শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 326

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে কুরআনের হাফেজ হলেন অর্ধশত শিক্ষার্থী

পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অর্ধশত শিক্ষার্থী। রাজধানীর লালমাটিয়ার ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে তারা এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। হাফেজ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্কুলের শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব শিক্ষার্থী কুরআনের হাফেজ হয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্ত করতে প্রতিজন শিক্ষার্থী ২ থেকে আড়াই বছরের মতো সময় লেগেছে। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাত্র এক বছরেই কুরআনের হাফেজ হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মূলত ক্যামব্রিজ কারিকুলামের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে জেনারেল সাবজেক্ট এর পাশাপাশি আরবি ভাষা এবং ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয়৷ ফলশ্রুতিতে এ লেভেল পাশ করার পর মিশরের আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের পথ শিক্ষার্থীদের জন্য উম্মুক্ত থাকছে। হিফয বিভাগের সফলতার পাশাপাশি ও লেভেল পরীক্ষাতেও সব শিক্ষার্থী ‘এ প্লাস’ পেয়ে অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

স্কুলটিতে প্রতি সেকশনে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন এবং হিফজ ক্লাসে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত সংখ্যা ১:৪ ৷

ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা বদরুন্নেছা ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ক্লাসের স্বাভাবিক পড়াশোনা নিশ্চিত করে এর পাশাপাশি কুরআন হিফজের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিদিন ফজর নামাজের পর দুই ঘণ্টা এবং বার্ষিক বিভিন্ন ছুটির সময়কে কাজে লাগিয়েই কুরআন হিফজ শেষ করেছে এসব শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কুরআন শিক্ষার ক্লাস চালু করি। নির্দিষ্ট সময় পর এই ক্লাসের হিফজে আগ্রহীদের জন্য হিফজ কোর্স চালু করা হয়। সাধারণত প্রতিদিন সকালে দুই ঘণ্টা, রমজান মাস ও শীতকালীন ছুটির সময়ে এই কোর্সের শিক্ষার্থীরা বেশি সময় হিফজে ব্যয় করে বলে জানান তিনি।

সাহিত্যে প্রাধান্য পাওয়া উচিত গ্রামীণ জীবন, সমাজের বঞ্চিত মানুষের সুখ-দুঃখ: রাধেশ্যাম দেবনাথ

রাধেশ্যাম দেবনাথ। জন্ম : ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ। কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা। পরবর্তী সময়ে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকে নিয়মিত লিখতেন। ক্রিকেটের একজন সমঝদার হিসাবে ক্রিকেট নিয়ে চারটি বই লিখেছেন। সরকারি কাজে ভ্রমণ করেছেন ইংল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ভারত। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ‘আমার সময়ের কথা’। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ পাঁচটি-অঞ্জলি, সুরভি, ঝরা পাতা কবিতা, মণিকা ও নির্ঝর।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

-> এই প্রবণতা কোনো ক্রমেই সঠিক নয় এবং সমর্থনযোগ্য নয়।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে, কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

-> বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মধারাকেন্দ্রিক সাহিত্য রচনার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। সাহিত্যে প্রাধান্য পাওয়া উচিত গ্রামীণ জীবন, সমাজের বঞ্চিত মানুষের সুখ-দুঃখ।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন

-> বর্তমান যুগ ভালোবাসার যুগ নয়। একের প্রতি অন্যের মানবিক চেতনা ক্রমশ অন্তরালে চলে যাচ্ছে। মানুষ অন্যের মর্মবেদনা অনুভব করতে তেমন আগ্রহী নয়।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি, মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

-> বাংলাদেশে বর্তমান সাহিত্য ভান্ডারে প্রকৃতি তেমন কোনো স্থান অধিকার করছে বলে আমি মনে করি না। মানবজীবনের বিভিন্ন গুণাবলি পরিস্ফুটকরণ সাহিত্যের মৌলিক একটি কাজ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাহিত্য বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করি।

এ সময়ে ভালো লিখছেন এমন তিনজন লেখকের নাম

-> বিগত দশকে নবীন এমন কোনো সবিশেষ মেধাসম্পন্ন লেখকের সাধনা আমার কাছে পরিস্ফুট হয়নি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

-> সাহিত্য কাজ করে মনোজগতে। প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে বলে মনে করি না।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

-> আমি কোনো রাজনীতিজ্ঞ নই। তাই এ বিষয়টি আমার চিন্তা-চেতনার আওতাভুক্ত নয়।

পটুয়াখালী জেলার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন, আরও কী কী হলে এ এলাকার সাহিত্যচর্চা আরও সক্রিয় হতে পারে?

