাকা। আজ বুধবার পর্যন্ত এটি কার্যকর ছিল।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫১৬ টাকায়, ২১ ক্যারেট ১ হাজার ৪৩৫ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ হাজার ২১৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৯৩৩ টাকায়।

ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগে বিএসইসির তদন্ত কমিটি

ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ‌্যমে শেয়ার ক্রয় ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামুন আজিম নামে এক ব্যক্তিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ‌্যে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

৯ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, একই প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ খান।

বিএসইসির জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামুন আজিম এবং অন্যদের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবৈধ, বেআইনি এবং অসৎ কাজের যে অভিযোগ উঠেছে তা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

অভিযুক্তরা শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৭ ক অনুযায়ী মামুন আজিম এবং অন‌্যদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

তদন্ত কমিটি ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ‌্যমে শেয়ার ক্রয়সহ অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। এ জন‌্য তদন্ত কমিটিতে বিএসইসি ও ডিএসইর কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো। তদন্ত কর্মকর্তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএসইসিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খালেদা জিয়ার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সনদ লবিস্ট ফার্মের: মন্ত্রী

খালেদা জিয়ার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সনদ বিএনপির নিয়োগ করা লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তিকারী সংস্থা থেকে নেওয়া বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সাড়ে তিন বছর আগে নেওয়া এই সনদ গণমাধ্যমে দেখিয়ে বিএনপি খালেদা জিয়াকে হাস্যাস্পদ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম খালেদা জিয়াকে কানাডার একটি সংস্থা, যাদের নাম তেমন কেউ জানে না, জন্মও খুব আগে নয়, তারা তাকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যেটি মির্জা ফখরুল সাহেব ২০১৭-১৮ সাল থেকে বলা শুরু করেছেন। এই সার্টিফিকেট আবার সাড়ে তিন বছর আগে ৩১ জুলাই ২০১৮ সালে দেওয়া। সাড়ে তিন বছর পর হঠাৎ বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমের সামনে এসে কথাগুলো বললেন, তাতে পুরো বিষয় এবং খালেদা জিয়াকে একটি ‘লাফিং স্টক’ (হাস্যাস্পদ) বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ড. হাছান বলেন, আপনারা জানেন যে কানাডার ফেডারেল আদালত বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রায় দিয়েছিল। সেই কানাডার তথাকথিত এক সংস্থা থেকে বিএনপি একটি সার্টিফিকেট কিনেছে, সেটা আবার সাড়ে তিন বছর আগে। কিছু লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে আবার কিছু ফার্মের সঙ্গে বিদেশিদের মাধ্যমে চুক্তি করেছে। যে ‘অর্গানাইজেশন ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস’-এর পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সনদ দেওয়া হয়েছে বলা হচ্ছে, তারা বিএনপির পক্ষ হয়ে দেশবিরোধী অপপ্রচার চালানোর জন্য লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। তাদের কাছ থেকে বিএনপি একটা সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছিলেন আর এখন সেটি গণমাধ্যমের সামনে দেখালেন, পুরো বিষয়টাই হাস্যকর। মন্ত্রী এ সময় চুক্তিপত্রের কপি সাংবাদিকদের দেখান।

‘বিএনপি সাড়ে তিন বছর পরে কেন এটি দেখাল’ এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা হঠাৎ সাড়ে তিন বছর পরে কেন জানাইলেন এবং গণমাধ্যমের সামনে হাজির হইলেন, উহা তাহারাই বলিতে পারিবেন।’

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের মুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে আমাদের শিল্পী কলাকুশলীরা স্কলারশিপ নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পারে, বাংলাদেশি বেসরকারি চ্যানেলগুলো পশ্চিমবাংলায় প্রদর্শনের বিষয়টি কীভাবে সহজ করা যায় এবং আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রপত্রিকার কলকাতা প্রতিনিধিরা কীভাবে সেখানে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেতে পারে সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দুদেশের অর্থায়নে মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রের জন্য তানভির মোকাম্মেলকে পরিচালক হিসেবে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই যুগ্মপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার।

