রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 437

গুগলে ‘হ্যাংআউট’ সুবিধা বন্ধ হচ্ছে

মার্কিন সার্জ জায়ান্ট গুগল ওয়ার্কস্পেসে আর থাকবে না হ্যাংআউট মেসেজিং সেবা। এর বিপরীতে আসছে গুগল চ্যাট। চলতি মাস থেকে চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনে এ পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে গুগল।

২২ মার্চ থেকে জিমেইলে ‘হ্যাংআউট’ মেসেজিং সেবা বা ফোনের পুরোনো ‘হ্যাংআউট মোবাইল অ্যাপ’ ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীদের সরাসরি গুগল চ্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। খবর দ্য ভার্জ। গুগল হ্যাংআউট থেকে গুগল চ্যাটে স্থানান্তর গুগলের ক্রমাগত মেসেজিং সেবা উন্নয়ন চেষ্টারই অংশ।

২০২০ সালের জুনে হ্যাংআউট থেকে গুগল চ্যাটে সরে আসার প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। জিমেইলের সঙ্গে সমন্বিত মেসেজিং সেবাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে গুগল। হ্যাংআউটে রয়ে যাওয়া আলাপচারিতা বা ‘চ্যাট হিস্ট্রি’ সরাসরি গুগল চ্যাটে স্থানান্তর হবে। তবে ‘হ্যাংআউটস ডটগুগল ডটকম’ ডোমেইনটি চালু থাকবে বলে জানিয়েছে গুগল। আপাতত এ পরিবর্তনের প্রভাব কেবল গুগল ওয়ার্কস্পেস, জি স্যুট বেসিক এবং বাণিজ্যিক ক্রেতাদের ওপর পড়বে বলে জানিয়েছে ভার্জ।

লজ্জা মুমিনের সৌন্দর্য

মানবজাতির জন্য সৃষ্টিকর্তা কতৃক মনোনীত একমাত্র জীবন বিধানের নাম ইসলাম। আর ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত গুণ হলো চারিত্রিক পবিত্রতা। যা অর্জিত হয় লজ্জাশীলতার দ্বারা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘চারটি জিনিস নবিদের সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত তার মধ্যে লজ্জাশীলতা একটি’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০৮০)।

এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হয় যে, লজ্জাশীলতা এমন একটি গুণ, যা পৃথিবীর প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষই পছন্দ করে। একজন মানুষ সমাজে তখনই সম্মানিত হয় যখন তার মধ্যে এ গুণটি পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকে। চারিত্রিক দিক দিয়ে লজ্জাশীলতা একজন ব্যক্তিকে সর্বদা অন্যের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখে। লজ্জাশীলতার কারণে একজন ব্যক্তির চরিত্র যতটা উন্নত হয় তা তথাকথিত সামাজিকতার মাধ্যমে সম্ভব নয়। লজ্জাশীলতা কখনই একজন মানুষকে পেছনে ফেলে দেয় না; বরং লজ্জাশীলতা সর্বদা কল্যাণ বয়ে আনে। হাদিসে এসেছে, ‘কোনো কিছুতে অশ্লীলতা তাকে শুধু কলুষিত করে আর কোনো কিছুতে লজ্জা তাকে শুধু সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৬৮৯)।

লজ্জাশীলতার গুণ আমাদের প্রিয় নবি ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সবচেয়ে পছন্দনীয় অভ্যাস। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) গৃহবাসিনী পর্দানশীন কুমারীদের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যখন রাসূল (সা.) কোনো কিছু অপছন্দ করতেন, তা চেহারায় বোঝা যেত।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৬২)। সাহাবায়ে কেরামরা এ গুণটি নিজেদের মধ্যে সঠিকভাবে অর্জন করতে পেরেছিলেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.) ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লজ্জাশীল।

লজ্জাশীলতার গুণ যখন সমাজ থেকে হারিয়ে যাবে তখন মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। কখনো কোনো বেয়াদবি কাজ তার কাছে খারাপ মনে হবে না। ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী নবি থেকে লোকেরা যা পেয়েছে এবং আজও যা বিদ্যমান তা হলো যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে’ (বুখারি, মিশকাত হা/৫০৭২)। হাদিসের মান : সহিহ হাদিস। তাহলে অবশ্যই বোঝা গেল ও লজ্জাশীলতা কখনো মানুষকে পিছিয়ে দেয় না। বরং এ গুণের বিলুপ্তি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই একজন মুমিন হিসাবে লজ্জাশীল হওয়াই সবচেয়ে সুন্দর গুণ।

