বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 290

২০০ আরোহীসহ রাশিয়ার উড়োজাহাজ আটকে দিল শ্রীলংকা

শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় রাশিয়ার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আটকে দেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে প্রায় ২০০ আরোহী ছিল।

বৃহস্পতিবার উড়োজাহাজটি কলম্বো ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। খবর বিবিসির।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বোর বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ছাড়ার ঠিক আগে কলম্বোর বাণিজ্যিক আদালতের নির্দেশে উড়োজাহাজটি আটকে দেওয়া হয়।

শ্রীলংকায় আটকেপড়া উড়োজাহাজটি অ্যারোফ্লোটের। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর নিষেধাজ্ঞার মুখে গত মার্চে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করেছিল অ্যারোফ্লোট। তবে এপ্রিলে কলম্বোর সঙ্গে আবার বিমান চলাচল শুরু করে সংস্থাটি।

মস্কোর কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে রাশিয়ার উড়োজাহাজ আটকে দেওয়ার কোনো সংযোগ আছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ওই উড়োজাহাজের সব যাত্রী ও ক্রুকে হোটেলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দরনায়েক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া। এ অঞ্চলে সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে নিজেদের অবস্থান আরও বিস্তৃত ও দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। দোনবাস অঞ্চলে নিজেদের এই সামরিক অভিযানে বড় বিজয় দাবির আরও কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তারা।

লুহানস্ক অঞ্চলের গভর্নর সেরহি হাইদাই বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের রাস্তায় রাস্তায় এখন লড়াই চলছে। অবশ্য রুশ বাহিনী শহরের ৮০ ভাগ দখলে নিয়েছে। তিনি বলেন, কিছু সড়কে আমাদের প্রতিরোধকারীরা সফল হয়েছে।

ডলারের দাম আরও ২.৩৫ টাকা বাড়ল

ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে অর্থাৎ বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ডলারের দাম এক লাফে ১ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

আমদানির জন্য ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা দরে। গত বুধবার আমদানির জন্য প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা দরে। নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ৯৭ টাকা দরে।

এক দিনের ব্যবধানে এটাই সবচেয়ে বেশি টাকার অবমূল্যায়ন। এর আগে গত রোববার ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা ১৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। বাজারে ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় দাম বাড়ছেই।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ডলারের একক দর নির্ধারণ করার চার দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ওইদিন থেকেই ব্যাংকগুলো নিজেদের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করেছে। ফলে বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯০ টাকা দরে। আগের দিন ছিল ৮৯ টাকা। একদিনে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বেড়েছে ৯০ পয়সা থেকে এক টাকা।

এদিকে মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি জোরদার করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রতিদিন বেলা ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে বিনিময় হারের তিনটি তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আমদানির জন্য গ্রাহকের কাছে ডলার বিক্রির দর, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার জন্য বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে দেওয়া দর এবং নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) বা প্রতিদিন লেনদেন শুরুর সময় ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ। এই তিনটি তথ্য দিয়েই বাজারের ওপর নজরদারি জোরদার করবে।

সরকারি ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবার আমদানির জন্য গ্রাহকদের কাছে ডলার বিক্রি করেছে ৯০ টাকা ৯০ পয়সা দরে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিক্রি করেছে সর্বোচ্চ ৯১ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বুধবার সব ব্যাংকই এ খাতে ৮৯ টাকা ১৫ দরে বিক্রি করেছে।

ফলে এক দিনের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম ১ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। রপ্তানি বিল সরকারি ব্যাংকগুলো কিনেছে গড়ে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো কিনেছে ৯০ টাকা ২৫ পয়সা দরে। রেমিট্যান্সে সরকারি ব্যাংক কিনেছে ৮৯ টাকা ৬০ পয়সা দরে এবং বেসরকারি ব্যাংক কিনেছে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে।