রাজনীতি না করার শর্তে জামিন চায় হেফাজত

কারাবন্দি হেফাজত নেতাদের মুক্তি চেয়েছেন সংগঠনের নেতারা। হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে তার অফিসে দেখা করে বন্দি নেতা-কর্মীদের নিজেদের জিম্মায় জামিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছে। দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

বৈঠকে হেফাজত নেতারা সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, বন্দি নেতাদের মুক্তি দেওয়া হলে তারা কওমি মাদ্রাসায় কোনো ধরনের রাজনীতিতে জড়াবে না। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজত নেতাদের জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে আমরা আরও অলোচনা করব, যা হবে আদালতের মাধ্যমেই করতে হবে।

বৈঠকে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা ইয়াহিয়াসহ সংগঠনের ৬ জন সিনিয়র সদস্য অংশ নেন। অন্য নেতারা হলেন-দলটির নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান (দেওনার পীর), হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রীস ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ শাখার ডিআইজি নাফিউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের প্রধান একেএম হাফিজ আক্তার, র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্নেল মশিউর রহমান এবং সিআইডির একজন প্রতিনিধিসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি না করার বিষয়ে সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অঙ্গীকার বা এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এ প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়সহ অনেক বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আমি সব বিষয়ে আপনাকে বলব না।

গোয়েন্দা সূত্র যুগান্তরকে জানায়, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন কমিয়ে আনা ও কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির উদ্যোগের অংশ হিসাবে এই বৈঠক হয়েছে। হেফাজত নেতাদের মুক্তির বিষয়ে সরকারের তরফে বেশকিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। হেফাজত নেতারাও সেগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানতে চাইলে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মী এখনো কারাগারে রয়েছেন আমরা তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছি। লিখিতভাবে আমরা দাবিগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। তিনি বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখবেন বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। মাওলানা মামুনুল হকের মুক্তির ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলাদাভাবে আমরা কারও ব্যাপারে কথা বলিনি। যারাই জেলে রয়েছেন সবার মুক্তি আবেদনই আমরা জানিয়েছি।

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি না করতে মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালে করা সব মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ওলামায়ে কেরামদের মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

এ ছাড়া তিনি বন্দিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত বছর ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতার মামলায় সারাদেশে টানা গ্রেফতার অভিযানসহ নানামুখী চাপে পড়ে হেফাজত। এসব মামলায় হেফাজতের ৩০ নেতাসহ সারাদেশে এক হাজার ২৩০ জনেরও বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, বন্দিদের অনেকেই ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলে আছেন। বন্দিরা জেলে থাকায় তাদের পরিবারগুলো সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এই অবস্থায় অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্দিদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনের সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনারকে গ্রেফতার করল মালয়েশিয়া পুলিশ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন পুলিশ। স্থানীয় সময় বুধবার সকালে কুয়ালালামপুরের আমপাং এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এ হাইকমিশনার।

আটকের পর খায়রুজ্জামানের আইনজীবী তার অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে আইনজীবী আদালতে হেবিয়াস কর্পাস দায়ের করবেন বলে জানা গেছে। হেবিয়াস কর্পাস একজন বন্দি বা বন্দিকে আদালতের সামনে আনার জন্য ব্যবহৃত হয় যে ব্যক্তির কারাদণ্ড বা আটক আইনানুগ কিনা।

মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। পরে ওই মামলা থেকে তিনি খালাস পান।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মালয়েশিয়ায় হাই কমিশনার নিযুক্ত হন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ফিরে আসার পর খায়রুজ্জামান কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ড পান এবং সেখানেই থেকে যান।

‘দেশে নিখোঁজ ৮-৯ জনের খোঁজ মিলেছে, আরও পাওয়ার সম্ভাবনা’

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ৮-৯ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। দেশের সংস্থাগুলো এ নিয়ে কাজ করছে। দেশে এবং দেশের বাইরে আরও কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন। তবে তার মতে, এসব নিয়ে এই মুহূর্তে বৈশ্বিক কোনো চাপ নেই। এছাড়াও র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতই ল ফার্ম নিয়োগ করার ইঙ্গিত দেন তিনি।

