সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 419

বিয়েতে উপহার ৫ লিটার সয়াবিন তেল

বিয়ের অনুষ্ঠানে বৌভাতে গিয়ে মানুষ কতকিছু উপহার দেন! উপহারের তালিকায় সাধারণত থাকে শোপিস, শাড়ি, অলঙ্কার, নগদ টাকা কিংবা বই উপহার। তাইবলে সয়াবিন তেল! এমনই এক মজার কাণ্ড ঘটেছে সাংবাদিক সোহরাব শান্তের ছোট ভাইয়ের বিয়েতে।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. মোস্তফা আলম সোহাগের বিয়ের অনুষ্ঠানের বৌভাতে ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল উপহার দিয়েছেন মুরাদ মৃধা নামে এক ব্যক্তি।

মুরাদ মৃধা একটি জাতীয় দৈনিকের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি। তার বাড়ি উপজেলার সদরে।

অভিনব উপহারের বিষয়ে সাংবাদিক মুরাদ মৃধা জানান, দেশে যে হারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

উপহার হিসেবে সয়াবিন তেল দেওয়াটা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির একটি মৌন প্রতিবাদ এটি।

এদিকে সয়াবিন তেল উপহারের বিষয়টিকে সচেতন মহল প্রাসঙ্গিক ও ইঙ্গিতবহ হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে উপস্থিত বরের বড় ভাই সাংবাদিক সোহরাব শান্ত জানান, আমাদের পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে উপহার নেওয়া হয় না। তবে মুরাদ ভাইয়ের তেল উপহার দেওয়ার বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ।

প্রসঙ্গত গত শুক্রবার মো. মোস্তফা আলম সোহাগের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ঘোড়ায় চড়ে তিনি বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হন।

প্রেমিকার হাত ধরে নিরুদ্দেশ তরুণ

প্রেমের টানে প্রেমিকার হাত ধরে রাসেল মিয়া (২২) নামে এক তরুণ নিরুদ্দেশ হয়েছেন। এ ঘটনা কেন্দ্র করে মেয়েপক্ষের লোকজন ছেলেপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।

শনিবার ছেলের বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।

ঘটনটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের সহিলাটী গ্রামে।

মামলার অভিযোগে ছেলের বাবা ইছব আলী উল্লেখ করেন, রাসেল মিয়া (২২) আমার তৃতীয় ছেলে। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে।

গত বুধবার সকালে রাসেল মিয়া কাজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। ছেলে ফিরে না আসায় আমরা তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি।

এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার পাশের বাড়ির মেয়ের বাবা আমার বাড়িতে এসে আমার ছেলে তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান এবং দু-একদিনের মধ্যে মেয়েকে এনে না দিলে এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে বলে হুমকী প্রদান করেন।

এরই জেরে মেয়ের বাবা শুক্রবার আমার বাড়ি ঘরে হামলা ভাঙচুর এবং লুটপাট করেছেন।

এ ঘটনায় উপজেলার সহিলাটী গ্রামে ইছব আলী বাদী হয়ে শনিবার একই গ্রামের প্রেমিকার বাবাকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। প্রেম সংক্রান্ত ঘটনা। ছেলেমেয়ে পালিয়ে গিয়েছে। এরই জের ধরে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ছেলের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতবিচার আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

একাংশের সম্মেলন থেকে ড. কামালকে সভাপতি ঘোষণা

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের সম্মেলনে হামলা চালিয়েছে দলটিরই আরেক পক্ষ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এতে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য মোকাব্বির খানসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৯ সালে দলটির বিশেষ কাউন্সিলের পর নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন্দল চলছে। একপর্যায়ে পালটাপালটি বহিষ্কারও চলে। এখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একাংশ চলছে, যার নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান। অন্যদিকে গণফোরাম নামে আরেকটি অংশের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্বাচনি সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