প্রেমের সফর মেরাজ

ইসলামে মেরাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন ‘তিনি পরম পবিত্র ও মহিমায়, যিনি রাত্রিযোগে আপন বান্দাকে মসজিদুল হারাম (সম্মানিত মসজিদ) থেকে মসজিদুল আকসা (দূরবর্তী মসজিদ) পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, যার চারদিকে আমি বরকতমণ্ডিত করেছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাই, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ১)।

এ আয়াতে বিশ্বনবির (সা.) রাত্রিকালীন সফর সম্পর্কে ব্যক্ত হয়েছে, যা অধিকাংশ তাফসিরকারকের মতে মেরাজ বলে পরিচিত। মেরাজের যে ঘটনা তা নবুওয়্যতের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বছরে হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনে ঘটেছিল। এ সময় মহানবির যে মেরাজ সংঘটিত হয়, তাতে তিনি বহু ঊর্ধ্বলোকে উপনীত হয়ে আল্লাহর জ্যোতিগুলোর বিকাশ প্রত্যক্ষ করেন। অপরদিকে মহান আল্লাহর জ্যোতিমালাও তার প্রিয় রাসূল (সা.)-এর দিকে অবতরণ করে। এভাবেই একদিকে আল্লাহর রাসূল (সা.) আল্লাহর দিকে অগ্রসর হন, অপরদিকে আল্লাহও অগ্রসর হন তার প্রিয় রাসূলের (সা.) দিকে। মানুষের পক্ষে যতটা আধ্যাত্মিক-উন্নতি অর্জন করা সম্ভব, তার সবটাই ঘটেছিল রাসূল (সা.)-এর মাঝে।

মহান আল্লাহর শক্তি ও মহিমার জ্যোতি যতটা মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব, তার সবটাই দেখেছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় এ রাসূল (সা.)। এ মহামানবকে (সা.) যত বেশি করে আঁকড়ে ধরা যাবে, যত বেশি গভীরে যাওয়া যাবে তার শিক্ষার, তত বেশি করে মুক্তির স্বাদ পাওয়া যাবে, পাপ থেকে ততই বেশি মুক্তি পাওয়া যাবে। পবিত্র কুরআনের সূরা নযমে উল্লিখিত মেরাজের ঘটনার বর্ণনা সম্পর্কে যতই আমরা জ্ঞান অর্জন করব, ততই বোঝা সম্ভব হবে মেরাজের মাহাত্ম্য।

মেরাজের বর্ণনা সম্পর্কে মহানবি (সা.) নিজে বলেছেন, ‘একদা আমি কাবার ‘হাতিম’ অংশে সটান হয়ে শুয়েছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি আমার (বুক) এ স্থান থেকে এ স্থান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। এ ঘটনার বর্ণনা প্রসঙ্গে হজরত আনাস (রা.) বলেন, তিনি তার পাশে বসা (জনৈক সাহাবি) জারুদকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ স্থান থেকে এ স্থান পর্যন্ত’ এর অর্থ কী? তিনি (তার ব্যাখ্যা দিয়ে) বলেন, হলকুমের নিচ থেকে নাভি পর্যন্ত। অতঃপর তিনি (আগন্তুক) আমার হৃৎপিণ্ডটি বের করলেন। তারপর ইমানে পরিপূর্ণ একটা থালা আমার কাছে আনা হলো, অতঃপর আমার হৃৎপিণ্ডটাকে ধৌত করা হলো। তারপর তাকে ইমানে পরিপূর্ণ করে আবার আগের জায়গায় রাখা হলো। অতঃপর আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট ও গাধার চেয়ে বড় একটি শুভ্র জানোয়ার (বাহন) আমার সামনে হাজির করা হলো। তখন হজরত জারুদ (রা.) হজরত আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হামযা! (আনাসের ডাক নাম) ওটাই কি বোরাক ছিল? হজরত আনাস (রা.) বললেন, হ্যাঁ, তার দৃষ্টি যতদূর যেত, সেখানে সে পা রাখত। অর্থাৎ তার পথ অতিক্রমের গতিবেগ ছিল দৃষ্টিশক্তির গতিবেগের সমান। নবি (সা.) বললেন, অতঃপর আমাকে তার ওপর আরোহণ করানো হলো।