উল্লে­খ্য, সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় শুরু হয়েছে মানবাধিকার কাউন্সিলের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির ৫ দিনের বৈঠক। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি বছরে তিনবার বৈঠকে মিলিত হয়। এবারের বৈঠকের এজেন্ডা প্রকাশ হয়নি। তবে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৬ ব্যক্তি গুম হয়েছে। বিষয়টি তাদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। আর নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য চেয়েছে। তবে সরকারের দাবি, তালিকার সবাই নিখোঁজ নন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ৭৬ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়ার কথা আমরা শুনেছি। তাদের ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য হলো ৮-৯ জনকে পাওয়া গেছে। সেগুলো আমরা তাদেরকে (ওয়ার্কিং কমিটি) জানিয়ে রেখেছি। এছাড়াও এ বিষয় নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করে, তারা এগুলো খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, দেশে এবং দেশের বাইরে আরও কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, কী কী ক্লু আছে, সেগুলো আমরা দেখব। এক্ষেত্রে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলো আমরা মানবাধিকার কাউন্সিলকে জানিয়ে রাখব। যাতে ঢালাওভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ক্যাম্পেইন কিংবা আপত্তিকর কোনো সুপারিশ না আসে।

যুক্তরাষ্ট্রে ল ফার্ম নিয়োগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বাড়তি নজর বাংলাদেশের দিকে। বিষয়টি সরকারের জন্য অস্বস্তির। তবে গুমের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করার কথা বলছে সরকার।

প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে লোফিসেয়েলের প্রচ্ছদকন্যা হলেন ফারনাজ আলম

প্রচ্ছদের বিষয় ছিল প্রথাবিরোধী। কারণ গতানুগতিকতার স্রোতে গা ভাসাতে চাননি তিনি। থিমটা তারই দেওয়া। এই থিমে লুকটা করা হয়েছে রাজকন্যার মতো। আর তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে লোফিসেয়েলের প্রচ্ছদকন্যা হয়েছে। বলা হচ্ছে বাংলাদেশি রূপবিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলম এর কথা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ম্যাগাজিনের বিষয় হয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার এবং তার ব্র্যান্ড কণা বাই ফারনাজ আলমের বিভিন্ন প্রসাধনী দিয়ে মেকওভারের ছবি ছাপা হয়েছে। এবার তারই ধারাবাহিকতায় ফ্যাশন ম্যাগাজিন লোফিসিয়েলের আরব সংস্করণের ফেব্রুয়ারি সংখ্যার প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন ফারনাজ আলম।

প্রচ্ছদকন্যা হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি যেমন ছিল তেমনি ছিল প্রয়োজনীয় গ্রুমিং। তবে মডেলিংয়ের পূর্বাভিজ্ঞতা না থাকলেও সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা আর মেধা দিয়েই উতরে গেছেন তিনি।

লোফিয়েসেল অ্যারাবিয়ার ফটোশুট নিয়ে তিনি বলেন, দুবাইতে বছরের বেশ বড় একটা সময় থাকতে হয় বলে সেখানেই রূপবিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সাময়িকীর ফটোশুটে মেকআপ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে শুটে কাজ করেছেন। এভাবেই শুটের প্রোডাকশন টিমের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। যোগাযোগ হয় লোফিসিয়েল অ্যারাবিয়ার কুশীলবদের সঙ্গে। তারাই ফারনাজকে প্রচ্ছদকন্যা হওয়ার প্রস্তাব দিলে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও ফিরিয়ে দেননি।

দুবাইতে জানুয়ারিতেই শুট শুরু হয়। শুট আগে তিন দিন গ্র“ম করানো হয়। হিল তিনি পরেন না। যদিও এই শুটে হিল পরতে হয়েছে। হিল পরে অনুশীলনের সময় পায়ে ফোস্কাও পড়েছে, হাসতে হাসতে বললেন ফারনাজ; সঙ্গে যোগ করলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হয়েছে এই শুট। দীর্ঘসময় কাজ করতে গেলে প্রচুর এনার্জি লাগে। এজন্য নিজেকে চাঙা রাখতে কাপের পর কাপ কফি খেয়েছি।