এর আগে ২৬ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ডলারের একক দর নির্ধারণ করে আন্তঃব্যাংকে ৮৯ টাকা এবং আমদানির জন্য ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। এই দরে চার দিন ডলার বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে রপ্তানিকারকরা রপ্তানি বিল নগদায়নে গড়িমসি শুরু করে। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো রেমিট্যান্সের ডলার ছাড় করতে দেরি করে। তারা বাড়তি দামের আশায় ডলার আটকে রাখছিল। এ তথ্য জানতে পেরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দামের ক্ষেত্রে সীমা আরোপ থেকে সরে আসে।

অন্যদিকে ডলার নিয়ে কারসাজির দায়ে ১৮টি ব্যাংকে অনুসন্ধান করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে অনুসন্ধান শেষে ২টি ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে। ১৪টি ব্যাংকে অনুসন্ধান শেষ করেছে। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাকি ২টি ব্যাংকে এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো প্রতিদিন ডলারের একটি দর নির্ধারণ করে তা ঘোষণা করে। এ দরেই তাদের বৈদেশিক মুদ্রা বেচাকেনা করার কথা। কিন্তু একটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ভুল তথ্য দিয়েছে। তারা যে দামে ডলার কেনাবেচা করেছে, সেই দামের চেয়ে কম দাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের কাছে ডলারের মজুত কমিয়ে দেখিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক তার নির্ধারিত কোটার বেশি ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। এজন্য ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডলারের বেঁধে দেওয়া দামের সীমা প্রত্যাহার : রপ্তানি বিল নগদায়ন না করা এবং প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ডলারের বেঁধে দেওয়া দামের সীমা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে হঠাৎ যেন ডলারের দাম বেশি বাড়িয়ে না ফেলা হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো যাতে দাম বেশি বাড়াতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

ডলারের দামের সীমা তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংকের মাধ্যমে তথা বৈধ পথে প্রবাসী আয় কমে যাচ্ছে। এজন্য প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে ডলারের কোনো নির্দিষ্ট দাম থাকছে না। ব্যাংকগুলো বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ও চাহিদা বিবেচনায় ডলারের দাম ঠিক করবে। বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।’

প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাজারমূল্যে নির্ধারণ হওয়ায় আমদানিতেও একইভাবে ডলারের দাম নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় নগদায়ন হবে বাজারমূল্যে। ব্যাংকগুলো যে দামে ডলার কিনবে, বিক্রি করবে এর চেয়ে কিছু বেশি দামে।

ডলারের দাম বাড়তে থাকায় গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে ডলারের একক দর নির্ধারণ করেছিল। প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৮৯ টাকা ২০ পয়সা। এ দাম নির্ধারণের পর কমে গেছে প্রবাসী আয়। রপ্তানিকারকরাও বেঁধে দেওয়া দামে রপ্তানি বিল নগদায়ন করছেন না। এতে আমদানি বিল মেটাতে গিয়ে সংকটে পড়ে বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন। জানা যায়, এ সময় বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তাতেই ডলারের দামের সীমা তুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বেঁধে দেওয়া দাম তুলে দেওয়া হলেও ডলারের বাজারে তদারকি জোরদার করবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা করার সুযোগ না পান।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার মানকে ভাসমান করে। অর্থাৎ বাজারই টাকার মান নির্ধারণ করবে। সেই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লিখিত কোনো আদেশ বা নির্দেশ দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন করছে না। বাজারই এর দাম নির্ধারণ করছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে বা বিক্রি করে টাকার মান ধরে রাখতে হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু সম্প্রতি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বেচাকেনার মাধ্যমে দর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। যে কারণে অলিখিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে থাকে।

কুসিক নির্বাচন মনিটরিংয়ে আ.লীগের টিম যাচ্ছে কাল

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল আগামীকাল (শুক্রবার) কুমিল্লা যাচ্ছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতিনিধি দলে আরও আছেন- দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুবউল আলম হানিফ আগামী ৬ জুন কুমিল্লা যাবেন।

বিএনপিকে যে প্রতিশ্রুতি দিল ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টি

বিশদলীয় জোট সক্রিয় থাকুক বা না থাকুক- বিএনপির নেতৃত্বেই সরকার ‘পতনের’ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শেষে এ প্রতিশ্রুতি দেন দলটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটি কাঠামো তৈরি করার জন্যও বিএনপিকে পরামর্শ দেন তিনি।