এর মধ্যেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশ কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে শনিবার তা আয়োজন করে। একই সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাইরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। একপর্যায়ে এ অংশের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা মোকাব্বির খানকে ‘সরকারের দালাল’ আখ্যায়িত করে স্লোগান দেয়। এরপর দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। মঞ্চ থেকে নেমে এসে থামাতে গেলে প্রতিপক্ষের ছোড়া চেয়ারের আঘাতে আহত হন মোকাব্বির খান। পরে প্রেস ক্লাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কাউন্সিলে থাকা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান অভিযোগ করেন, গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। মোকাব্বির খান আরও বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন করেছি। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরও অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের ওপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণফোরামের অপর অংশের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি জানিয়েছেন, তার অনুসারী কেউ ওই কাউন্সিলে ঢোকেনি। মোস্তফা মহসিন মন্টু আরও বলেন, আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছি, আমাদের সুব্রত চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতা কেউ প্রেস ক্লাবে আজ যাননি। আমাদের মহানগরের কমিটি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখান থেকে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে চলে এসেছেন।

কাউন্সিলে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন অবশ্য ছিলেন না। কাউন্সিল আহ্বানকারীদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি দাবি করেন, যারা কাউন্সিলের আয়োজন করেছেন, ড. কামাল হোসেন তো তাদের সঙ্গে নেই। তিনি তো আমাদের চিঠি দিয়েছেন।

সংসদ-সদস্য মোকাব্বির খান গ্রুপের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে ড. কামাল হোসেনকে পুনরায় দলটির সভাপতি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঠিক করার জন্য একটি উপকমিটি করা হয়। এ কমিটির প্রধানও করা হয়েছে কামাল হোসেনকে। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সভাপতি মোকাব্বির হোসেন খান এ প্রস্তাব করলে উপস্থিত ডেলিগেটরা সর্বসম্মতিক্রমে হাত তুলে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে সমর্থন জানান। এর আগে মোকাব্বির খান অধিবেশনে জানান, ড. কামাল হোসেন এ কাউন্সিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। অসুস্থ থাকার কারণে এ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি।

সম্মেলনে মোকাব্বির খান বলেন, গণফোরামের মধ্যে এখন তিনটি ভাগ। একটি গ্রুপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায়। অপর গ্রুপ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার দালালি করতে চায়। আর আমার গ্রুপ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। যে কোনো মূল্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের পক্ষ নিয়ে আমরা কাজ করব। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ছাড় দেব না। কারও লেজুড়বৃত্তিও করব না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের বৈধতা দিয়েছেন। মন্টু গ্রুপের গণফোরামকে বৈধতা দেয়নি। চলতি বছরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণফোরামের আরেকটি বড় কাউন্সিল হবে। ওই কাউন্সিলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা হবে।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন গণফোরাম নেতা মফিজুল হক কামাল, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, আ ও ম শফিক উল্লাহ, ছগির আনোয়ার, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, সেলিম আকবর প্রমুখ।

অপশাসনের প্রচার ঠেকাতে দুটি নতুন নীতিমালা করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নিজেদের দুর্নীতি-অপশাসনের প্রচার ঠেকাতে সরকার আরও দুটি নতুন ‘নিবর্তনমূলক’ নীতিমালার খসড়া করেছে। এর উদ্দেশ্য জনগণের কণ্ঠরুদ্ধ করে একদলীয় বাকশালী কায়দায় ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিবর্তনমূলক নীতিমালা দুটি হচ্ছে : ‘দ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফর্মস-২০২১’ এবং ‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান এবং পরিচালনা নীতিমালা-২০২১’। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পোক্ত করতেই এই দুটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে করে আরও শক্ত করে ধরা যায়। সোজা কথায় বলা যায়, এই নিবর্তনমূলক নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি-অপশাসন, তাদের ভোট ডাকাতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলোর প্রচার ঠেকাতে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যে পরিমাণ ইতিহাস বিকৃতি করেছে, সে বিষয়ে কথা না বলার জন্যও তারা এই নীতিমালা ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, এ দুটি নীতিমালা শুধু বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিকই নয়, বরং জাতিসংঘ ঘোষিত ইউনিভার্সেল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস (ইউডিএইচআর) এবং ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের (আইসিসিপিআর) পরিপন্থি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ নিবর্তনমূলক নীতিমালা কার্যকর হলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনলাইনভিত্তিক মিডিয়াগুলোর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি অনলাইন এনক্রিপশন অকার্যকর করে নিরাপত্তাকে দুর্বল করে ফেলবে। এর ফলে মানবাধিকারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সাংবাদিক, বিরোধীদলীয় রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মী এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে, সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক মাধ্যম এবং দেশি-বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে বিটিআরসি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এ দুই নীতিমালাসহ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন তো খসড়া করেছে। যদি দেখি সরকার এই নীতিমালাকে গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন আমরা অবশ্যই কর্মসূচি দেব।

