রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 441

‘ছাত্রলীগ না করায়’ শিক্ষার্থীকে মারধর

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি না করায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকালে ওই শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

জানা যায়, রোববার রাতে সদ্য চালু হওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে ২০১৯-২০ লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদকে ছাত্রলীগ না করায় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে নিহাদের সহপাঠীরা জানান, নিহাদকে রাত দেড়টার পর ধরে নিয়ে গিয়ে পিঠে ও মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। অত্যাচারের শিকার হয়ে সে কয়েকবার বমি করেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নিহাদ বলেন, আমি কেন ছাত্রলীগের গ্রুপভিত্তিক রাজনীতি করি না এ অভিযোগেই মূলত আমাকে ডাকা হয়। আমাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে আমার বুকে রামদা ধরা হয়। খালেদা জিয়ার ছবি আমার ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হয়। আমার একটা ভিডিও ধারণ করে জোরপূর্বক বলানো হয়, ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তারেক জিয়া দেশে ফিরবে। তখন ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্রলীগের নেতাকর্মী থাকবে না।

ওয়ালিদ নিহাদ রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগে লিখেছেন- ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাকে হলে ডেকে নিয়ে যায়। হলে গেলে আমাকে থাপ্পড় মারে। আরও কয়েকজন টানা লাথি-ঘুসি মারতে থাকে। আমি কেন রাকিব ভাইয়ের রাজনীতি করি না। আমি নাকি অন্যদেরও রাজনীতি করতে বাধা দিয়েছি, যা ভিত্তিহীন।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণেই আমার রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমি পড়াশোনা নিয়েই থাকতে চাই; কিন্তু আমাকে ক্যাম্পাসে থাকতে হলে নাকি রাজনীতি না করে উপায় নাই। একপর্যায়ে আমার হাতে রামদা দিয়ে আমাকে রাজনীতি করব বলে পা ধরে মাফ চাইতে বলে। তারা আরও বলেন- কোনো শিক্ষকের কাছে বিচার নিয়ে যাবি না। রাকিব ভাই চাইলে ভিসি পরিবর্তন হয়। বেশি কথা বললে ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করতে পারবি না, বুয়েটের আবরারের মতো মরবি।

এদিকে ওয়ালিদ নিহাদকে নির্যাতনের ঘটনায় সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক আটকে আন্দোলন করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচারের দাবিতে আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।

পরে নিহাদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আবারো দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তারা তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট মাসুম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনাটি আমি সকালে জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখব।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তপন কুমার সরকার বলেন, নিহাদ এখন ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আহত শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আমি তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

তিনি বলেন, আমি এমন দুঃখজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুন ও বিধি সব কিছুই কাজ করবে এ বিষয় নিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান জানান, এ ঘটনার সত্যতা এখনো আমি পাইনি। যদি কোনো ছাত্রলীগ কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুম হাওলাদারকে প্রধান করে প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা তপন কুমার সরকারকে সদস্য করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদক মামলা থেকে পরীমনি রেহাই পাবেন কি না জানা যাবে আজ

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় বিচারিক আদালতের অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনির আবেদনের বিষয়ে রায় আজ।

সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেছেন।

আদালতে পরীমনির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সৈয়দা নাসরিন ও মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক নজরুল ইসলাম তিনজনের অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। বিচার শুরু হওয়া অপর দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও মো. কবীর হাওলাদার। চার্জ শুনানিকালে তিন আসামি আদালতে উপস্থিত হন। আসামিপক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের প্রার্থনা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা দোষী না নির্দোষ। এ সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এরপর আদালত চার্জ গঠনের আদেশ দেন।

গত বছর ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। মাদকের মামলায় পরীমনির ৫ আগস্ট চারদিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৯ আগস্ট আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার জামিন মঞ্জুর করেন। ১ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি কারামুক্ত হন।

‘কাঁচা বাদাম’খ্যাত গায়ক ভুবন দুর্ঘটনায় আহত

ভাইরাল ‘কাঁচা বাদাম’ গানটি নিয়ে কম হইচই হয়নি। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি। গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সেই ‘কাঁচা বাদাম’ খ্যাত ভুবন বাদ্যকর।

