সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 425

পিটু-দর্পণকে নিয়ে চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির অ্যাডহক কমিটি

গত ৭ মার্চ দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাধারণ সদস্যদের আয়োজনে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে এক প্রীতি সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ মতবিনিময় সভায় বক্তাদের বিভিন্ন আলোচনার প্রেক্ষিতে উপস্থিত সদস্যদের দাবির মুখে বিশেষ সাধারণ সভায় রূপ নেয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাচসাসের সিনিয়র সদস্য আলিমুজ্জামান।

সভা পরিচালনা করেন কামরুল হাসান দর্পণ। মতবিনিময় সভায় বাচসাসের বর্তমান মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির দুই অংশের বিবাদমান অবস্থান ও সংগঠনকে আদালতের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেন। সভায় বর্তমান কমিটি কর্তৃক (২০১৯-২০২১) সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, সাবেক অর্থ সম্পাদক নবীন হোসেন ও সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হামিদ মোহাম্মদ জসিমের সদস্যপদ

স্থগিতের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বক্তারা তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানান। বাচসাস সদস্য আহমেদ তেপান্তরের প্রস্তাবে সর্বসম্মতিতে তাদের সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাচসাসের সাবেক সভাপতি রেজানুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাচসাস সদস্য হাসান হাফিজ, জামাল উদ্দিন জামাল, দুলাল খান, আবুল কালাম, নজরুল ইসলাম, দেওয়ান হাবিবুর রহমান, বাচসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাপস বিশ্বাস, বাচসাস সদস্য জুলফিকার আলী, বাচসাস সদস্য সৈয়দ মাহমুদ শফিক,ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাচসাস সদস্য সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাচসাস সদস্য আবু জাফর সূর্য, ডিইউজের বর্তমান সভাপতি বাচসাস সদস্য কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিইউজের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান প্রমুখ।

উপস্থিত সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সভায় ২০১৯- ২০২১ মেয়াদের মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বাচসাস নীতিমালা পরিপন্থী এবং নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ ও আদালতে মামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বক্তব্য রাখেন। তারা এই মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নির্বাচনকালীন একটি এডহক কমিটি গঠনের দাবি তোলেন।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা এই দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে সদস্যরা ২০১৯-২০২১ মেয়াদের সভাপতি ফালগুনী হামিদের সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত ও আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় কামরুজ্জামান বাবুর সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আদালতের দোড়গোড়ায় নেওয়ার কারণে সাধারণ সদস্য জাহিদ হাসানের সদস্যপদও বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

উপস্থিত সদস্যদের সবাই এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সভায় সর্বসম্মতভাবে উত্থাপিত প্রস্তাব গ্রহণ ও পাশ করা হয়, যা পরবর্তীতে রেজুলেশন আকারে খাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে। সভায় সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান কমিটি (২০১৯-২০২১ মেয়াদে) বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত
কমিটির আহবায়ক হাবিবুল হুদা পিটু ও সদস্য সচিব কামরুল হাসান দর্পণ।

সদস্যরা হলেন- মাইনুল হক ভূঁইয়া, ইমরুল শাহেদ, জুলফিকার আলী, দুলাল খান, সুমন পারভেজ, মফিজুর রহমান খান বাবু, আবুল কালাম, আবু হুরায়রা মুরাদ এবং ফারুক মজুমদার। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- অ্যাডহক কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও আদালতে মামলার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সুখবর দিলেন নুসরাত ফারিয়া

বাংলাদেশের নায়িকা নুসরাত ফারিয়া কলকাতায় গিয়েছিলেন। রোববার (৬ মার্চ) দেশে ফিরেছেন। আর ফিরেই সুখবর দিলেন তিনি। জানালেন, কলকাতায় যে সিনেমায় কাজ করেছেন, সেটা কেবল বাংলায় নয়, মুক্তি পাবে হিন্দি ভাষায়ও।

সিনেমাটির নাম ‘রকস্টার’। পরিচালনা করছেন অংশুমান প্রত্যুষ। প্রযোজনায় শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল। কলকাতার নায়ক যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে সিনেমাটিতে নুসরাত ফারিয়া জুটি বেঁধেছেন। এতে রকস্টারের ভূমিকায় আছেন যশ, আর ফারিয়া থাকছেন তার ভক্তের চরিত্রে।