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে চোখের ঝুঁকি চার গুণ

গ্লুকোমা বা চোখের রোগ প্রতিরোধে রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, ‘এটি বংশগত রোগ। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিয়ে হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে শতকরা দুজন লোক গ্লুকোমায় আক্রান্ত। শতকরা ৫০ জন লোক জানেন না তার গ্লুকোমা রোগ আছে।’

বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্লুকোমা এমন একটি রোগ, যা নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে। এজন্য একে ছাই চাপা, তুষের আগুনের সঙ্গে তুলনা করে হয়। গ্লুকোমায় একবার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরায় সুস্থ হয় না। অর্থাৎ রোগীর স্থায়ীভাবে ক্ষতি হয়ে যায়। তাই গ্লুকোমাকে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে হবে। রোগী প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পেলে সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারবেন।

চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে জানিয়ে গ্লুকোমা সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. শেখ এমএ মান্নাফ বলেন, ‘রোগী অনুযায়ী দেশে মোট ৯০ জন গ্লকোমার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া দেশের সব চক্ষু চিকিৎসকই গ্লকোমার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গ্লুকোমা তিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। ওষুধ, লেজার ও সার্জারির মাধ্যমে। যে রোগীদের অবস্থা অ্যাডভান্স পর্যায়ে, তাদের সার্জারি করা হয়। যাদের সাধারণ পর্যায়ে আছে, তাদের ওষুধ দিই। তবে যাদের ওষুধে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের লেজার ট্রিটমেন্ট করা হয়। দেশেই সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয়। এক্ষেত্রে সফলতার হার প্রায় শতভাগ।’

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রিট শুনানি আজ

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং সেল গঠন এবং নীতিমালা তৈরি করতে দায়ের হওয়া রিটের শুনানি হবে আজ। রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হবে।

এর আগে গত ৮ মার্চ সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং সেল গঠন এবং নীতিমালা তৈরি করতে দায়ের হওয়া রিটের শুনানি পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

গত রোববার সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং সেল গঠন এবং নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়।

তিন আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহিদুল কবির রিটটি করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট আটজনকে বিবাদী করা হয়।

ইউক্রেন শরনার্থীদের থাকতে দিলে মাসে ৪৫৬ ডলার

রাশিয়ার আক্রমণে আশ্রয়হীন ইউক্রেন শরনার্থীদের নিজেদের বাড়িতে থাকতে দিলে তাদের ভাড়া হিসেবে মাসে ৩৫০ পাউন্ড (৪৫৬ ডলার) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।

যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষিত এই স্কিমে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হামলার শিকার হয়ে সেখানকার জনগণ আজ দিশেহারা। তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের জনগণের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তারপরও মানবিক দিকে বিবেচনা করে তাদেরকে আপনারা থাকার ব্যবস্থা করে দিন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যেসব জনগণ ইউক্রেনের শরনার্থীদের জন্য একটি ঘর বা তাদের কোনো আবাসস্থল শরনার্থীদের দেবে তাদের মাসিক ৩৫০ পাউন্ড করে দেবে যুক্তরাজ্য সরকার।তবে এসব শরনার্থীদের কমপক্ষে ৬ মাসের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো ইচ্ছাও দেখেননি বলেননি জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ।