-> পটুয়াখালীতে সাহিত্যচর্চার পরিধি খুবই সামান্য। আগের তুলনায় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রযুক্তির আবির্ভাব এ ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী ভাবধারা পরিবেশন করছে। সাহিত্যিক সৃষ্টির পরিবেশ বর্তমানে খুবই সামান্য। জেলায় প্রকাশনা শিল্প বর্তমানে নিবু নিবু। নতুন লেখক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অধিক স্থান প্রদান করা প্রয়োজন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে আরও পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।

হারাণ

মা তাকে পেটে ধরেছিল বটে,
তবে ধরে রাখতে পারেনি বুকে!
জন্ম হয়েছিল তার স্কুলের এক ঘরে।
রাতের আঁধারে ফেলে রেখে,
চলে যায় মা তার সরে।

যে মানুষটি তাকে বুকে তুলেছিলেন,
তিনি আমার নিজের এক কাকা।
কাকা বললেন কুড়িয়ে পেয়েছি স্কুলের ঘরে,
এখন দেখি সমাজ কী করে!

এই ফেলে রেখে যাওয়া ছেলেটির একটি নাম তো চাই!
আমার মা বললেন, কোনো এক শরণার্থীর ছেলে,
হিন্দু নাম রাখলে গ্রামের মানুষ কী বলবে?

কাকা বললেন, লোকে তো কত কিছু বলবে,
তাই বলে নাম ছাড়া কি চলবে?
আচ্ছা ঠিক আছে ভাই,
তা ছেলেটির নাম হারাণ রাখলে কেমন হয়?
হারাণ একাত্তরের ফেলে রেখে যাওয়া এক প্রতিবন্ধী।
তাকে নিয়ে যুদ্ধের নয় মাস গ্রামে চলেছে সন্ধি।
যুদ্ধ শেষে হারাণকে আমার এক দাদার কাছে রাখা হলো।
দাদা বাজারের মসজিদের মুয়াজ্জিম,
সময়মতো আজান দেন আর নামাজ শেষে
রেস্টুরেন্টে বসেন।
হারাণ না পারে ঠিকমতো কথা বলতে,
না পারে হাঁটতে।
সকাল বিকাল সন্ধ্যায় চলাফেরা করে হারাণ হামাগুঁড়ি দিয়ে,
বাজারের এপাশ থেকে ওপাশে।

হঠাৎ একদিন শোনা গেল হারাণ হারিয়ে গেছে।
কোথায় তা কেউ আজও জানে না!

চলছে যুদ্ধ ইউক্রেনে,
সব কিছু ফেলে রেখে অনেকে আশ্রিত হচ্ছে বিশ্বের নানা দেশে।
হারাণের মতো কেউ হারিয়ে গেলে তাতে কারই বা কী যায় আসে!
আকাশজুড়ে আসছে আঁধার, সূর্য যাবে সরে!
হারাণের মতো শত শত প্রতিবন্ধী রয়েছে বিশ্ব ভরে।

তাদেরকে খুঁজে পেলে হবো আমি ধন্য,
আমার এ ছোট্ট কবিতা লিখা গোটা বিশ্বের জন্য।

কান পাকা রোগের সমাধান কী?

কান পাকা রোগ আমাদের কাছে অপরিচিত নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি দেখা দেয়। কান পাকার পাশাপাশি অনেকে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। সঠিক চিকিৎসা নিয়ে এই রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

কান পাকা রোগ ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. জাহির আল-আমিন।

কানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। বহিঃকর্ণ যেটি আমরা সাধারণত দেখতে পাই, মধ্যকর্ণ যেটি কানের পর্দার ওপাশে থাকে এবং অন্তঃকর্ণ যেটি থেকে কানের স্নায়ু তৈরি হয়। কানের পর্দা কানের ফুটার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এ পর্দার কাজ হল আমরা যে শব্দ শুনি সে শব্দটিকে মধ্য কান দিয়ে কানের স্নায়ুতে নিয়ে যাওয়া।

কানের কাজ প্রধানত দুটি। একটি হল শব্দ শোনা যার সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। কানের যে দ্বিতীয় কাজটি আছে সেটি আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানি না- সেটি হল শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা। মস্তিষ্কের বাইরে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করার যে অঙ্গ আছে তার মধ্যে অন্তঃকর্ণ প্রধান ও অন্যতম। কান পাকা রোগ সাধারণত ছোটোবেলাতে শুরু হয়ে থাকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের কানের ইনফেকশন বা সর্দি-কাশি যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় কমন কোল্ড বলে থাকি তা থেকে হয়ে থাকে। এমন কোনো বাচ্চা নেই যার জীবনে কোনো না কোনো সময় একবারও কানের ইনফেকশন হয়নি। বেশিরভাগ সময় সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে এ ইনফেকশনের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। যদি এ ইনফেকশনের সুষ্ঠু চিকিৎসা না হয় বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হয় তাহলে ইনফেকশন থেকে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।

