বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 293

শিশুর ডেঙ্গি জ্বরের লক্ষণ, কী করবেন

বর্ষাকালে ডেঙ্গি জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। এখন ডেঙ্গির মৌসুম। সতর্ক না হলে শিশু থেকে সব বয়সি মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হতে পারেন।

ডেঙ্গির সবচেয়ে ঝুঁকি হচ্ছে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া। শিশুসহ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের এতে মৃত্যুঝুঁকি আছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন।

* কীভাবে বুঝবেন শিশুর ডেঙ্গি জ্বর হয়েছে-

জ্বরের লক্ষণ অনুসারে এ জ্বরকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।

* প্রথম পর্যায় : তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত জ্বর স্থায়ী হতে পারে।

লক্ষণগুলো হলো-

* তীব্র জ্বর (১০৩ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

* তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষ করে কপালের দিকে।

* চোখের পেছনে ব্যথা, যা চোখের মণি ঘুরালে বাড়ে।

* পুরো শরীর ব্যথা এবং গিঁটে ব্যথা।

* বমিভাব বা বমি করা।

দ্বিতীয় পর্যায় : এ সময়ে জ্বর কমে যায়, কিন্তু রক্তক্ষরণ বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। যা দু’তিন দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। কখনো কখনো শুধু হাতের তালু, পায়ের তালু বা শরীরের ত্বকের নিচে লাল হয়ে যায় এবং চুলকায়।

শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার লক্ষণগুলো হলো-

* তীব্র এবং একটানা পেট ব্যথা।

* নাক-মুখ, দাঁতের মাড়ি বা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ।

* বারবার বমি এবং সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

* আলকাতরার মতো পায়খানা।

* খুব বেশি পিপাসা পাওয়া বা জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া।

* প্রস্রাব কমে যাওয়া।

* জ্বরের সঙ্গে শরীরে লাল লাল দাগ দেখা যাওয়া।

* চোখের সাদা অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া।

* শরীর ঠান্ডা বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।

* অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

বিশেষ লক্ষণগুলো হলো-

* ঘুম ঘুম ভাব।

* একটানা কান্না।

* শ্বাসকষ্ট।

এসব লক্ষণের যে কোনো একটি দেখা গেলেই শিশুকে দ্রুত ডাক্তার দেখান বা হাসপাতালে নিয়ে যান।

* তৃতীয় পর্যায় : অল্প ক’দিনের মধ্যে শিশু ভালো হয়ে যায়। যদিও শরীরে দুর্বল ভাবটা থেকেই যায় তারপরেও রোগী খেতে পারে, চলাফেরা করতে পারে। সব মিলিয়ে পুরো অসুস্থতার সময়টা ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা

* শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে রাখতে চেষ্টা করুন। বারবার কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন।

* জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন (দিনে চার বারের বেশি নয়)। আইবুপ্রুফেন, এসপিরিন, ডাইক্লোফেন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করবেন না। এগুলো রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।

* শিশুকে বেশি করে পানি বা পানি জাতীয় খাবার দিন, যেমন-খাবার স্যালাইন, ডাব, স্যুপ, দুধ, ফলের রস এবং এসবের সঙ্গে অন্যান্য খাবার দিন।

* বারবার বমি হলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

* রক্তক্ষরণজনিত কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিন।

ডেঙ্গি রোগ মশার কামড়ে ছড়ায়। তাই, এগুলো সাধারণত বর্ষাকালে হয় যা মশার বেঁচে থাকা এবং প্রজনন উভয়কেই সাহায্য করে। অন্য সব জ্বরের বিপরীতে যেখানে জ্বরের সময় বিপদ, ডেঙ্গির বিপদের সময় জ্বর কমে যাওয়ার সময়। বমি, পেট ব্যথা, অস্থিরতা বা অলসতা এবং যে কোনো স্থান থেকে রক্তপাতের মতো সতর্কতা চিহ্নসহ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ভর্তির প্রয়োজন।