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শনিবার ভিডিও কলে কথা বলেন তারা। তবে পুতিনের সঙ্গে তাদের অন্য কী কী কথা হয়েছে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এ তিন নেতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তাদের বৈঠকের বিষয়গুলো গোপন রাখবেন।

এখন পশ্চিমা দেশগুলোর লক্ষ্য হলো পুতিন ও রাশিয়ার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেন বিশ্ব থেকে পুতিন পুরোপুরি আলাদা হয়ে যান।

রুশ সেনাদের কড়া হুশিয়ারি দিলেন জেলেনস্কি

উক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ সেনাদের সতর্ক করে বলেছেন, যদি রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করে তবে তাদেরকে মৃত্যুর মুখোমুখী হতে হবে।

রোববার সকালে আবারও রুশ সেনাদের বিমানের সাইরেন বেজে উঠে কিয়েভে। এরপরই জেলেনস্কি এই হুশিয়ারি দেন। খবর বিবিসির।

এর আগে শনিবার রাতে জেলেনস্কি বলেন, যদি রুশ সেনারা বোমা হামলার মাধ্যমে এই অঞ্চলের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে এবং এটাই যদি তাদের লক্ষ্য হয় তবে তারা আসুক। তারা এখানে এসে শুধু এখানকার ভূমিটাই পাবে এবং এখানে তাদেরকে একাই থাকতে হবে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে শনিবার রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠের ছোট ছোট শহরগুলোতে রুশ সৈন্যদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেন, রাশিয়ার ভারী গোলাবর্ষণ, বিমান হামলার হুমকি এবং শহর ঘিরে ফেলার কারণে কিয়েভ ছাড়তে মরিয়া বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলা সাহিত্যে লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের অতীত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। ব্রিটিশ শাসনামলে লালমনিরহাট শুধু পূর্ববঙ্গের বিখ্যাত বেঙ্গল-ডুয়ার্স রেল সংযোগকারী জংশনসমৃদ্ধ রেল শহরই ছিল না, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দরসমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী প্রসিদ্ধ জনপদ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিল এ লালমনিরহাট। এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ শাসনামলে লালমনিরহাটে ঘূর্ণায়মান মঞ্চের থিয়েটার হল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ ঘূর্ণায়মান মঞ্চের থিয়েটার হলকে ঘিরে তৎকালে লালমনিরহাটে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার একটা অনুকূল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। সংগত কারণেই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় অনেক এগিয়ে ছিল। এ ছাড়া লালমনিরহাটের কাকিনায় তৎকালীন ‘কাকিনার জমিদার’ বৃহত্তর রংপুরে শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। লালমনিরহাটের কাকিনার জমিদার রাজা মহিমারঞ্জন রায় চৌধুরী তৎকালীন রংপুরের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পাদপীঠ ‘রংপুর টাউন হল’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি’ নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। ব্রিটিশ আমলে কাকিনা জমিদারের প্রচেষ্টায় লালমনিরহাটের কাকিনায় থিয়েটার হল, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি, ছাপাখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে এ অঞ্চলে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশের পথ প্রশস্ত হয়। কালক্রমে কাকিনা তথা লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতির এক উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়।

পত্রিকা প্রকাশনার ক্ষেত্রেও লালমনিরহাটের রয়েছে সোনালি অতীত ঐতিহ্য। বাংলাদেশের তথা পূর্ববঙ্গের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ রংপুর থেকে প্রকাশিত হলেও ১৮৫৭ সালের ১৩ জুন লর্ড ক্যানিংয়ের জারিকৃত স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায় মুদ্রণযন্ত্র আইনের কোপানলে পড়ে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কাকিনার জমিদার শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরী লালমনিরহাটের কাকিনা থেকে ‘রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন। কথিত আছে কাকিনার জমিদার শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরী তৎকালীন কুণ্ডির গোপালপুরের জমিদারের বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ পত্রিকার মালিকানা ক্রয় করে ‘রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, সে সময়ে এটি ছিল একটি প্রথম শ্রেণির সাপ্তাহিক সংবাদপত্র যা সমকালীন সাহিত্যচর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছিল।

