শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 309

চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কামরুল হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে ৩ উপ-সচিবকে তিন জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বদলি করা হয়েছে এক জেলা প্রশাসককে। বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসকে নেত্রকোনা জেলায় বদলি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে উপ-সচিবকে এম আল আমীন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) কামরুল হাসানকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসকে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হয়।

একই আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সোহেলা আক্তারকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী (উপ-সচিব) শ্রাবন্তী রায়কে জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

বিদায়ী জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আরেকটি জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার সকল সিনিয়র স্যারদেরকে। চাঁদপুরেরর ন্যায় নতুন জেলায়ও সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবো।

শত বছরে চা শ্রমিকদের মজুরী মাত্র ১২০ টাকা

দেশে বিগত সময়ে বিভিন্ন খাতে অনেক পরিবর্তন হলেও ১৬৭টি চা বাগানের প্রায় ২০ লাখ চা জনগোষ্ঠীর জীবনমানের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তাদের জীবিকার অন্যতম হচ্ছে চা বাগানে কাজ করা। যেখানে দেশের সব শ্রেণীর শ্রমিকের মজুরী কিংবা বেতন বাড়ছে সেখানে চা শ্রমিকদের মজুরী বাড়ছে না।

গত ১৫ বছরে চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরী বেড়েছে মাত্র ৮৮ টাকা। আর বর্তমান সরকারের ১৪ বছরের হিসেবে তা মাত্র ৭২ টাকা। বাগানের বাইরে যেখানে শ্রমিকের মজুরী ৩শ থেকে প্রকারভেদে ৮শ টাকা, সেখানে চা শ্রমিকের মজুরী মাত্র ১২০ টাকা।

এ অবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে চা শ্রমিকদের ভূমিকা রাখার কোন সুযোগ নেই। বরং একটি জনগোষ্ঠী পিছিযে থেকে দেশের উন্নয়ন তো কল্পনাই করা যায়না।

২০ মে চা শ্রমিক দিবস। যুগ যুগ ধরে চা শ্রমিকরা দিবসটি পালন করে আসছে এবং তাদের দাবি ধাওয়া তুলে ধরছে। এবারও ভ্যালীর সকল চা বাগানে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

এর মধ্যে দেউন্দি চা বাগানে দুদিন ব্যাপী চা শ্রমিক দিবসের নানা কর্মসূচি রযেছে। সেখানে কেন্দ্রীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্য বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অনেকেই অতিথি হিসেবে আসবেন।

চা শ্রমিকরা এবার ভূমি অধিকার ও চা শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি, মজুরী বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেছে। বাস্তবে এসব দাবি মালিকপক্ষ কতটুকু পালন করেন, দৈনিক ১২০টাকা হাজিরাই তা প্রমাণ করে।

চা বাগানের মজুরী দৈনিক ১২০ টাকা হলেও বাগানের বাইরে তারা কাজ করে পান ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা। একই শ্রমিকের মজুরী দু’জায়গায় দুরকম হওয়ায় শ্রমিকের মজুরী নিয়েও রয়েছে নানা বৈষম্য। প্রশ্ন জাগে চা শ্রমিকরা আর কতকাল এ বঞ্চনার শিকার হবেন?

এ অবস্থা যুগ যুগ ধরেই চলে আসায় মালিকের শোষন থেকে মুক্ত হতে পারছেন না ভূমি অধিকার না থাকার কারণে। এহেন অবস্থায় চা শ্রমিকরা নতুন করে দাবি তুলেছে তাদের ভূমি অধিকার নিয়ে।

সারা দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ৭টি ভ্যালীতে ১ লাখ ২৪ হাজার চা শ্রমিক কাজ করছে। চা শ্রমিকরা চা বাগানের অভ্যন্তরে ও বাইরে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

নানা আন্দোলনের পর ২০০৫ সালে প্রথম চা শ্রমিকের মজুরী ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা করা হয়। এর পর ২০১২ সালে বর্তমান এসে তা বাড়িয়ে করে ৬৫ টাকা। ২০১৫ সালে এসে শ্রমিকদের মজুরী দাড়ায় ৭৯ টাকায়। আর ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে শ্রমিকদের মজুরী বেড়ে দাড়ায় ৮৫ টাকায়।

