বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 288

তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ

দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে পটুয়াখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখানে ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রসারতার দ্বার উন্মোচিত হবে।

বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দর বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে পরিচিত। প্রতি সোমবার কালাইয়া বন্দরে নোয়াখালী ও ভোলার ব্যবসায়ীরা গরু মহিষসহ নানা পণ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে আসেন। আর এ জন্য তাদেরকে নৌকা বা ট্রলার নিয়ে আসতে হয়।

ফলে বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু হলে দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে পটুয়াখালী ও বরগুনার সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য তেঁতুলিয়া নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নৌযোগাযোগ একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফিটনেসবিহীন ছোট লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাউফলের ধূলিয়া ও কালাইয়া থেকে তেঁতুলিয়া পাড়ি দিয়ে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুরে যাতায়াত করছেন।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজতর করতে বাউফলের কালাইয়া থেকে ভোলার লালমোহনের সঙ্গে ফেরি যোগাযোগ স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এছাড়া তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু হলে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, ফেনি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা সদর হয়ে লালমোহন উপজেলার নাজিরপুর দিয়ে পায়রা বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে অনেক আগেই লালমোহন উপজেলার নাজিরপুর ও বাউফল উপজেলার শৌলা পর্যন্ত সড়ক পাকা করণ করা হয়েছে। এখানে ফেরি সার্ভিস চালু হলে গাড়ি নিয়ে সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন সবাই।

ফেরি সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান ও বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আ স ম ফিরোজ এমপি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তেঁতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়ে আমি ইতোপূর্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আনুষঙ্গিক কিছু কাজ শেষ হলেই আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নটি পূরণ হবে।

পুতিন ইউক্রেনে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন: ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করে একটি ‘ঐতিহাসিক ও মৌলিক ভুল’ করেছেন এবং রাশিয়া এখন ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রা ফরাসি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। খবর আলজাজিরার।

তিনি বলেন, রাশিয়াকে ‘অপমানিত’ করা উচিত হবে না। আমরা কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধ করে তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করতে পারি।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, আমি পুতিনকে বলেছিলাম যে তিনি তার জনগণের জন্য, নিজের জন্য এবং ইতিহাসের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং মৌলিক ভুল করেছেন। আমি মনে করি, তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা এক জিনিস, কিন্তু এটি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়া একটি কঠিন পথ।

ফ্রান্সের এই নেতা আরও বলেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরের বিষয়টি তিনি ‘অস্বীকার’ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে।

এদিকে, পুতিন শুক্রবার বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের জন্য পশ্চিমাদের দোষারোপ করেছেন এবং ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানির জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ পথের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

তিনি রুশ গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ব বাজারে খাদ্যের যে মন্দাবস্থা চলছে তার জন্য রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন কিনবে জার্মানি

জার্মানির সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে দেশটির পার্লামেন্ট ১০৭৩ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে।

এ অর্থ দিয়ে সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও চিনুক হেলিকপ্টার এবং ইসরাইলের তৈরি হেরোন ড্রোনসহ আধুনিক সব সমরাস্ত্র কেনা হবে। খবর আনাদোলুর।

জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ শুক্রবার সেনাবাহিনীর জন্য বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে এ অর্থ অনুমোদন করেছে।

৫৬৭ আসনের সংসদে চ্যান্সেলর ওলাফ স্কলজের বামপন্থি জোটের সদস্য সংখ্যাই বেশি। শুক্রবার সেনাবাহিনীর এ বিলের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ৯৬টি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ২০ এমপি।

জার্মানির প্রধান বিরোধী দল ক্রিস্টান ডেমোক্র্যটও সরকারি দলের আনা এ বিলে সমর্থন দেয়।

রেকর্ড বিনিয়োগের লক্ষ্য

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ১৪ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটি চলতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

যা এ খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। ব্যাপক কর্মসৃজনের লক্ষ্য নিয়ে এ বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য সরকারি বিনিয়োগে (এডিপি) কোনো কৃচ্ছ্রসাধন করা হবে না।

ফলে নতুন বছরের এডিপি কাটছাঁট ছাড়াই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ বিভাগ। যার প্রতিফলন দেখা যাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে।

বর্তমান সময়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কোভিড-১৯ মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ খাত। এই মহামারিতে কমপক্ষে আড়াই কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছে, একাধিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেই ক্ষত না শুকাতেই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়েছে। এমন চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন বাজেটটি বর্তমান সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করা হবে তার অর্ধেকের বেশি বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

ফলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী বাজেটে কর্মসংস্থানকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া করোনার কারণেও অনেক কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রাখা হচ্ছে। এসব কারণেই বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে এগোচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, নতুন বাজেটে অগ্রাধিকার সাতটি খাতের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লি উন্নয়ন’। এজন্য বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বিনিয়োগকে। যে কারণে এ বছর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বাজার মূল্যে নতুন জিডিপির আকার হচ্ছে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। ওই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ১১ লাখ ৮ হাজার ৬০ কোটি টাকা (২৪ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং সরকারি বিনিয়োগের অঙ্ক হলো ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৬ শতাংশ)।

এদিকে চলতি বাজেটে মোট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৩১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থ বিভাগ আগামী বছরের জন্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বেশি ধরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

তবে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন বাজেটে কী ধরনের দিকনির্দেশনা রাখা হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আগামী বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটি অসম্ভব কিছু নয়।

এর জন্য অন্যান্য বিষয় যেমন ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, সুশাসনের অগ্রগতি দেখাতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে এটি অর্জন সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, করোনায় অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেকার হয়েছে অনেকে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদের ব্যাপারে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। গ্রামে যেসব ক্ষুদ্র প্রকল্প নেওয়া আছে সেগুলো বন্ধ করা যাবে না। এসব ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের স্লোগান হচ্ছে ‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের প্রত্যাবর্তন’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আগামী অর্থবছরের এডিপিতে কাটছাঁট করা হবে না। কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এডিবির অর্থ খরচের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না।

কারণ এডিপির প্রবৃদ্ধি না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। এটি না হলে মানুষের আয় হবে না। তা না হলে ব্যক্তি খাতে উৎসাহিত হবে না। তিনি আরও বলেন, মানুষের আয় বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা মূল উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত করোনাকালীন এডিপির ২৫ শতাংশ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অর্থ বিভাগ। অর্থ সাশ্রয় করে স্বাস্থ্য খাতে স্থানান্তরের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আগামী অর্থবছরে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এডিপি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চাকরি ও ব্যবসা হারিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ তৈরিতে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ফান্ডে আরও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। অর্থ বিভাগ মনে করছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে আনুমানিক এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি উৎপাদন ও ২৮টির উন্নয়ন কাজ চলমান। যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি। এ অঞ্চলে আরও ৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। পিপিপি প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার ৭৭৬ কোটি মার্কিন ডলার।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে আইটি সেক্টরে ইতোমধ্যে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়ন কার্যক্রমে দেশে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের মানুষের বিপুল কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকেও সরকার নজর দিচ্ছে।

পাচারের টাকা দেশে ফেরানো কঠিন

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় পাচার করা টাকা দেশে ফেরাতে প্রচলিত আইনি কাঠামোতে বিশেষ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটেই এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু পাচারকারীদের ওই সুবিধা দিতে হলে সংবিধানসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘনের শঙ্কা আছে। এছাড়া বিশ্বের সামনে দেশের ভাবমূর্তি বিশেষ করে এপিজির আপত্তির মুখ পড়ার ভয়ও আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে-ওই সুযোগ দিতে হলে পাচারকারীদের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, আয়কর অধ্যাদেশ ও দুর্নীতি দমন আইনের কিছু ধারা থেকেও অব্যাহতি দিতে হবে।

এই প্রক্রিয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) থেকেও আপত্তি উঠতে পারে। তবে সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনলে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তা আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই অর্থ নিয়ে সরকারের কোনো সংস্থা এ বিষয়ে প্রশ্ন করবে না।

এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েই এ ব্যাপারে কাজ হচ্ছে। তবে বাজেটের আগে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হলে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে পাচারকারীদের অব্যাহতি দিয়ে আইন বাস্তবায়নকারী মূল কর্তৃপক্ষকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

এছাড়াও বাজেটের অর্থবিল আইনের মাধ্যমেও পাচারকারীদের অব্যাহতি দিয়ে এটা করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে ৯ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা ওই দিন বাজেট পেশ হবে।

এর সঙ্গে অর্থবিলও উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটের আগেই সরকার এটি করতে চায়। সেক্ষত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। এছাড়া কোনোভাবেই দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।

ওই সুযোগ দিলে একদিকে দুর্নীতি উৎসাহিত করা হবে। অন্যদিকে নাগরিকের সমান অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। এতেই সংবিধান লঙ্ঘন হবে। কেননা, দুর্নীতিবাজদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এটাই সংবিধানের নীতি। কিন্তু তা না করে বিশেষ ছাড় দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করলে আইনের সমান প্রয়োগ হবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের সুযোগ কোনো ক্রমেই দেওয়া ঠিক হবে না। দিলে বহুবিধ আইনের লঙ্ঘন হবে। দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হবে। আর দিলেও টাকা ফেরত আসবে বলে মনে হয় না।