* ব্যক্তিগত নিরাপত্তা

ঘুমের সময় বিছানায় মশারি ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে হালকা রঙের ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরাতে হবে, যাতে হাত ও পা পুরোপুরি ঢেকে যায়। স্কুলের ইউনিফর্মও যাতে পুরো হাত ও পা ঢেকে যায়। পা পুরোপুরি ঢেকে রাখতে মোজা এবং জুতা পরাতে হবে।

মশা নির্মূল

* বাসায় নিয়মিত মশা নিরোধক প্রয়োগ করতে হবে। মশার স্প্রে ব্যবহার করুন। সম্ভাব্য স্থান যেখানে মশা থাকে যেমন-আসবাবপত্রের নিচে, পর্দার আড়ালে এবং বাইরের জায়গা যেমন গ্যারেজ, ঝোপঝাড়, বিছানা এবং বাড়ির চারপাশে পুরু গাছপালা।

* স্কুলের জানালা ও দরজায় পর্দা লাগান।

* স্যাঁতসেঁতে এবং অন্ধকার জায়গা তৈরি করা এড়িয়ে চলুন যেখানে মশা থাকে।

* নিয়মিতভাবে ছুটির সময় শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ এবং স্কুলের চারপাশে ফগিং করুন। মশার কার্যকলাপ সবচেয়ে বেশি হলে সন্ধ্যা বা ভোরের দিকে করা হলে সবচেয়ে ভালো হয়।

মশা নিয়ন্ত্রণ

* বাগান পরিস্কার-পরিছন্ন ও পরিপাটি রাখতে হবে এবং ঝোপঝাড় যতটা সম্ভব ছোট করে ছাঁটাই করে দিতে হবে। যদিও এটি প্রজনন ক্ষেত্র নয় তবে এটি প্রাপ্তবয়স্ক মশার জন্য সম্ভাব্য লুকানোর জায়গা হিসাবে কাজ করে যা ভবিষ্যতের প্রজননকারী।

* গাছের টবে, বালতি, পুরোনো টায়ার কিম্বা কোনো পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।

* টিন, পাত্র এবং টায়ারের মতো জল ধারণ করতে পারে এমন সব আবর্জনা সরাতে হবে যা মশার প্রজনন ক্ষেত্র।

* কৃত্রিম পুকুর বা জলাশয় নির্মাণ করবেন না। যদি আগে থেকে পুকুর বা জলাশয় তৈরি থাকে তবে তাতে লার্ভিসাইডাল এজেন্ট বা লার্ভিসাইডাল মাছ ব্যবহার করুন।

* আটকে থাকা বৃষ্টির নালা ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার করুন।

জটিলতা

ডেঙ্গি জ্বর সাধারণত চতুর্থ দিনের মধ্যেই কমে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্বরের পরই অনেকে সুস্থ হয়ে যান। পঞ্চম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত সংকটকালীন পর্যায়। তখন প্লাজমা লিকেজ শুরু হয় এবং পরবর্তী জটিলতাগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখা দেয়। তখন রক্তক্ষরণ বা শক হতে পারে।

আবার ব্যতিক্রমও হয়। জ্বর কমার আগেই অর্থাৎ ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ব্লাড প্রেশার কমে, পেটে ও বুকে পানি চলে আসে। এক্ষেত্রে রোগী শক-এ চলে যায়, রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

ডেঙ্গি জ্বরে গুরুতর অসুস্থতা খুবই মারাত্মক। বাংলাদেশে ডেঙ্গির যে চারটি ধরন শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিকর ধরনটি ‘ডেনভি ৩’-এ অধিকাংশ মানুষ ২০১৯ সালে আক্রান্ত হয়েছিল। ২০২১ সালেও ডেঙ্গির এ ধরনের দাপট দেখা গিয়েছিল।

* জটিলতার সম্ভাব্য কারণ

সম্ভাব্য কারণ হলো, ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি ধরনের পার্থক্য, তা ছাড়া কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে তার জটিলতা বেশি হয়। এ ছাড়া ভাইরাসটির বিরুদ্ধে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রতিক্রিয়ার কারণেও জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মনে রাখবেন

