শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 393

খুকৃবিতে গণহত্যা দিবসে মোমবাতি প্রজ্বলন

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে সব শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ঠাণ্ডা মাথায় নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত সাধারণ বাঙালির ওপর পৃথিবীর জঘন্য ও ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায়।

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার নজির এটি। ২৫ মার্চ কাল রাতের পরে তথা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তার ডাকে নিরস্ত্র বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিপক্ষে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা।

মোমবাতি প্রজ্বলনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার (শাহাজান), শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. তসলিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. এমএ হান্নান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের পক্ষ থেকে সভাপতি ডা. মো. আশিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

লঞ্চঘাটে ববি’র ৪ ছাত্রকে কান ধরে উঠবস, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশাল নদী বন্দরে প্রবেশ টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে কান ধরে উঠবস ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএর কাউন্টার স্টাফদের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা নদী বন্দরে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেছে।

শুক্রবার রাত ৮টায় বরিশাল নদী বন্দরের দুই নম্বর গেটের কাউন্টার থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসাইন বলেন, একজন অতিথিকে বিদায় দিতে বরিশাল নদী বন্দরে ৮টার দিকে আসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের আরিফুর রহমান, রাকিব, আশিক ও ব্যাবস্থাপনা বিভাগের ইমরান। এসময় ঢাকায় যে যাবে তার প্রবেশ টিকিট ক্রয় করে ছাত্ররা। বাকি ৩ জনের টিকিট না কাটা নিয়ে কাউন্টারে থাকা শুল্ক প্রহরী মাইনুলের সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয় শিক্ষার্থীদের।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট না ছিড়ে তা পকেটে ঢুকাতে দেখেন কাউন্টার স্টাফদের। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে করতে বন্দর ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে একটি রুমে আটকে রেখে মারধর ও কানধরে উঠবস করায়।

বিষয়টি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে রাত ১০টার দিকে নদী বন্দরে এসে প্রতিবাদ জানায়।

মারধরে আহত রাকিব বলেন, আমি ঢাকায় যাওয়ার জন্য বরিশাল নদী বন্দরে এসেছিলাম। আমাকে এগিয়ে দিতে আমার তিন বন্ধু এসেছিল। এসময় কাউন্টারের লোকজন টিকিট না ছিড়ে তা পকেটে ঢুকাচ্ছিলো। প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে ও কান ধরে উঠবস করায়। বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে তারা এসেও এর প্রতিবাদ জানায়।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত হাসান রক্তিম বলেন, আমরা তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা পুনরায় আন্দোলনে যাবো।

শুল্ক প্রহরী মাইনুল ইসলাম বলেন, আমি গিয়ে দেখি কাউন্টারের স্টাফ জাকিরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মারামারি চলছে। এরপর সবাইকে নিয়ে উপরে যাই। পরে ওদের বুঝিয়ে আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার সঙ্গে কারো ঝামেলা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিক্ষার্থীরা প্রথমে নদী বন্দর ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ করে, পরে বন্দর ভবনে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি, ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, আমরা কথা বলেছি নদী বন্দর কর্মকর্তার সঙ্গে।

তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নদী বন্দরে প্রবেশ করার সময় আইডি কার্ড দেখালে তারা ফ্রিতে ঢুকতে পারবেন। তাছাড়া যে ঘটনা ঘটেছে তাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নদী বন্দর কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী বন্দরের স্টাফরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কটুক্তি করেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

বাংলাভিশনে ‘মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা’

বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোর কথা ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা’ প্রচার হবে বাংলাভিশনে। ২৬ মার্চ এ অনুষ্ঠানের ৩য় ও শেষপর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লে. জেনারেল এম হারুন অর রশীদ বীর প্রতীক এবং নৌ কমান্ডো অনীল বরণ রায়।

মাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথিরা এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বাংলাভিশনে প্রচার হবে সন্ধ্যা ৬টা ১০মিনিটে। এটি প্রযোজনা করেছেন রফিকুল ইসলাম ফারুকী।