যেসব বাচ্চা এডেনয়েড গ্রন্থির প্রদাহে অনেকদিন ধরে ভোগে বা যেসব বাচ্চার এডেনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায় তাদের কানের সমস্যা আরও বেশি হয়ে থাকে। ঘনঘন কানের ইনফেকশন থেকে কানের পর্দা ফেটে যায়। অনেক সময় টনসিল, নাক বা সাইনাসের ইনফেকশন ঘনঘন হতে থাকলে বা সবসময় নাক বন্ধ থাকলেও কানের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

এডেনয়েড, টনসিল বা নাকের সমস্যা অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে এটি ইউস্টেশিয়ান টিউবের ওপর প্রভাব ফেলে এবং দেখা যায় টনসিল। এডেনয়েড বা নাকের সমস্যার চিকিৎসা হওয়ার পরও ইউস্টেশিয়ান টিউবের ফাংশন কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ ফিরে আসে না। এর ফলে কান পাকা বা কানের পর্দা ফাটা রোগীর চিকিৎসা জটিল আকার ধারণ করে বা এটি সহজে সারতে চায় না।

বড়দের ক্ষেত্রে কান পাকা রোগটি সাধারণত ছোটোবেলা থেকেই শুরু হয়ে থাকে। তাদের হয় ছোটোবেলা থেকেই কানের পর্দা ফাটা থাকে অথবা ইউস্টেশিয়ান টিউবের কার্যক্ষমতা ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কানের পর্দা আগে থেকেই দুর্বল থাকে। অনেক সময় দেখি কানের ভেতর পানি গেলে কান পাকা শুরু হয়। আপাতত দৃষ্টিতে তাই মনে হয়; কিন্তু কানের ভেতরে পানি গেলে কান পাকা রোগ শুরু হওয়ার কথা নয়।

যদি তাই হতো তাহলে যারা নিয়মিত সাঁতার কাটেন তাদের কান সব সময় পাকা থাকত। প্রকৃত তথ্য হল, এ রোগীদের কানের পর্দা আগে থেকেই ফাটা থাকে যার ফলে কানের ভেতর পানি গেলে তাদের কান পেকে যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায় অল্প আঘাতেই কানের পর্দা ফেটে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কানের পর্দা সুস্থ থাকলে অল্প আঘাতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার কথা না- যদি এ রকম ঘটে তাহলে বুঝতে হবে, কানের পর্দা আগে থেকেই অসুস্থ বা দুর্বল ছিল।

অবশ্য কানের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হলে সুস্থ পর্দাও ফেটে যেতে পারে। যেমনটি হতে পারে কানে ভালোমতো থাপ্পড় লাগলে। অল্প সর্দি-কাশিতে কানের পর্দা ফেটে গিয়ে পুঁজ-পানি বের হচ্ছে। কানের পর্দা সুস্থ থাকলে এ রকম হওয়ার কথা নয়। বয়স্ক রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোটোবেলা থেকে কানের পর্দা দুর্বল থাকে অথবা ক্রমাগত নাক বা সাইনাসের প্রদাহের কারণে বা ক্ষেত্রবিশেষে টনসিলের ক্রমাগত প্রদাহের কারণে কানের পর্দা দুর্বল হয়ে যায়।

উপসর্গ বা সমস্যা

রোগী কানে কম শুনতে পারেন- এটা সামান্য থেকে মারাত্মক পর্যন্ত হতে পারে। কান পাকার জন্য কান দিয়ে পুঁজ-পানি বের হয়। অনেক সময় মাথা ঘুরায়। মাথার ভেতরে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয়। অনেক সময় কানে ব্যথা হতে পারে। এ কান দিয়ে পুঁজ-পানি পড়াটা প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝে মাঝে হয়; কিন্তু ক্রমাগত কান পাকতে থাকলে অনেক সময় দেখা যায়, কান কোনো সময় শুকাতেই চায় না। অনেক সময় আবার সর্দি-কাশি লাগলেই কান দিয়ে পানি বের হতে থাকে।

প্রকারভেদ

সাধারণত কানের পর্দা ফাটা দুই রকমের হয়ে থাকে- একটিতে পর্দার সামনের অংশ ফুটা থাকে অন্যটিতে কানের পর্দার পেছনের অংশটিতে ফুটা থাকে। পেছনের ফুটা সাধারণত মারাত্মক- চিকিৎসা অতি শিগগিরই শুরু করা দরকার। অনেক সময় অনেক দিন ধরে কানের পর্দা ফুটা থাকার ফলে এবং ঘনঘন কানের ইনফেকশন থাকার ফলে পর্দাটা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