* জ্বর হলে জ্বর কমাতে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে।

* কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীরে স্পঞ্জ করতে হবে।

* পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও তরল পান করাতে হবে।

* জটিলতা এড়াতে শিগ্গির চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

* ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।

* বাড়ির পরিষ্কার-পরিছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি না জমে থাকে।

শিক্ষাক্রমের রূপরেখা চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকছে না যেসব পরীক্ষা

কেবল দশম শ্রেণির লেখাপড়ার ওপর এসএসসি ও এইচএসসিতে দু’টি বোর্ড পরীক্ষা রেখে শিক্ষাক্রমের রূপরেখার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয়।

সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) প্রায় ৪ ঘন্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, দশম শ্রেণির আগে কোনো কেন্দ্রীয় বা পাবলিক পরীক্ষা নেই। তৃতীয় পর্যন্তও কোনো পরীক্ষা থাকবে না। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি নিরূপন করা হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

বৈঠকে প্রায় ৮০ সদস্য যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) এবং শিক্ষাক্রম উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

এর আগে গতবছরের সেপ্টেম্বরে এই রূপরেখার খসড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেদিনই এটা নীতিগত অনুমোদন দেন। এর ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২০২৩ সালে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু করে দেয়। কিন্তু বাগড়া দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেহেতু আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বিশেষ করে এনসিসিসির বৈঠকে এটি অনুমোদন না পেলে আইনগত ভিত্তি পায় না, তাই এই কথাই বিতর্কে বারবার উঠে আসছিল। এই অবস্থায় সোমবারের বৈঠক ডাকা হয়। এরফলে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ আইনগত ভিত্তি পেলো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষাক্রম সারাদেশে ৬১টি স্কুল ও মাদ্রাসায় পাইলটিং চলছে। সেসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে পাইলটিং ক্লাস ভালোভাবে চলছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়। নতুন শিক্ষাক্রম বিষয়ে কোনো পরিমার্জন বা পরিবর্তন প্রয়োজন আছে না তা শিক্ষামন্ত্রী জানতে চান। তবে ঠৈকে কয়েকটি শব্দগত পরিবর্তন ছাড়া আর কোন প্রস্তাব আসেনি।

রূপরেখায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ১০টি বিষয় প্রবর্তনের কথা আছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ বলতে মাধ্যমিকে কোনো বিভাগ থাকবে না। এটি চালু হবে এইচএসসিতে। কেবল দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপরই বোর্ড পরীক্ষায় এসএসসির ফল হবে। একাদশ শ্রেণিতে এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে আলাদা দু’টি বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে হবে এইচএসসির ফল।

প্রাথমিকে পড়তে হবে আটটি বই। তবে সব শ্রেণিতেই শিখনকালীন মূল্যায়নেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর মাধ্যমিক স্তরর ষষ্ঠ শ্রেণির পাইলটিং চললেও প্রাথমিকে বছর শেষের দিকে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাইলটিং করা হবে।

এছাড়া আগামীবছর সারাদেশে পরীক্ষামূলক পাঠ্যবই দেওয়া হবে। বর্তমানে পাঠ্যবই লেখার কাজ চলছে। অর্থাৎ, ২০২৩ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাক্রমের বই যাবে। এছাড়া আগামীবছর সপ্তম শ্রেণির পাইলটিং হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পাইলটিং হবে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি যুক্ত হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণি যুক্ত হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত ও যুক্তি, জীবন ও জীবিকা, সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। প্রাক্-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না, শিক্ষকেরাই শেখাবেন।

বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুইন নাদিম আল মুন্নাকে হল থেকে বের করে দেন বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

মুন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের কেআর মার্কেটে এলে সোমবার দুপুরে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হন। মুন্নাকে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে দুগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

দুগ্রুপের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল, শহীদ নাজমুল আহসান হল, শাহজালাল হল এবং আশরাফুল হক হলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুগ্রুপ ইটপাটকেল ছোড়ে এবং লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পেড়।

এ সময় ঈশা খাঁ হলের ৮-১০ জনসহ উভয়পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনিফোন ধরেননি।