তারপর জিবরাঈল আমাকে সঙ্গে নিয়ে (ঊর্ধ্বলোকে) যাত্রা করলেন এবং নিকটতম আসমানে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ কে? জিবরাঈল বললেন, আমি জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তার প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তার আগমন কতই না উত্তম। এরপর দরজা খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে পৌঁছলাম, তখন সেখানে দেখতে পেলাম আদম (আ.)কে। বলা হলো, তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ।

অতঃপর জিবরাঈল (আ.) আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে লাগলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন।… তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে উঠলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করলেন এবং চতুর্থ আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করলেন এবং পঞ্চম আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে সঙ্গে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে উঠতে শুরু করলেন এবং ষষ্ঠ আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর দরজা খুলে দিলে আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে মূসাকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাঈল (আ.) বললেন, ইনি হলেন মূসা (আ.), তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দিলেন এবং বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ। অতঃপর আমি যখন তাকে অতিক্রম করে অগ্রসর হলাম তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আমার পরে এমন একজন যুবককে (নবি বানিয়ে) পাঠানো হলো, যার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তারপর জিবরাঈল (আ.) আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানে আরোহণ করলেন। অতঃপর জিবরাঈল দরজা খুলতে বললে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (সা.)।…তারপর আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে ইবরাহিম (আ.)কে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইনি আপনার পিতা ইবরাহিম (আ.), তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার উত্তর দিলেন এবং বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ।

তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত ওঠানো হলো।

জিবরাঈল বললেন, এটাই সিদরাতুল-মুনতাহা। আমি আরও দেখতে পেলাম চারটি নহর। দুটি নহর অপ্রকাশ্য আর দুটি প্রকাশ্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এ নহরের তাৎপর্য কী? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহর দুটি হলো জান্নাতে প্রবাহিত দুটি ঝর্ণাধারা, আর প্রকাশ্য দুটি হলো মিসরের নীল নদ ও বাগদাদের ফুরাত (ইউফ্রেটিস) নদী। তারপর আল বায়তুল মামুর ঘরটি আমার সামনে পেশ করা হলো। অতঃপর আমার সামনে হাজির করা হলো এক পাত্র মদ, এক পাত্র দুধ ও এক পাত্র মধু। এর মধ্য থেকে আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। তখন জিবরাঈল (আ.) বললেন, আপনি এবং আপনার উম্মত যে ইসলামরূপী স্বভাবজাত ধর্মের অনুসারী, এটা তারই নিদর্শন।

তারপর আমার ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলো এবং আমি ফিরে চললাম। হজরত মুসা (আ.)-এর সম্মুখে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বললেন, কী করতে আদেশ করা হয়েছে? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ সম্পাদনে সক্ষম হবে না। আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের পক্ষে নামাজ আরও হ্রাস করার জন্য আবেদন করুন। তখন আমি ফিরে গেলাম এবং ওইভাবে প্রার্থনা জানালে আল্লাহ আমার ওপর থেকে দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন।…আমি আবার ফিরে গেলে আমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হলো। আমি মূসার কাছে আবার ফিরে এলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে সর্বশেষ কী করতে আদেশ করা হলো? আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হয়েছে। আপনার উম্মত প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সমাপণে সক্ষম হবে না। আপনার

আগে আমি (ইসরাইল) লোকদেরকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং তাদের হেদায়াতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও কষ্ট স্বীকার করেছি। তাই আমি বলছি, আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য নামাজ হ্রাস করার প্রার্থনা জানান। নবি (সা.) বললেন, আমি আমার রবের কাছে এত অধিকবার প্রার্থনা জানিয়েছি, আবার প্রার্থনা জানাতে আমি লজ্জাবোধ করছি। বরং আমি এতটুকুতেই সন্তুষ্ট ও আনুগত্য প্রকাশ করছি। নবি (সা.) বলেন, আমি যখন মূসাকে অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হলাম, তখন জনৈক আহ্বানকারী আমাকে আহ্বান জানিয়ে বললেন, আমার অবশ্য-পালনীয় আদেশটি আমি জারি করে দিলাম এবং আমার বান্দাদের জন্য আদেশটি লঘু করে দিলাম।’ (সহিহ বোখারি, কিতাবুল মানকিব, ৩য় খণ্ড)।

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মেরাজের প্রকৃত শিক্ষার ওপর আমল করার এবং এর তাৎপর্য বুঝার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

থাইরয়েড ক্যানসার বুঝবেন কীভাবে?

