শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 401

গুনিন ওয়েব সিনেমায় কৃতিকা

সিনেমার শুরুতে টান-টান উত্তেজনা, পুরো সিনেমা দেখার আগ্রহ তৈরি করতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘গুনিন’ওয়েব সিনেমায় সে রকম একটি দৃশ্যে সাবলীল অভিনয় করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী সুমাইয়া চৌধুরী কৃতিকা।

গুনিন সিনেমা শুরু হয় আজাদ আবুল কালাম এবং সুমাইয়া চৌধুরী কৃতিকার জিন তাড়ানোর একটি দৃশ্য দিয়ে। সিনেমাটির শুরুতে গুনিন ভূমিকায় আজাদ আবুল কালামকে দেখা যায় এক ষোড়শী মেয়ের শরীর থেকে জিন ধরে বোতলে ভরছেন। আজাদ আবুল কালামের মতো একজন গুণী অভিনেতার সঙ্গে এরকম দৃশ্যে কৃতিকার অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দৃশ্যটির মাধ্যমে পরিচালক গুনিন চরিত্রকে একটি ধোঁয়াশার রূপ দিয়েছেন; যার উত্তর দর্শকরা পুরো সিনেমায় খুঁজে বেড়াতে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে মডেল ও অভিনেত্রী সুমাইয়া চৌধুরী কৃতিকা বলেন, গুনিনে অভিনয় করতে পেরে আমি আনন্দিত। সিনেমার প্রথম দৃশ্যই আমি এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। এটি আমার অভিনীত প্রথম সিনেমা।

কৃতিকা মিডিয়াতে মডেল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত। বেশ কিছু ব্র্যান্ডের কাজ করে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় এটাই প্রথম। পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম সুমাইয়ার এ চরিত্রটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন করেছেন। কৃতিকা ওয়েস্টার্ন আউটফিটে সাবলীল, এ রকম একজন মডেলকে এই রূপে সফলভাবে পরিবেশন করা কেবলমাত্র একজন গুণী পরিচালকের পক্ষেই সম্ভব। আর এই চরিত্রে কৃতিকা পরিচালকের আস্থার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

সুমাইয়া চৌধুরী কৃতিকা মডেলিং ও ইনফ্লুয়েন্সিং এবং অভিনয়ের পাশাপাশি সার্টিফাইড পার্সোনাল ট্রেইনার, লাইসেন্সড জুম্বা ইন্সট্রাক্টর এবং হেড অব সেলস হিসেবে একটি মাল্টিন্যাশনাল জিমে কর্মরত। পড়াশোনা করছেন দেশে এবং দেশের বাইরে

মেহজাবীনকে নিয়ে যা বললেন শবনম ফারিয়া

নাটকের জনপ্রিয় মুখ মেহজাবীন চৌধুরী। গত কয়েক বছরে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিপুণ অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। মেহজাবীনের অভিনয়ে মুগ্ধ আরেক অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন— ‘মেহজাবীন অভিনীত ‘চিরকাল আজ’ নাটকটি দেখার পর, আমি নিজের জন্য কারও কাছেই ভোট চাইতে পারি না! এমন অসাধারণ কাজের জন্য তিনি সব পুরস্কার ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’

মেহজাবীনের অভিনয় ফারিয়াকে এতটাই ছুঁয়ে গেছে যে, তিনি প্রকাশ্যেই সেটি বলে ফেললেন।

সম্প্রতি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি নাটকের জন্য সেরা টিভি অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী।

অন্যদিকে ‘ব্রাদার অ্যান্ড সিস্টার’ নাটকের জন্য শবনম ফারিয়াও একই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু মেহজাবীনের অভিনয় দেখে তার বিপরীতে নিজের জন্য ভোট চাওয়াকে বেমানান মনে করছেন শবনম ফারিয়া। আর সেটি তিনি প্রকাশ্যেই শেয়ার করেছেন।

পুরস্কারের মঞ্চে একে-অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। এর পরও এক শিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর এমন উদারতা, ভালোবাসা মুগ্ধ করছে নেটিজেনদের। অনেকেই ফারিয়াকে ধন্যবাদ দিয়েছেন পোস্টটির জন্য।

যে কারণে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন সালমান!