এ ঘটনায় বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ বলেন, বাকৃবিতে যে ঘটনাটি ঘটেছে পুরাটাই অনাকাঙ্খিত। শামসুল হক হলটি পুরোটাই সাধারণ সম্পাদক নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তাদের মধ্য থেকে যারাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বা সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টা করবে তাদের শনাক্ত করে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মহির উদ্দিন বলেন, আমরা উভয়পক্ষের নেতার সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার দ্রুত চেষ্টা করছি। যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে মারামারির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনব।

স্বস্তিকার বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে তোলপাড়

এবার নারীদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন টালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তার মতে, মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু। তার এই মন্তব্যে তোলপাড় চলছে নেটিজেনদের মধ্যে।

বরাবরই স্বস্তিকা ‘আনকাট’, যা ভাবেন, তাই বলেন। নিজের শরীর নিয়েও উল্টোপাল্টা কথা বলেন তিনি। মুখের দাগছোপ রূপটানে না লুকিয়েই ছবি তোলেন। সেই ছবি অনায়াসে পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে।

স্বস্তিকার দাবি, বয়স এগোলে শরীর ভারি হবেই। কিংবা আমার শরীর ভারিক্কি! তাতে কী? আমার শরীর নিয়ে, স্ট্রেচমার্ক নিয়ে, দাগছোপ নিয়ে আমার সমস্যা না থাকলে অন্যদের থাকবে কেন?

এ কথা নেটমাধ্যমেও হাজারবার বলেছেন। একই সঙ্গে বিনাদ্বিধায় সাঁতারের পোশাক পরার পরামর্শও দিয়েছেন।

কেন সব কিছু নিয়েই বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করেন স্বস্তিকা? জেনেবুঝে করেন? নাকি নিজেকে সাহসী প্রমাণিত করতে? অভিনেত্রীর কথায়, কোনোটাই নয়। তিনি সোজাসাপ্টা কথা বলেন। তার অর্থ বদলে দিয়ে নাকি বিতর্কের জন্ম দেয় সংবাদমাধ্যম ও নেটমাধ্যম।

পাশাপাশি, ‘সাহসী’ উপাধি পেতে পেতেও তিনি ক্লান্ত। বরং যা দেখানো হয়, আসলে নাকি তেমন নন তিনি। স্বস্তিকাও প্রিয়জনের ওপরে নির্ভর করতে ভালোবাসেন। কেউ তাকে আগলিয়ে রাখবে, এমন সাধ তারও জাগে। খুব ইচ্ছা করে, প্রিয়জনের ক্রেডিট কার্ড নিয়ে কেনাকাটা করতে বের হবেন। এর পরই তার কটাক্ষ, এসব শুনেও হয়তো মন্তব্যের বান ডাকবে! সবাই ভেবে নেবেন স্বস্তিকা রণক্লান্ত!

স্বস্তিকা তাই নিজের ভাল বুঝতে শিখেছেন। কোনো নেতিবাচক মন্তব্য পড়েও দেখেন না। মাথাও ঘামান না। নিজেকে ভাল রাখতে যা করার সেটাই করেন। বাকিদেরও তার পরামর্শ, নিজের মতো চলতে চাইলে নিজেকে শক্তপোক্ত করতে হবে। প্রতিবাদ করতে জানতে হবে। প্রয়োজনে বাড়িতে বড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। শিক্ষা সম্পূর্ণ হলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। যাতে নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন।

পাশাপাশি, আরও একটি বিষয় অভ্যাস করতে হবে। কী সেটা? সকালে ঘুম ভাঙলে বিছানায় বসেই নিজেকে বলুন, তোমরা যা বল তাই বল, আমার লাগে না মনে।

স্বস্তিকার নতুন মন্তব্য নিয়ে তার উদ্দেশে কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনরা! তিনি সাজলেও ব্যঙ্গ, যেন যৌনকর্মীদের মতো সেজেছেন! তিনি না সাজলে অকারণ অবসাদের তকমা। বিস্মিত স্বস্তিকার আবিষ্কার, এই কটাক্ষকারীদের তালিকার বেশিরভাগ রয়েছে মেয়েরাই।

স্বস্তিকার দাবি, সাজসজ্জা থেকে আচরণ, সব কিছুতেই ইদানীং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন এবং আমায় বেশি বিদ্রুপ করেন মেয়েরাই!