ডলার সংকট মোকাবিলায় এ সুযোগ দেওয়ার কারণ নেই। ডলার সংকট মোকাবিলা করতে সরকারের দুটি পদক্ষেপই যথেষ্ট। এক. টাকা পাচার বন্ধ করা এবং দুই. রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে হুন্ডি বন্ধ করা। এ দুটি করলে জাদুকরী ফল মিলবে। এগুলো করা কঠিন কিছু নয়।

সূত্র জানায়, বাজেটের আগে ওই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, দেশ থেকে সীমার অধিক বৈদেশিক মুদ্রা নিতে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হয়।

রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা যথাসময়ে না এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হয়। দেশ থেকে পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগ করতে বা কোনো সম্পদ গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়।

কিন্তু অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি দেশ থেকে সম্পদ পাচার করে থাকেন বা রপ্তানি আয় বিদেশে রেখে দেন তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রচলিত আইনি কাঠামোয় ওইসব সম্পদ বিদেশ থেকে দেশে আনার সুযোগ নেই।

এদিকে দেশে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় পাচার করা অর্থ দেশে এনে বর্তমান সংকট মেটানোর ব্যবস্থা করতে চায় সরকার। অন্য একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করে অনেকে বিপাকে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট দেশের আয়কর ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষের কাছে এত অর্থসম্পদ কিভাবে অর্জন করেছেন তার বৈধ কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। এসব কারণে করোনার সময়ে পাচার করা সম্পদ অনেকেই কাজে লাগাতে পারেননি। এতে পাচারকারীদের মধ্যে ভয় ঢুকেছে। যে কারণে তারা পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।

এ অর্থ দেশে আনতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও আয়কর অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন আইনের কিছু ধারা থেকে তাদের অব্যাহতি দিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সার্কুলার জারি করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে পাচারকারীদের অব্যাহতি দিতে হবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এ আইন থেকে পাচারকারীদের অব্যাহতি দিতে কাজ করতে হবে বিএফআইইউকে। দুটি সংস্থার পক্ষেই এটি করা কঠিন। কেননা, তাদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করে কাজ করতে হয়।

পাচার করা টাকা ফিরে এলে বাংলাদেশে দুভাবে মানি লন্ডারিং হয়েছে বলে প্রমাণিত হবে। এক. দেশ থেকে টাকা পাচার সুযোগ রয়েছে এবং দুই. পাচার করা টাকা দেশে এসেছে এটা প্রমাণ হবে।

এ দুটোই মানি লন্ডারিং। বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকিমুক্ত দেশ। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএফআইইউ পাচারকারীদের সুবিধা দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা হুট করে কিছু করবেন না। এ বিষয়ে আইনগত মতামত নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও দেখা হবে।

বিএফআইইউর সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের সভায় পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বেশকিছু প্রস্তাব এসেছিল।

এর মধ্যে ছিল দেশ থেকে পাচার করা অর্থের ওপর জরিমানাসহ আয়করের পাশাপাশি পরোক্ষ কর (ভ্যাট বা শুল্ক) আরোপ করে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া।

একই সঙ্গে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের পাশাপাশি শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগকেও সংযুক্ত করার।

সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শেষে বিষয়টি নিয়ে আরও সমীক্ষার কথা বলা হয়। এ বিষয়ে কিছু কাজও হয়েছে। এর অংশ হিসাবেই বাজেটে এ প্রস্তাবটি রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশের বিষয়ে এনবিআর ও দুর্নীতি দমন আইনের ব্যাপারে দুদক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব আইন থেকে আলাদাভাবে অব্যাহতি দেওয়ার বাইরেও আরও একটি পথ খোলা রয়েছে। সেটি হচ্ছে অর্থবিল। বাজেটের অর্থবিল হচ্ছে একটি আইন।

এখানে আইনি শর্ত যুক্ত করে পাচারকারীদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন না করার জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হলে অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে মানি লন্ডারিংয়ের দিক থেকে এটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এছাড়া বাজেটের সুশাসনের দিক থেকেও প্রশ্ন উঠবে।

কেননা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলেই তা নিয়ে সরকারকে তীব্র সমালোচনা সহ্য করতে হয়। টাকা পাচারকারীদের ছাড় দিলে আরও বেশি সমালোচনা হবে। ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলেও পাচারকারীরা তার কতটুকু ব্যবহার করবেন-সে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, পাচার করা টাকা দেশে এনে ব্যাংকে জমা করতে হবে।

এর বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। ফলে যারা টাকা ফিরিয়ে আনল তাদের একটি রেকর্ড থেকে যাচ্ছে। এই সরকার হয়তো কিছু করল না।

ভবিষ্যতে অন্য সরকার ক্ষমতায় এলে তারা প্রচলিত আইন বাতিল করে সুবিধাভোগীদের আইনের আওতায় আনতে পারবে। ফলে সুবিধাভোগীদের মধ্যে এ ভয়ও কাজ করবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৩ মে এক সার্কুলার জারি করে বলেছে, প্রবাসীদের যে কোনো অঙ্কের রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে কোনো আয়ের উৎস জানাতে হবে না। রেমিট্যান্সে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়।