২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে শ্রমিকদের মজুরী বেড়ে দাড়ায় ১০২ টাকা। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ১২০ টাকা। যা বর্তমানে শ্রমিকরা পাচ্ছে।

চা শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলন আর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার তাদের দুটি বোনাস দিয়েছে। দূর্গাপুজা এবং দোল পুর্নিমা (দুল প্রজা বা ফাগুয়া উৎসব) তাদের দুটি বোনাস হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ২শ ৫০ টাকা। তাও সঠিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে। তারা এ বোনাস বাড়ানোরও দাবি জানিয়ে আসছে।

চা বাগান সুত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের মজুরী আর বোনাসের বাইরে শ্রমিকদের আবাসন এবং মেডিকেল ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি সপ্তাহে ৩ কেজি ২শ ৭০ গ্রাম করে চাল কিংবা আটা দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য তা ব্রিটিশ সরকারের নিয়মেই প্রতি কেজি ১ টাকা করে কাটা হচ্ছে।

আজও ভ্যালীর চা বাগানগুলোর চা শ্রমিক দিবসের নানা আয়োজন রয়েছে। চা শ্রমিক দিবস আসে, যায়, কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়না। এসব শ্রমিক চা শিল্পে অবদান রাখলেও তারা বরাবরই অধিকার থেকে বঞ্চিত।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুপেন পাল জানান, চা শ্রমিকরা ১২০ টাকা দিয়ে এখন আর চলতে পারছে না। তারা মজুরী দৈনিক ৩শ টাকা দাবি করেছেন। মজুরী বৃদ্ধির বিষয়ে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।

চান্দপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও আদিবাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা কাঞ্চন পাত্র বলেন, চা শ্রমিকরা চিরকালই নির্যাতিত ও নিপীরিত। বাগান মালিকরা কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও আমাদের শ্রমিকরা ভাঙ্গা ঘরেই বাস করে। ৩ বেলা আহারও পায়না। চা বাগান কর্তৃপক্ষ সব সময়ই আমাদের নির্যাতন করে আসছে। আমরা এবার ভূমি অধিকারের দাবী তুলেছি।

এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করে লস্করপুর ভ্যালীর একজন বাগান ব্যবস্থাপক জানান, চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার, চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান মালিকদের সংগঠনগুলো আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এর বাইরে কোন বাগান ব্যবস্থাপকই কিছু বলতে নারাজ।

চেরনিহিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অনেক মানুষ মারা গেছেন: জেলেনস্কি

কিয়েভের উত্তরে চেরনিহিভ অঞ্চলের দেসনা গ্রামে বৃহস্পতিবার রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার রাতের ভাষণে জেলেনস্কি এ কথা বলেন। খবর সিএনএনের।

বেলারুশের সীমান্ত থেকে ৪০ মাইল দূরে অবস্থিত চেরনিহিভ।

তিনি বলেন, ওডেসা অঞ্চলে ক্রমাগত হামলা চলছে, মধ্য ইউক্রেনের শহরগুলোতে, দোনবাস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এ বিষয় রাশিয়ার জন্য কোনো সামরিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।

জেলেনস্কি বলেন, এটি যতটা সম্ভব ইউক্রেনীয়কে হত্যা করার একটি ইচ্ছাকৃত ও অপরাধমূলক প্রচেষ্টা।

তিনি বলেন, খারকিভ অঞ্চল মুক্ত করার জন্য ইউক্রেনের বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দোনবাসে, দখলদাররা চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এলাকাটি এখন নরক আছে, এটি কোনো অতিরঞ্জিত নয়। সেভেরোদোনেৎস্কের নৃশংস ও একেবারে বুদ্ধিহীন বোমা হামলা চালাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ওডেসা অঞ্চল-সহ মধ্য ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্রমাগত রুশ হামলা চলছে। আর ডনবাস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি যতটা সম্ভব ইউক্রেনীয়কে হত্যা করার, যতটা সম্ভব বাড়িঘর, সামাজিক সুবিধা এবং উদ্যোগগুলোকে ধ্বংস করার জন্য ইচ্ছাকৃত এবং অপরাধমূলক প্রচেষ্টা।’

তিনি বলেন, এটিই গণহত্যার যোগ্যতা শামিল এবং যার জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

উত্তর কোরিয়ায় লবণপানি আদা দিয়ে করোনা মোকাবিলা!

