বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 29

ঢাকায় মগবাজার ও আশকোনায় এলাকায় দুই যুবকের মৃত্যু হলো ট্রেনের ধাক্কায়

রাজধানীর মগবাজার ও আশকোনায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যা ও রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, মৃতদেহ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা রেলওয়ে থানায় অবগত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মগবাজার রেলগেট এলাকায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক মাথায় আঘাত পান। পরে পথচারী মো. মামুন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর নাম রেজওয়ান খান সায়মন (১৮)। তিনি বসুন্ধরা শপিং মলে একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায়। বাবার নাম মান্নান খান। মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

অপর দিকে বিমানবন্দর আশকোনা রেলগেট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত এক যুবক মারা গেছেন। তাঁর নাম–পরিচয় পাওয়া যায়নি। বয়স আনুমানিক (৩০) বছর। নিহত যুবকের পরনে ছিল কালো প্যান্ট, চেক শার্ট ও কালো জ্যাকেট। দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে থানার পুলিশের কনস্টেবল জহুরুল ইসলাম তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঢাকা রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক এসআই সানু মং মারমা বলেন, নিহত যুবক সোমবার সন্ধ্যায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

নৌকা পেয়েও জিতা হলোনা যেসব বড় ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন কুমিল্লা-৩ আসনে ২০১৪ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র আর ২০১৮ সালে নৌকার প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। এবারের নির্বাচনেও নৌকার কান্ডারি হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পাননি সাবেক এই ব্যবসায়ী নেতা।

ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের মতো একাধিক বড় ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেও একাধিক বড় ব্যবসায়ী জয়ী হতে পারেননি।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৬ জনের ১০০ কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এই ১৬ জনই পেশায় ব্যবসায়ী। সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

শতকোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থী ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩০৫ কোটি টাকার বেশি। তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে হেরেছেন। ঈগল প্রতীক নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ভোট পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৭১টি। আর নৌকা প্রতীকে ইউসুফ আব্দুল্লাহ ভোট পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৪টি।

ঝিনাইদহ-২ (নলডাঙ্গা, ঘোড়াশাল, ফুরসুন্দি ও মহারাজপুর এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলা) আসনে ২০১৪ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য হয়েছেন ডরিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহজীব আলম সিদ্দিকী। ডরিন গ্রুপের ব্যবসার মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, আবাসন, নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিমেন্ট এবং হোটেল ও রিসোর্ট।

তাহজীব আলম সিদ্দিকী ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র এবং ২০১৮ সালে নৌকার প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়েছেন। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর কাছে তিনি ২০ হাজার ৫৭১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

হোমনা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়েছেন নিটল–নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ। তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি পদেও আছেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদের স্ত্রী সেলিমা আহমাদ।

এই আসন থেকে সেলিমা আহমাদ ২০১৮ সালে ২ লাখ ৬ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৫৩টি। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মজিদ ৪৪ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জুয়েলার্স ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দিলীপ। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পাননি তিনি।

এই আসনে ৯৬ হাজার ২৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী সোলায়ামান হক জোয়ারদার। অন্যদিকে ঈগল প্রতীক নিয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ভোট পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৬৮টি।

ঢাকা-১ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম। যদিও তিনি নৌকার প্রার্থী বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের কাছে ১ লাখের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সালমান এফ রহমান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি। ২০১৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এক্সিডেন্ট , নিহত ১

আজ সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাস এসে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কারকে।এতে প্রাইভেট কারের চালক নিহত ও এক আরোহী আহত হয়েছেন।

পুলিশ বলছে, প্রাইভেট কারটি উত্তরা থেকে আসছিল। পথে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় প্রাইভেট কারটিকে পেছন থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি জব্দ করা হলেও, সেটির চালক পলাতক।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারের চালক মো. মিলনকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় যাত্রী মো. মাহফুজের হাত-পা ভেঙে গেছে। তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

চলমান সরকারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত চলবে এবি পার্টির আন্দোলন

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এবি পার্টির নেতারা বলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে জনগণ আওয়ামী লীগকে আর চায় না। আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে। ‘প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার’ প্রতিবাদে তাঁরা এই সমাবেশে করেন। সমাবেশের পর তাঁরা এই ভোট প্রত্যাখ্যান করে কালো পতাকা মিছিল করেন।

সমাবেশে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব.) আবদুল ওহাব বলেন, অবৈধ এই সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সবাইকে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের ভয়ে আজ কোনো কথা বলতে সাহস পায় না। তারা চিন্তা করতেও ভয় পায় কখন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

৭ জানুয়ারি জনগণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে তারা আর চায় না। আমরা ধারণা করতাম, আওয়ামী লীগের সমর্থন কিছুটা কমলেও ক্ষমতা ও লুটপাটের অর্থের জোরে তারা অন্তত সেটা ঢেকে রাখতে পারবে। কিন্তু এই প্রহসনের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে আরও এক ধাপ নিচে নামিয়ে দিল এরকমটাই বললেন এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান।

এবি পার্টির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা এই সময় বক্তিতা দেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, যুব পার্টির আহ্বায়ক এ বি এম খালিদ হাসান প্রমুখ।

সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে : সিইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।