সংগৃহীত তথ্যমতে জমিদার শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরী, শ্রীধর বিদ্যালংকার, জগবন্ধু তর্কবাগীশ, গুরুচরণ সরকার, যোগেন্দ্র বিদ্যামনি, গোবিন্দ পঞ্চানন, রাজমোহন সার্বভৌম, বিশ্বেন্দ্র বিদ্যারত্ন, জানকীনাথ সার্বভৌম, তারাশঙ্কর মৈত্রেয়, হরশংকর মৈত্রেয়, ভারতচন্দ্র গুপ্ত, মুন্সী ফজলার রহমান, গোবিন্দ প্রসাদ রায়সহ তৎকালের এ রকম আরও অনেক গুণী লেখকের লেখায় এ পত্রিকাটি সমৃদ্ধ ছিল।

রাজা শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার দত্তকপুত্র রাজা মহিমারঞ্জন রায় চৌধুরী সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা দানের পাশাপাশি এ পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন। এভাবে রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ পত্রিকাটি একটি প্রথম শ্রেণির সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে টানা ৪৩ বছর টিকে থেকে লালমনিরহাটে সাহিত্যচর্চায় গুণী লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে অসামান্য অবদান রেখেছিল।

এ ছাড়া ১৮৬৪ সালের জানুয়ারি মাসে (পৌষ, ১২৭০ বঙ্গাব্দে) কাকিনা শম্ভুচন্দ্র মুদ্রণযন্ত্র থেকে ‘রচনাবলী’ নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাখানি বেশ উঁচু মানের ছিল বলে জানা যায়।

এ ছাড়া লালমনিরহাটের প্রথিতযশা কবি শেখ ফজলল করিম কাকিনায় তার নিজ বাড়িতে ‘সাহাবিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস’ নামে ছাপাখানা স্থাপন করে পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। কবি তার প্রেস থেকে ১৯০৮ সালে ‘বাসনা’ নামে অপর একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন যাতে সমসাময়িক লেখকদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হতো। এ ছাড়া কবি ফজলল করিম কাকিনা থেকে ‘জমজম’ (শিশু মাসিক পত্রিকা), ‘কল্লোলিনী’, ও ‘রত্নপ্রদীপ’ (হাতে লেখা সাপ্তাহিক) নামের আরও তিনটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। লালমনিরহাট থেকে এতগুলো প্রকাশনা প্রমাণ করে শতবছর আগে থেকেই লালমনিরহাট জেলা বঙ্গসাহিত্যের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

স্বাধীনতাত্তোরকালে লালমনিরহাট জেলার ভৌগোলিক এলাকা থেকে অনেকগুলো সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ গুলোর মধ্যে কেয়া, বৃষ্টি ঝরা মেঘ, বিকশিত, অহমিকা, খেয়া, রক্তসূর্য, অস্বীকার, চলমান সাহিত্য পত্রিকা, ত্রৈমাসিক চলমান সাহিত্য পত্রিকা, পথ, বিকাশ, চমক, ইদানীং, মিছিল, সংবর্তক, পূর্ব দিগন্ত, সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা, লালপোস্টার, বিপ্লব, সাহিত্য কণিকা ও মুক্ত জগৎ, অম্বিকা, ছন্দে মুক্তি ছন্দে স্বাধীনতা, অরণ্যে রোদন, কথামালা, বোধ, লেখারহাট, মৃত্তিকা, পুষ্পাঞ্জলি, অশ্লীল, চিন্ময়ী, মাসিক রোদ্দুর, সম্প্র্রীতি, প্রচ্ছদ, প্রত্যাশা, উত্তরায়ণ, স্বর্ণামতি-সাহিত্যের ছোট কাগজ, উঠান ইত্যাদি অন্যতম।

লালমনিরহাটে যারা সাহিত্যচর্চা করে খ্যাতিমান হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রয়াত কবি শেখ ফজলল করিম সাহিত্য বিশারদ।

‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?

মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক-মানুষেতে সুরাসুর’।

-সাবলিল ভাষায় মহৎভাবে রূপায়িত এ কালজয়ী বিখ্যাত চরণ দুটি কবি শেখ ফজলল করীম সাহিত্য বিশারদের ‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতার অংশ বিশেষ। কবির এ কালজয়ী কবিতাটি ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় ১৩২১ বঙ্গাব্দের আষাঢ় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এ কবিতা ছাড়াও কবির ‘বঙ্গবাণী’, ‘মালঞ্চ’ ও ‘গাঁয়ের ডাক’ নামক তিনটি কবিতাও স্কুল পাঠ্যপুস্তকে গৃহীত হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সিলেবাসে ম্যাট্রিক ক্লাসের জন্য তার কবিতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

‘পথ ও পাথেয়’ গ্রন্থের জন্য তিনি রৌপ্য পদক পান। ১৩২৩ বঙ্গাব্দে নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে। ‘চিন্তার চাষ’ গ্রন্থের জন্য তিনি লাভ করেন ‘নীতি ভূষণ’ উপাধি।

এ ছাড়া অন্যান্য আরও অনেক কবি, লেখক লালমনিরহাটের সাহিত্য অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। এদের মধ্যে প্রয়াত ধর্মনারায়ণ সরকার ভক্তিশাস্ত্রী, শেখ রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, মুন্সী কাজী ফজলুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস, শেখ আমানত আলী, তমিজ উদ্দিন, যাদব চন্দ্র দাস বাণীভূষণ, ডা. সেরাজুল হক, শেখ শাহাদৎ উল্লাহ বসুনিয়া, অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ মিশ্র, শমসের আলী প্রধান প্রমুখ।

সমসাময়িককালে লালমনিরহাট জেলার অতীত ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে যারা সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রেখেছেন তাদের মধ্যে মুহম্মদ শাহাব উদ্দিন, ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত, জাকিউল ইসলাম ফারুকী, মাহবুব কামাল, আব্দুর রব সুজন, এস এম মাহবুবর রহমান মনু, মোঃ গোলাম রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম মণ্ডল, মোকতার হোসেন, মোঃ মোস্তফা কামাল চৌধুরী, মোঃ আব্দুল মজিদ মণ্ডল, হাবিবুর রহমান, আলী আকতার গোলাম কিবরিয়া, মকুল রায়, ফেরদৌসী বেগম বিউটি, শ, ম, শহীদ, মুস্তাক মুকুল, নিশিকান্ত রায়, এবিএম রমজান আলী, শ্রী ইন্দ্র কমল রায় দেবসিংহ, আশরাফুজ্জামান মণ্ডল সবুজ, আবু আইয়ুব প্রধান, মোঃ হামিদুল হক মন্টু, বাদল শাহা শোভন, শৌর্যদীপ্ত সূর্য, মনজুরুল ইসলাম, মাহবুব কামাল, আতাউর মালেক, শশধর চন্দ্র রায়, ইরশাদ জামিল, দেলোয়ার হোসন রংপুরী, নাজিরা পারভীন, আব্দুস সালাম, সাইফুজ্জামান সিদ্দিকী চয়ন, আব্দুছ ছালাম, মোঃ মোছলেম উদ্দীন, হাসানুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল মান্নান মৃধা, সায়েদুল ইসলাম মিঠু, ইসমত আরা, হাই হাফিজ, আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক, সারমিন আরা হক বিথি, মাজহারুল মোর্শেদ, নবীর হোসেন, আজিজুল হক মোল্লা বাবু, সুবাস চন্দ্র রায়, মজিবর রহমান, কাব্য রাসেল, লীনা রহমান, তিতাস আলম, মুনিম হোসেন খন্দকার প্রতীক, মমিনুল আলম রাসেল, একেএম মইনুল হক, আনোয়ার সাদাত পাটোয়ারী, কল্যাণ চন্দ্র শীল, আলেয়া ফেরদৌসী লাকী, আইটিএম অন্তর, এ কে রাসেল, তরণী কান্ত, হাসানুর রহমান লাজু, মোঃ মুকুল হোসেন, সাবিরা বেগম ডলি, ইকবাল রাবেয়া লারামনি, সাজু রহমান, সুফি মোস্তফা রিপন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নিরব রায়হান, আরিফ সরকার, আহেদুল ইসলাম, বেনু বেগম বিজলী, সাদিক ইসলাম, আমিনুল ইসলাম মিঠু, স্বপ্না জামান, সুশান্ত কুমার রায়, আতাউর রহমান রতন, হেলাল হোসেন কবির, আজমেরী পারউইন লাবনী, আসমা খাতুন মনি, মাসুদ রানা রাশেদ, আমজাদ হোসেন মাষ্টার, মনসুর সরকার, পাগলা জাহাঙ্গীর, নীলকমল মিশ্র, রিয়াজুল ইসলাম, রাজু রহমান দুলু, রয় অর্ক, বাদল আশরাফ, হাফিজুর রহমান হাফিজ, পিকে বিক্রম, ময়জুল ইসলাম ময়েজ, সুমন বসুনিয়া, জামাল হোসেন, মাখন লাল দাস, ফারুক আহমেদ সূর্য, শাহাজাহান হোসেন লিপু, ফারুক আলম প্রমুখ অন্যতম।