নুসরাত ফারিয়া বললেন, টানা কাজটা শেষ করেছি। আনন্দ লাগছে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর ঢাকায় ফিরেছি। এটাও বড় আনন্দ। আর আরেকটা খবর হলো, সিনেমাটি হিন্দি সংস্করণে ভারতে মুক্তি পাবে।

পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষ বলেছেন, ভক্ত ও রকস্টারের গল্প এটি। কীভাবে দুজনের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেটিই দেখানো হবে। এখানে আছে প্রতিশোধের গল্প।

উল্লেখ্য, নুসরাত ফারিয়াকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘শাহেনশাহ’ সিনেমায়। এটি মুক্তি পেয়েছিল ২০২০ সালে।

রহস্যে নতুন মোড়: শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর আগে ঘরে আসেন ৪ নারী!

ক্রিকেট কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন শুক্রবার থাইল্যান্ডের একটি শহরে মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে হতবাক হয়ে পড়ে গোটা পরিবার।

হঠাৎ কি এমন হয়ে গেল যে, মারা গেলেন এই স্পিন কিংবদন্তি। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও খবরটি অবিশ্বাস্য ঠেকে।

মৃত্যুর দিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। যদিও ওয়ার্নের মৃত্যু স্বাভাবিক এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে দাবি থাইল্যান্ড পুলিশের।

কিন্তু এখন আবার নতুন এক তথ্য এলো সামনে, যা সেই রহস্যকে আরো ঘনীভূত করে দিয়েছে।

বলা হচ্ছে, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর আগে চারজন থাই নারী তার কো সামুইয়ের সামুজান ভিলায় এসেছিলেন। ভিলার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল এমন কিছু। তারা কারা? কেন এসেছিলেন?

সেই প্রশ্নে ইংল্যান্ডের পত্রিকা দ্য ডেইলি মেইল বলছে, এ চার থাই নারী পার্লার থেকে এসেছিলেন। শরীর ম্যাসাজ করার জন্যই ওয়ার্ন-ই নাকি তাদের বুক করেছিলেন। একজন নারীকে ওয়ার্নের কাছে পা ম্যাসাজ করতে গেলে যখন ঘরের দরজায় ধাক্কা দেয়, তখন কেউ দরজা খোলেনি এবং এরপরই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ডেইলি মেইল বলছে, দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে তারা ওয়ার্নের ঘরে গিয়েছিলেন। দুই নারী তার ঘরে প্রবেশ করেন। ২.৫৮ মিনিটে তারা ওয়ার্নের ঘর ছেড়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়ার্নকে সর্বশেষ জীবিত দেখেছিলেন ওই দুই নারী। ৫.১৫ মিনিটে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ম্যাসাজ করা নারীরা চলে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা ঘরটি খুললে শেন ওয়ার্নকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। তখন তাকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল; কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ওয়ার্ন।

থাইল্যান্ড পুলিশের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিকেল ৫.১৫ মিনিটে মারা যান শেন ওয়ার্ন। ঘরে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যা থেকে তার মৃত্যুকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা যাবে।

প্রসঙ্গত, অ্যাশেজ সিরিজের কাজ শেষে মনকে ফুরফুরে করতে থাইল্যান্ডে আরও তিনজন বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন।

শুক্রবারও নিজের সব স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।

তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন বুঝতে পেরে তার তিন বন্ধু শেন ওয়ার্নকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তখন অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর দ্রুত ওয়ার্নকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানান হোটেল রুমেই মারা গেছেন অস্ট্রেলিয়ার এ কিংবদন্তি লেগ স্পিনার।

স্যাটেলাইট ও রকেট তৈরি হবে বাংলাদেশেই

দেশেই রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণে নতুন এক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ জীবনের উপযোগী বিভিন্ন মডিউল তৈরি করতে ৬ মার্চ তিনটি সমঝোতা চুক্তি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি চুক্তি ব্রিজ টু বাংলাদেশ (বিটুবি)-এর সঙ্গে; দ্বিতীয়টি পিকো স্যাটেলাইট এবং তৃতীয়টি অ্যাসপায়ার টু ইনোভেশন (এটুআই)-এর সঙ্গে।