কল্যাণ পার্টি ২০ দলীয় জোটে থাকা নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংলাপ হয়। বিকাল ৪টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ সংলাপে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম ছিলেন।

আর কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের অন্যরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস, মিসেস ফোরকান ইবরাহিম, মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন, অতিরিক্ত মহাসচিব নুরুল কবির পিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসাইন ফরায়েজী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাহমুদ খান, যুগ্ম মহাসচিব রাশেদ ফেরদৌস সোহেল মোল্লা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মেহেদী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খান সাদাত এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদ আবেদীন।

সংলাপ শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে এবং দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের জন্য কাজ করছে বিএনপি।

আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিদেশে নির্বাসিত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার আমাদের সবচেয়ে বড় দাবি। এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে তার অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদ গঠনের মাধ্যমে একটি সরকার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন, তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করা হবে। পরবর্তী সময়ে আলোচনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে- বিচার বিভাগ, সংবিধানসহ অন্য বিষয়গুলোর যেসব সংস্কার দরকার, সে সংস্কারগুলো মতৈক্যের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব।

সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে কল্যাণ পার্টি একমত হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিলেন না তাদের সঙ্গে সংলাপ, আর যারা জোটে ছিলেন তাদের সঙ্গে সংলাপের ক্ষেত্রে কাঠামোগত কিছুটা পার্থক্য হবেই। আমরা দশটি বছর একসঙ্গে চলছি। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি বিএনপির অনুকূলে আন্দোলনে ও বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গায় থাকতে।

তিনি বলেন, বর্তমান একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে সরানো- এটা রাজনীতিতে প্রধান অগ্রাধিকার। এটা বাস্তবায়নের জন্য করণীয় হচ্ছে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা। কল্যাণ পার্টি প্রস্তাবে বলেছে, যদি ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করা সম্ভব না হয় যে কোনো কারণে, তাহলে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করতে প্রস্তুত। এটাও বলেছি, জোটকে সক্রিয় করার কাজে অথবা জোটের মধ্যে বিভিন্ন দলকে একত্রিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আন্দোলন শুরু হলে আরও মতবিনিময় হবে। আমরা প্রস্তাবে বলেছি, জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘমেয়াদি না হয়, সেজন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। আন্দোলন ত্বরিতগতিতে হতে হবে, আন্দোলনে ১২ ঘণ্টা, ৬ ঘণ্টা অনেক দীর্ঘ সময়।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি মেকাপ করতে হলে আমাদের নিশ্চয়ই অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে। আরও সীমাবদ্ধতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সাত হাজার মাইল দূরে রাখা হয়েছে। অতএব, এ দুটি সীমাবদ্ধতাকে মেনে আমাদের আগাতে হবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, আগামী নির্বাচনে নতুন সংসদ যখন হবে, আগে থেকেই জনগণের কাছে আমরা ওয়াদাবদ্ধ থাকব- সংবিধান সংস্কার করতে হবে, প্রয়োজনীয় আরও সংস্কার করতে হবে।

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলনের ঐক্য গড়তে সংলাপের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে ২৪ মে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে প্রথম সংলাপ করে দলটি। এরপর ২৭ মে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ৩১ মে গণসংহতি আন্দোলন, ১ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেন। পর্যায়ক্রমে বিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ করার কথা রয়েছে বিএনপির।

৫৮ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

চালের দাম নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন বাজারে বৃহস্পতিবারও অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিন আরও ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানের সময় ট্রেড লাইসেন্স, ক্রয় ও বিক্রয় রসিদ ক্ষতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীর উত্তরা ও গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