লালমনিরহাট জেলায় সাহিত্যচর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠন গড়ে ওঠে। এ সংগঠনগুলোর মধ্যে একতা সাহিত্য সংসদ, জেলা সাহিত্য পরিষদ, সাহিত্য পরিষদ, লালমনিরহাট, বনলতা সাহিত্য সংঘ, বন্ধন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, কবি সংসদ বাংলাদেশ, বাণীনগর রেনেসাঁ ক্লাব, সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা, আরশী নগর, রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ লালমনিরহাট জেলা শাখা, স্বর্ণামতি নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, বিশ্ব কবি মঞ্চ, লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ অন্যতম। লালমনিরহাট সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ নামের সংগঠনটি জেলার পাঁচটি উপজেলায় পৃথক পাঁচটি শাখা কমিটি গঠন করে জেলার প্রায় শতাধিক লেখক কবিকে সংগঠিত করে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশে নেতৃস্থানীয় সংগঠন হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

যুবলীগের নুতন কমিটিতে বিতর্কিতরা

দক্ষিণ উপকূলে সদ্য ঘোষিত বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের নতুন কমিটিতে স্থান পাননি দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতারা। অনুপ্রবেশকারী ও বিএনপি পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী,নিস্ক্রিয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারী ও বিতর্কিতদের জয়জয়াকার অবস্থা।

এনিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। বিএনপি-জামাতসহ বিরোধী জোটের আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবিলা করতে কতটুক সক্ষম হবে দুই জেলার এই ঐতিহ্যবাহী এই যুব সংগঠনটি। তা নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ দুই জেলার ১০১ সদস্যের বরগুনায় সুপার ২৮ ও পটুয়াখালী জেলায় সুপার ২১ জনের নাম ঘোষণা করে।

সদ্য ঘোষিত বরগুনা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এ্যাটম একসময় ছিলেন জাতীয় পার্টির ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার এক চাচাতো ভাই ইলিয়াস পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। আরেক ভাই শাহদাৎ জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৫ চাচাত ভাই বিএনপির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আর সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাবু বরগুনা পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।

প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মহসিন মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে এক সময়ে ছাত্রদল করার অভিযোগ। বামনা উপজেলা বিএনপির এক নেত্রীর ছেলে এড: ইমরান জেলা যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান ও নানা অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।