করণীয়

পর্দা ফাটা থাকলে অবশ্যই কান শুকনা রাখতে হবে। কানের ভেতর যেন পানি না যায়। গোসল করার সময় তুলাতে তেল দিয়ে ভিজিয়ে তারপর তুলা চিপে কানে দিয়ে গোসল করতে হবে। কোনো সময়ই পানির তলে সাঁতার কাটা যাবে না বা পানিতে ঝাঁপ দেয়া যাবে না। কানে ইনফেকশন থাকলে কানটি ঠিকমতো পরিষ্কার করা দরকার এবং তারপর কানে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিতে হয়।

কান পরিষ্কার করা জরুরি এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে এটি করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কদাচিৎ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হবে বা ইনজেকশন দেয়া লাগতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ কান শুকনা অবস্থায় কানে দেয়া নিষেধ- এটি কানে মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলতে পারে, এমনকি কানে শোনা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাজেই শুকনা কানে ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করার প্রবণতা অবশ্যই দূর করতে হবে।

কানে শোনা এবং কানের অন্যান্য ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য অডিওগ্রাম করানো দরকার। এতে বোঝা যায় কান কতখানি নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় সমস্যা আমরা বুঝতে পারি না; কিন্তু ভেতরে ভেতরে কানের ক্ষতি হতে থাকে এবং শ্রবণশক্তি ক্রমাগত কমতে থাকে। কাজেই প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর কানের হেয়ারিং টেস্ট করে শ্রবণশক্তির পরিমাণ রেকর্ড করা উচিত।

সুস্থ থাকার জন্য যেসব খনিজ উপাদান জরুরি

সুস্থ থাকার জন্য এবং শরীরের সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান জরুরি। স্বল্প মাত্রার অথচ পুষ্টিকর এসব উপাদানকেই ‘এসেনশিয়াল ট্রেস এলিমেন্টস’ বলা হয়।

বিভিন্ন কারণে মিনারেল ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণ হচ্ছে খাদ্যে অথবা সম্পূরক খাদ্যে প্রয়োজনীয় মাত্রায় এসব উপাদানের অনুপস্থিতি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন- বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত বা টিনজাত খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য তালিকায় শাক-সবজি বা ফলমূলের পরিমাণ কম থাকা, কম-ক্যালরিযুক্ত বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ, নিরামিষাশী, খাদ্য হজমজনিত কোনো রোগ, কোনো কারণে সঠিক পর্যায়ে খাদ্য শোষণে ব্যর্থতা, বিভিন্ন খাদ্যে অ্যালার্জি বা দুগ্ধশর্করায় (ল্যাকটোজ) অসহনীয়তা ইত্যাদি কারণেও এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রফেসর ড. জাকিয়া বেগম।

আয়োডিন : থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত এই হরমোনটি থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। কোষকলার বিপাকীয় কার্যকলাপ পরিচালনা, খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, অতিরিক্ত চর্বির বিপাকীয় ব্যবহার, ইস্টোজেন জাতীয় হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করা, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক ক্ষিপ্রতা এবং বোধশক্তির উন্নতি সাধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই হরমোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই হরমোনটির ঘাটতি হতে দেখা যায়। গলগণ্ড রোগটি আয়োডিন ঘাটতির প্রধান লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় মাত্রায় আয়োডিন উৎপাদনে ব্যর্থ হলে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ রোগ দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাটতি থেকে ‘ক্রিটেনিজম নামক’ বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, শিশু শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে পড়ে। ১-৮ বছরের শিশুর প্রতিদিনের চাহিদা ৯০ মাইক্রোগ্রাম, ৯-১৩ বছর পর্যন্ত ১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং ১৪ বছর থেকে আরম্ভ করে বয়স্কদের জন্য তা ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। সামুদ্রিক বিভিন্ন উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য খাদ্য, ডিম, দুধ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ আয়োডিনের প্রধান উৎস।

জিঙ্ক বা দস্তা : এই উপাদানটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতি যেমন আমিষ সংশ্লেষণ, রোগ-প্রতিরোধক কার্যাবলী, ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া, কোষ বিভাজন ও ডিএনএ সংশ্লেষণ, টেসটোসটেরন জাতীয় পুরুষ হরমোন তৈরি, মেলাটোনিন তৈরি ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে থাকে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধি লাভের ক্ষেত্রে এবং শিশু বয়সে এবং বয়োসন্ধিকালে শরীরের বৃদ্ধি ও পূর্ণতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা, ডায়রিয়া, ঘুমের সমস্যা, খাদ্যে অরুচি এবং খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, চুল পড়া, ত্বকের ক্ষতি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। উপাদানটির অতিমাত্রার ঘাটতি থেকে হতবুদ্ধিতা জাতীয় মানসিক প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং যৌন অক্ষমতা দেখা দেয়ার আশংকাও থাকে।