টঙ্গীতে মেসার্স মোল্লা চাউল আড়তকে ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স রূপসী বাংলা ট্রেডার্সকে দেড় লাখ টাকা, মেসার্স সাদিয়া রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উত্তরার (বিডিআর) ৬নং মার্কেট এলাকায় চালের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে হাজী জেনারেল স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকাসহ চার প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর বাদামতলী চালের আড়তে ও নয়াবাজার ইউসুফ মার্কেটের খুচরা চালের দোকানে অভিযান চালিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান পরিচালনাকারী দলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিফা খান বলেন, পাইকারি বাজারে তদারকি করে খুচরা দোকানে যাই দামের অসামঞ্জস্য আছে কিনা দেখতে।

সেখানে গিয়ে তারতম্য দেখিনি। তবে নবাব ইউসুফ আলী বাজারের কয়েকটি দোকানে ট্রেড লাইসেন্স দেখতে চাইলে তারা জানান সেটি বাসায় রাখা আছে। দোকানে ট্রেড লাইসেন্সের কপি না থাকায় মোট পাঁচটি মামলা ও ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে বাবু বাজারে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শেরপুর : জেলা শহরে চালের প্রধান পাইকারি বাজার নয়ানী বাজারে বুধবার অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য বিভাগ। এ সময় লাইসেন্স না থাকায় বৃষ্টি চালভাণ্ডারের মালিক আবুল কালাম ভুট্টোকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম : বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মজুতের দায়ে খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই চালের আড়ত এসএ ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার টাকা, সাদ এন্টারপ্রাইজকে পাঁচ হাজার টাকা, বাগদাদ রাইচ এজেন্সিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া আল্লাহর দান চাউলভাণ্ডারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। এ ছাড়া বন্দর মার্কেট এলাকার গরিবে নেওয়াজ এন্টারপ্রাইজকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেশি দামে চাল বিক্রির অভিযোগে এখানকার হাশেম ব্রাদার্সকে এক হাজার টাকা, মেসার্স হাজি অহিদুর রহমানকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর ও টঙ্গী পূর্ব : বেশি দামে চাল বিক্রি করায় টঙ্গী বাজার এলাকায় মেসার্স রূপসী বাংলা ট্রেডার্স, সাদিয়া রাইস ও মোল্লা চাল আড়তকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিংড়া (নাটোর) : সিংড়ায় শ্রী সবুজ মানী নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাতিয়ান্দহ বাজারের সবুজ চাল ঘরে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়েছে।

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : ভাঙ্গা বাজারে বুধবার সন্ধ্যায় তিন চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্লাস্টিকের তৈরি বস্তায় চাল বিক্রির দায়ে তাদের ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মা লক্ষ্মীভাণ্ডারকে পাঁচ হাজার টাকা, ভাই ভাই ট্রেডার্সকে দুই হাজার টাকা ও উজ্জ্বল স্টোরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শেরপুর (বগুড়া) : বুধবার শেরপুর বাজারে গৌরাঙ্গ ভাণ্ডারকে ৬০ হাজার টাকা ও গাড়িদহ ইউনিয়নে শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে এক হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল ও দুই হাজার ১৪৬ মেট্রিক টন ধান তিন দিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : আশুগঞ্জে দুটি রাইসমিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এগুলো হলো উপজেলার আলমনগর এলাকার ভাই-ভাই অটোমেটিক রাইসমিল ও একই এলাকার সরকার অটোমেটিক রাইসমিল।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) : অবৈধভাবে চাল মজুত রাখা এবং বৈধ লাইসেন্স না থাকায় সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট বাজার, মৌলভীর দোকান এবং বাজালিয়া ইউনিয়নের সাতটি অটো রাইসমিলকে সর্বমোট এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নওগাঁ : রানীনগরে অতিরিক্ত ধান মজুত করার অপরাধে মিল মালিক মুকুল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ইইউ’র এজেন্ডায়

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এজেন্ডায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ২৮ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ইস্যুও সংলাপে যথেষ্ট প্রাধান্য পাবে।

রাজনৈতিক সংলাপের পর ১৮ থেকে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সফর করবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল। তারা অবশ্য রাজনীতির চেয়ে বেশি জোর দেবে শ্রম অধিকার ও বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর। ইইউ’র দুই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে ঢাকায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক সংলাপে ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন এনরিকে মোরা। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেলের চিফ অব স্টাফ এবং ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল। স্প্যানিশ কূটনীতিক এনরিকে মোরা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ইইউ’র প্রধান আলোচক ছিলেন।