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

নতুন রূপে ধরা দিচ্ছেন রণবীর-আলিয়া

গেল এপ্রিলেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন জনপ্রিয় বলিউড জুটি রণবীর-আলিয়া। এই জুটির বিয়ে ছিল সারা ভারতের আলোচনার বিষয়। বিয়ের প্রতিটি ছবি দেখে মনে হয়েছে যেন পরিণতি পেল কোনো রূপকথার গল্প।

সম্প্রতি বিজ্ঞাপনী শুট সেরেছে এই জুটি। তারই নেপথ্যের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এর আগেও বহু বিজ্ঞাপনী প্রচার একসঙ্গে সেরেছেন রণবীর-আলিয়া। রিয়েল লাইফ কাপলকে দিয়ে ব্র্যান্ডের প্রচারে হামেশাই আগ্রহী থাকে অনেক সংস্থা। বিজ্ঞাপনেও ‘রালিয়া’ ম্যাজিক দেখাটা কম বড় পাওয়া নয় ফ্যানেদের কাছে। এক টিএমটি স্টিল বারে বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে।

নবদম্পতির ফ্যানেরা ইনস্টাগ্রামে ব্যাপক হারে শেয়ার করছে এসব ছবি। সেখানে সাদা পোশাকে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দেখা গেল দুজনকে। কখনো আবার আনমনে আড্ডার মেজাজেও দেখা যায় তাদের।

শুরুতে নিজেদের সম্পর্ক গোপন রাখলেও বছর কয়েক আগে প্রকাশ্যেই ভালোবাসার কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন রণবীর-আলিয়া।

২০১৭ সালে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির সেটে শুরু এই জুটির ভালোবাসার কাহিনি। ছবি মুক্তির আগেই তা কাঙ্ক্ষিত পরিণতিও পেয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল রণবীর ও আলিয়া বিয়ে সেরে ফেলেছেন একদম ঘরোয়া আয়োজনে।

বিয়ের পর প্রথমবার রুপালি পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে এই জুটিকে। পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ব্রহ্মাস্ত্র ছবি সেই যাত্রা শুরু। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

উমরান মালিকে ওয়াকারের ছায়া দেখছেন ব্রেট লি

গতির ঝড়ে ক্রিকেট দুনিয়া কাঁপানো বোলারদের নাম নিলে ব্রেট লি থাকবেন প্রথম দিকে। সেই লি নিজেই মুগ্ধ উমরান মালিকের গতি ও আগ্রাসনে। তরুণ এই ভারতীয় ফাস্টবোলারকে দেখে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট ফাস্টবোলারের মনে পড়ছে আরেক ভয়ঙ্কর ফাস্টবোলার ওয়াকার ইউনুসকে।

কাশ্মীরের ফল বিক্রেতার ছেলে উমরান জীবনযুদ্ধে অনেক লড়াই করে আইপিএলের মঞ্চে জায়গা করে নেন গত বছরের আসরে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে গতির ঝলক তিনি সেবারই দেখান। তবে অনেকটাই কাঁচা ছিলেন তখন। স্রেফ তিনটি ম্যাচে তার সুযোগ মিলেছিল। তার সম্ভাবনা অবশ্য তখনই বুঝেছিল হায়দরাবাদ। তাই এবারের আসরের নিলামের আগেই তারা ধরে রাখে তাকে।

সেই উমরান এবার গতি দিয়ে আইপিএলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতি ছাড়িয়েছেন তিনি নিয়মিতই। ১৪ ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই জিতেছেন ম্যাচের দ্রুততম বোলারের পুরস্কার। স্রেফ জোরে বল করাই নয়, উইকেট শিকার করেও প্রমাণ করেছেন নিজের কার্যকারিতা।