মোট চারটি ছবি ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছে। এই পোশাকগুলো ছিল অ্যাটেলিয়ার জুহরা ব্র্যান্ডের। কিছু গয়না আর ব্যাগ ছিল বিখ্যাত ব্র্যান্ড বালগেরির। এ ছাড়া কিছু গয়না ছিল মেসিকা ও শার্লট শেনের। ঘড়ি ছিল শোপার। জুতা পরেছেন জিমি জু আর ক্রিস্টিয় লুবাতঁর।

পাশাপাশি তার মেকআপ করা হয়েছে কণা বাই ফারনাজ আলমের তিনটি প্রসাধনী ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক আর আইশ্যাডো দিয়ে। এটিও বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক বলে মনে করেন তিনি। কারণ বাংলাদেশের প্রসাধনী দিয়ে আন্তর্জাতিক সাময়িকীর জন্য মেকআপ করা হচ্ছে। এর আগে অবশ্য এলো ইন্ডিয়ার শুটেও তার প্রতিষ্ঠানের প্রসাধনী ব্যবহার হয়। এ ছাড়া প্যারিস ফ্যাশন উইকেও এই প্রসাধনী দিয়ে মেকাআপ করা হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশকেও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি আমরা, বললেন ফারনাজ।

এই শুটের পোশাকগুলো ছিল যথেষ্ট ভারী। একটি পোশাক ছিল ১০ কেজির মতো ওজন; যা সামলানো মুখের কথা নয়। এর সঙ্গে জুতা এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ মিলিয়ে যথাযথ লুক দেওয়াটাও বেশ কষ্ট সাধ্য। তবে তিনি সেটি ভালোভাবেই করতে পেরেছেন। এ পোশাকগুলো পরে মূলত লাল গালিচায় হাঁটা হয় বা ওই ধরনের অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়।

প্রচ্ছদে তিনি চিরাচরিত রূপের রাজকন্যা নয়। কারণ রাজকন্যা বলতে আমাদের মাথায় থাকে নিটোল চেহারার, যিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করা কোনো মেয়ে। কিন্তু এখন তো দিন বদলেছে। ফলে রাজকন্যার সংজ্ঞাও পাল্টেছে। তারা এখন চার দেয়ালের চৌহদ্দিতে বন্দি নয়। বরং নারীর ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক। তার চিন্তাভাবনায় সেই ছাপ স্পষ্ট।

১৯২১ সাল থেকে প্রকাশিত লোফিসিয়েল ফ্যাশন বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন একটি ম্যাগাজিন। অনেকগুলো ভাষায় রয়েছে এর সংস্করণ। বিভিন্ন লোফিসিয়েল ইন্ডিয়ার প্রচ্ছদ হয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন, জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ, ক্যাটরিনা কাইফ কিংবা সানিয়া মির্জারা। সেই দিক থেকে ফারনাজের অর্জন অনন্য। এক্ষেত্রে তিনি অন্যদের জন্য প্রেরণা হতে পারেন। হতে পারেন রোলমডেল।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বিউটি পার্লার উওম্যান’স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক ফারনাজ আলম এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কণা আলমের কন্যা। ফারনাজ একাধারে স্থপতি এবং সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞও। লরিয়েলের ব্রাশ কন্টেস্টের বিজয়ীও।

এইচএসসির ফল ‘আগামী সপ্তাহে’

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।আগামী ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে উল্লি­খিত যে কোনো দিন ফল প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জানান, ৪ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বিদেশের কেন্দ্রগুলোর উত্তরপত্র আসতে এবার দেরি হয়। মূলত আকাশপথের যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি হয়। তবে আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে ফল প্রস্তুত করা হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সময় দেয় সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে। গত বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

এই পরীক্ষায় এবার সর্বমোট ১৪ লাখ ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরু হয় গত বছরের ২ ডিসেম্বর। শেষ হয় ৩০ ডিসেম্বর। একমাসের মধ্যে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই হিসাবে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা। এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। কেবল বিভাগভিত্তিক তিনটি করে নৈর্বাচনিক বিষয়ে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়।