থাইরয়েড গ্লান্ডের ক্যানসার একটি জটিল রোগ। থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষ সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থাইরয়েড ক্যানসার বলে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিতে পারলে থাইরয়েড ক্যানসার থেকে নিরাময় সম্ভব।

থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিওমেক হাসপাতালের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন রেজিস্ট্রার, ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী।

ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৫.৪ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৬.৫ শতাংশ থাইরয়েড ক্যানসারভুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ অস্পষ্ট।

থাইরয়েড ক্যানসারে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে-

গলার সম্মুখভাগে ফুলে ওঠা এবং এই ফোলা খাবার গ্রহণে ঢোক গেলার সময় ওঠানামা করে। ক্যানসার হলে সেই ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হয়। সঙ্গে ওজন কমে যায়।

থাইরয়েড গ্রন্থির আশপাশে একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে; উভয় পাশে টিউমার হতে পারে। আশপাশের লিম্ফ নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে।

থাইরয়েড টিউমার স্নায়ুকে আক্রান্ত করলে গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফ্যাসে হতে পারে।

থাইরয়েড টিউমার শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

এ সময় খেয়াল রাখতে হবে বংশে বা পরিবারে কারও থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস আছে কিনা।

থায়রয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব। তবে অবশ্যই সময়মতো সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে হবে। গলার সামনে ফুলে উঠলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা (আলট্রাসনোগ্রাম, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট এবং সবচেয়ে স্পেসিফিক FNAC) করে দেখবেন এটা কোন ধরনের রোগ। থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন বা সার্জারি করা। পরীক্ষার পর আক্রান্তের ধরনের ওপর নির্ভর করবে থাইরয়েড গ্রন্থির কতটুকু কাটতে হবে। অপারেশনের পর এর প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট ডোজের রেডিও আয়োডিন থেরাপি নেওয়া লাগতে পারে। রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে অপারেশনের পর চিকিৎসকের অধীনে সারা জীবন ফলোআপে থাকতে হবে।

শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, কী করবেন?

শিশুর জটিল রোগগুলোর একটি হৃদরোগ। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদেরও হৃদরোগ হচ্ছে। অনেক শিশু জন্মগত হৃদরোগী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

হৃদরোগের অনেক উপসর্গ রয়েছে। কিছু কিছু উপসর্গ থাকলে শিশুর হৃদরোগ আছে তা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। জন্মগত হলেও জন্মের পর বা কিছু সময়ের জন্য জন্মগত হৃদরোগের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কখনও কখনও সাধারণ জন্মগত হৃদরোগ, যেমন ‘হোল-ইন-হার্ট’ জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে শনাক্ত করা যায় না।

সবচেয়ে সাধারণ হৃদরোগ যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস প্রথম ১-৪ সপ্তাহে লক্ষণহীন থাকতে পারে। এটি ফুসফুসের চাপ এবং রক্তপ্রবাহ পরিপক্কতায় বিলম্বের কারণে ঘটে থাকে। ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ত্রুটি এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস (ভিএসডি এবং পিডিএ) ধীরে ধীরে ফুসফুসের চাপ ও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং হার্টের আকারও বাড়ায়।

হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র হলে ফুসফুস এবং শরীরের মধ্যে রক্ত প্রবাহের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র বর্ধিত শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রচেষ্টার জন্য হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরের বৃদ্ধি ধীর হয়, দুর্বল বা ওজন বৃদ্ধি পায় না। জন্মের ৪-৬ সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলো শুরু হয়।

অ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট হলো আরেক ধরনের ছিদ্র, যা অনেক বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সুপ্ত থাকতে পারে। স্টেনোসিস বা ভালভের সংকীর্ণতা যে কোনো বয়সে এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত। যারা হৃদরোগের জন্য কিছু সূত্র খুঁজে বের করতে ক্লিনিকাল পরীক্ষা ছাড়াও বিশেষ কিছু পরীক্ষা যেমন বুকের এক্স-রে, ইকো এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি উপর ভিত্তি করে CHD-এর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে।

নিম্নলিখিত বিশেষ বিশেষ লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই জন্মগত হৃদরোগের ব্যপারে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