করোনাভাইরাসের কোনো টিকা এবং কার্যকরী অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ছাড়া সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে উত্তর কোরিয়া।

মহামারির হাত থেকে রক্ষার জন্য ২০২০ সালের শুরুর দিকে দেশটি তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল।

এখনও পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সরকার বিদেশি চিকিৎসা সহায়তা নিতে রাজি হয়নি। খবর বিবিসির।

‘জ্বর’ থেকে মুক্তি পেতে উত্তর কোরিয়ার সব রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সনাতনী চিকিৎসা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যারা গুরুতর অসুস্থ নয়, তাদের আদা অথবা হানিসাকল (এক ধরনের ঔষধি গুণসম্পন্ন পাতা ও ফুল) চা পান করা এবং ইউলো পাতার পানি পান করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের পত্রিকা রডং সিমনান।

এ ধরনের গরম পানীয় গলাব্যথা এবং কফের মতো করোনাভাইরাসের হালকা লক্ষণ থেকে আরাম দিতে পারে। এ ছাড়া শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে গেলে সেটির অভাবও পূরণ হয়।

আদা ও ইউলো পাতা শরীরের প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা নয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্প্রতি এক দম্পতির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা সকাল-বিকাল লবণপানি দিয়ে গার্গল করার পরামর্শ দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ এক হাজার টন লবণ পাঠানো হয়েছে।

কোন কোন গবেষণায় বলা হয়েছে— লবণপানি দিয়ে গার্গল করা সাধারণ ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা লাগা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

তবে এটি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থামানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাউথওয়াশ করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। তবে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হলে, সেটি করতে পারে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো প্রমাণ নেই।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পরামর্শ দিচ্ছে, আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ এবং অ্যামোক্সিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার জন্য।

আইবুপ্রোফেন শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং মাথাব্যথা ও গলাব্যথার উপশম দিতে পারে। কিন্তু এসব ওষুধ দ্বারা ভাইরাস যাবে না।

অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের জন্য, ভাইরাসের জন্য নয়। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক করোনাভাইরাসসহ অন্য ভাইরাসের বিস্তার কিছুটা থামাতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেটির প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

উত্তর কোরিয়ার সব নাগরিককে মৌলিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিনা খরচে সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসাও দেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র খরার কারণে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে।

এসব কারণে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বাইরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা কর্মী, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কর্মসূচি গ্রহণ না করায় দেশটির আড়াই কোটি মানুষ বেশ ঝুঁকিতে আছে।

গত বছর বিভিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়াকে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।

করোনা মোকাবিলার সাফল্যে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

করোনা মোকাবিলার সাফল্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশ্বব্যাংক ১ বিলিয়ন ডলার দেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বৈঠকে কোভিড নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিষয়ে একটি রিভিউ হয়েছে। এখানে খুবই ভালো রেসপন্স এবং দে আর ভেরি হ্যাপি। এজন্য তারা বাংলাদেশকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, এটা ৯৪৫ মিলিয়ন ডলার তারা বরাদ্দ করেছে।’

‘তারা বাংলাদেশের কোভিড কার্যক্রমের জন্য খুবই সন্তুষ্ট। বিশেষ করে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের জন্য। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন বা অন্যান্য সহায়তা সরকার দিয়েছে।এর বাইরেও প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকার টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউট করেছি। এত বড় একটি জনগোষ্ঠিকে যে ভ্যাক্সিনেটেড করা গেছে এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড খুব অ্যাপ্রিসিয়েটেড হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই টাকা (১ বিলিয়ন ডলার) বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেক্সট ইয়ারের প্রোগ্রাম ক্যারি আউট করার জন্য এই ডলার অ্যালোকেট করা হয়েছে। আমাদের যে এক্সপেরিয়েন্সটা সেটা সারা পৃথিবীতে প্রচার করতে চায়।যেহেতু আমাদের প্রাইমারি হেলথ সিস্টেম খুব স্ট্রং, ইপিআই কার্যক্রম, এটা আপনারা জানেন। জাপানেও একটি বড় পত্রিকায় এটা নিয়ে বড় করে রিপোর্টিং হয়েছে। তারাও রিকমান্ড করেছে, বাংলাদেশের মডেলটা নিয়ে অন্য জায়গাগুলোতে ব্যবহার করা যায়।’

ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডলারের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে পেশাগত আচরণ করেনি।

উলটো তারা সংকটকে কাজে লাগিয়ে একদিকে বাড়তি মুনাফার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে হুহু করে বাড়িয়েছে ডলারের দাম। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কাই করেনি। কম দামে ডলার কিনে বেশি দামে বিক্রি করেছে।

আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি না করে করপোরেট লেনদেনের নামে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে বৃহস্পতিবার রিজার্ভ আবার বেড়ে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম আগের মতোই ছিল। তবে কিছু ব্যাংকে নগদ ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। আমদানিতে ডলারের জোগান ক্ষেত্রে আগের দামই রয়েছে। তবে কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দাম প্রায় ৮ টাকা কমেছে। গত বুধবার কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৪ টাকা পর্যন্ত ওঠে। বৃহস্পতিবার তা কমে ৯৬ টাকায় নেমে আসে।

কার্ব মার্কেটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রবাসীরা যেসব ডলার বিদেশ থেকে নগদ নিয়ে আসেন সেগুলোকে ব্যাংকমুখী করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কারণে কার্ব মার্কেটে ডলারের জোগান ও চাহিদা দুটোই কমেছে। কার্ব মার্কেট থেকে বেআইনিভাবে যারা ডলার কিনে মজুত করেছেন তাদের সম্পর্কেও খোঁজখরব নেওয়া হচ্ছে।

আন্তঃব্যাংকে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে বেচাকেনা হয়েছে। আমদানির জন্য ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৮৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে নগদ ডলারের চাহিদা বেশি। এ কারণে ব্যাংকগুলোতে ৯১ থেকে ৯৭ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, করোনার পর হঠাৎ করে চাহিদা বাড়ায় গত আগস্ট থেকেই পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আমদানি ব্যয়। গত আগস্টে এক মাসেই আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ৬৩ শতাংশ। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনার সময়ে স্থগিত এলসি ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ।

এ কারণে ডলারের দাম হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে। বাজারে চাহিদা থাকায় চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে ডলারের দাম চার দফায় ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে আরও বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেসব ব্যাংক ডলার কিনবে তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনেই ব্যবহার করবে। অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারবে না। কিন্তু এবার অন্য ব্যাংকের কাছে চড়া দামে বিক্রি করার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজার থেকে ডলার কিনে তা চড়া দামে করপোরেট লেনদেনের নামে আগাম বিক্রি করার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক যে দামে ডলার কিনবে তার চেয়ে ৫ পয়সা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে।

কিন্তু ব্যাংকগুলো এ নিয়ম মানছে না। তারা ডলার কিনে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে। কোনো কোনো ব্যাংক ৫ টাকা বেশি দামেও বিক্রি করেছে। প্রবাসী ও রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে ৮৭ থেকে ৮৯ টাকায়। কিন্তু আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করছে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৯৬ টাকায়।

নিয়ম অনুযায়ী এলসি খোলার আগে ব্যাংককে ডলারের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ যে সময়ে এলসির দেনা শোধ করতে হবে, ওই সময়ে ব্যাংকে ডলার আসবে এমন নিশ্চয়তা নিয়েই এলসি খুলতে হবে। কিন্তু বেশ কয়েকটি ব্যাংক তা না করেই এলসি খুলেছে। ফলে দেনা পরিশোধের সময়ে তারা আর বাজারে ডলার পাচ্ছে না। সব খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ডলার দিচ্ছে না।

ফলে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়ে। এতেই বেড়ে যায় ডলারের দাম। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। ওইসব ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তবে আপাতত কোনো কঠোর অবস্থানে যাবে না। এতে বাজারে ভুল সংকেত যাবে। যেসব ব্যাংকের দুর্বলতা রয়েছে ও অনিয়ম করেছে তার ধরন অনুযায়ী তাদের সতর্ক করা হবে।

এছাড়া বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ডলারের দাম বেঁধে দেয় না। ব্যাংকগুলোই নিজেদের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু কয়েকটি ব্যাংকের ডলারের সংকট থাকায় তারা দাম বাড়িয়েছে। বড় ব্যাংকগুলো এখনো আমদানির জন্য ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা দরেই ডলার বিক্রি করছে।