সম্প্রতি কেনা চার চাকার একটি গাড়ি চালাতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। খবর জিনিউজের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সিউড়ির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আহত ভুবন বাদ্যকর। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আঘাত তেমন গুরুতর নয়।

‘কাঁচা বাদাম’ গান গেয়ে ভাইরাল ভুবন বাদ্যকর সম্প্রতি সেকেন্ড হ্যান্ড একটি গাড়ি কিনেছিলেন ভুবন। ওই গাড়ি চালানো শেখার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ গাড়িটি একটি দেওয়ালে ধাক্কা দেয়। তার বুকে ও মুখে আঘাত লেগেছে। বুকের এক্সরে করানো হয়েছে।

সম্প্রতি ভুবন জানান, বাদাম বিক্রি ছেড়ে এবার গানেই মনোনিবেশ করবেন তিনি। এর মধ্যেই বোলপুরে বাদাম গানের কপিরাইট কেনা গোধূলি বেলা মিউজিক সংস্থার পক্ষ থেকে তার হাতে দেড় লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনে আরও দেড় লাখ টাকা তুলে দেওয়া হবে তার হাতে।

জিনিউজের খবরে বলা হয়, সেলিব্রিটি হওয়ার পর উপার্জিত টাকা দিয়েই ওই গাড়ি কিনেছিলেন তিনি।

এতে লজ্জার কিছু নেই: তামিম

শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজেও প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর তৃতীয় ম্যাচে হেরে বসেন তামিমরা। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একই একাদশ তিন ম্যাচে খেলিয়েও পুরো ৩০ পয়েন্ট ঝুলিতে ভরতে পারল না বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে হতাশায় পুড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

তবে সেই কষ্ট ছাপিয়ে এখন আলোচনায় তিন ম্যাচেই একই বোলারের করা একইরকম ডেলিভারিতে তামিমের আউট হওয়া।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পার করা তামিমের ২১ বছর বয়সি আফগান পেসার ফজল হক ফারুকির কাছে বারবার পরাস্ত হওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সাড়ে তিনশর বেশি ম্যাচ খেলেছেন তামিম, একটি দলের অধিনায়কও তিনি। আর তিনিই কিনা মাত্র ৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলা পেসার ফারুকির কাছে ধরাশায়ী হলেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত হন তামিম। বললেন, ‘এতে লজ্জার কিছু নেই, আরও ভালো হতে হবে আমাকে।’

ফারুকির হ্যাটট্রিক শিকারে পরিণত হয়ে সিরিজে তামিমে মোট সংগ্রহ মাত্র ৩১ রান (১১, ১২ ও ৮)। তিন ম্যাচ মিলে পঞ্চাশের কোটাও পার করতে পারেননি এ ড্যাশিং ওপেনার। এর চেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স আর কি হতে পারে!

কিন্তু তামিম জানালেন, নিজের ব্যাটিং নিয়ে বরং গর্ব করেন তিনি। একই বোলারের কাছে বারবার আউট হওয়ার চেয়ে তাকে বেশি পোড়াচ্ছে অন্য কিছু। সিরিজে অবদান রাখতে না পারার হতাশায় ভুগছেন তিনি।

সোমবার তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হারের পর তামিম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এক বোলারের বলেই বারবার (আউট হওয়া) এটা মনে নেওয়ায় বা লজ্জার কিছু নেই যে, সে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে আমার মনে হয়। তবে একই ধরনের ডেলিভারিতে তিনবার আউট হয়েছি বলেই যে কাজ করতে হবে, এমন নয়। কারণ, ওই জায়গায় আমি অনেক রানও করেছি। হয়তো আমাকে আরেকটু ভালো করতে হবে। একটু ভালো হতে হবে। আর এটা নিয়ে আমি কাজ করে যাব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে, আমি সবসময় বলে এসেছি, কাজ করে যেতে হবে, করে যেতেই হবে। কাজ করতে থাকলে এতে ভালো হয়ে উঠবেনই।’

