শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 462

স্পেনের মাছ ধরার নৌকা ডুবে নিহত ১০

কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে স্পেনের একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন।

বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাডুবির এ ঘটনায় তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কানাডার উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টারে করে তাদের উপকূলে আনা হয়েছে। নিখোঁজ বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। তীব্র বাতাসে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপকূল থেকে ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের পানিতে ডুবে যায় স্পেনের মাছ ধরার নৌকাটি। বিপদসংকেত পেয়ে কানাডা ও স্পেনের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন।

হ্যালিফ্যাক্সের জয়েন্ট রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার সিবিসি নিউজকে জানিয়েছে, নৌকাটিতে ২৪ জন আরোহী ছিলেন। তাদের ১৬ জন স্পেনের। বাকিরা পেরু এবং ঘানার নাগরিক বলে জানা গেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার অভিযানের সার্বক্ষণিক খবর রাখছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার সকালে অনুসন্ধান কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

ইউরোপে যুদ্ধ চান না পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপে কোনো প্রকার যুদ্ধ চায় না রাশিয়া। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলোকে আমলে নিতে হবে।

মঙ্গলবার মস্কোতে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলৎজের সঙ্গে চার ঘণ্টা বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের জেরে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে তা প্রশমিত করতে শেষ ইউরোপীয় নেতা হিসেবে ওলাফ শুলৎজ এ সফর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধের সম্ভাবনার বিষয়ে পুতিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা কি তা চাই, না চাই না? অবশ্যই চাই না। এ কারণেই আমরা আপস করার জন্য আলোচনা ও প্রস্তাব এগিয়ে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ‘মৌলিক’ নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্বেগকে আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ন্যাটো।

পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রশ্ন এখনই সমাধান হওয়া উচিত।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে শুলৎজ বলেন, রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশ ’কল্পনাতীত’। কিন্তু কূটনীতিক সমাধানের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

এদিকে এর আগে মঙ্গলবার ইউক্রেন সীমান্তে মোতায়েন রাশিয়ার কিছু সৈন্যকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, রাশিয়ার এই বিষয়ে ঘোষণা ‘সতর্ক ইতিবাচকতার’ ইঙ্গিত দিয়েছে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

সোমবার কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ইউক্রেন থেকে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের স্বদেশে ফেরার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশপন্থি সরকারের পতনের পর রাশিয়া দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে ক্রিমিয়া অঞ্চলটি দখল করে নেয়। পাশাপাশি মস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব ইউক্রেনে বিপুল অঞ্চল দখল করে নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ওই সংঘর্ষ বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালে বেলারুশের মিনস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তি করে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর দুই দেশের মধ্যে আবার সম্পর্কে উত্তেজনা শুরু হয়।

১৮ বছরে ঋণ অবলোপন ৫৮ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। গত ১৮ বছরে এ ঋণ অবলোপন করা হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে নতুন করে অবলোপন করা হয়েছে ৯৭৪ কোটি টাকা। এ সময় পুরোনো এবং নতুন অবলোপন থেকে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৭২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিসাবের খাতা পরিষ্কার দেখাতে এ পথে হাঁটছে ব্যাংকগুলো। এতে সাময়িক খেলাপি ঋণ কম দেখালেও প্রকৃত খেলাপি ঠিকই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কারপেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। সে কারণে খেলাপি ঋণ দেখানো হচ্ছে মাত্র এক লাখ কোটি টাকা। অথচ সব মিলিয়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণ চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এসব টাকা ফেরত আনতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিকল্প নেই। ঋণখেলাপিদের জেলে ঢুকিয়ে সম্পত্তি ক্রোক করে কিছু টাকা আদায় করা যেতে পারে। অন্য কোনো উপায়ে টাকা ফেরত আসবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ঋণ অবলোপন করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৭৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান যে পরিমাণ খেলাপি রয়েছে তার ৫৭.৩১ শতাংশ। এ সময়ে অবলোপন স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬০৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের ঋণ অবলোপন ১৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। বেসরকারি ৪১ ব্যাংকের ২৪ হাজার ৯৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিদেশি ৯ ব্যাংকের ১ হাজার ৭১ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ৩ ব্যাংকের ৩৬৫ কোটি টাকা। বছরভিত্তিক আদায়ের চিত্রে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবলোপন করা ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৪৭১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের বছর ২০২০ সালের একই সময়ে আদায় ৭৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের একই সময়ে আদায় করা হয়েছে ৮৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। তবে খেলাপির নানা শ্রেণিভেদে ২০ থেকে ১০০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে। যদিও প্রথমে পাঁচ বছরের বেশি ঋণ অবলোপন করা যেত, এখন তা তিন বছর হলেই অবলোপন করা যায়। সাধারণত খেলাপি হওয়ার পর যে ঋণ আদায় করার সম্ভাবনা খুবই কম, সেই ঋণ অবলোপন করে ব্যাংকগুলো। তবে এ ঋণ পুনঃতফশিল বা পুনর্গঠন করা যায় না।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগে মামলা ছাড়া ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবলোপন করা যেত। আর এখন ২ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা ছাড়াই অবলোপন করা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন শিথিল নীতিমালার কারণে খেলাপি ঋণ অবলোপন বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো।

গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। ২০১৯ সালে বিশেষ নীতিমালার আওতায় ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয় সরকার। যদিও কোভিডের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি বিবেচনায় কয়েক দফায় সুযোগ দেওয়া হয়, যা গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। তাই এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকায় ব্যাংকগুলো আর্থিক প্রতিবেদন পরিচ্ছন্ন দেখাতে কৌশলেই মন্দমানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করার পথে হাঁটছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঋণ আদায়ে সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অবলোপনের পথে হাঁটে ব্যাংকগুলো। তবে এ টাকা আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় অর্থঋণ আদালতের নানা দীর্ঘসূত্রতার কারণেও ঋণ আদায়ের গতি শ্লথ হয়ে যায়।

লেনদেন না করলে ক্রেডিট কার্ডে চার্জ নেওয়া যাবে না

ক্রেডিট কার্ডে কোনো ধরনের লেনদেন না করেও দিতে হচ্ছে বিভিন্ন চার্জ। আবার অনেক ক্ষেত্রে কার্ড চালুর আগেই নানা ধরনের নন-ট্রানজেকশনাল ফি-চার্জ অরোপ করছে। এসব অযাচিত চার্জের অর্থ সময়মতো পরিশোধ না করায় খেলাপিও হয়ে যাচ্ছেন গ্রাহক। তাই এসব অহেতুক ফি ও চার্জ আরোপ এবং আদায় না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে নগদ উত্তোলন এবং বিলম্ব ফি আদায় বিষয়ক নির্দেশনা আছে। তারপরও সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর পরে গ্রাহক ওই কার্ড সক্রিয় করার আগেই ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের নন-ট্রানজেকশনাল ফি ও চার্জ (বার্ষিক ফি, সিআইবি ফি, এসএমএস ফি ইত্যাদি) আরোপ করা হচ্ছে এবং তা অনাদায়ে গ্রাহককে বিরূপমানে শ্রেণিকরণ (খেলাপি) করা হচ্ছে। এর ফলে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে এবং গ্রাহক বিবিধ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড সক্রিয় করার আগে গ্রাহকের ওপর কোনোরূপ নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না। গ্রাহকের ইচ্ছায় ক্রেডিট কার্ড চালুর পরে নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে।

তবে সক্রিয় ক্রেডিট কার্ডে গ্রাহকের লেনদেন (কেনাকাটা, নগদ উত্তোলন বা অন্য কোনো ধরনের মার্চেন্ট ট্রানজেকশন) সংক্রান্ত কোনো দায় না থাকলে অপরিশোধিত বা বিলম্বে পরিশোধজনিত কারণে নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জের অতিরিক্ত কোনোরূপ জরিমানা আরোপ করা যাবে না। নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জের ওপর কোনো অবস্থাতেই সুদ বা মুনাফা আরোপ করা যাবে না। নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জ সংক্রান্ত অপরিশোধিত দায়ের জন্য গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি বলেছেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন আর সে সুযোগ নেই। পেছনের দরজা দিয়েও ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো নাম প্রস্তাব না করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রকে সম্মান করি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে। গণতন্ত্রকে পাকাপোক্ত করার জন্য লড়াই করেছে। আর বিএনপির জন্ম গণতন্ত্রের মাধ্যমে হয়নি। তারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। এরপর তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেই রানা এখন দাপুটে নেতা

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আনোয়ার হোসেন রানা। পদ-পদবি ব্যবহার করে হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। শ্বশুরের অর্থ আত্মসাৎ করে কোটিপতি বনে যাওয়া রানা একসময় উপজেলা জাতীয় পার্টির পদ পেতে ঘুরেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের পেছনে। তাতে কাজ না হলে রাতারাতি বনে যান বিএনপির কর্মী। বিএনপির পদ বাগিয়ে নিতে ঘোরা শুরু করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় অর্থ দিয়ে বাগিয়ে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ। সাধারণ সম্পাদক জেলে থাকায় দায়িত্ব পান নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল কেন্দ্র করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