সূত্র জানায়, রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলারের জোগান বাড়ানো হবে। ফলে সংকট কমবে। রেমিট্যান্স সংগ্রহ বাড়াতে প্রবাসীদের মুদ্রা বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। বর্তমানে রেমিট্যান্সের ডলার কেনার দর ও বিক্রির দরের মধ্য ব্যবধান অনেক। এ ব্যবধান কমিয়ে রেমিট্যান্স কেনার দর বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

এক সময়কার ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়েও নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি। রাতারাতি ভোল পাল্টে হয়ে যান ছাত্রলীগ নেতা। বাগিয়ে নেন পল্লবী থানা ছাত্রলীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতির পদ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের কারণে ২০২০ সালের ২৮ জুন একবার বহিষ্কারও হন। এবার ছাত্রলীগের আরও বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী থেকে ছাত্রলীগ নেতা বনে যাওয়া ব্যক্তিটির নাম সরদার মো. রুবেল রানা। ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপশি একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলও রয়েছে তার। প্রতিষ্ঠিানটির মালিক ও প্রধান শিক্ষক তিনি। বিবাহিত এই ছাত্রলীগ নেতা এক কন্যাসন্তানের জনক। তিনি সদ্যঘোষিত পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

এদিকে গতকাল (বুধবার) সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ে কমিটির একটি কাগজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন ছাত্রলীগ নেতা রুবেল রানা। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে ফেসবুকে রুবেল লেখেন, ‘ছাত্রলীগের একেবারে শেষ দিকে এসে রাজনৈতিক বড় ভাইরা আমাকে যে সম্মান দিয়েছে তার জন্য আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ, ছাত্রলীগের বিদায় বেলা আপনাদের ভালোবাসাগুলো আমার সারা জীবন মনে থাকবে। ছাত্র রাজনীতিতে আমার ভুলত্রুটিগুলো আপনারা সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ’

এ ব্যাপারে পল্লবী থানা ছাত্রলীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কামাল পাশা বলেন, ‘রুবেল এক সময় ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিল। সে ছাত্রদলের মিছিল মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিত। আমরা কয়েকটি ছবি হাতে পাই আর ওই ঘটনার সত্যতাও মেলে। তাকে বহিষ্কার করি। গতকাল (বুধবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি সে থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। কমিটির কাগজ ফেসবুকে ছেড়েছে। অবশ্য আমরা তার বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রত্যাহার করিনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লবী থানা ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি বলেন, ‘পল্লবী থানা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই বিবাহিত। গত কয়েক বছরেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি।গত ৩-৪ দিন ধরে কয়েকজনকে থানা কমিটির ছাত্রলীগের পদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রুবেল রানাও রয়েছে। সে এক সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিল। ওই সময় ছাত্রদলের হয়ে বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছবি ভাইরাল হলে তাকে ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়।’

ওই সহসভাপতি আরও বলেন, ‘পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপন হোসেন সেলিম সম্পর্কে রুবেলের চাচা শ্বশুর হন। সে সুবাদে রুবেল হয়ত থানা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছে। রুবেল বিবাহিত। তার একটি মেয়ে রয়েছে। একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের মালিক ও প্রধান শিক্ষকও সে।’

এদিকে কমিটি ঘোষণার পর রুবেল রানার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক এক সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছাত্রলীগ নেতা রুবেল।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল রানা বলেন, ‘আপনাদের দোয়ায় আমি গতকাল (বুধবার) পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। এর আগে আমাকে বিনা অপরাধে শত্রুতা বশত ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের কারো সম্পর্ক নেই। ছাত্রদলের কোনো প্রোগ্রামে আমি যাইনি। যে ছবির কথা বলা হয়েছে- তা দেখতে আমার মতো হলেও ওটা আমি না। নেতারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর শেষ সময়ে ছাত্রলীগের নেতা হয়েছি। বিবাহিত হওয়ায় বেশি দিন ছাত্ররাজনীতি করব না। আওয়ামী লীগের অন্য সংগঠনে যোগ দিব। এটা নিয়ে না লেখাই ভালো।’