লাল মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, ঝিনুক ইত্যাদি প্রাণিজাতীয় ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য, ডার্ক চকলেট, বাদাম, শিম জাতীয় উদ্ভিদ ইত্যাদিতে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমড়ার বিচি জিঙ্কের একটি ভালো উৎস।

লোহা : লোহা এরূপ একটি ক্ষুদ্র উপাদান যার পরিমাণ শরীরের ওজনের মাত্র ০.০০৪%। রক্তস্থ হিমোগ্লোবিন শরীরের কোষকলাগুলোতে শক্তি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম লোহা থাকলে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। শরীরে লোহা অথবা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিকেই রক্তশূন্যতা বলা হয়। লোহার ঘাটতি থেকে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং শরীর সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমনকি এ ধরনের রক্তশূন্যতার কারণে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। স্বল্প মাত্রার লোহার ঘাটতি থেকে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তার ব্যাঘাতও সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের দেশে রক্তশূন্যতা গর্ভকালীন মাতৃ মৃত্যুর প্রধান কারণ। পুরুষ ও বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ৮ মিলিগ্রাম এবং অল্প বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ১৮ মিলিগ্রাম লোহার প্রয়োজন হয়। মাংস, কলিজা, সীমজাতীয় সবজি, বাদাম, সম্পূর্ণ শস্যদানা যেমন; বাদামি চাল, ঝিনুক, কলা, আপেল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি খাদ্য থেকে আয়রন পাওয়া যায়।

সেলেনিয়াম : সেলেনিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অপর একটি ‘ট্রেস এলিমেন্ট’। শরীরের প্রায় দু’ডজনেরও বেশি সেলেনোপ্রোটিনের মধ্যস্থ একটি উপাদান হচ্ছে সেলেনিয়াম যে উপাদানটি প্রজনন ক্ষমতা, থাইরয়েড হরমোনের বিপাকীয় কার্যক্রম, ডিএনএ-র সংশ্লেষণজনিত প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করা ছাড়াও জারণ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কোষকলার ক্ষতি এবং রোগের সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখে। উপাদানটির অভাবে হৃদপিণ্ডের সমস্যা, মানসিক প্রতিবন্ধতা, মাংসপেশীতে ব্যথা বা মাংসপেশীর দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। প্রতিদিনের চাহিদা ৫৫ মাইক্রো গ্রাম মাত্র। মাছ, গরু-ছাগলের মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস এবং ডিম, শস্যদানা, বাদাম এবং বীজজাতীয় খাদ্য থেকেই প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। নখ এবং চুল বিশ্লেষণ করে শরীরে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি সেলেনিয়ামের মাত্রা বিশ্লেষণ করা যায়।

কোবাল্ট : এটি ভিটামিন বি-১২ এর একটি উপাদান হওয়ায় কোবাল্টের ঘাটতি মানে ভিটামিন বি-১২ এরই ঘাটতি। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় মাত্রা মাত্র ০.০০০১ মিলিগ্রাম। এটি অস্থিমজ্জার কোষকলাকে উজ্জীবিত করে লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে, থাইরয়েড কর্তৃক আয়োডিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে এবং বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এটির অভাবে জটিল ধরনের রক্তশূন্যতা, শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা, কোনো কোনো অঙ্গের বিশেষ করে হাত ও পায়ের দুর্বলতা ও অসাড়তা অনুভব করা, বমিভাব, মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রমতা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, ওজন হ্রাস, থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘাটতি থেকে স্নায়বিক সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। গরু-ছাগলের যকৃতে, ঝিনুক, মাছ, ডিম, সয়া খাদ্য, সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ ইত্যাদি কোবাল্টের ভালো উৎস। ডালজাতীয় উদ্ভিদ, বাঁধাকপি, লেটুস ইত্যাদিতে অল্প মাত্রায় কোবাল্ট পাওয়া যায়।