লালমনিরহাটে অবস্থিত দেশের প্রথম এই মহাকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন রেজিস্ট্রার এয়ার কমোডর মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মাহবুব। গবেষণা সহায়তায় এটুআই-এর পক্ষে চুক্তি করেন ইনোভেশন ল্যাবের হেড অব টেকনোলজি ফারুক আহমেদ জুয়েল। বিটুবির হয়ে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম। আর পিকো স্যাটেলাইট ল্যাব স্থাপনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন প্রফেসর ড. নাজমুল উলা। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশে একটি মহাকাশ ইকো সিস্টেম গড়ে তুলবে প্রতিষ্ঠান চারটি। চুক্তিকারী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন নিশ্চয় মহাকাশ যুগে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে পলক বলেন, দেশের মেধাবী তরুণরাই তৈরি করবে পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আরবান প্ল্যানিং, আর্লি ফ্লাড ডিটেকশনের জন্য দেশে অনেক অনেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে আজকে যে এমওইউ হলো তা অবজারভেটরি স্যাটেলাইটসহ পিকো, ন্যানো স্যাটেলাইট এগুলো উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করবে।

পিকো স্যাটেলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহসহ অন্যান্য উপগ্রহে জনবসতি গড়ে তুলতে এ সমঝোতা স্মারক কাজে লাগবে উল্লেখ করে পলক জানান, বাংলাদেশে উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে। তিনি এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলছেন, পিকো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্যাটেলাইট তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শাহজাহান মাহমুদ, বিটুবির উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং এটুআইয়ের নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী।

সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

আসন্ন রমজান উপলক্ষে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার ১৪৪৩ হিজরির রমজান মাসের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র রমজান মাস আগামী ৩ এপ্রিল রোববার শুরু এবং শেষ হবে ২ মে।

সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম রমজানে সাহরির সময় শেষ হবে ভোর ৪টা ২৭ মিনিটে এবং ফজরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩৩ মিনিটে। এদিন ইফতারের সময় ধরা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিট।

মঙ্গলবার সময়সূচি প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পঞ্জিকায় বলা হয়, দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলার সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হবে।

প্রকাশকদের বিস্তর অভিযোগ

করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই আশঙ্কা করলেও জমজমাট বইমেলা হচ্ছে। কিন্তু বিশাল আয়তনের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব অংশে যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের বই বিক্রি খুব একটা ভালো নয় বলে অভিযোগ শুরু থেকেই।

মেলার ‘ভাসানচর’ হিসাবে খ্যাত ওই এলাকায় পাঠকের আনাগোনা কম। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের সামনে ও মাঝখানে প্রচুর জায়গা খালি রাখা, অপরিকল্পিতভাবে লিটল ম্যাগ চত্বর, প্রয়োজনের তুলনায় অধিক খাবারের দোকান, অনাড়ম্বর শিশুচত্বর, নান্দনিকতার অভাব, পাইরেটেড বই বিক্রিসহ নানা বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রকাশক বিস্তর অভিযোগ করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মেলাকে সার্বিকভাবে বিবেচনায় আনার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন।

আগামী প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নটি এবার মেলার ‘ভাসানচর’ খ্যাত পূর্ব দিকে পড়েছে। প্রকাশনাটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ প্রকাশক ওসমান গণি যুগান্তরকে বলেন, সত্যি বলতে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অমর একুশে বইমেলার জন্য সুন্দর একটি পরিকল্পনা আমরা করতে পারিনি। এবার কিছু দিক থেকে বেশ ন্যক্কারজনক অবস্থা। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল মাঠে অনেক জায়গা খালি। অথচ একেবারে পূর্বদিকে ‘ভাসানচর’ সৃষ্টি হলো। আমি মনে করি মূল মাঠেই সুন্দর করে মেলা আয়োজন সম্ভব। মেলার জায়গা এত বিশাল হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এতে প্রতিবছর কিছু প্রকাশনা লাভবান হয় আর কিছু প্রকাশনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচ্ছিন্নভাবে লিটলম্যাগের স্টল বরাদ্দ করাটাও দুঃখজনক। শিশু কর্নারটি বেশ অবহেলিত। এটি থাকতে পারত মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেই বা টিএসসির প্রবেশের মুখে। সেটা না করে অনেকটা তাদের ‘জঙ্গলে’ ফেলা হয়েছে। মেলা বইমেলা না থেকে হয়ে গেছে ‘বিকাশ’র মেলা। সব জায়গায় ‘বিকাশ’। খাবারের স্টলগুলোও প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি এখন যেন খাবারেরও মেলা মনে হয়। মেলায় পাইরেটেড বই বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু টাস্কফোর্সের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না।