বলিউডের ভাইজানখ্যাত সালমান খান। তার বয়স ৫২। এই বয়সেও বর্তমানে বলিউডের ‘মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর’ বলা হয় তাকে। তাকে পাওয়ার জন্য অসংখ্য তরুণী পাগল। বিভিন্ন সময় ঐশ্বরিয়া, ক্যাটরিনাসহ অনেক নায়িকার সঙ্গে তার প্রেম ছিল বলে খবর এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো সম্পর্কই বেশি দিন স্থায়ী হয়নি সালমান খানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়েটা আর করা হয়নি ভাইজানের। আর এ কারণেই কী সালমান খান একাকীত্বে ভুগছেন? এমন প্রশ্ন সালমান ভক্তদের মনে ঘুরলেও সে প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। সালমান তার নিজ গুণে অভিনয় করে যাচ্ছেন নিয়মিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তবে এই সুপারস্টার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। মূলত ‘ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া’ রোগের শিকার হয়েছিলেন তিনি। যাকে বাংলায় বলা হয় ‘আত্মহত্যার রোগ’ এ কথা নিজের মুখেই প্রকাশ্যে বলে দিলেন। এই রোগের কারণে এতটাই যন্ত্রণা হয় রোগীর, যে একসময় তার মনে হয় আত্মহত্যাই হচ্ছে একমাত্র মুক্তির পথ।

এই রোগের পর সালমানের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। দুবাইয়ে ‘টিউবলাইট’ সিনেমার ‘রেডিও’ গানটি প্রকাশের অনুষ্ঠানে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান তিনি। রোগটি নিয়ে যেন সচেতনতা বাড়ে, সেই উদ্দেশেই জনসমক্ষে সেই কথা তুলে ধরেন।

সালমান বলেন, ‘এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সারা মুখজুড়ে অসহ্য যন্ত্রণা হতো। ঠিকমতো মুখ খুলতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না ভালোভাবে, জড়িয়ে যেত। গলার স্বর ভেঙে গিয়েছিল। সবাই ভাবতে শুরু করেছিল আমি মদ্যপান করা শুরু করেছি। কিন্তু আমি মদ্যপান করতাম না।’

প্রসঙ্গত সম্প্রতি নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন সালমান খান। সেখানে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যায়। একটি ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সিনেমার প্রেম চরিত্রে, অন্যটি বাস্তব জীবনের সালমান। এরই মধ্যে বিজ্ঞাপনটির প্রচার শুরু হয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে দুগ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ৪

রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র দুগ্রুপের গোলাগুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বান্দরবান জেলার রাজবিলা ইউনিয়ন ও রাঙ্গামাটি জেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নতুন কেচিপাড়া এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস ও মগ লিবারেশন পার্টির (মগ পার্টি) মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়ন থেকে এক মোটরসাইকেলচালককে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল মগ পার্টি। এ সময় রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলা গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কেচিপাড়া এলাকায় জেএসএস ও মগ পার্টির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এতে মগ পার্টির চার সদস্য গুলিতে ঘটনাস্থলে মারা যান। গোলাগুলির ঘটনা শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মীর মোদদাচ্ছের হোসেন হোসেন বলেন, গোলাগুলির ঘটনা শুনেছি। কার সঙ্গে কার গোলাগুলি হয়েছে জানি না। ঘটনাস্থল আমাদের এলাকায় কিনা জানতে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হচ্ছে।

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র ধরা, হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বাবাকে কারাগারে

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে আটক করে মারধর করেছেন গ্রামবাসী। এ সময় প্রেমিকার বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

তবে পুলিশ বলছে— তাদের কাজে বাধা দেওয়ায় ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রেমিক যুগলসহ মেয়ের বাবা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার বিকালে উপজেলার টাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি হয়েছেন ওই শিক্ষকের মেয়ে। ধনবাড়ী পৌর শহরের আমবাগান এলাকার ঢাকায় অধ্যয়নরত সাগর (২০) নামে এক ছেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সোমবার বিকালে সাগর উপজেলার টাকুরিয়া গ্রামে গিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলছিল। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।