ম্যাংগানিজ : সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম তৈরিতে এবং এনজাইম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিক্রিয়া ঘটাতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শর্করা, ফ্যাটি এসিড এবং আমিষের বিপাকে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে, রক্ত জমাট বাঁধার কাজে, হাড় তৈরি, শক্ত ও মজবুত করতে, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রের সঠিক পরিচালনা, মাইটোকনড্রিয়াতে বিদ্যমান সুপার অক্সাইড নামক ফ্রি রেডিকেলকে বিশ্লেষিত করে ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত করা ইত্যাদি কাজে এই উপাদানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে উপাদানটির স্বল্পতা হাড়কে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তোলে। পূর্ণ শস্যদানা, বাদাম, চা-কফি, পাতাবিশিষ্ট সবুজ শাক-সবজিতে এটি পাওয়া যায়।

ক্রোমিয়াম : শরীরের শর্করা, চর্বি এবং আমিষ জাতীয় পদার্থগুলোর বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই এই উপাদানটির সামান্য স্বল্পতা থেকেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তে এইচডিএল-এর পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ক্রোমিয়ামের অভাবে রক্তবাহী ধমনি সরু হয়ে ওঠা, উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাওয়া, শরীরের শক্তি কমে যাওয়া, মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়া, শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, সার্জারি থেকে সৃষ্ট ক্ষত বা যে কোনো ধরনের ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাশরুম, ডার্ক চকলেট, পনির, বাদাম, পূর্ণ শস্যদানা, পাকা টমেটো, লেটুস, পেঁয়াজ, গোল মরিচ এবং বিভিন্ন মশলা, ডালজাতীয় শস্য ইত্যাদি থেকে এই উপাদানটি পাওয়া যায়।

ফ্লোরিন : ফ্লোরিনও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান যা বিশেষ করে হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। পানিই ফ্লোরিনের প্রধান উৎস্য তবে সামুদ্রিক মাছ, চা এবং কফিতেও এটি বিদ্যমান। প্রতিদিনের জন্য নিরাপদ মাত্রা ১.৫ মিলিগ্রাম থেকে ৫.০ মিলিগ্রাম।

আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও একই সিলেবাসে

একই রকম ‘কাস্টমাইজড’ সিলেবাসে নেওয়া হবে এবার ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি এবং দাখিল-আলিম পরীক্ষা। তবে এবারের এ চারটি পরীক্ষা হবে আংশিক নম্বরে আর আগামী বছর হবে পূর্ণ নম্বরে।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিলেবাস এবং প্রশ্নের মানবণ্টন প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯ জুন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। আর আগস্টে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা আছে।

আগামী বছরের পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি আর এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে। যদিও মহামারি পরিস্থিতির কারণে এ পরীক্ষা পেছানোর আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনার ছুটিতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেনি। এ কারণে চাহিদার নিরিখে নির্ধারিত সিলেবাস কেটে ছোট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিষয় বিবেচনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাঠ কমেছে।

তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মশিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সিলেবাস কমানোর ক্ষেত্রে তিনটি দিক বিবেচনায় রাখা হয়। এগুলো হচ্ছে-শিক্ষার্থী কত কর্মদিবস পাচ্ছে, ভবিষ্যতে লেখাপড়ার জন্য তার বিষয়ভিত্তিক কতটুকু জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন আর অতীতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কী পড়েছে তা বাদ দেওয়া। তাই কত শতাংশ কমেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

জানা যায়, এসএসসি ও এইচএসসিতে দুবছরে স্বাভাবিক কর্মদিবস ৩৬৮ দিন। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নবম শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১ জুলাই। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। পরে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সপ্তাহে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়।

যদিও পরের ঢেউয়ে ফের দুই মাস বন্ধ ছিল। গত ২ মার্চ সশরীরে ক্লাস শুরু হয়। এ কারণে ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বহাল রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় সিলেবাস কমানোর ক্ষেত্রে এসএসসিতে ১৫০ কর্মদিবস বরাদ্দ করা হয়েছে। আর এইচএসসিতে কর্মদিবস রাখা হয়েছে ১৮০ দিন।

সিলেবাস সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গতবছরের মে ও জুন মাসে প্রকাশ করা হয়েছে। স্কুল ও কলেজ সংক্রান্ত লিঙ্কে প্রবেশ করলে সিলেবাস পাওয়া যাচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১০ ঘনিষ্ঠজনকে