পুথিনিলয়ের প্রকাশক শ্যামল পাল বলেন, খুব অল্প সময়ে এবং প্রায় প্রস্তুতি ছাড়া মেলা হচ্ছে। মেলার মাঠে এবার অন্যবারের মতো ইট বিছানো বা নান্দনিক বিষয়গুলো নেই। এটা সবার চোখে পড়ছে। স্টল বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে তাতে অনেক প্রকাশক সমস্যায় পড়েছেন।

আসলে এত বিশাল পরিসর না করলেও হতো। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও টিএসসি অংশ প্রবেশের সময় কোথাও ভালোভাবে আলোকসজ্জা নেই। সিটি করপোরেশন যতটুকু আলোর ব্যবস্থা করেছে ঠিক ততটুকুই। মেলার তোরণেও আলোকসজ্জা নেই। আমি বলব, দায়সারা মেলা হচ্ছে। মেলাটি পুরোপুরি সব প্রকাশকবান্ধব হয়নি। আমি মনে করি আগামীতে মেলার ডিজাইন করার সময় প্রকাশ সমিতির নেতা-কর্মকর্তাদের পাশে রেখে ডিজাইন করা উচিত।

পূর্বদিকেই প্যাভিলিয়ন পড়েছে কাকলী প্রকাশনীর। প্রকাশনাটির প্রকাশক একে নাছির আহমেদ সেলিম কিছুটা ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দিকে প্রবেশপথ এবং মেলাকে এভাবে বাড়ানোর বিষয়ে অনেক প্রকাশকরই মত ছিল। কারণ, সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরেফিরে বই কিনবেন-এটাই সুন্দর। এপাশে এখন হয়তো লোক সমাগম কম, কিন্তু সেটা গতবারের চেয়ে বেশি। আগামীতে আরও বেশি হবে বলেই মনে করি।

অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মেলাকে আসলে সার্বিকভাবে চিন্তা করতে হবে। মেলায় যে উন্মুক্ত জায়গা রাখা হয়েছে সেটি আসলে রাখতে হবে। কারণ, যে কোনো স্থাপনা স্থায়ী বা অস্থায়ী যাই হোক নির্মাণ করার সময় সাধারণভাবে কিছু বৈজ্ঞানিক বিষয় বিবেচনায় আনতে হয়। বইমেলা সেদিক থেকে উন্মুক্ত রাখতে হয় শুধু সাধারণ দিনগুলোর কথা বিবেচনা করে নয়। সাপ্তাহিক দুই ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি, এবার ৭ মার্চ ও ১৭ মার্চ দিনগুলো মাথায় রেখে মেলার ডিজাইন করতে হয়েছে। প্রতিবছরই আমরা প্রকাশকদের কাছ থেকে নানা পরামর্শ নিয়ে মেলার উন্নতিসাধন করছি। আগামীতেও করব। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের অংশে গেট আমরা ও প্রকাশকদের দশ বছরের সাধনার ফলাফল। আগামীতে সেদিকে জনসমাগম আরও বাড়বে বলেই আমরা আশা করি।

নতুন বই : মঙ্গলবার বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৭৭টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে পলাশ মাহবুবের বিদ্যাসাগরে বুদ্ধিও জয়, অন্যধারা থেকে সাইম জাকারিয়া সংকলিত ও গ্রন্থনায় বাংলাদেশের লোকশিল্পী তালিকা, অ্যাডর্ন থেকে ইব্রাহীম চৌধুরীর জর্জ ও মোবারকের আমেরিকান দিনকাল, আগামী থেকে হাসনাত আবদুল হাই রচিত তবুও শান্তি তবু আনন্দ : রবীন্দ্রনাথের নির্বাচিত গান ও ছবি। পারিজাত প্রকাশনী থেকে এসেছে মোনায়েম সরকারের গবেষণা- মুজিবনগর সরকারের সংকট ও সাফল্য, ঐতিহ্য থেকে এসেছে মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদের স্মৃতিচারণমূলক বই বাংলা একাডেমি আমার বাংলা একাডেমি, জয়তী থেকে এসেছে কায়কোবাদ মিলনের ইতিহাস বিষয়ক বউ-মুসলিম লীগের ইতিহাস, জিনিয়াস পাবলিকেশন্স থেকে এসেছে স্বদেশ রায়ের প্রবন্ধ গ্রন্থ সম্পাদকের টেবিল, হাওলাদার প্রকাশনী থেকে এসেছে লে. কর্নেল (অব.) এম. এ হামিদের আত্মজীবনী ফেলে আসা সৈনিক জীবন।