তিন ম্যাচেই কম রানে আউট হওয়া নিয়েই বেশি হতাশ তামিম। বলেন, ‘আউট হওয়ার ধরনের চেয়ে আমি বেশি হতাশ যে দলে অবদান রাখতে পারিনি। ওটা নিয়ে দুর্ভাবনা বেশি নেই আমার, কারণ এই জায়গাটায় আমি আগেও আউট হয়েছি, অনেক রানও করেছি। তবে গোটা সিরিজে রান না করা ও তিনবার আউট হওয়া হতাশাজনক। কারণ নিজের ব্যাটিংয়ে আমি অনেক গর্ব খুঁজে নেই এবং নিজের কাছে নিজের ব্যাটিংয়ের মানদণ্ড অনেক উঁচুতে।’

গত তিন ম্যাচের বিশ্লেষণে দেখা গেল, প্রতিবারই আড়াআড়ি পা নিয়ে অনসাইডে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তামিম।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে এলবিডব্লিউ হন তামিম। দুবারই ফারুকির ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি তিনি সামলাতে পারেননি। পা একটু বেশি বাড়িয়ে মাথার পজিশন নড়ে যাওয়াতেই বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি, বল লাগে প্যাডে।

তৃতীয় ম্যাচের আগে ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানিয়েছিলেন, তামিম নিজেও সমস্যাটি অনুভব করছেন এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করবেন।
কিন্তু ‘যেই লাউ সেই কদু’ প্রবাদের মতো তৃতীয় ম্যাচেও ফারুকির একই শটে আউট হন। এবার আরো বেশি। বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

যে কারণে নিজের ব্যাটিং নিয়ে গর্ব করেন তামিম

কদিন আগেও আফগান পেসার ফজল হক ফারুকিকে তেমন কেউ চিনত না। এখন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল ফারুকিকে চিনিয়ে দিলেন বিশ্বক্রিকেটে।

এ ড্যাশিং ওপেনার পর পর তিন ম্যাচেই ফারুকির শিকার হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। সিরিজে তার মোট সংগ্রহ মাত্র ৩১ রান (১১, ১২ ও ৮)।

তিন ম্যাচ মিলে পঞ্চাশের কোটাও পার করতে পারেননি তামিম। এর চেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স আর কি হতে পারে!

তামিম তার দীর্ঘ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে একই সিরিজে একই বোলারের বিপক্ষে এবারই প্রথম টানা তিনবার আউট হলেন।

তিনবারই বাঁহাতি পেসার ফারুকির ইনসুইঙ্গারে আউট হয়েছেন তামিম। বিষয়টি নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন তামিম।

তামিমের ব্যাটিংয়ে কৌশলগত কোনো ত্রুটি আছে কি না, সে আলোচনা চলছে।

কিন্তু সেসব সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তামিম জানালেন, নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন বা কৌশলে কোনো ত্রুটি দেখছেন না তিনি। নিজের ব্যাটিং নিয়ে বরং গর্ব করেন তামিম।

সোমবার তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হারের পর এ নিয়ে করা প্রশ্নে তামিম বললেন, ‘না, এই জায়গা (অনসাইড) দিয়ে আমি অনেক রানও পেয়েছি। হয়তো আমাকে আরেকটু ভালো করতে হবে এবং সেটা করবও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে এটা তো করতেই হবে। যেভাবে আউট হয়েছি, তার চেয়ে দলের জন্য রান করতে না পারাটা আমার জন্য বেশি হতাশার। আমি এটা নিয়ে বেশি ভাবছি না। কারণ, আগে এই একই জায়গা দিয়ে যেমন আউট হয়েছিল, তেমনি রানও করেছি। তবে তিনবার আউট হওয়া এবং সিরিজে রান করতে না পারা আমার জন্য হতাশার। কারণ, নিজের ব্যাটিং নিয়ে গর্ব করি। নিজের ব্যাটিংয়ের মানদণ্ড আমি অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি।’

গত তিন ম্যাচের বিশ্লেষণে দেখা গেল, প্রতিবারই আড়াআড়ি পা নিয়ে অনসাইডে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তামিম। প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে ফজল হক ফারুকির ভেতরে ঢোকানো বলে এলবিডব্লু হন তামিম। তৃতীয় ম্যাচে ওই একইরকম বলে একই শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

স্বামী-ছেলেদের পর চলে গেলেন রেখাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী ও দুই ছেলের পর চলে গেলেন গৃহবধূ রেখা বেগম (৩৫)।