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের-রামেবি ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এজেডএম মোস্তাক হোসেন দায়িত্ব নিয়েই শুরু করেছেন তুঘলকি কাণ্ড। অবসরপ্রাপ্ত তার চিকিৎসক বন্ধুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যাওয়া ১০ জনকে সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১১ মাসে তার দায়িত্বকালীন রামেবির ভিসি রেজিস্ট্রার দপ্তরে ২ জন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে ৩ জন, কলেজ পরিদর্শক দপ্তরে ২ জন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরে ২ জন এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে ১ জনসহ মোট ১০ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্তদের তাদের অবসরকালীন বেতনভাতার সমান বেতন ভাতা ও সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাড়তি খরচ হচ্ছে। ভিসির এমন স্বেচ্ছাচারিতায় আর্থিক ও শৃঙ্খলাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তাদের অনেককে অবসরকালীন পদের চেয়ে নিম্নপদে চাকরি দিয়েছেন। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে তারা অবসরকালীন বেতনভাতা ও সুবিধার সমান বেতনভাতা ও পরিতোষিক পাচ্ছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, এসব পদে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হলে বেতনভাতা ও সুবিধা বাবদ যে পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে তার অর্ধেক টাকা লাগত। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে এই ১০ জন কর্মকর্তার বেতন ভাতা ও সুবিধাদি দিতে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রামেবিতে ডা. আনোয়ারুল কাদেরকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ছিলেন। এর মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছেন রামেবি ভিসির বন্ধু ডা. আমিন আহম্মেদ খান। এর আগে তিনি রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক পদ থেকে অবসর নেন। তাকে বেতন দেওয়া হয় এক লাখ সাত হাজার টাকা। সুবিধাসহ তাকে মাসে মাসে দিতে হচ্ছে দেড় লাখ টাকা। নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে এ পদে কাউকে নিয়োগ দিলে বেতনভাতা দিতে হতো সত্তর হাজার টাকা। এ অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় প্রতি মাসে সরকারের ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিশেষ প্রয়োজনও নেই।

এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ডেপুটি ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে ভিসি তার অবসরপ্রাপ্ত তিন বন্ধু চিকিৎসককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। এখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. আনোয়ার হাবিব। ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. সারওয়ার হোসেনকে বেতন দেওয়া হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা। নিয়মিত নিয়োগ দিলে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদের বেতন হতো ছেষট্টি হাজার টাকা। এ কর্মকর্তাকেও প্রতিমাসে একজন নিয়মিত কর্মকর্তার চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বেশি বেতন দিতে হচ্ছে। এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. আমির হোসেনকেও এক লাখ টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে। ডা. আমির হোসেন সর্বশেষ রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থেকে অবসর নেন। এ চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তার পেছনেও প্রতিমাসে নিয়মিত কর্মকর্তার চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

সহকারী কলেজ পরিদর্শকের দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত কর্মকর্তা থাকলেও কলেজ পরিদর্শক ও ডেপুটি কলেজ পরিদর্শক পদে দুজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ পরিদর্শক পদে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন ও ডেপুটি কলেজ পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভিসির বন্ধু ডা. জোহা মোহাম্মদ মেহের হোসেনকে। তাদেরকে বেতন দেওয়া হচ্ছে পঁচাত্তর হাজার টাকা করে। ডা. মোসাদ্দেক সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান ছিলেন। তাদের পেছনেও নিয়মিত কর্মকর্তার চেয়ে প্রতিমাসে প্রায় পনেরো হাজার টাকা করে বেশি ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া ডা. জোহার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে দুই জায়গা থেকে বেতনভাতা তুলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিধি লঙ্ঘন করে এক শিক্ষাবর্ষে একাই অর্ধশতাধিক পরিদর্শন কমিটির সদস্য সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হয়েও পূর্বের পরিচয়ে অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষক হওয়াসহ বহু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ডা. জোহা সর্বশেষ যশোর মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নেন।

অভিযোগে জানা গেছে, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদে দুজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ দুজনই ভিসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. জাকির হোসেন খন্দকার। পেশাদার হিসাববিদ নিয়োগ না দিয়ে একজন চিকিৎসককে হিসাব বিভাগের এ উচ্চপদে নিয়োগদানের বিষয়টি নিয়ে বিস্তর সমালোচনা আছে। অন্যদিকে সহকারী পরিচালক মফিজ উদ্দিনকে বেতন দেওয়া হয় পঁচাত্তর হাজার টাকা, যা একজন নিয়মিত কর্মকর্তার চেয়ে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা বেশি। মফিজ উদ্দিন সর্বশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অবসর নেন। এ কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতার একটিতে তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও বিধি লঙ্ঘন করে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন ভিসি।

রামেবির পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পদে সিরাজুম মুনীরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তার সাবেক প্রতিটি কর্মস্থলে।

অভিযোগ উঠেছে চুক্তিভিত্তিক এসব কর্মকর্তার বেশিরভাগেরই বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নেই। ফলে রামেবির প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিশেষ করে উপ-রেজিস্ট্রার, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপ-কলেজ পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট কাজে পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অভিযোগ রয়েছে, এসব চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা অফিসে এসে গল্প-গুজব করে এবং মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখে সময় পার করেন।