১৪ ম্যাচে ২২ উইকেট তার, ৫ ও ৪ উইকেট নিয়েছেন একবার করে। ২২ বছর বয়সি ফাস্টবোলার জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের স্বীকৃতি। আইপিএলে পারফরম করে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলেও।

এবারের আইপিএলে উমরানকে দেখে মনে ধরেছে ক্রিকেটবিশ্বের অনেকেরই। সাবেক গতি তারকা লি যেমন ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, তার ভালো লাগার কথা।

তিনি বলেন, আমি তার বড় ভক্ত। উমরান মালিকের গতি তীব্র। সে দারুণ লড়াকু, দুর্দান্ত ছেলে। অতীতের ফাস্টবোলারদের মতো ছুটে আসে সে। তাকে দেখলে মনে পড়ে ওয়াকার ইউনিসের কথা।

গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষ দিকে গতির ঝড় তুলে বিশ্ব ক্রিকেটে আবির্ভাব ওয়াকারের। শুরুর কয়েক বছর তিনি ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক। সর্বকালের সবচেয়ে গতিময় বোলারদের একজনও মনে করা হতো তাকে। রানআপে ছুটে আসতেন আগ্রাসীভাবে। সঙ্গে সুইং আর ইয়র্কার মিলিয়ে তিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর। সেই সময়ে তার উইকেট শিকারের হারও ছিল অবিশ্বাস্য। পরে অবশ্য ক্রমাগত চোটের কারণে তার গতি কমে আসে। তার পরও ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফাস্টবোলারদের একজন মনে করা হয় তাকে।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় বদলে গেল পাকিস্তান-উইন্ডিজ সিরিজের ভেন্যু

রাজনৈতিক অস্থিরতায় বদলে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজের ভেন্যু।

রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে সিরিজের ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি থেকে মুলতানে স্থানান্তরিত হয়েছে।

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল এখন সরকারবিরোধী আন্দোলন করছেন, যার ফলে রাজধানী ইসলামাবাদসহ এর আশপাশের এলাকায় আপাতত থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সিরিজের মূল ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটেই অবস্থিত। সে জন্য সিরিজের ভেন্যু মুলতানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুলতানকে আগে থেকেই সিরিজের ব্যাকআপ ভেন্যু হিসেবে ঠিক করে রেখেছিল পাকিস্তান। কারণ পিচ সংস্কারের কাজ চলমান থাকায় করাচি এবং লাহোরে এখন সিরিজ আয়োজন সম্ভব নয়। আর মাঠ সংস্কারকাজের ফলে পেশোয়ারের আরবাব নিয়াজ স্টেডিয়ামও আপাতত ব্যবহার উপযোগী নেই। সে জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ভেন্যু হিসেবে মুলতানকেই বেছে নিতে হয়েছে।

সাধারণত বছরের এই সময়টায় মুলতানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরের কথা, ঘরোয়া ক্রিকেটও আয়োজন করে না পিসিবি। কারণ এই সময়ে মুলতানের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। গত বছর মুলতানে বছরের এই সময়ে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটারদের একটি ক্যাম্প আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল পিসিবি। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে সেই ক্যাম্প শেষতক স্থগিত করা হয়েছিল।

এ সিরিজেও তাই দুদলের খেলোয়াড়দের গরমের সঙ্গে লড়াই করেই খেলতে হবে। তবে ক্রিকেটারদের যাতে একেবারে মাথায় সূর্য নিয়ে মাঠে নামতে না হয়, সে জন্য ম্যাচগুলো হবে দিবারাত্রির। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচগুলো।

পাকিস্তান দল এই সিরিজের জন্য ১-৪ জুন লাহোরে অনুশীলন করবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ জুন ইসলামাবাদে এসে চার্টার্ড বিমানে মুলতানে যাবে। ৮, ১০ ও ১২ জুন তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, ম্যাচগুলো আইসিসির ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের অংশ। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন পাকিস্তান সফর করেছিল তখনই ম্যাচগুলো খেলার কথা ছিল। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে করোনা হানা দেওয়ায় তখন ওয়ানডে না খেলেই ফিরে গিয়েছিলেন ক্যারিবিয়রা।