২০ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেছেন, পারিবারিকভাবে আনোয়ার হোসেন রানার নামে শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে। তিনি মামলা থেকে রক্ষা পেতে ও তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টার অংশ হিসাবে এবং দলীয় ইমেজ ফিরে পেতে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানারকম নাটক সাজিয়েছেন।

অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সরিফ বিড়ির শতকোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সরিফ বিড়ির কর্ণধারের মেয়ে জামাই আনোয়ার হোসেন রানার চার শ্যালিকা-মাহবুবা খানম আমেনা, নাদিরা শরিফা সুলতানা খানম, কানিজ ফাতেমা পুতুল ও তৌহিদা শরিফা সুলতানা।

সম্পদ আত্মসাতের ঘটনায় ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর এবং গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সরিফ উদ্দিনের চার মেয়ে। এরপর ওই বছরের ৫ অক্টোবর মেয়ে ও মেয়ের জামাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন সেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী দেলওয়ারা বেগম। ওই মামলায় স্ত্রীসহ গ্রেফতারও হন রানা। এখন ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেন রানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

বাপ্পি লাহিড়ীর মৃত্যুতে শেখ হাসিনার শোক

উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাপ্পি লাহিড়ীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মঙ্গলবার রাতে মুম্বাইয়ের ক্রিটি কেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাপ্পি লাহিড়ী। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

তিনি ১৯৭০-৮০ দশকের শেষের দিকে চলতে চলতে, ডিস্কো ড্যান্সার এবং শারাবির মতো বেশ কয়েকটি ছবিতে আইকনিক গান পরিবেশনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তিনি এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন। সোমবারই দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালের পক্ষ থেকে ছুটি। তবে মঙ্গলবারই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, পরিবারের তরফ থেকে ডাক্তারকে বাড়িতেই ডেকে পাঠানো হয়। ডাক্তারের পরামর্শ তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্যা থাকায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়। অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াতে মৃত্যু ঘটে বাপ্পি লাহিড়ীর। মধ্যরাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ইয়াবা-নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ গ্রেফতার ৫১

ইয়াবা-নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে— ৫৫২৯ পিস ৮০০ গ্রাম ইয়াবা বড়ি, ৫০ গ্রাম ২২ পুরিয়া হেরোইন, ১০ কেজি ৬৪০ গ্রাম গাঁজা, ২০ বোতল ফেনসিডিল ও ২০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪১টি মামলা করা হয়েছে।

দাফনের পর মৃতের জন্য সম্মিলিতভাবে দোয়া করা যাবে?

আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত লোকজন সুরা কেরাত পড়ে সম্মিলিতভাবে মৃতের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। কেউ কেউ এই রীতিকে বিদআত বলে আখ্যায়িত করে থাকে।

কিন্তু আসলেই কি এটা বিদআত? হাদিস ও আছারে কি এর কোনো প্রমাণ আছে? এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পাশে থেকে কিছু সময় পর্যন্ত তার জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব। এটি একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

হজরত উসমান ইবনে আফফান রা. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন- ‘নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মৃতের দাফনকার্য সম্পন্ন করতেন তখন তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং (সওয়াল-জওয়াবের সময়) অবিচল থাকার দোয়া করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২১৩)

অন্য হাদিসে আছে। তাবেয়ী আবদুর রহমান ইবনে শামাসাহ আলমাহরী (রহ.) বলেন-‘আমর ইবনুল আস (রা.) যখন মুমূর্ষু অবস্থায় তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে কোনো বিলাপকারিনী এবং আগুন যেন আমার জানাজার সঙ্গে না যায়। আর তোমরা যখন আমাকে দাফন করবে তখন আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে। এরপর একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় আমার কবরের পাশে অপেক্ষা করবে। যেন তোমাদের মাধ্যমে আমার নিঃসঙ্গতা দূর হয় এবং আমার রবের ফেরেশতাদের জবাব দিতে পারি।’ (সহিহ মুসলিম ১/৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২১৩)

আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) বলেন-‘এতটুকু সময় মৃতের কবরের পাশে অবস্থান করার উদ্দেশ্য হলো, তার জন্য দোয়া, জিকির, তেলাওয়াত ও ইস্তিগফার ইত্যাদি করা। যেন এর মাধ্যমে মৃতের নিঃসঙ্গতা দূর হয় এবং তার জন্য ফেরেশতাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া সহজ হয়।’ (মিরকাতুল মাফাতীহ ৩/১২৭)

তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রহ.) বলেন- ‘আনাস (রা.) যখন কোনো মৃত ব্যক্তিকে কবর দিতেন তখন কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুতরাং আপনি তার প্রতি দয়া করুন এবং রহম করুন। হে আল্লাহ! তার কবরকে তার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং তাকে উত্তমরূপে কবুল করে নিন। হে আল্লাহ! সে যদি আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকে তাহলে তার সওয়াব আরো বাড়িয়ে দিন আর যদি সে গুনাহগার হয়ে থাকে তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিন।’

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৩৪; সুনানে বায়হাকী ৩/১৬২; মাজমাউয যওয়ায়েদ ৩/১৬২)

আর এ সময়ে দোয়ার জন্য হাত তোলার কথাও হাদিস শরীফে প্রমাণিত আছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন রা.-এর দাফনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন- ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার দাফন থেকে অবসর হলেন তখন দুই হাত তুলে কেবলামুখী হয়ে তার জন্য দোয়া করেন যে, ইয়া আল্লাহ! আমি তার উপর সন্তুষ্ট, আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।’

(মুসনাদে বাযযার, হাদিস: ১৭০৬; হিলয়াতুল আওলিয়া ১/১২২; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ৪/৬৭৩; আসসীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ইবনে হিশাম ২/৫২৭; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮)

এসব হাদিসের আলোকে ফকীহরা দাফনের পর মৃতের জন্য দোয়া করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তাই একে অবৈধ বা বিদআত বলা কিছুতেই ঠিক নয়। আর এক্ষেত্রে একাকী বা সম্মিলিত দুভাবেই দুআ করা যাবে। তবে দুআ করলে কবরকে সামনে রেখে দুআ করবে না; বরং কবর থেকে সরে গিয়ে কবরকে পেছনে বা পাশে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দুআ করবে।

(আলবিনায়াহ ৩/৩০৫; শরহুল মুনইয়া ৬০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬, ৫/৩৫০; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৭; ফাতহুল মুলহিম ১/২৭৩; বাযলুল মাজহূদ ১৪/১৯০; ইলাউস সুনান ৮/৩৪২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০০)

চিরজীবী ভালোবাসা

ভালোবাসা
সকালের সোনারুদ্দর জানালায় অট্টগোল
চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি বাজায় নৃত্যে বড্ডডোল,
সমুদ্র সৈকতে জোয়ারে তীরে যায় নৌবহর
আকাশ-জমির বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে সৌরঝড়।
–ভালোবাসা
পাহাড়ী ঝর্ণার আভেসে বিহঙ্গ মন-মাতাল
ধরনীর ক্লান্তি আবাস খুঁজে পায় মৃদ-বাতাস,
তাজমহলের প্রতিটি ইটের কণার ঝলখানি
সময়ের বাধনে সকল চঞ্চলতা ঊর্ধ্বমুখী ।
–ভালোবাসা
প্রতিটি রাতের চেয়ে অন্তহীন দিবস ভিন্ন
জীবন মানে সীমানার কাঁটাতারে নিরন্ন,
জীবন্ত প্রেমে আধারে ডুবে চাঁদ একান্ত
দুজনার হাঁসি ঠাট্টায় গলে যায় বিষন্ন।
–ভালোবাসা
অভিমানে ব্যথার পাহাড় জড়তা বিপন্ন
আকাশে সুখতারা নিশি জেগে সম্পন্ন,
বুকে বাঁধা দু:স্বপ্ন খাঁচায় রেখে প্রিয়ন্ত
শূন্যতার রাজ্যে প্রেরণার বাতিঘর জলন্ত।
–ভালোবাসা
ভাঙ্গনের শত ভয়ে বন্ধনে তুলে মন্দপাল
হৃদয়ের লেনা-দেনার আশ্বাসে অনন্তকাল,
স্বর্গের বীণায় মঙ্গলে ভালবাসার যাত্রাডাল
সুগন্ধি ফুলের মালায় ভরে যায় নিদ্রাতাল।
–ভালোবাসা
পবিত্র সত্তায় বন্ধনে প্রতিধ্বনি স্বর্গ নিরন্তর
অন্ধকারে দুভোর্গ হারিয়ে নত ভোগান্তর,
অস্ত্রহীন মহড়ায় বাস্তব যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি
সবার মননে সত্যে হোক প্রেম চিরজীবী।