গেরিলা যোদ্ধা অপূর্ব

নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। এবার তাকে ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে অভিনয়ে দেখা যাবে। এবারের স্বাধীনতা দিবসে প্রচারের জন্য নির্মিত হয়েছে এক খণ্ডের নাটক ‘নিহত নক্ষত্র’। সঞ্জয় সমাদ্দারের পরিচালনায় নাটকটিতে মুক্তিযুদ্ধের গেলিরা যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এটি আজ ২৬ মার্চ রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচার হবে।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, এই নাটকটিতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মা ও ছেলের ত্যাগের গল্প। গেরিলা যোদ্ধা আজাদের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে সত্যিই আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করছি। জানি না আমি আমার চরিত্রটি কতোটুকু ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি। তবে এটা সত্যি এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য অনেক কষ্ট করেছি, শ্রম দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সঞ্জয় সমদ্দারের আন্তরিক চেষ্টাতো ছিলই। পুরো ইউনিট মন দিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করেছে। আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রদ্ধেয় মনিরা মিঠু। তার সঙ্গে অভিনয় দর্শক পিনপতন নীরবতার মধ্যদিয়েই উপভোগ করবেন, এটা আমার বিশ্বাস। আমি চাই নাটকটি সব শ্রেণীর দর্শক দেখুক। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীন বাংলা। এদিকে আগামী ঈদ ও বাংলা নববর্ষের নাটকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অপূর্ব।

অস্ট্রেলিয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে পারল না পাকিস্তান

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৫ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৩৯১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করে ২৬৮ রান।

এরপর অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে দেয়। এতে করে পাকিস্তানের সামনে ৩৫১ রানের লক্ষ্য দাঁড় হয়।

একদিন হাতে থাকা স্বত্ত্বেও এত কম রান করে ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ার ফলে অজিদেরই সমালোচনা করা হচ্ছিল। কারণ ক্রিকেট বোদ্ধারা বলছিলেন, যেহেতু পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ফর্মে আছে ফলে তাদের ৩৫১ রানের টার্গেট দেওয়া ঠিক হয়নি।

অজিরা মূলত পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তবে অজিদের চ্যালেঞ্জ নিতে পারল না পাকিস্তান। তারা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচের শেষদিন ২৩৫ রান করেই গুটিয়ে যায়। ফলে অস্ট্রেলিয়া পায় বড় ব্যবধানের জয়। সঙ্গে তারা ১-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নিয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবারও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মুখোমুখি হয় দুই দল।

১৯৯৮ সালের সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরের দুটি ম্যাচ ড্র হয়।

অন্যদিকে ২০২২ সালের সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ ড্র হয়। এখন শেষ ম্যাচটিতে জয় পেল তারা। ফলে ২৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে ফের জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচটিতে পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন ইমাম উল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেছেন বাবর আজম। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভালো করেছেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক। তিনি ২৭ রান করেছেন।

কিন্তু লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা অজিদের বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে পাকিস্তান ম্যাচটি জিততেও পারেনি। আবার হারও এড়াতে পারেনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বোলিংয়ে ‍দুর্দান্ত ছিলেন স্পিনার নাথান লায়ন। তিনি ৮৩ রান খরচায় ৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন প্যাট কামিন্স। তিনি মাত্র ২৩ রান খরচায় মূল্যবান তিনটি উইকেট তুলে নেন।

এশিয়ার মাটিতে ১১ বছর পর সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ ড্র হয়। কিন্তু শেষ ম্যাচে অজিরা জয় তুলে নিয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়।

আর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় পাওয়ায় এশিয়ার মাটিতে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজের পর এশিয়ায় সিরিজ জয়ের বিষয়টি যেন ভুলেই যায় তারা।

লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর ২০১৪ সালে এশিয়া সফরে আসে অস্ট্রেলিয়া। সেবার তারা খেলে ভারতের বিপক্ষে। কিন্তু ম্যান ইন ব্লুদের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে তারা।

এরপর ২০১৪ সালে আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারের স্বাদ পেতে হয় তাদের।

পাকিস্তানের বিপক্ষে হারার পর ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হারের লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ক্ষত শুকানোর আগেই ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ফের ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারে তারা।

তবে এশিয়ার মাটিতে টানা সিরিজ হারের পর ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে সমর্থ হয় ক্যাঙ্গারুরা।

এরপর ২০১৮ সালে আরব আমিরাতে ফের পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামে অজিরা। সেবার তারা হারে ১-০ ব্যবধানে।

সকালে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, রাতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সিদ্দিকুর রহমান রিজন (২৮) নামে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের আধাপাখিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিজন ময়মনসিংহ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একজন অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রিজন বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কারো সঙ্গে তেমন একটা কথা বলতেন না। সন্ধ্যায় পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন রিজনের পড়ার ঘরের জানালা দিয়ে ফ‍্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

এদিকে সকালে সিদ্দিকুর রহমান রিজন নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে যা লিখেছিলেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো: হয়তো বা তোমার ব্যর্থতার মাঝে, লুকিয়ে আছে সাফল‍্যের বীজ। শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করো, একদিন তুমি পারবে জয় করতে। আজ যারা তোমাকে নিয়ে নিন্দা করছে, দেখবে তারাই তোমার সাফল্য দেখে কাল হাত তালি দিবে।