রাজশাহীর আরও কয়েকজন চিকিৎসক অভিযোগে বলেন, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর রামেবি জামায়াত শিবির ও সরকারবিরোধীদের পুনর্বাসনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই সরকারবিরোধী শিবিরের লোক। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরও এই বিষয়ে সতর্ক নয়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. অধ্যাপক এজেএম মোস্তাক হোসেন বলেন, যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন তারা আমার পরিচিতি। তবে ঘনিষ্ঠ বলে যা বোঝায় তা নয়। কেউ কেউ রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতামত নিয়েই এদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা সবাই অভিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নজির আছে।

কবে মুক্তি পাবে সজলের ‘জিন’

নাট্যাভিনেতা আবদুন নূর সজল নাটকের পাশাপাশি এখন সিনেমাতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন। গত কয়েক মাসে একাধিক সিনেমার কাজ শেষ করেছেন তিনি। তবে তার অভিনীত আলোচিত একটি সিনেমা হলো ‘জিন’। নাদের চৌধুরী পরিচালিত এ সিনেমাটির শুটিংয়ের পর অন্যান্য কাজ শেষ করে সেন্সর সার্টির্ফিকেটও সম্পন্ন হয়ে আছে অনেক আগেই।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে কবেনাগাদ এটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে তা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারছেন না।

এ সিনেমার অন্যতম একজন অভিনেতা সজল বলেন, আমি অভিনয়সহ অন্যান্য কাজ শেষ করে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত এটি মুক্তির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি ঠিক করার দায়িত্ব পরিচালক ও প্রযোজকের। তারাই ভালো বলতে পারবেন বিষয়টি নিয়ে। তবে এ সিনেমার সফলতা নিয়ে আমি আশাবাদী।

এদিকে গত ঈদের আগেই আবু সাইয়িদের পরিচালনায় ‘সংযোগ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া চলতি মাসে আরেকটি নতুন সিনেমায় অভিনয়ের কথা রয়েছে সজলের।

লালনের ১০ গান নিয়ে সায়েরা রেজা

লালনের ১০ গান নিয়ে ফোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী সায়েরা রেজার ‘সাঁইজি মিক্স’ মুক্তি পেয়েছে গত ঈদে। হালের বিভিন্ন ধরনের ম্যাশাপের বেশ কদর বেড়েছে। সাঁইজি মিক্সও মূলত ম্যাশাপ ঢঙেই সাজানো হয়েছে।

সায়েরা রেজা বলেন, লালন গান নিয়ে ম্যাশাপ এই প্রথম। এটা শ্রোতামহলে অন্যরকম এক দ্যোতনা তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস।

অপু মাহফুজের সার্বিক পরিকল্পনায় ও তৌফিকুল ইসলাম শাওনের মিউজিকে করা এ গানটির অডিও-ভিজুয়াল শিল্পীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল সায়েরা রেজা মিউজিক লাউঞ্জে অবমুক্ত হয়েছে ঈদের আগের দিন রাতে। গানটি রেকর্ড করা হয়েছে ঐক্য ভিজুয়াল অ্যান্ড রেকর্ডস স্টুডিওতে এবং এর নান্দনিক ভিডিওটি তৈরি হয়েছে প্রটিউনের ব্যবস্থাপনায়।

ছায়াছবি, নাটক ও সলো মিলিয়ে সায়েরা রেজার বেশকিছু গান মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তাছাড়া সারা বছরই তিনি নতুন গান প্রকাশের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন

পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

সাউথ এশিয়ান জুনিয়র অ্যান্ড ক্যাডেট টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। সোমবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশ হারিয়েছে পাকিস্তান ও স্বাগতিকদের।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে এবং স্বাগতিক মালদ্বীপকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৫ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের ছেলেরা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলংকাকে।

বয়েজ টিম চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ হারিয়েছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপকে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মুহুতাসিন আহমেদ হৃদয় ৩-২ সেটে হারিয়েছেন পাকিস্তানের শাহ খানকে। হৃদয় প্রথম সেট জিতলেও পরের দুই সেটে হেরে যান। তবে শেষ দুই সেটে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে খেলা শেষ করেন হৃদয়।

দ্বিতীয় ম্যাচে রামহিম ৩-১ সেটে হারান উমামকে। প্রথম ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নাফিস ইকবাল ৩-২ সেটে হারিয়েছেন পাকিস্তানের আহমদকে। খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মালদ্বীপের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ মাহলুফ। বাংলাদেশ ছাড়াও এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও স্বাগতিক মালদ্বীপ।