স্থানীয় একটি সূত্রের অভিযোগ, সাগরকে আটকিয়ে দফায় দফায় বেদম মারপিট করা হয়। অন্যদিকে দুপক্ষের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি ধুঁকের কুল থেকে ছেলের চাচা রিপনের নেতৃত্বে কিছু লোকজন এসে সাগরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় জানায়।

থানা থেকে পুলিশ রাত ১২টার দিকে ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে একটা মীমাংসা করে থানায় নেওয়ার কথা বললে স্থানীয়রা তাতে রাজি না হওয়ায় পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্ক লেগে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ একপর্যায়ে স্থানীয়দের ওপর লাঠিচার্জ করলে ভয়ে অনেকে সরে পড়েন। এ সময় প্রধান শিক্ষক তার মেয়েসহ সাগরকে নিয়ে যেতে বাধা দিলে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে তাকে গালাগাল শুরু করে।
এ নিয়ে তর্ক বেধে গেলে পুলিশ তাকে মারপিট করে। পরে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে প্রেমিক যুগলের সঙ্গে প্রধান শিক্ষককেও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

এলাকার রফিকুল ইসলাম নামে অপর এক শিক্ষক জানান, এ ঘটনার সত্যতা জানতে নেতৃবৃন্দদের নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন তিনি।

ধনবাড়ী থানার ওসি চান মিয়া জানান, ছেলেমেয়ে দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাস্তা দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। সেখান থেকে স্থানীয়রা ছেলেমেয়েকে আটকিয়ে একঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে দেন। ভাতিজা সাগরকে চাচা রিপন ছাড়াতে গিয়ে স্থানীয়দের মারপিটে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপরও হামলা করে বলে ওসি অভিযোগ করেন।

ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বকল জানান, ঘটনা শুনেছি। পুলিশের ওপর স্থানীয়রা নাকি চড়াও হন। এ জন্য তাকে আনা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় বসে প্রকৃত ঘটনা জেনে করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও মেয়র জানান।

পুতিনকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা!

ইউক্রেন আক্রমণ করে সারাবিশ্বেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমনকি নিজের দেশেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন সাবেক এ গুপ্তচর।

আর তাই রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী যে কোনো ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ রোধে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে রুশ সরকার। কিন্তু এর মাঝেই এমন এক খবর উঠে এসেছে, যা শুনে অনেকেই চমকে গেছেন। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা প্রধানের দাবি করেছেন— রাশিয়ার একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি রুশ প্রেসিডেন্টকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা করছে।

নীতিগতভাবে তারা রুশ প্রেসিডেন্টের বিরোধী। প্রভাবশালী ওই রুশ এলিটরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও অভিজাত শ্রেণির একাংশকে একত্রিত করার কাজও শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে হত্যার চক্রান্ত করা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের লক্ষ্য, ভ্লাদিমির পুতিনকে রুশ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদে নিয়ে আসা।

কারণ পুতিনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানো গেলেই কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পথও সুদৃঢ় হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন দেবে জনগণ: জেলেনস্কি

চলমান সংকট নিরসনে ইউক্রেন যদি আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছতে পারে তা হলে সেই চুক্তি গণভোটে দেওয়া হবে। ভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনীয়রা তা অনুমোদন দেবে বা প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন—যে কোনো ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি পুরো দেশে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জেলেনস্কি বলেন, ‘আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলতে চাই— যখন এসব ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আপনারা কথা বলবেন, তখন আমরা আর কোথাও যাব না। সরাসরি গণভোটে যাব।’

তিনি বলেন, জনগণই এসব নিয়ে কথা বলবে, জনগণের সিদ্ধান্তই হবে ইউক্রেন-রাশিয়ার আলোচনার ফল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার যে প্রস্তাব জেলেনস্কি দিয়েছেন আজ সকালে রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ‘আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি’ উল্লেখ করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা বলতে চাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার আগে পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন।’

এ ছাড়া ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ইউক্রেন নিজেদের নতুনভাবে সংগঠিত করে রুশ সেনাদের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ পাবে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