মঞ্চের আয়োজন : বিকাল বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সংগীত ও কবিতায় একুশের চেতনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইম রানা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফেরদৌস হোসেন ভূঁইয়া, এএফএম হায়াতুল্লাহ এবং মুস্তাফিজ শফি। সভাপতিত্ব করেন নিরঞ্জন অধিকারী। এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন নাসিমা আনিস এবং জাহানারা পারভীন। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি শাহ কামাল সবুজ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন রোকসানা পারভীন স্মৃতি এবং ঝর্ণা আলমগীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফয়েজুল বারীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরতাল সংগীত একাডেমীএর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন সুভাষ বিশ্বাস, নূরুল ইসলাম, মনছুর আহাম্মদ, বাউল জাহাঙ্গীর, অণিমা মুক্তি গোমেজ, রহিমা খাতুন, মীর তারিকুল ইসলাম, সানজিদা ইয়াসমিন লাভলী ও লাভলী শেখ।

সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক ভিটা এখন গো-চারণ ভূমি!

ভাঙাচোরা মন্দির, একটি পুকুর ও বেশকিছু আমগাছে সারি। তিন একর জায়গা ওপর পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাংলা গদ্যরীতির প্রবর্তক বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক ভিটা।

বাংলা ভাষারীতিতে বিশেষ পরিবর্তন আনা এই মানুষটির কোনো স্মৃতিচিহ্নই নেই সেখানে। যেটুকু আছে সেটা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্তির পথে। আর এই সুযোগটা নিচ্ছেন স্থানীয়রা। ফাঁকা জায়গা এখন গরু-ছাগলের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

দখলদারদের হাত থেকে বিখ্যাত এই সাহিত্যিকের জায়গা উদ্ধার করে পাঠাগার নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন খোলা হয় না। ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে পাঠাগারের চেয়ার টেবিল ও বইপত্র।

সরেজমিন জানা গেছে, প্রমথ চৌধুরীর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন হরিপুর গ্রামের জমিদার বংশের সন্তান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কৃষ্ণনগরে প্রমথ চৌধুরীর শৈশব ও কৈশোর কাটলেও মাঝেমধ্যেই হরিপুরর গ্রামে পৈতৃক ভিটায় আসতেন তিনি। সেখানে বহু প্রাচীন একমাত্র মন্দিরে পূজার্চনা করতেন। সময়ের পরিক্রমায় কেটে যায় বহুবছর। এর মধ্যে দখলদাররা বিখ্যাত এই সাহিত্যিকের জায়গা জমি দখল করে বসবাস শুরু করেন। স্মৃতিচিহ্ন যখন মুছে যাচ্ছিল ঠিক এ সময় চাটমোহরের সচেতন সমাজ ‘প্রমথ চৌধুরী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ’গড়ে তোলেন।

দীর্ঘ তিন বছর আন্দোলনের পর তৎকালীন পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রশাসন প্রমথ চৌধুরীর তিন একর পৈতৃক ভিটা দখলমুক্ত করেন এবং সেখানে একটি পাঠাগার গড়ে তোলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই পাঠাগারটিতেও এখন কেউ বসেন না। পাঠাগারের ভেতরে আসবাব ও বইপত্র ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে।

বর্তমানে এলাকার লোকজন ফাঁকা জায়গাটি এখন খড় শুকানো, গরু-ছাগল চড়ানো থেকে শুরু করে নানা কাজে ব্যবহার করে থাকেন। একমাত্র মন্দিরটির একেবারেই জরাজীর্ণ। জায়গাটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদেশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির পরিচয় ঘটানো স্বনামধন্য লেখক প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক ভিটাটি আবারো দখলদারদের কবলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

প্রমথ চৌধুরী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রভাষক ইকবাল কবির রঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, সবার আগে বহু প্রাচীন মন্দির এবং জায়গাটির রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। তাছাড়া কোনো স্মৃতিচিহ্নই থাকবে না। তবে শুনেছি, সেখানে কী কী করা যায় এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি প্রকল্প সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে আবারো জায়গাটি দখল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম যুগান্তরকে জানান, বেশ কয়েক বছর আগে জায়গাটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে বরাদ্দ চেয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেখানে কী কী করা যায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্বক সাদা হলেই কি শ্বেতী রোগ, কী করবেন?