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিল্লাল খন্দকার (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বিল্লাল নাসিরনগর উপজেলা সদরের মহাখালপাড়ার ইউসুফ মিয়ার ছেলে। গত ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

বিল্লালের বন্ধু কাউসার বলেন, আমার বন্ধু কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছে। তার মধ্যে চলে যেতে হলো পরোপারে।

এ দুর্ঘটনায় নাসিরনগর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তমাল মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গুনিয়াউকগামী কয়েকজনকে এগিয়ে দিতে মোটরসাইকেলযোগে যান তারা। ফিরে আসার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বিল্লাল ও তমাল। পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিল্লালের মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ওসি হাবিবুল্লা সরকার বলেন, নিহতের খবর শুনেছি। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সিরাজকান্দী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ওই এলাকার জাহিদ, সাগর, শাহাদাত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে।

সোমবার মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসন এলাকায় ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় তারা। বর্তমানে তিনি ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, রোববার মাদ্রাসার মেয়েদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের ওপর দিয়ে উঁকি মারছিল জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। এ ঘটনাটি ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দুজনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিসকক্ষে নিয়ে যান শিক্ষকরা।

পরে পুলিশ ও মাদ্রাসার সভাপতিকে জানানোর কথা শুনে তাদের কাছ পালানোর চেষ্টা করে জাহিদ। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্ররা তাকে ধরে ফেলে। পরে সুজন নামে তার এক বড় ভাই জাহিদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

সোমবার ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসন এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে পৌঁছলে জাহিদ, সাগর, শাহাদাত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারার জন্য পথ আটকায়।

একপর্যায়ে বখাটেরা তাকে রড ও ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে আহত করে। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসা থেকে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বদিউজ্জামানের ছেলে জাহিদ, আব্দুল আলীমের ছেলে সাগর, আকতার হোসেনের ছেলে শাহাদাত, আব্দুল গফুরের ছেলে বাছেদ ও ফজলুর ছেলে স্বপনসহ আরও কয়েকজন বখাটে হঠাৎ আমার পথ আটকায়। পরে তারা লোহার রড ও ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত করে আহত অবস্থায় ফেলে যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

সিরাজকান্দী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমি সকালে মাদ্রাসার কাজে ভূঞাপুর গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম কিছু বখাটে মিলে মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক মাওলানা নজরুল ইসলামকে লোহার রড ও ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বখাটে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. ইশরাত জাহান জানান, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার

নেপালে বিধ্বস্ত তারা এয়ারলাইন্সের বিমানটির ২২ আরোহীর সবার লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।

এদের মধ্যে ১৯ যাত্রী ও তিনজন ক্রু ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে সর্বশেষ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নেপাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি- সিএএএনের মুখপাত্র দেও চন্দ্র লাল কর্ণ জানান। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় একটি খাড়া পাহাড়ি ঢালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে সোমবার ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে সর্বশেষ ব্যক্তির মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বিমানটির ২২ আরোহীর মধ্যে চারজন ভারতের, দুজন জার্মানির এবং ১৬ জন নেপালের নাগরিক ছিল।

তাদের বহনকারী ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা-ডিএইচসি-৬-৩০০ টুইন অটার বিমানটি রোববার নেপালের পর্যটন নগরী পোখারা থেকে জমসম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পরই বিধ্বস্ত হয়।

পোখারা বিমানবন্দর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। পোখারা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও তীর্থস্থান জমসমে যাচ্ছিলেন আরোহীরা। মাত্র ২০ মিনিটেই তাদের জমসমে পৌঁছানোর কথা ছিল।

কিন্তু উড্ডয়নের পর একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে নেপাল-চীন সীমান্তে মাউন্ট ধুলাগিরি অঞ্চলের মুস্তাং জেলায় উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়।

মাউন্ট ধুলাগিরি বিশ্বের সপ্তম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা ৮ হাজার ১৬৭ মিটার।