আট হাজার কোটি টাকা বাড়ছে সরকারি ব্যয়

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যপণ্য, কৃষি, জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য বেড়েছে। আর এসব খাতে সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকির অঙ্ক ঠিক থাকছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমপক্ষে আরও আট হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাড়াতে হিসাব কষছে অর্থ বিভাগ। যদিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ায় বেশ চাপের মুখে পড়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গত দু’বছর করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে অর্থনীতি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার আগেই শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অভ্যন্তরে এক দফা মূল্য বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এখন বর্ধিত দামেই কিনতে হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হবে না। ফলে এ খাতে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এ ছাড়া বেড়েছে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাড়লেও সরকার কৃষকের সারের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। কৃষককে দেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি মূল্যে সার। ফলে বড় ধরনের ভর্তুকি এ খাতেও গুনতে হবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রভাব ঠিক রাখতে সরকার নিজেই এ খাতে প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। এখানে ভর্তুকি বাড়ছে।

সব মিলে আমরা ভর্তুকি নিয়েই আছি। তার মতে, এ ধাক্কা আসন্ন বাজেটেও গিয়ে পড়বে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এটি ব্যবস্থা করতে হলে আমাদের রেমিট্যান্স ব্যবস্থার প্রতি নজর রাখতে হবে। এ খাত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। রপ্তানি এখনো পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হয়নি। রপ্তানি আয় বাড়ানো বিশেষ করে নতুন পণ্য, নতুন দেশ খুঁজতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়াতে হবে। কারণ এই মুহূর্তে ভর্তুকি বন্ধ করা যাবে না। ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়ে পত্র পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় ৩২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে।

চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) কৃষি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের মূল্য এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা থেকে ৯৬ টাকায় উঠেছে। কিন্তু সরকার এ সার আগের দামেই প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ খাতে ভর্তুকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ ভর্তুকির অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। এ খাতেও আরও দুই হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর হিসাব করছে অর্থ বিভাগ। আর এলএনজি খাতে চলতি অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি গ্যাসের মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে এ খাতে ভর্তুকি বাড়বে এমনটি ধরে হিসাব চলছে।

সূত্র আরও জানায়, রেমিট্যান্সের প্রভাব বাড়াতে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানো হয়। প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা দেওয়া হতো। গত জানুয়ারিতে সেটি বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এই দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানোর ফলে এ খাতে নতুন করে ভর্তুকি আরও এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ বছরের শুরুতে ছিল রেমিট্যান্স খাতে ভর্তুকি চার হাজার কোটি টাকা। সেটি বছর শেষে দাঁড়াবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

একই ভাবে রপ্তানি খাতে ছয় হাজার ৮২৫ কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সাত মাসে ব্যয় করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল, গম, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে দেশি পণ্যের বাজারে। যে কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিসিবি এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয় মূল্যে চিনি, ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিতরণ কর্মসূচি চালু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড নামে এই কর্মসূচি পরিচালনা করতে গিয়ে সরকারকে ৪০০ কোটি টাকার ভর্তুকি গুনতে হবে।

এদিকে বেসরকারি সংস্থা সিপিডির হিসাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ও খাদ্যপণ্যের বৃদ্ধির কারণে আগামী তিন মাসে ডিজেলের জন্য বাড়তি খরচ করতে হবে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, এলএনজিতে প্রায় ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য বাবদ প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা এবং ভোজ্যতেলের ভ্যাট মওকুফ করায় কিছুটা রাজস্ব কমবে। এসব নিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত বোঝা আসবে বাজেটের ওপর।