রোববার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ২৫ শতাংশ, খুলনায় ৩২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৭ শতাংশ, সিলেটে ২২ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৬ শতাংশ, রংপুরে ২৬ শতাংশ ও বরিশালে ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সংসদ নির্বাচনে আজ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।

এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

২৪ ঘণ্টায় ১৪ জেলায় ২১ ভোটকেন্দ্রে আগুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর আগে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের অন্তত ২২ জেলায় ৪১টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৪ জেলার ২১টি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

একই সময় চার জেলায় চার নির্বাচনী ক্যাম্প ও দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সাত জেলায় ১১টি যানবাহন ও তিন জেলায় অন্তত তিনটি স্থাপনায় (ভোটকেন্দ্র নয় এমন বিদ্যালয়) আগুন লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া দুই জেলায় ভাঙচুর করা হয়েছে ২২টির মতো যানবাহন।

শনিবার সন্ধ্যায় এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জন করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় প্রতিটি নাশকতার ঘটনার পর বিএনপির ওপর দোষ চাপানো আওয়ামী লীগ ও তাদের ‘দলীয় পুলিশ প্রশাসনের’ মজ্জাগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, ট্রেনে আগুন, রেললাইন উপড়ানো, সহিংসতা, গানপাউডার ও লগি-বইঠা দিয়ে মানুষ হত্যার মূল হোতা আওয়ামী লীগ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট কেন্দ্র ঢাকা সিটি কলেজ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ৭ জানুয়ারী রোববার সকাল আটটায় ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস এ কথা জানান।
ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে পড়েছে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র।

এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন ঢালিউড অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ।

তাদের এক দিন বর্জন করুন ,যারা ১৫ বছর বঞ্চিত করেছে: বিএনপির মহাসচিব

নির্বাচন বর্জন করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ‘গণতন্ত্রকামী ভোটারদের’ উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে যারা আপনাকে গত ১৫ বছর অধিকারবঞ্চিত করে রেখেছে, তাদের অন্তত ৭ জানুয়ারি এক দিন বয়কট (বর্জন) করুন।’ আজ শনিবার সন্ধ্যায় এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। ভোটারদের আগামীকাল ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থেকে সারা দিন পরিবারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আপনি, আপনার পরিবার, স্বজন-বন্ধুবান্ধব-পরিচিতজন ও প্রতিবেশীদের ভোটের নামে “বানর খেলার আসর” বর্জন এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করুন।’

গতকাল শুক্রবার রাতে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনাকে ‘নৃশংসতম, বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পরই আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। প্রকৃত দোষীদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি। ইতিমধ্যে রেলওয়ে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’ তিনি বলেন, মহানগর ডিবি পুলিশের প্রধান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নাকি বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে ডিবি! অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এ ঘটনায় বিএনপিকে দুষছেন। কী হাস্যকর বয়ান!

প্রতিটি নাশকতার ঘটনার পর বিএনপির ওপর দোষ চাপানো আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় পুলিশ প্রশাসনের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, ট্রেনে আগুন, রেললাইন উপড়ানো, সহিংসতা, গানপাউডার ও লগি-বইঠা দিয়ে মানুষ হত্যার মূল হোতা আওয়ামী লীগ।

ভোটের দিনও হরতাল ডাকলো বিএনপি

আগামী শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারি সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে তারা। এর মধ্যে রোববার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সুতরাং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিনও হরতাল ডাকলো বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় হরতালের পাশাপাশি ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বেশ কয়েক দফায় দেশজুড়ে অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেছে বিএনপি। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন দল ও জোটও পৃথকভাবে হরতাল-অবরোধ করে আসছে। গত কিছুদিন ধরে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করে আসছে।

৬ হাজার কোটি টাকা ধার এক দিনে

সরকারের খরচ চালানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড। কারণ, রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। তা ছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিবর্তে এখন ভাঙানোই হচ্ছে বেশি। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়াও বন্ধ করেছে সরকার। এ জন্য ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে টাকা ধার করছে সরকার, যা দিন দিন বাড়ছে। এতে ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়ছে।

আজ বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদে টাকা ধার করেছে সরকার, যা বিদায়ী বছরের জুনে ৮ শতাংশের নিচে ছিল। ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বিমা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়েও ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেনা যায়।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নিলামে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার। শেষ পর্যন্ত নিতে পেরেছে ৬ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। এদিন বিভিন্ন মেয়াদি বিলের সুদহার ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে।

এখন ট্রেজারি বিলের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারিত হয়। ফলে নতুন বছরের শুরুতে ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে পদ্ধতিতে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, সেটাকে বলা হয় স্মার্ট বা সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল। প্রতি মাসের শুরুতে ব্যাংকগুলোকে এই হার জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নভেম্বর মাসে স্মার্ট রেট ছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে ব্যাংকগুলো ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ যোগ করতে পারে। ফলে সুদহার বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সুদহার নির্ধারণে বেশির ভাগ ব্যাংক কিছুদিন অপেক্ষা করলেও এখন তা পরিবর্তন করছে। কারণ, ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ঋণের সুদহার বেড়ে প্রায় ১২ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের খরচ কত হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ঋণের সুদহার। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি যা, তাতে সরকার আরও বেশি টাকা তুলবে। ফলে সুদের হার আরও বাড়বে।