শ্বেতী রোগ আমাদের দেশে খুবই পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। চলাফেরায় বহু মানুষকে আমরা এই রোগ বহন করে চলতে দেখি। আবার শ্বেতী রোগ নিয়ে কিছু মিথও সমাজে প্রচলিত আছে।

ত্বক সাদা হলেই অনেকে ধরে নেয় শ্বেতী রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। শ্বেতী রোগ নির্ণয়ের উপায় ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ত্বক এবং যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশেদ মো. খান।

আমাদের ত্বকের মেলানোসাইট কোষ থেকে মেলানিন নামক পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়। কোনো কারণে এই কোষ নষ্ট হয়ে গেলে ধীরে ধীরে ত্বক সাদা হয়ে যায়।

ত্বক সাদা হলেই কী শ্বেতী রোগ?

ত্বক সাদা হওয়ার অনেক কারণ আছে। রক্তনালির কোনো অংশ সংকুচিত হয়ে গেলে সেই অংশ সাদা হয়ে যায়। শিশু বয়স থেকে লাল বা বাদামি রঙের তিল ছাড়াও সাদা রঙের তিল হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি বড় হয়, তখন একে নেভাস অ্যামিনিকাস বলে। রোদে পুড়ে গেলে বা সানবার্ন হলে ত্বকের কিছু পুড়ে গিয়ে সাদা ছোপ পড়ে। কিছু ফাঙ্গাল ইনফেকশন আছে, যাকে ভারসিকালার বলে, যা ছোদ বা ছুলি নামে পরিচিত। সেখানেও সাদা হতে পারে।

কখন ও কীভাবে নির্ণয় করা হয়

২০ বছর বয়সের পর থেকে শ্বেতী রোগ বেশি হয়, তবে এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে। পরিবারের কারও শ্বেতী থাকলে পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে শতকরা ২০ জনের এ রোগ হতে পারে। শ্বেতী কখনই ছোঁয়াচে নয়, সংক্রামকও নয়।

ত্বক বিশেষজ্ঞরা উডস ল্যাম্প নামক একটি যন্ত্র দিয়ে ত্বক পরীক্ষা করলে দুধের বা চকের মতো সাদা চকচকে ত্বক দেখা যায়। তখন একে শ্বেতী বলে ধরা যায়। মুখের চারদিকে, আঙুলের মাথায়, হাতের পাশে শ্বেতী রোগ বেশি হয়। শ্বেতী রোগ হলে খাবার নির্বাচনে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে বেশি ডোজে কেউ প্রতিনিয়ত ভিটামিন-সি খেলে রঙ তৈরি করার পাথওয়েতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

কী করবেন

অনেকের ধারণা, শ্বেতী কখনই ভালো হয় না। শুরুতেই এর চিকিৎসা করা ভালো। দেরিতে এলে ও পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তখন চিকিৎসা দুঃসাধ্য হয়ে যায়। এর চিকিৎসায় ২০ শতাংশ হাইড্রোকুইনোন মলম দেওয়া হয়। তবে লক্ষ রাখতে হবে, এ মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। শ্বেতী রোগীদের ত্বকের এ প্রটেকশন নেই বলে রোদে বের হওয়ার আগে ছাতা বা মোটা কাপড় পরে বের হতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

এ রোগীদের চুল এবং লোমও সাদা হয়ে যেতে পারে। তাই শরীরের যে অংশে লোম আছে, সেখানে শ্বেতী হলে তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। ঠোঁট, আঙুলের মাথার শ্বেতী হলে ভালো করা কষ্টকর। শ্বেতী রোগে সাধারণত চুলকানি হয় না। তবে শ্বেতীর সঙ্গে অ্যাকজিমা হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে ত্বকে চুলকানি হতে পারে।

কারও ত্বকে শ্বেতী হলে সমাজের অনেকেই ভাবেন এটি বোধ হয় কুষ্ঠরোগ। তখন তারা রোগীর সঙ্গে মিশতে চান না। এ জন্য রোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিং দরকার হয়। শ্বেতী রোগীদের কসমেটিক মেকআপ করে সাদা অংশ ঢেকে দেওয়া যায়, একে কসমেটিক কেমোফ্লাক্স বলে।