সোমবার রাত ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৃত রেখার চাচাশ্বশুর ও আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফ হোসাইন।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার আশুগঞ্জ বাজারের আলাই মোল্লা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ভাড়াটিয়া স্কুলশিক্ষক মকবুল মিয়া (৪২), তার স্ত্রী গর্ভবতী রেখা বেগম (৩৫), বড় ছেলে আরিফ হোসেন জয় (১১) ও জুবায়ের হোসেন (৭) দগ্ধ হন। এ ঘটনায় একে একে মারা গেলেন সবাই।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ বছরে আগে জেলার নবীনগরের রেখা বেগমকে বিয়ে করেন আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরের সফর মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া। মকবুল মিয়া ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। পেশায় তিনি সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। মকবুল দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রেখা ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ মকবুলের বাসায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। তাৎক্ষণিক তার বাসা থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হয়। এক পর্যায়ে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় মকবুল হোসেন, তার স্ত্রী রেখা, তার বড় ছেলে জয় ও ছোট ছেলে জুবায়ের রুমের মধ্যে আটকা পড়ে। এতে ওই পরিবারের চারজনই দগ্ধ হন।

দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মকবুলের ছোট ছেলে জুবায়ের মারা যায়। ঘটনার পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে মকবুল মিয়া মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার একদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন দগ্ধ রেখা একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মকবুলের বড় ছেলে জয়। সর্বশেষ সোমবার রাত ১১টার দিকে নিহত মকবুলের স্ত্রী রেখা বেগম আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে বিস্ফোরণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ল লরিতে

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে বাবনা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকার ওই দোকানে আগুন লাগে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক সানাউল হক জানান, রাত ১০টার দিকে ওই দোকানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সাত ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। একটি এলপিজি গ্যাসের দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে পাশের আরেকটি দোকান পুড়ে যায়। এ সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লরিতেও আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিস সিলেটের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা সাঈদ আহমদ জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সার্বিক প্রচেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিরতিহীন হামলা করছে রাশিয়া: কিয়েভ মেয়র

রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিরতিহীন হামলা চালাচ্ছে। অসংখ্য গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা এই আক্রমণ করছে বলে দাবি করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো।

সোমবার সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কিয়েভের মেয়র এবং সাবেক বক্সিং তারকা ভিটালি ক্লিটসকো এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতি ঘণ্টায় আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনছি। গত পাঁচ দিন এভাবেই চলছে।

শহরের বাসিন্দারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, অধিকাংশ সময় তারা বাঙ্কারেই থাকছে।

ইউক্রেনের সেনাদের ‘হিরো’ অভিহিত করে ইউক্রেনের এই মেয়র বলেন, হাজার হাজার নাগরিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছে। জনগণ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। তারা নিজেদের পরিবার, ঘর-বাড়ি এবং দেশের ভবিষ্যত রক্ষায় লড়াই করছে।

মেয়র ক্লিটসকো বলেন, তারা আমাদের ভবিষ্যত চুরি করতে এসেছে। আমরা যুদ্ধ করতে এবং মরতে প্রস্তুত। কারণ, এটা আমাদের বাড়ি, আমাদের দেশ, আমাদের ভবিষ্যত।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশ্যে সাবেক এই বক্সার বলেন, ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। কিন্তু এখন আমরা পুনরায় রাশিয়ায় ফিরতে চাই না।

কিয়েভের মেয়র বলেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যতকে গণতান্ত্রিক, ইউরোপীয়ান দেশ হিসেবে দেখি। এটা আপস করে নয়। এটাই আমাদের লক্ষ্য, এটাই আমাদের স্বপ্ন।

‘খেরসন শহরে হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী’

ইউক্রেনে রুশ হামলার ৬ষ্ঠ দিনে দেশটির আরেকটি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রুশ সেনারা খেরসনে হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খেরসন শহরটি দক্ষিণাঞ্চলের মাইকোলাইভ ও নিউ কাখোভকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রুশ সেনারা বিমানবন্দর থেকে নিকোলায়েভ হাইওয়ে এবং কোল্ড স্টোরেজ প্ল্যান্টের কাছে একটি বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘণ্টাখানেক আগে ইউক্রেনের স্টেট সার্ভিস ফর স্পেশাল কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রোটেকশন তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ইউক্রেন থেকে বিবিসির প্রতিবেদক জানান, খেরসন বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। খেরসনের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, খেরসন শহরটি ঘিরে রেখেছে রুশ সেনারা। তবে এখনও দখলে নিতে পারেনি।