* দুধ খাওয়ার সমস্যা : শিশু যদি কিছু সময় দুধ চুষেই হাপিয়ে যায় এবং দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তারপর আবার চুষতে শুরু করে অথবা দুধ খেতে বেশি সময় নেয় (>২০ মিনিট), কিংবা খাওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় এবং ঘাম হয়।
* ওজন বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে : শিশুর ওজন বৃদ্ধির হার বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হলে।
* ঘনঘন ঠান্ডা লাগা বা কাশি হওয়া : শিশুর বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাহলে আংশকা থাকে তার হার্টের ত্রুটি আছে।
* জ্বর বা কাশি ছাড়া, ক্রমাগত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (এমনকি ঘুমের সময়) এবং বুকের পাজর বা খাঁচা দেবে যাওয়া।
* শিশুর হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত চলে (এমনকি ঘুমের সময়ও)। মা-ই এ বিষয়টি সহজে ধরতে পারবেন।
* শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং নখ নীলাভ হবে বা কান্নার সময় নীল হয়ে যায়। জন্মগত হৃদরোগের কারণে ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন হতে পারে। এটি ঘটে যখন ভালো বা অক্সিজেন সমৃদ্ধ লাল রক্ত অক্সিজেন ক্ষয়প্রাপ্ত নীল রক্তের সঙ্গে মিশে যায় এবং শরীরে সঞ্চালিত হয় যা ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটে সর্বদা বা কমপক্ষে যখন সে কাঁদে তখন স্পষ্ট হয়।
এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদরোগ, যার জন্য প্রাথমিকভাবে ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়। উপরের কয়েকটি লক্ষণ বা সমস্যা পরিলক্ষিত হলে ডাক্তারের পরামর্শে জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহে হার্ট সার্জারি করাতে হবে।
জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর যত্ন

কিছু কিছু CHD-এর প্রাথমিক বা জরুরী হস্তক্ষেপ ও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, অন্যথায় শিশুর বেঁচে থাকা ঝুঁকিতে পড়ে বা অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। CHD-এর লক্ষণ ও টাইপের উপর নির্ভর করে কিছু CHD নিয়মিত ফলো-আপের প্রয়োজন হয় এবং প্রথম দিকে প্রতি কয়েক সপ্তাহ পর পর প্রয়োজনীয় ফলো-আপ প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তবে কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই মাতা-পিতাই সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি সময় মতো CHD নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় তবে বেশিরভাগ CHD নিরাময়যোগ্য। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, CHD-এর বেশিরভাগই সাধারণ ত্রুটি এবং অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঔষধেই নিরাময়যোগ্য। যেসব শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়, তারা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী জীবন ধারন করতে পারে। অন্যদিকে, CHD আক্রান্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না এবং তাদের একটি সীমাবদ্ধ ও পরিমিত জীবনধারা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেও তাদের একাধিক পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। নীল শিশুরা ডিহাইড্রেশন এবং রক্তস্বল্পতা সহ্য করতে পারে না, তাই এই নীল শিশুরা কান্না করলে তাদের সমস্যা গুরুতর হয়ে যায়, যাকে স্পেল বলা হয়। যখন তারা দ্রুত শ্বাস নেয় ও আরও নীল হয়ে যায় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। এই শিশুদের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
CHD আক্রান্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা সর্বোত্তম ফলাফল নিয়ে আসে। প্রথম সন্তান যদি CHD-তে আক্রান্ত হলে সেই মা যদি দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন তাহলে অনাগত শিশুদের মধ্যে ২-৫% এর CHD-তে আক্রান্ত ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চলা উচিৎ। ১৬ থেকে ১৯ সপ্তাহের মধ্যে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে গর্ভের শিশুর CHD ধরা পড়লে গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়েরও সুপারিশ করা হয়।

* পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই কঠোরভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

* বয়স্ক শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই শেখানো উচিত।

* খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

* এ ধরনের শিশুদের জন্য ব্যায়াম সীমিত ও কাস্টমাইজ করা আবশ্যক, কিন্তু বন্ধ করা উচিত নয়।

* সুরক্ষার জন্য টিকাদান সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। অতিরিক্ত অত্যাবশ্যক টিকা যেমন- নিউমোকোক্কাল ভ্যাকসিন, মেনিনোকোক্কাল ভ্যাকসিন এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দিতে হবে।

* সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যাদের জ্বর, কাশি, সর্দি, হাম, চিকেনপক্স এবং ডায়রিয়া আছে।

* যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর হয় বা নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রোপচার করাতে হলে বা যাদের করা হয়েছে, তাদের অবশ্যই পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রফিল্যাক্সিস দিতে হবে।

* জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে বেশি। বিশেষ করে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যেমন, নিউমোনিয়া হওয়ার আশংকা বেশি দেখা যায়।