এনরিকে মোরার মতো একজন দক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিককে প্রতিনিধি দলের প্রধান করায় ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম সংলাপকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাছাড়া বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে ইইউ’র সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

কোভিড মহামারির কারণে বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকরা গত দুই বছর তেমন কোনো তৎপরতা চালাতে পারেননি। বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কূটনীতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরগরম ঘরোয়া আলোচনা হচ্ছে।

কোনো কোনো কূটনীতিক বাইরেও রাজনীতি, নির্বাচন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রভৃতি বিষয়ে খোলামেলা অভিমত ব্যক্ত করছেন।

বাংলাদেশ সরকারের তরফে বিদেশি কূটনীতিকদের স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রকাশ্যে মন্তব্য করাকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করা হয়।

ঢাকায় নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের প্রতি তাদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল।

তবে তিনি এও মন্তব্য করেন যে, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিজেরা মূল্যায়ন করছেন। ওই কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে এখনই কোনো উপসংহারে যাওয়ার সময় আসেনি।

পরিস্থিতি অনুধাবনে আরও অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক সংলাপে আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রতিও আলোকপাত করা হবে।

বিশেষ করে শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংকট, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির মতো বিষয় বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটাও আলোচনা হতে পারে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইউক্রেনে রুশ হামলার বিষয়ও আলোচনার এজেন্ডায় রাখছে ইইউ।

অপর দিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্যসংক্রান্ত কমিটির সাত সদস্যবিশিষ্ট শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ১৮ থেকে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সফরকালে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় অধিক গুরুত্ব পাবে। ইইউ থেকে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দলের সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও এজেন্ডা এখন চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাগুলো নিয়ে উভয়পক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলা প্রেস ক্লাব মিশিগানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন বাংলা প্রেস ক্লাব অব মিশিগানের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে ঠিকানা পত্রিকার মিশিগান প্রতিনিধি সৈয়দ শাহেদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পদে সুপ্রভাত মিশিগানের নির্বাহী সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মে) বিকালে হ্যামট্রামিক শহরের বাংলাদেশ এভিনিউয়ের কাবাব হাউসে প্রেস ক্লাবের এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক সৈয়দ শাহেদুল হক। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রোটারিয়ান শামীম আহছান।

সভায় আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে দেওয়া হয় সিনিয়র তিন সাংবাদিককে। তারা সবার মতামতের ভিত্তিতে কণ্ঠ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করে এক বছর মেয়াদি ১৩ সদস্যের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেন।

সংগঠনটির নতুন সহ-সভাপতি হয়েছেন আরটিভির যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কামরুজ্জামান হেলাল ও মিশিগান প্রতিদিনের সম্পাদক ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি। এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা পোস্টের মিশিগান প্রতিনিধি তোফায়েল রেজা সোহেল।

সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মানবকন্ঠের সাহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ বাংলাদেশ প্রতিদিনের আশিকুর রহমান, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক টিবিএন-২৪-এর মাহফুজুর রহমান।

কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- দৈনিক খোয়াইয়ের সম্পাদক শামীম আহছান, এনটিভি মিশিগান প্রতিনিধি সেলিম আহমেদ, সুপ্রভাত মিশিগান সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য, দেওয়ান কাওসার ও জনকণ্ঠের রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন।

পরে প্রেস ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা প্রবাসীদের মুখপত্র হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য শপথ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ শাহেদুল হক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ আগস্ট বাংলা প্রেস ক্লাব মিশিগানের যাত্রা শুরু হয়। ওই কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি সাড়ে ৫ মাসেও ক্লাবের গঠনতন্ত্রই উপহার দিতে পারেননি। ক্লাবের কোনো কার্যক্রম না থাকায় সেই কমিটি ভেঙ্গে এ বছরের ১২ মার্চ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

মুসলমানের সবচেয়ে বড় শত্রু কারা?

ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা প্রসঙ্গে কুরআনে এরশাদ আছে: আজ কাফেররা তোমাদের দীনের প্রতি হতাশ হয়ে গেছে। তাদেরকে আর ভয় পাবার কিছু নেই। তোমরা কেবল আমার ভয়েই ভীত হও৷ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৩)।

এ আয়াত দশম হিজরিতে বিদায় হজের সময় নাজিল হয়। এর দেড় মাস পরে আল্লাহর রাসুল (সা.) আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। সেই হিসেবে আয়াতটির মর্মার্থ হচ্ছে: আল্লাহর রসুল ও সাহাবায়ে কেরামের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামের ইতিহাস এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে— যাকে বলা যায় আপন শক্তিতে বলীয়ান। ইসলাম বাহির থেকে আসা আক্রমণ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে, এখন যদি কোনো আশঙ্কা থেকেও থাকে, তা ভেতর থেকে আসতে পারে, বাহির থেকে নয়।

উল্লিখিত আয়াতে এ মর্মে আল্লাহর স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আছে যে, মুসলমানদের ওপর বহির্শত্রু বিজয় লাভ করবে— এমন কোনো ভয় নেই। তবে মুসলমানদের চিন্তার বিষয় একটাই, সেটা হলো তাদের মধ্যে খোদাভীতির অনুপস্থিতি। আল্লাহকে ভুলে তারা বিপথে চালিত হবে, এটাই মূলত আশঙ্কার ব্যাপার।

এই আশঙ্কা কাল্পনিক নয়, ইতিহাস এর সাক্ষী। মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অসীম। তাদেরকে তিনি সুবিস্তৃত ভূমির অধিকার দিয়েছেন। তাদের জনশক্তি এত বিপুল করেছেন যে, জনশক্তির অভাবে তারা পরাস্ত হবে বা শত্রুর মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে— এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নাই। তাদের সামনে অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা আছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি তাদের হাতে রয়েছে। সব ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের ঘরে জন্ম নিচ্ছে।

তাদের আছে এমন এক মহান ঐশীগ্রন্থ, যা জ্ঞানতাত্ত্বিক জগতে তাদের দিতে পারে অনন্য অবস্থান। তাদের আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। কেয়ামত পর্যন্ত যা প্রতিটি প্রজন্মকে দেখাবে আশার আলো, সাহস যোগাবে, তাদের মধ্যে তৈরি করবে উদ্দীপনা আর উচ্ছ্বাস।

যে জাতির কাছে উন্নতি-অগ্রগতির এত সব উপাদান রয়েছে, বাহিরের কোনো জাতির তাদেরকে পরাধীন করার দুঃসাহসও দেখাতে পারবে না। একমাত্র আহাম্মকিই তাদের ওপর বয়ে আনতে পারে লাঞ্ছনা আর অপদস্থতা। তাদেরকে করে দিতে পারে দুর্বল। আহাম্মকি মূলত অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর মতবিরোধ থেকে আসে।

মানুষের মনে যতক্ষণ খোদাভীতি জাগরূক থাকে, ততক্ষণ তারা পরস্পরের কল্যাণকামী থাকে, ইনসাফের সঙ্গে অন্যের হক আদায় করে, সমগ্র জাতি তখন হিংসা-বিদ্বেষের নাপাকি থেকে পবিত্র থাকে। এমন পরিবেশে তখন সবখানেই কেবল ঐক্য আর ঐক্যের দেখা পাওয়া যায়।

কিন্তু যদি উল্টোটা ঘটে— মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, খোদাভীতি লোপ পায় তাদের অন্তর থেকে, তখন সবাই পরস্পরের ক্ষতিসাধনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবাই স্বার্থের পেছনে অন্ধের মতো দৌড়াতে থাকে। পরশ্রীকাতরতা, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধপরায়ণতা সমগ্র জাতিকে গ্রাস করে ফেলে।