সীমার চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে ১১ ব্যাংক

আইনের মধ্যে আনতে ব্যাংকগুলোর অ্যাডভান্স ডিপোজিট রেসিও (এডিআর) বা ঋণ-আমানত অনুপাতসীমা বাড়ানো হয়েছে। তারপরও আগ্রাসী বিনিয়োগ ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এডিআর সীমার বাইরে ঋণ দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১ বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত আইনে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে টানা পাঁচবার এডিআর সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও অনেক ব্যাংক এটি সমন্বয় করতে পারেনি। পরবর্তীতে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে গতিশীলতা আনা, ব্যাংকিং খাতের সার্বিক তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়নে এডিআর ২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ধারার ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৭ টাকা এবং ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ৯২ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে উল্লিখিত সীমা অতিক্রম করে ঋণ দিয়েছে ১১টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে প্রচলিত ধারার পদ্মা ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, বেসিক ব্যাংকের ৯০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ৮৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ব্যাংক আল-ফালাহ ৮৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সীমার বাইরে বিনিয়োগ রয়েছে এক্সিম ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের শরিয়াহ শাখার ৯৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে ঋণ বা বিনিয়োগ করাকে ভালো চোখে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমানতের বিপরীতে সীমার বাইরে ঋণ দিলে ঋণ শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। তাছাড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ের চিত্রও এখন খুব একটা সন্তোষজনক নয়। এমতাবস্থায় অতিরিক্ত ঋণ দিয়ে যদি খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যায় তাহলে ব্যাংকের পাশাপাশি আমানতকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ জরুরি।

এ প্রসঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দেওয়ার যে সীমা বেঁধে দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে অনেক হিসাব-নিকাশ করে দিয়েছে এবং তা যথেষ্ট বৈশ্বিক মানের। সে সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়। এতে ব্যাংক খাতে ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষ করে আমানতকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমানতের বিপরীতে কত টাকা ঋণ দিতে পারবে এর একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। তবে ব্যাংকগুলোর এ অনুপাত বিভিন্ন সময় ওঠানামা করে। কারণ কোনো ব্যাংকের যদি বড় একটি আমানত আসে তাহলে তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে যায়; একইভাবে হঠাৎ করে কোনো গ্রাহক আমানত তুলে নিলে তখন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তখন ব্যাংক তার এডিআর সীমার বাইরে চলে যায়। এটা সাময়িক হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যাংক এডিআর সীমার বাইরে থাকলে সে ব্যাংককে অবশ্যই চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হবে। অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের অংক দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ বিতরণ করেছে ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

‘আজকের এ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতেও সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

তিনি বলেন, এবারের ইউপি নির্বাচনে তো বিএনপি-জামায়াত অংশ নেয়নি। জয়ী ও পরাজিত উভয়ই আওয়ামী লীগের লোকজন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরাজিত প্রার্থীরা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রক্তের আখরে অর্জিত হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ। এসব আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দি হয়ে আছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ আজ অনেক দূরে। বলতে দ্বিধা নেই— আজকের এ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসমূহ, দুঃখজনক হলেও সত্য অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক খাওয়াখাওয়িতে ব্যস্ত। জনগণের আশাজাগানিয়া রাজনীতি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ আর পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ‘৭২-এর সংবিধান সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হতে পারেনি। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় মৌলনীতি হিসেবে ইতোমধ্যে ফিরে এলেও রাষ্ট্রও কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে এটি ঠিক, মুক্তিযুদ্ধের সরকারের আমলে নিবন্ধন আইনে বিরতি পূর্বেকার বৈষম্য দূরীভূত হয়েছে। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রণীত হয়েছে তাও নমিত, চাকরি-বাকরিতে নিয়োগ পদোন্নতি ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংস্থার সংগীতের বিরাজিত বৈষম্যের বেশ খানিকটা অবসান হয়েছে, ধর্মশিক্ষায় স্ব স্ব ধর্মের শিক্ষক সাম্প্রতিককালে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য যত কথাই বলা হোক না কেন, তা অনেকটা কথার কথায় পরিণত হয়েছে। দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ সরকারি দল বা সরকারের পক্ষ থেকে আরও আন্তরিকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তিনি জানান, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় এবং অস্তিত্বের সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ঐক্য মোর্চা গঠন করে মানবাধিকারের আন্দোলন পরিচালনা করা ছাড়া আজ সংখ্যালঘুদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

ঐক্য পরিষদ ও ঐক্য মোর্চার বছরব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচির শুরুতে আগামী ২৪ মার্চ বিকাল ৪টায় শাহবাগ চত্বরে সমবেত হয়ে প্রায় দুই লাখ নাগরিকের গণস্বাক্ষরসংবলিত এক স্মারকলিপি পদযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তার বরাবরে অর্পণ করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।