সদ্য ঘোষিত বরগুনা জেলা কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ পড়া ও বিতর্কিতদের স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম সরোয়ার টুকু যুগান্তরকে বলেন, যুবলীগ নিয়ে মিডিয়ার কাছে ওপেন মন্তব্য করা কঠিন। কিন্তু সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে ব্যাপক হতাশা, ব্যাপক প্রশ্ন যুবলীগের মধ্যেই আছে, আওয়ামী লীগের মধ্যেও আছে এবং সাধারণ মানুষের মঝেও আছে। সকলের প্রত্যাশা ছিল ৩ মাসব্যাপী এত তদন্ত ,গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া, এত কিছুর পর কেন্দ্রীয যুবলীগ একটি ভালো কমিটি উপহার দিবে কিন্তু আমরা খুবই হতাশ। সামগ্রিক ২৮ জন সম্পর্কেই বলছি এর চেয়েও ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল। এ সুযোগ কেন হাতছাড়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এভাবে বলতে পারব না, এটা পার্টির অভ্যন্তরীন ব্যাপার। এই কমিটি মানতে না পারলেও তো মানতে হবে। তবে আমি হতাশ।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর কবিরকে বরগুনা জেলা যুবলীগের কমিটিতে বিএনপিসহ অন্য দলের অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে বহু ম্যাসেজ আছে, আমিও খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমি এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের মিটিং ডাকব। মিটিংয়েই এনিয়ে আলোচনা হবে।

বরগুনা জেলা যুবলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু যুগান্তরকে বলেন, সুবিধাবাদীরা সুযোগ পেলে সুযোগ নিবে এটাই স্বাভাবিক। তবে দুঃসময়ে তারা কেউ থাকবে না। তবে যুবলীগের চেয়ারস্যান ও সাধারণ সম্পাদক যদি জানতে পারেন, নৌকা বিরোধীরা বরগুনা জেলা যুবলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এটা আমার বিশ্বাস।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডঃ কামরুল আহসান মহারাজ যুগান্তরকে বলেন, কেউ আমার মতামতও নেয়নি, আর কেউ কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। অন্য দলের লোকজন যুবলীগের কমিটিতে ঢুকছে বলে আমি শুনছি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী আলমগীর বলেন, নৌকার বিরোধী ও বিতর্কিতদের তালিকা আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দিয়েছি। তারা কমিটি দিলে আমার কি করার আছে?

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর পটুয়াখালীতে কমিটি হয়েছে। কম-বেশি ভুল হতেই পারে। শুধু একটি ছেলে ভুল ইনফরমেশন দিয়ে প্রচার সম্পাদকের পদ নিয়েছে। তার ভাই দশমিনা বিএনপির নেতা, তা আমরা পরে জেনেছি। এর বাইরে আমাদের আর কোন ভুল ধরার সুযোগ নেই। একটি কমিটির মূল হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কমিটি দিলেই ভাবার কোন কারণ নেই যে, তারা সেট হয়ে গেছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে তাকে বাদ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বরগুনা জেলা যুব লীগের কমিটি নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কথা বলার কোন সুযোগ নেই। শুধু দুটি কেলেম আপনি দিতে পারবেন, সহসভাপতি বাবু ও আইন সম্পাদক ইমরানের ব্যাপারে। যুবলীগকে নতুন ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কে যুবলীগের কমিটিতে থাকবে সেটা কেন্দ্রীয় যুবলীগই সিদ্ধান্ত নিবে। আমরা যে কমিটি দিব সেটাকে সহয়তা করা জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। তাড়াহুড়া করে কমিটি দেওয়ায কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বদি বলেন, সিভি ক্যালেকশন করে যাছাইবাছাই করেই যুবলীগের কমিটি করা হয়েছে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে যদি বিএনপি বা অন্য দলের কেউ ঢুকে থাকে উপযুক্ত প্রমান স্বাপেক্ষে তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে।

অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও দলের জন্য নিবেদিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবী দুই জেলার দলীয় কর্মী-সমার্থদের।