পল্লবী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুম্মান বলেন, ‘রুবেলকে থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) কমিটির কাগজ দেওয়া হয়েছে। ওর বিরুদ্ধে ছাত্রদল করার অভিযোগ শুনেছি। ছাত্রলীগ থেকে একবার বহিষ্কারও হয়েছে। কীভাবে ওকে পদ দেওয়া হলো- এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। ভবিষ্যতে আর যাতে এ ধরনের ভুল না হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি : ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অশালীন ও অরাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এ বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনীতি নিয়ে ভাবি, রাজনৈতিক চিন্তা করি-তারা কল্পনাও করতে পারি না একজন প্রধানমন্ত্রী এভাবে বিরোধী দলের নেত্রীকে হুমকি দিতে পারেন। বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি আয়োজিত এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেভাবেই আসুন না কেন তিনি (শেখ হাসিনা) দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। এছাড়া পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কূটনৈতিক ব্যক্তি, যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ড. ইউনূস, তাকেও প্রধানমন্ত্রী পদ্মায় চুবানোর কথা বলেছেন। সেতু থেকে ফেলে দেওয়া-এটা কখনোই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। কি ভয়ংকর মানসিকতার হলে এমন কথা বলতে পারেন। তার এ বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। প্রচণ্ডভাবে এমন বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ আজ ডুবতে বসেছে। বিদ্যুতের দাম ৫৮ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ডলারের মূল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কমে গেছে রিজার্ভ। আমরা আশঙ্কা করছি আমাদের অবস্থা শ্রীলংকার মতো হচ্ছে কিনা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই লুটপাট শুরু করায় দেশের বারোটা বেজেছে। তারা জনগণের কণ্ঠরোধ করতে একের পর এক গণবিরোধী আইন করেছে। ফলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আর নেই।

তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। যাদের কোনো খোঁজ আজও মেলেনি। হত্যা করা হয়েছে শত শত নেতাকর্মীকে। বিনা অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাই এ অগণতান্ত্রিক সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সব নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। বিএনপি নেতা শওকত হায়াত শাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহীন আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক জিয়া, কাজী একরামুল হক, শামসুল আলম প্রমুখ। সমাবেশে রংপুর, সৈয়দপুর জেলা বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সদ্যপ্রয়াত রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিপুর স্ত্রী ও তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেওয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা তার পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতা বিপুর স্ত্রীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান লাকু, সামসুজ্জামান সামু প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।

এদিন বিকালে ঠাঁকুরগাঁওয়ে বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু কারও বাবার টাকায় তৈরি হয়নি। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে। এখানেও তারা লুটপাট করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচন লুট করে নিয়ে যায়। বিদেশিদের সঙ্গে তারাই যোগাযোগ করে। বিএনপিকে ভোটে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছে। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি না, তারাই যোগাযোগ করে। তার অনেক প্রমাণ রয়েছে।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল জব্বার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পি কে হালদারের সব শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ

দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ জালিয়াত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের কোম্পানির সব ধরনের শেয়ার ফ্রিজ করার জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউারিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার আসামি পি কে হালদারের শেয়ার ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, পি কে হালদারের অস্থাবর সম্পদ কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার আসামি পি কে হালদারের শেয়ার ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে কমিশন এ নির্দেশ দিয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এবং দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ করা মামলায় আদালত গত ১৩ এপ্রিল পি কে হালদারের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার আদেশ দেন। সে অনুযায়ী পি কে হালদারের অস্থাবর সম্পদ কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার জন্য সিডিবিএলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী দেশবরেণ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীকে ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশেই সমাহিত করা হবে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন্নবী চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাফ্ফার চৌধুরীর জানাজা আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় পাঠানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, আমরা বরেণ্য একজন মানুষকে হারালাম। আমরা যত দ্রুত সম্ভব শুক্রবার বাদজুমা উনার জানাজা শেষ করার চেষ্টা করছি।

আবদুল গাফফার চৌধুরী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনে চিকিৎসাধীন মারা যান।

গাফফার চৌধুরী স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের মিডলসেক্সের এজোয়ারের মেথুইন রোডের ৫৬ নম্বর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

ছাত্রজীবনেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি গাফফার চৌধুরীর। ১৯৪৯ সালে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সম্পাদিত মাসিক সওগাত পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালে সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’।

১৯৫৬ সালে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কলমযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।