জাবি ভিসির বিদায় দিনে ‘আনন্দ মিছিল’, ঝাড়ু, কাঁঠাল প্রদর্শন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের পদ থেকে বুধবার দুপুরে বিদায় নিলেন অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। বিদায়ের পরেই বিকালে ঝাড়ু, কাঁঠাল প্রদর্শন করে আনন্দ মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী।

তবে শিক্ষার্থীদের মিছিলটি ভিসির বাসায় সামনে যাওয়ার পথে বাঁধা দেন ফারজানার অনুসারী আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে মিছিলকারী শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বাকযুদ্ধ হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়েই বের হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে মিছিলের সমাপ্তি করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ মিছিলটিকে আনন্দ মিছিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে তার বিচার দাবিতে বুধবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে এগিয়ে আসলে শিক্ষকরা বাঁধা প্রদান করেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নূরুল আলমকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে উপাচার্যের পদ থেকে অবসর নেন ফারজানা ইসলাম। একই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর অধ্যাপক নূরুল আলম উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জানা যায়, জাবির চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির ঘটনায় বেশি আলোচিত হন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এমনকি এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা করিয়ে সেটিকে গণঅভ্যুত্থান আখ্যা দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।

এছাড়া ২০১৭ সালে একটি ঘটনায় আন্দোলনকারী ৬৪ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন তিনি। এই আন্দোলনে ভিসি কাঁঠাল তত্ত্বের উদ্ভব ঘটান। তিনি অভিযোগ করেন- শিক্ষার্থীরা তার বাসভবনে কাঁঠাল ছুড়েছিল।

এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ফারজানা ইসলামের বিদায়ে ঝাড়ু ও কাঁঠাল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ফারজানার বিচার দাবি করেন। সেখানে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল হক রনি, ছাত্রফ্রন্টের জাবি সভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ।

এর আগে, ২০১৪ সালে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম প্রথম মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পান। প্রথম মেয়াদ শেষ হলে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারো তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বছর ২ মার্চ তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মোবাইল ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে ঢাবি ছাত্র আহত

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে মিরপুরের দিকে যাওয়ার পথে সিটি কলেজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

গণপিটুনির শিকার ওই ছিনতাইকারী রুবেলকে (২২) পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আহত মাহবুব একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

ধানমণ্ডি থানার এএসআই আব্দুল হাকিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে সাভার যাওয়ার সময় মাহবুবুর রহমানের মোবাইলটি বাসের জানালা দিয়ে এক ছিনতাইকারী টান মেরে নিয়ে চলে যায়। মাহবুবুর বাস থেকে নেমে ছিনতাইকারীকে দৌড়ে ধরে ফেললে ছিনতাইকারী তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছিনতাইকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

তিনি বলেন, ঢাবি ছাত্র মাহবুবুর মাথায় বেশ আঘাত পেয়েছেন। পুলিশ গিয়ে দুজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রুবেলকে সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে, মাহবুবুর রহমানের চিকিৎসা চলছে।

দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত ছবি-নাদিয়া-মাহা

গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘বউ বিরোধ’ এরই মধ্যে দর্শকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। ধারাবাহিকের আরেকটি লটের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ফারজানা ছবি, নাদিয়া আহমেদ ও নায়মা আলম মাহা।

রাজধানীর তিনশ ফুট এলাকার একটি শুটিং হাউসে এ ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়েছে। ছবি, নাদিয়া ও মাহা এ ধারাবাহিকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন।

শিল্পীরা জানান, এ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য তারা তিনজনই বেশ সাড়া পাচ্ছেন।

নাটকটির প্রচার শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের শেষের দিকে। এখনও ধারাবাহিকটির প্রচার চলছে শুধুমাত্র দর্শকপ্রিয়তার বিবেচনা মাথায় রেখে। নাটকটি রচনা করেছেন রুহুল আমিন পথিক, নির্মাণ করেছেন সোহাগ কাজী।

শুরুতে এ নাটকের নাম ‘বউ বিরোধ’ থাকলেও পরবর্তীতে নাটকের নাম রাখা হয় ‘বউ বিরোধের গল্প’। এই নাটকে লাভলী চরিত্রে ছবি, টুনি চরিত্রে নাদিয়া এবং জ্যোৎস্না চরিত্রে মাহা অভিনয় করছেন।

নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, ‘এ নাটকে যারা কাজ করছেন, প্রত্যেকেই অভিনয়ে অভিজ্ঞ। যে কারণে কাজ করতে ভালো লাগছে। আর নাদিয়া ও মাহা দুজনই অসাধারণ অভিনয় করে। নাদিয়া তো পরীক্ষিত অভিনেত্রী, দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রী। অন্যদিকে মাহা নতুন হলেও এখন বেশ ভালো করছে। দুজনের জন্য আমার শুভ কামনা। আর দুজনকে আমি খুব ভালোবাসি।’

নাদিয়া আহমেদ বলেন, ‘মাঝখানে এ ধারাবাহিকে অভিনয়ে আমার বিরতি ছিল। আবার কাজ শুরু করেছি। ছবি আপু একজন ডেডিকেটেড শিল্পী। তিনি তার চরিত্রটি বুঝে মন দিয়ে অভিনয় করার চেষ্টা করেন সব সময়। ছবি আপুর মতো সহশিল্পী থাকলে আমার নিজেরও কাজ করতে ভালো লাগে। আর মাহা আমার আদরের ছোট বোন। পরিচালকদের কাছে এরই মধ্যে সে নিজেকে নির্ভরশীল করে তুলেছে, যে কারণে বেশ ভালো নাটকে কাজ করছে।’

মাহা বলেন, ‘এ ধারাবাহিকে আমি বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কাজ করি। ছবি আপু, নাদিয়া আপু, তারা দুজন আমাকে ভীষণ স্নেহ করেন। তাদের সঙ্গে কাজ করার সময়টা ভীষণ উপভোগ করি। তারা আমার প্রতি খেয়াল রাখেন, এটাই বড়দের কাছ থেকে ছোট বোন হিসেবে আমার পাওয়া।’

সপ্তাহের প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় নাগরিক টিভিতে ধারাবাহিক এ নাটকটি প্রচার হয়।

সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খানের বিশেষ দিন

জীবনের শুরু থেকে বাংলা গানের সত্যিকারের ধারাকে লালন করে যিনি আমাদের সংগীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি শেখ সাদী খান।

জীবন্ত কিংবদন্তী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ সংগীত পরিচালক ৩ মার্চ ৭২ বছরে পা রাখছেন। তবে জীবনের বিশেষ এ দিনটিতে বিশেষ কোনো আয়োজন নেই। একেবারেই ঘরোয়াভাবে দিনটি উদযাপন করবেন তিনি।

দেশ স্বাধীনের আগে সাবিনা ইয়াসমিনের বোন ফৌজিয়া খান প্রথম ‘যা যারে যারে পাখি’ গানটিতে শেখ সাদী খানের প্রথম সুর করা গান কণ্ঠে তুলে নেন। ১৯৬৮ সালে মোস্তফা কামাল সৈয়দ প্রযোজিত টেলিভিশনের ‘সুর সাগর’ অনুষ্ঠানে শেখ সাদী খানের সুরে গানে কণ্ঠ দেন প্রয়াত আব্দুল জব্বার ও আরতি ধর।

একই সময়ে এইচএমভি’তে শেখ সাদী খানের সুরেই শওকত হায়াত খান ও মৌসুমী কবির চারটি গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৮০ সালে প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘এখনই সময়’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

এই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘জীবন মানে যন্ত্রণা’, আবিদা সুলতানার কণ্ঠে ‘একটা দোলনা যদি’ গান দুটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আলোচনায় চলে আসেন শেখ সাদী খান।

পরবর্তীতে তার সুরে যেসব জনপ্রিয় গান এ দেশের সংগীতপ্রেমী শ্রোতা-দর্শক মুগ্ধ হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ডাকে পাখি খোল আঁখি’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘আমার মনের আকাশে আজ’, ‘কাল সারারাত ছিল’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘ভালোবাসলেই সবার সাথে ঘর বাঁধা যায় না’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’, ‘আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙ্গাল’ ইত্যাদি।

এখন পর্যন্ত ১০৫টিরও বেশি সিনেমায় সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন শেখ সাদী খান। সুর করেছেন ৮ হাজারেরও বেশি গান। কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘ঘানি’ ও জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ সিনেমার সংগীত পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে শেখ সাদী খান একুশে পদকে পান। সর্বশেষ ‘বান্ধব’ ও ‘পদ্মার প্রেম’ সিনেমায় সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শেখ সাদী খানের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে গানের অনুষ্ঠান ‘স্মৃতিময় গানগুলো’ নিয়মিত প্রচার হয়ে আসছে।