শ্বেতীর যে অংশ মেলানোসাইট একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে, সেখানে যত ওষুধই দেওয়া হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে ত্বকের ভালো অংশ থেকে কোষ নিয়ে সাদা অংশ মিনিপাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়। এ ছাড়া মেলানোসাইট ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা কালচারও করা যায়। এ ছাড়া ফটোথেরাপি বা নেরোবেন্ডইউভিবিও কার্যকরী চিকিৎসা। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এ থেরাপি নিতে হয়।

আধুনিক গবেষণায় নতুন নতুন কার্যকরী চিকিৎসা এখন প্রেসক্রাইব করা হয়। এ রোগীদের সবসময় সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকতে হয়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া কেন হয়?

ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ। বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেমের চিফ নিউট্রিশন অফিসার আখতারুন নাহার আলো।

কারণ

* ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে।

* সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে।

* দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে।

* অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে।

* অত্যধিক মদ্যপান করলে।

লক্ষণ

অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা, ঘাম হওয়া, মেজাজ রুক্ষ হওয়া, শরীর কাঁপতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, মাথা ব্যথা হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘুম ঘুম ভাব হওয়া, খুব বেশি হলে অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রতিক্রিয়া সামান্য হলে তৎক্ষণাৎ তাকে চিনিযুক্ত তরল খাবার দিতে হবে। যেমন-ফলের রস, দুধ, শরবত ইত্যাদি। আর যদি মনে হয় হাইপো হতে পারে তাহলে বরাদ্দকৃত খাবারটি তখন খেয়ে ফেলতে হবে। যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে শিরায় গ্লুকোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে যেতে হবে।

প্রতিরোধ

* সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খাবার খেতে হবে।

* খাবার গ্রহণের সঙ্গে ওষুধ অথবা ইনসুলিনের সমন্বয় থাকতে হবে।

* খাবারের অনেক আগে ইনসুলিন দেওয়া যাবে না। অথবা ইনসুলিন নিয়ে বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।

* খাবারের মধ্যে থাকতে হবে জটিল শর্করা যেমন-লাল মোটা চাল, ভুসিযুক্ত আটার রুটি, তন্দুর রুটি, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি।

* যে ধরনের ব্যায়াম করলে খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়, সে ধরনের ব্যায়াম না করাই ভালো।

* যদি দেখা যায় বরাদ্দকৃত খাবার গ্রহণের পরও হাইপোগ্লাইসেমিয়া হচ্ছে, তাহলে পথ্যবিদের শরণাপন্ন হয়ে আবার খাবারের তালিকা ঠিক করে নিতে হবে।

* ‘আমি একজন ডায়াবেটিস রোগী’ এ ধরনের একটি কার্ড সঙ্গে রাখলে ভালো হয়। বাড়ির বাইরে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য অজ্ঞান হয়ে গেলে অনেক সময় স্ট্রোক বা হার্টঅ্যাটাক হয়েছে মনে করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে রোগীর প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে থাকে।

মনে রাখতে হবে-হাইপারগ্লাইসেমিয়ার চেয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া অধিক বিপজ্জনক।

ইবিতে নারী ক্লাব প্রতিষ্ঠার দাবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নারী ক্লাব এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বিশ্ব বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান দাবি পূরণে আশ্বাস দেন।

নারী শিক্ষকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছর পেরিয়েও নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনিকভাবে কোনো সংগঠন করা হয়নি। এতে করে তাদের সমস্যা ও চাওয়াগুলো প্রশাসনকে জানানোর কোনো মাধ্যম নেই। এমনকি নারী শিক্ষকরা অনেক সময় সন্তানদের বাড়িতে রেখে ক্যাম্পাসে আসেন। এতে সঠিকভাবে তারা কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন না। তাই প্রশাসনের উদ্যোগে নারী ক্লাব ও নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিশু সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ স্থাপন করা প্রয়োজন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সাহিদা আখতার আশা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মু. আতাউর রহমান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. নিলুফা আক্তার বানু, আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. হামিদা খাতুন, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরমীন খাতুনসহ বিভিন্ন বিভাগ ও দফতরের নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি বলেন, নারী-পুরুষের থেকে বড় পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ। এজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বঙ্গবন্ধু নিজেও নারীদের শ্রদ্ধা করতেন এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করেছিলেন। সমাজে আজ নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে সমান ভূমিকা রেখে চলেছে।