শহরটির মেয়র ইগর কলিখায়ে দাবি করেছেন, শহরের সবগুলো প্রবেশ পথে রাশিয়ার সেনারা অবস্থান নিয়ে আছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে সেটি বলা মুশকিল।

‘আমি নাগরিকদের সবাইকে শান্ত থাকার জন্য বলব। বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই। শত্রুতের সঙ্গে দরকষাকষিতে যাওয়ার দরকার নেই। তাদেরকে হামলার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

এদিকে, ম্যাক্সার টেকনোলজির দেওয়া স্যাটেলাইটের নতুন ছবিতে উঠে এসেছে রুশ সেনাবাহিনীর নতুন ছবি। ছবিতে সেনাবহরটি অন্তত ৪০ মাইল দীর্ঘ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি রাজধানী কিয়েভের দিকে যাচ্ছে। যদিও এর আগে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে সোমবার বিবিসি জানিয়েছিল, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অভিমুখে ১৭ মাইল দীর্ঘ একটি সেনাবহর এগিয়ে যাচ্ছে। এবার বিবিসিতে প্রকাশিত ছবিতে একই সেনাবহরটিকে ৪০ মাইল দীর্ঘ বলা হচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যকে ছাপিয়ে উচ্চমধ্যবিত্তেও আঘাত

নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে ছাপিয়ে এখন মূল্যস্ফীতি আঘাত করেছে উচ্চমধ্যবিত্তকেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যবিত্তরা পারিবারিক বাজেট কাটছাঁট করে চলছেন। কেউ কেউ হাত দিচ্ছে সঞ্চয়ের ওপর। আর নিম্নবিত্তরা জড়িয়ে পড়ছেন ধারদেনায়।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ। পাশাপাশি শিগগিরই আসছে রোজা। এই দুই ইস্যু দেশের মূল্যস্ফীতিকে আরেক দফা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

কারণ এ যুদ্ধে বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা ভেঙে দিয়েছে। আর রোজা এলেই পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া যেন স্থায়ী সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে। এখন নতুন বাজেটের কাজ শুরু হয়েছে। আসন্ন বাজেটে প্রবৃদ্ধি নয়, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মূল্যস্ফীতিকে। পাশাপাশি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাতে কোনো মহল পণ্যের বাজারে বেশি মুনাফা না করে, সেজন্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বাজার মনিটরিং, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সার্বিক সহায়তা ও টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর সুপারিশও করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

সূত্র মতে, অর্থবছরের (জুলাই) শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে-এমনটি ধরে নিয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটে যাওয়ায় এই ঘোষণার পাঁচ মাসের মাথায় অর্থাৎ ডিসেম্বরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার নিজেই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আগামী বাজেটে প্রবৃদ্ধির একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। এ বছর সে ধরনের লক্ষ্যমাত্রা না করলেও সমস্যা নেই। প্রবৃদ্ধি সামান্য হলেও ভালো। ফলে প্রবৃদ্ধিকে নয়, গুরুত্ব দিতে হবে মূল্যস্ফীতিকে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণিকেও আঘাত করেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছে। অনেকে সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তারা সঞ্চয়পত্রের যে সুদ পাচ্ছে সেটি বাড়েনি। মূল্যস্ফীতি অনেকটা খেয়ে ফেলছে। সীমিত আয়ের মানুষও দিন চালাতে পারছে না। এজন্য আগামীতে রাজস্ব ও মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বিআইডিএস’র সাবেক ডিজি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, এখন দেশে মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিদ্যমান। আরও দুটি কারণে মূল্যস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমত, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ এবং দ্বিতীয় আসন্ন রোজার মাস। ঐতিহাসিকভাবে রোজা এলেই জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পায়। যেভাবেই হোক সেটি বাড়ে। আর সম্প্রতি যুদ্ধ বিশ্ববাজারে মূল্য খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে আঘাত আসবে। আমরা যুদ্ধরত দেশগুলো থেকে গম, ভোজ্যতেল, ভুট্টা আমদানি করছি। এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারের কারণে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যতটুকু বৃদ্ধির কথা কতিপয় ব্যবসায়ী তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করে থাকেন। এজন্য সরকারকে পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