জন্মদিন, বিটিভির অনুষ্ঠান ও বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রসঙ্গে শেখ সাদী খান বলেন, ‘৭২-এ পা দিয়েছি। খুব বেশিদিন হয়তো বাঁচব না। এখনও অনেক স্বপ্নপূরণ বাকি। কিছু ভালো কাজ এখনও করতে পারিনি। কাজগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি না। কিছু চমৎকার পরিকল্পনা আছে আমার। সেই কাজগুলো করে যেতে পারলে আমাদের সংগীতাঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিভির অনুষ্ঠানের গবেষক মুনশী ওয়াদুদ। তবে অনুষ্ঠানের সময়টা আগের চেয়ে আরও কমিয়ে দেওয়ায় কষ্ট পেয়েছি। ভালো অনুষ্ঠানের সময় কেন কমিয়ে দেওয়া হয় বুঝি না। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে ইউসুফ, অপু, স্বরলিপি খুব ভালো গান গায়। তাদের উদ্দেশ্যে বলব, তারা যেন গানেই মনোযোগটা বেশি দেয় এবং নিজের মৌলিক গান সৃষ্টিতে যেন অধিক মনোযোগী হয়। তাদেরকে নিয়েও কিছু ভালো গান করার স্বপ্ন রয়েছে আমার।’

চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছেন মাশরাফি

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়াই ১৫ মার্চ শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। প্রথম দিনের দলবদলে মাশরাফি বিন মুর্তজা যোগ দিয়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে। এর আগে ছিলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবে।

যদিও পুরোপুরি ফিট নন জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক। বিপিএলে পাওয়া চোটে তার নতুন দলের হয়ে খেলা অনিশ্চিত। তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

আর নিজের চিকিৎসার জন্য শিগগিরই ভারতে যাচ্ছেন মাশরাফি। ভারতীয় চিকিৎসকের পরামর্শেই করে অস্ত্রোপচার করবেন তার সিদ্ধান্ত নেবেন।

বুধবার বিকালে শেরেবাংলায় দলবদল করতে এসে সাংবাদিকদের সে কথাই জানলেন মাশরাফি।

বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে ভারতে যাচ্ছি। আমার অ্যাপয়েনমেন্ট নেওয়া ৯ তারিখে। আমি যাচ্ছি চার দিন আগে। প্রথম কদিন পরিবারকে সময় দেব। ৯ তারিখ চেন্নাই যাব। সেদিনই অ্যাপোলো হাসপাতালে ডাক্তার দেখাব। উনি স্ক্যানের ছবি দেখে অ্যাপয়েনমেন্ট দিয়েছেন। সামনাসামনি দেখার পর উনি সিদ্ধান্ত নেবেন অস্ত্রোপচারের।’

তবে মাশরাফির ইচ্ছা ডিপিএল খেলে নিজের এই অস্ত্রোপচার করানোর। যদিও বিষয়টি চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে।

‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা প্রিমিয়ার লিগ খেলে করানোর। কিন্তু চিকিৎসক চাচ্ছেন আগেই করাতে। এটি এখন মিলিয়ে নিতে হবে। আমার কোমরের ডিস্কে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। লিগ শুরুর আগে এক মাস সময় পেলে আগেই করাতাম। কিন্তু সেই সময় তো নেই।

ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় হাঁটু আর গোড়ালির ইনজুরি ভোগালেও এখন মাশরাফিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে ‘ব্যাক পেইন। বিপিএলে নিজেকে তৈরির সময় ব্যথা পেয়েছিলেন। সেই পিঠের ব্যথার কারণে বিপিএলেও ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ’

এ বিষয়ে জাতীয় দলের সফলতম অধিনায়ক বলেন, ‘আমার ব্যাক পেইন আছে একটু। সে জন্যই চিকিৎসা করাতে যাচ্ছি ভারতে।’ফিজিক্যালি আনফিটের ক্ষেত্রে ক্রিকেটীয় যে অ্যাক্টিভিটিজ বা অন্যান্য যেসব আছে আমি সেসব নিয়ে মাঝখানে ট্রেনিং করেছি। যথেষ্ট টুর্নামেন্ট ছিল না, খেলার সুযোগ কম ছিল। বিপিএল ছিল, ওই সময় ব্যাক পেইনটা পেয়েছি। ওটার চিকিৎসা করার পর আশা করি সমস্যা হবে না।’