খোদাভীতি ঐক্যের পথ তৈরি করে। আর ঐক্যই হলো সবচেয়ে বড়ো শক্তি। আর আল্লাহর ভয় মন থেকে উবে যাওয়া মাত্রই অনৈক্য সৃষ্টি হয়। আর পারস্পরিক সংঘাতের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো দুর্বল হয়ে পড়া— তা সে যত বড় জনগোষ্ঠীই হোক, সংখ্যাধিক্য তখন কোনো কাজেই আসে না।

দুজন মুসলিম মিলে একটা কাজ শুরু করল। কোনো কারণে কিছুদিন পর তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলো। এখন তারা যদি মিটমাট করে যে যার রাস্তা ধরে, বাকি কাজ-কারবার আগের মতোই জারি রাখে, তাহলে তাদের দ্বারা সমাজের কোনো ক্ষতি বা কমজোরির আশঙ্কা করা যায় না।

কিন্তু যদি এমন না হয়— তারা বিরোধটাকে দীর্ঘ করে এবং বিরোধের জের ধরে একে-অপরকে শায়েস্তা করতে উঠে-পড়ে নামে, তাহলে তাদের আশপাশের লোকেরা এতে আক্রান্ত হবে। সামাজিক শক্তি-শৃঙখলা দুর্বল হয়ে পড়বে।

একজন মুসলিম অপর মুসলিমের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার পর কোনো কারণে তার প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যান করতে হয়। এখন যদি প্রস্তাবদাতা এর অন্যরকম অর্থ না করে অন্যকোথাও পাত্র তালাশ করে, তাহলে সমাজে কোনোরকম বিরূপ প্রভাব পড়বে না৷
পক্ষান্তরে তার মনে যদি প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালায়, তাহলে আল্লাহই জানে কত বছর কত যুগ ওই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকবে! আর এসবের প্রভাব কি দুটো পরিবার পর্যন্তই সীমিত থাকে? অবশ্যই না। গোটা সমাজ এর বিষবাষ্পে আক্রান্ত হয়।

এক মুসলিম অপর মুসলিম থেকে একটা ভবন ভাড়া নিল। কোনো কারণে লোকটার ওপর ভবন-মালিকের অভিযোগ দেখা দিল। এখন যদি মালিক সমস্য সমাধানের পথ খুঁজেন, তাহলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হবার সম্ভাবনা নেই। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ঐক্যও থাকবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

পক্ষান্তরে মালিক যদি সুষ্ঠু সমাধানের পথে না গিয়ে ভাড়াটেকে উৎখাত করতে উঠে-পড়ে লাগে, তার নামে কুৎসা রটায়, নিচু করতে চেষ্টা করে, কীভাবে লোকটার বিনাশ ঘটানো যায় সেই ধান্ধা করে— তাহলে তা উম্মতের দুর্গে ফাটল ধরানোর মতোই গর্হিত কাজ হবে। এর ফলাফল কী হবে জানেন? একদল ভাড়াটের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাবে, আরেকদল মালিকের। উম্মত দুটো ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়বে। যে শক্তি-সক্ষমতা তাদেরকে উন্নতি ও সংহতি উপহার দিতে পারত, এখন তাই হবে ডেকে আনবে বরবাদি, বিনাশ ও ধ্বংস।

আমাদের সামনে বেশ কিছু প্রোজ্জ্বল উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমরা দেখতে পাই সংঘবদ্ধতার পথ অবলম্বনের মাধ্যমে কীভাবে উম্মাহর সন্তানেরা শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠতে পারে।

আবার কিছু উদাহরণ থেকে এও উপলব্ধি হয় যে, সংঘবদ্ধতা আর ঐক্যের অভাব কীভাবে তাদের ধ্বংসের মুখে এনে ফেলে; নিজেকে তো বটেই, গোটা সমাজটাকেই অস্থিতিশীল আর দুর্বল করে তোলে। শেষবিচারের কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ার কারণেই আমাদের মধ্যে এত দ্বন্দ্ব-ফাসাদ। মানুষের মাঝে সত্যাসত্যই যদি খোদাভীতি থাকে, তাহলে সে মুখ দিয়ে এমন শব্দ উচ্চারণ করবে না, যা আল্লাহর কাছে তার ব্যক্তিত্বকে খাটো করে; যা আল্লাহকে নারাজ করবে।