জানা গেছে, বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যাসোসিয়েশন প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব দিয়ে আগামী পহেলা মার্চ থেকে এটি কার্যকর করতে বলা হয়। এরই মধ্যে গত এক সপ্তাহে বাজারে সবকিছুর দাম আরেক দফা লাফ দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবির হিসাবে গত এক সপ্তাহে চাল, ময়দা, ভোজ্যতেল, আমদানিকৃত পেঁয়াজ, এমএস রডের দাম বেড়েছে। এসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে মোটা চাল ৩.২৩ শতাংশ, মাঝারি চাল ১.৮৯ শতাংশ, সরু ৩.১৩ শতাংশ বেড়েছে এক সপ্তাহে। এছাড়া খোলা ও প্যাকেটজাত ময়দার কেজিতে ২ টাকা, লুজ সয়াবিন লিটারে ৫ টাকা, লুজ সয়াবিনের লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে আলু, জিরা, লবঙ্গ ও মুরগির দামও।

মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে সামলাচ্ছেন নিজের সংসার জানতে চাইলে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচর এলাকার নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা মো. আজিজ জানান, প্রতিমাসে একবার ভালো খাবারের উদ্দেশ্যে মাংস খাওয়ার অভ্যাসটুকু এখন বাদ দিয়েছেন। ৫শ টাকা দিয়ে ডানো দুধের প্যাকেট কেনার অভ্যাস থাকলেও তা বাদ দিয়ে মুদি দোকান থেকে এখন ৩০ টাকা মূল্যের মিনি প্যাকেট কিনছেন।

তার মতে, এই সময়ে কাজকর্ম কমে গেছে। তিনি পেশায় একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি। উন্নয়ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন আজিজ। ফলে তাদের কাজও কমেছে। অপরদিকে বাজারের উত্তাপ। এটি সামাল দিতে না পেরে গত তিন মাসের ভাড়া বকেয়ায় ফেলছেন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা তিনি কাজের কারণে থাকেন কামরাঙ্গীরচরে। প্রতিমাসে তার ঘর ভাড়া গুনতে হয় ৪ হাজার টাকা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার ভোগ্যপণ্যের বাজার করে তিনজনের সংসার চলে যেত। সেটি এখন সম্ভব হচ্ছে না। আজিজের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে টিসিবির লাইনে এখন অনেক মধ্যবিত্তকে দেখা যাচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যের টিসিবির পণ্য এখন মধ্যবিত্তরা কিনছেন। যে কারণে টিসিবির ট্রাকের সামনে অসংখ্য মানুষের ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ভোগ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে আঘাত আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতাকে ব্যাঘাত করেছে। এছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত আমদানি হচ্ছে তুলা, গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর ডাল। দেশে বছরে গমের চাহিদা সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টনের মধ্যে ৩৫ লাখ টন আসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। এ গম প্রক্রিয়াজাত করে ময়দা, আটা, সুজিসহ বিভিন্ন উপজাত পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ইতোমধ্যে বেড়েছে।

উদ্ভূত অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রাশিয়া, ইউক্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার দিন থেকেই ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দেশে আমদানিকারকদের বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মূল কারণ ওই দুদেশ থেকে পণ্যবোঝাই করতে কোনো দেশের জাহাজ মালিক এ মুহূর্তে রাজি নয়।

মূল্যস্ফীতির একটি বড় উপকরণ হচ্ছে জ্বালানি তেল। এর মূল্য বাড়লে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছতে সর্বক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ে। এতে শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। যা মূল্যস্ফীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী বিরাজ করছে। যুদ্ধের কারণে এটি প্রায় ১শ মার্কিন ডলারে উঠেছে। এদিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করছে ভারত ও চীন থেকে। বর্তমানে এ দুটি দেশের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী বিরাজ করছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।