মুক্তাগাছা থানার এএসআই সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে রিজন ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আগামী প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে: মৃণাল কান্তি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে আমাদের আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।
শুক্রবার গজারিয়া উপজেলার দেওয়ান আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি এমপি। প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্র এনএসআইয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আমিরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী, উপ-সচিব মাহবুবুল আলম, জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেফায়েতুল্লাহ খান তোতা, মেঘনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রতন সিকদার, বিশিষ্ট ব্যাংকার কামরুল ইসলাম ফরায়েজী প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা মানব জীবনের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ করে তোলে। শিক্ষাহীন জীবন অন্ধত্বের নামান্তর। একজন মানুষ যদি নিজেকে আধুনিক, উন্নত, সভ্য ও অগ্রবর্তী চিন্তার পথিকৃৎ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে সুশিক্ষিত হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। আকাশ ছোঁয়া উন্নতির শিখরে আরোহন করতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, মেঘনা-গমতিসহ অসংখ্য নদ-নদী খাল-বিল বিধৌত শস্য-শ্যামল অপরূপা এক জনপদ গজারিয়া। গজারিয়া অঞ্চলের অগ্রগতির অন্যতম স্বপ্ন-সারথি হলো ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দেওয়ান আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়। এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিদ্যালয়টি অত্র অঞ্চলে শিক্ষা, দীক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলায় ব্যাপক সাফল্য এবং সুনাম অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি শিক্ষাবান্ধব সরকার। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। আমরা মনে করি, আজকের বিশ্ব জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিশ্ব। শিক্ষার ক্ষেত্রে যে-জাতি যত সাফল্য অর্জন করবে, সে-জাতি জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে ততটাই অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি লাভ করবে। অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার শুরু থেকেই শিক্ষার অধিকার ও মানোন্নয়নের ওপর অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গুরুত্বারোপ করে আসছে। ফলশ্রুতিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষালাভ প্রসারে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

মানবিক কারণে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কোনো চাপের মুখে নয়, মানবিক কারণেই বাংলাদেশ এবার জাতিসংঘে ইউক্রেনের তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, এই প্রস্তাবে মানবিক কারণে নির্যাতিত ও আহতদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যেহেতু আমরা চাই, নির্যাতিত লোকের মঙ্গল হোক। সেই কারণে আমরা এই প্রস্তাবে ইয়েস করেছি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘বাংলাদেশ জেনোসাইড ইন ১৯৭১’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।

ইউক্রেনের প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে মানবিকতা। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মানবিক দেশ হিসাবে সুপরিচিত। তিনি বলেন, আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের বিপক্ষে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো যুদ্ধে সাধারণ নাগরিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি।

মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের সফর এবং পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত কি-না, এমন প্রশ্নে ড. মোমেন বলেন, না, এ জন্য নয়। তিনি বলেন, চাপ তো আমাদের আছে। কিন্তু চাপে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনো ভ্রূক্ষেপ করেন না, এটা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্য যা যা করার, তিনি তাই করেন। কোনো চাপের বশবর্তী হয়ে শেখ হাসিনা কাজ করেন না। আপনারা নানা রকম চিন্তা, হইচই করেন। এগুলো অলীক।

কারণ তিনি তার নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘে পশ্চিমা দেশের পক্ষ থেকে একটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে আরেকটি রেজুলেশন এসেছিল এবং দুটোই মানুষের মঙ্গলের জন্য আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ উভয় রেজুলেশনে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাউথ আফ্রিকার রেজুলেশন পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার কারণে ভোট দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট অবসানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমের সুযোগ দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব পাশ হয়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের তোলা ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪০ দেশ। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে সাধারণ পরিষদে আরেকটি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ।

তবে এবার ইউক্রেনের মানবিক সংকট অবসানের দাবির পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশও।

এর আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভোট না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একতরফা প্রস্তাব ছিল। সেখানে মোটামুটিভাবে রাশিয়াকে শুধু দোষারোপই করা হয়েছে। কিন্তু অন্যপক্ষের নামই আসেনি। তো, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা অত্যন্ত পার্টিজান এবং এটাতে যুদ্ধ থামবে না। যুদ্ধ থামাতে হলে উভয়কে আন্তরিকতার সঙ্গে সামনে আসতে হবে।

কিন্তু ওটাতে দোষারোপের মানসিকতা ছিল। আর আমরা কোনো দলে নাই।

সেমিনারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল, ২৫ মার্চ সাত হাজার লোককে হত্যা করা হয়। কিন্তু এই তথ্যটি সঠিক নয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ন্যূনতম ২৫ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে, কমলাপুরে ট্রেনের যাত্রীদের, সদরঘাটে লঞ্চের যাত্রীদের, বস্তিবাসী, নারী, শিশু এবং ঘুমন্ত মানুষদের হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস

পালনের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সমস্যা হলো একটা দিবস পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘে ভোটের প্রয়োজন হয়। আমরা আশা করছি বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা পাব।

সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর গ্রিগোরি স্টেনস্টোন এবং জেনোসাইড স্কলার ডা. হেলেন জারভিস।

৯৩৭৭ কোটি টাকা ঋণ অবলোপন ৪ বছরে

একের পর এক ছাড় দিয়েও কমছে না খেলাপি ঋণ। তাই ঋণ অবলোপনের পথে হাঁটছে ব্যাংকগুলো। গত চার বছরে ৯৩৭৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে সব ব্যাংক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবলোপন হলো খেলাপি ঋণের একটা পরিণতি।

ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ। ব্যালেন্সশিট স্বচ্ছ দেখাতে কাগজে-কলমে খেলাপি আড়াল করছে ব্যাংকগুলো। এটা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। বরং ব্যাংকগুলো ভেতরে ভেতরে আরও রুগ্ণ হয়ে উঠছে। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের অবলোপনের মাধ্যমে ২৪৪১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা তার এর আগের বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এর আগে ২০২০ সালে অবলোপন করা হয়েছিল ৯৭১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৯ সালে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন করা হয়েছিল ২৫৯৭ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত চার বছরে ব্যাংকগুলো রাইট অফ বা অবলোপন করে ৯৩৭৭ কোটি টাকার মন্দ মানের ঋণ ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঋণ আদায় না করে যদি রাইট অফের কৌশল বেছে নেওয়া হয় তবে এক সময় ব্যাংকের মূলধনও থাকবে না। তাই এটিকে ভালোভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যদি এমন হতো ব্যাংকগুলো রাইট অফ করে জোর দিয়ে ঋণ আদায় করছে তাহলে এ উদ্যোগ ইতিবাচক হতো। কিন্তু তারা শুধু ব্যালেন্স শিট ঠিক রাখতেই রাইট অফ করছে।

এতে বাইরে থেকে লোকজন মনে করছে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। বাস্তব চিত্র কিন্তু উল্টো। সেজন্য এটা ঠিক হচ্ছে না।

খেলাপি ঋণ কমাতে অবশ্যই ঋণ আদায়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ে টার্গেট দিতে হবে। টার্গেট পূরণ না করতে পারলে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে হবে। তাদের বলতে হবে যতটুকু ঋণ আদায় করতে পারবে ততটুকু ঋণ দিতে পারবে। তা না হলে খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব নয়।

ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ বা ক্ষতিকর মানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রেখে স্থিতিপত্র (ব্যালান্সশিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে। ঋণখেলাপি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ওই সময় ব্যাংকের স্থিতিপত্র ঠিক রাখতে অবলোপনের নীতিমালা জারি হয়। এর পর ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অবলোপন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ৩ বছর হলেই মন্দমানের (কুঋণ) খেলাপি ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আগে ৫ বছর না হলে খেলাপি ঋণ অবলোপন করা যেত না। এছাড়া আগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ মামলা ছাড়াই অবলোপন করার সুযোগ ছিল; এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। মূলত কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখাতে এ সুবিধা নিয়ে থাকে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করায় ঋণখেলাপিরা উৎসাহিত হয়েছেন। এখন তাদের ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা আরও বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ব্যালান্সশিট ভালো দেখাতে ব্যাংকগুলো এ সুবিধা নিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে আড়াল হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র। অবলোপন থেকে ঋণ আদায় খুবই কম। তারপরও অবলোপনে ব্যাংকগুলোকে নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার জন্যও অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কয়েক বছর ধরেই এ প্রভিশন সংরক্ষণের অতিরিক্ত সময় নিয়ে আসছে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক।

অবলোপন ব্যাপক বাড়লেও এ থেকে ঋণ আদায় কমেছে। ২০২১ সালের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আগের অবলোপন করা ঋণ থেকে আদায় হয় ৪৭২ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২০ সালে তা ছিল ৭৩৬ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন হলেও ওই বছর আদায় হয় মাত্র ৮৩১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণ অবলোপন হলো খেলাপিরই একটা পরিণতি। যতক্ষণ খেলাপি বন্ধ না হবে ততক্ষণ ঋণ অবলোপনও চলতে থাকবে। ব্যাংক কখনো ব্যালেন্সশিট অপরিষ্কার রাখবে না, এটাই স্বাভাবিক। আগে গোড়ায় হাত দিতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কীভাবে বন্ধ করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। ঋণ আদায় বাড়াতে হবে। তা না হলে এসব বন্ধ হবে না।