তেমনই সে এমন সব কাজ এড়িয়ে চলবে যা রোজ কেয়ামতে আল্লাহর কাঠগড়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে৷ আল্লাহর ভয়ে ভীত সকলেই নিজের দোষ স্বীকার করে, অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

যে সমাজের এমন চিত্র দেখা যাবে, সেখানে অবশ্যই ঐক্য বিরাজমান থাকবে। আর ঐক্যের অপর নামই শক্তি।

মানুষ অন্যের জন্য কূপ খনন করে। সে ভুলে যায় নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়তে পারে। ভুলে যায় যেকোনো সময় আসতে পারে মৃত্যুর থাবা।

এক থাবায় দুনিয়া থেকে উঠিয়ে তাকে পরকালে নিয়ে যাওয়া হবে; জবাবদিহি করতে হবে পরাক্রমশালী রবের কাছে, তাকে প্রশ্ন করা হবে আল্লাহর দেওয়া জান-মাল ও আমানত কীভাবে খরচ করেছে; তার বান্দাদের ক্ষতি সাধন করার জন্য কোন অধিকারে সে আল্লাহর নেয়ামতকে ক্ষয় করেছে! এর সবই মানুষ বেমালুম ভুলে আছে!

আসলে মানুষ যদি মৃত্যুর বাস্তবতা চিন্তা করত, শিক্ষা নিত এ থেকে, তাহলে আত্মশুদ্ধির জন্য তা-ই যথেষ্ট ছিল!

মৌসুমি ফল তরমুজ ও আমের পুষ্টিগুণ

দেশে ফলের স্বাদ অন্য কিছুতে নেই। মৌসুমী ফলে পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ ও আমের পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেমের চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার আলো।

এখন আবহাওয়া বেশ উষ্ণ হয়ে উঠেছে। দেহে ঘাম হচ্ছে প্রচুর। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে দেহের প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ পদার্থ। এ কারণে সব সময় একটা ক্লান্তি অনুভূত হয়। গরমের সময় পাওয়া যায় সব রসালো ফল। এ ফলই আমাদের শরীরে পানির জোগান দেয় ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। বেশ কয়েকটি ফল এ সময় দেখা যায়। যেমন- তরমুজ, বাঙ্গি, কচি তাল, লিচু, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

তরমুজ : এই ফলে ক্যালরির মাত্রা কম তবে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে লৌহ ও ভিটামিনের পরিমাণ বেশি আছে বলে রক্তস্বল্পতা, রাতকানা রোগ ও মূত্র সংক্রামণ রোধ করতে সাহায্য করে। কিডনি সবল রাখতেও তরমুজের রস সাহায্য করে। এ ছাড়া টাইফয়েডের রোগীকে বারবার তরমুজের রস দিলে জ্বরের মাত্রা কমে আসে। তরমুজের রস ও মাল্টার রস একত্রে মধু ও বরফ দিয়ে খেলে উপাদেয় হয়।

আম : কাঁচা আমে শর্করা ও পেপটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। আমের আকারের ওপর এর ক্যালোরি নির্ভর করে। পাকা আমে ৬০ শতাংশ বিটা ক্যারোটিন থাকে। ক্যারোটিনের উপস্থিতির জন্য চোখ ও ত্বকের জন্য আম খুবই উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কার্যকর। কাঁচা আমের শরবত লিভারের টনিক হিসাবে কাজ করে।

সৌদি আরব ও কাতারে বাউবির এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ওপেন স্কুল পরিচালিত সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত প্রবাসী শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি (নিশ-২) প্রোগ্রামের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়।

বাউবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মেজবাহ উদ্দিন তুহিন জানান, বাউবির আইসিটি এবং ই-লার্নিং সেন্টার পরীক্ষা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। প্রতি শুক্রবার ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার প্রথম দিনে এসএসসি প্রোগ্রামের ৪২ জন এবং এইচএসসি প্রোগ্রামের ৬০ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।