এ খাতে অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে আয়ের উৎস জানানোর বিধান করেছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় সেটি এখন তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে রেমিট্যান্সের নামে পাচার করা টাকাও এখন আসতে পারে।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিদেশ থেকে সম্পদ নিজ দেশে আনার সুযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, গ্রিস, নরওয়ে, স্পেন ইত্যাদি।

এসব দেশে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাব উন্মুক্ত। অর্থাৎ যে কোনো সময় দেশ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করা যায়। ফলে কর ফাঁকি না দিলে তা ফিরিয়ে আনতে কোনো সমস্যা নেই।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাব উন্মুক্ত নয়। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া অপরাধ।

বাংলাদেশে ওই আইনটি এত কঠিন যে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে ৬ মাসের কম অবস্থান করলে বিদেশে কোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবে না। ওই হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক দেশ-বিদেশ থেকে টাকা দেশে আনার সুযোগ দিয়েছে। তাদের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এ দেশেরটা মিলবে না। ওইসব দেশ থেকে অর্থ নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধ। এ দেশে নিয়মের বাইরে অর্থ নেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কর ফাঁকিও অপরাধ।

মাঠে নামছেন ১৪ দলের নেতারা

সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা সফরে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।

শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে তার ইস্কাটনের বাসভবনে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি সভা থেকে নিয়মিতভাবে জেলা পর্যায়ে ১৪ দলের নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সভায় দেশে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ১৩ জুন বেলা ১১টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সাবেক মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, গণ-আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে শিকদার, জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মদ মুক্তা, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আল ফারুকী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সদস্য হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী আজাহার ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সহসভাপতি মো. জহির হাসান।

সভায় নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এজন্য ১৪ দলের নেতারা দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ১৪ দল ঢাকা মহানগরীতে একটি আনন্দ সমাবেশ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে চলমান রাখতে কেন্দ্রীয় ১৪ দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একনিষ্ঠভাবে সমর্থন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

সভাপতি আমির হোসেন আমু ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য ১৪ দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে তার অবদান তুলে ধরা হয়।

সভা শেষে আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অতি সম্প্রতি বিএনপির সমাবেশে ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ স্লোগান প্রমাণ করে বিএনপি দেশে নতুনভাবে হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু করতে চায়। এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ১৪ দল সভা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে নিরঙ্কুশ সমর্থনের অঙ্গীকার করা হয় এবং দেশের জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ঘৃণা করলেই দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বিদায় নেবে: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘গুণীজনদের সম্মান না করলে যেমন সমাজে গুণীজণ তৈরি হয় না, তেমনি সৎ ও আদর্শবানদের সম্মান না করলে সমাজে সৎ ও আদর্শবান তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের সম্মান করলে সমাজ দুর্নীতিবাজে ছেয়ে যাবে। তাই দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করতে হবে। দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্তায়নে জড়িতদের ঘৃণা করলেই সমাজ থেকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বিদায় নেবে।’

শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত, উপমহাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলমকে সংবর্ধনা দিয়েছে উত্তরা কালচারাল সোসাইটি (ইউসিএস)। উত্তরা কালচারাল সোসাইটির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে উত্তরা সেক্টর ৬ এর বিসিক মিলনায়তনে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সংবর্ধিত করা হয় এই গুণী শিল্পীকে। উত্তরা কালচারাল সোসাইটির সদস্যদের নাচ, গান আর আবৃত্তিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গুণী কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

উত্তরা কালচারাল সোসাইটির সভাপতি শেরিফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উত্তরা কালচারাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল মাহমুদ ইয়ং।

সংবর্ধিত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলমের হাতে সম্মাননা এবং ক্রেস্ট তুলে দেন শেরীফা কাদের এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ দুলাল, বাংলাদেশ পথ নাটক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান এবং উত্তরা কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী।

সিন্ডিকেটের কবলে থার্ড টার্মিনালের কেনাকাটা

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনালের কেনাকাটায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সিন্ডিকেট। প্রকল্পের অবকাঠামো তৈরির কাজ ৩৭ শতাংশ শেষ। এখন চলছে অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) প্রকল্পের প্রতিটি পণ্যের মান ও গ্রেড স্পষ্ট করে দিলেও সিন্ডিকেট তা মানছে না। বিদেশ থেকে কেনার নাম করে প্রকল্পে ঢুকানো হচ্ছে মানহীন ও নিম্ন গ্রেডের পণ্য।

সিএএবি এসব দেখভালের দায়িত্ব যাদের দিয়েছে সেই কনসালটেন্টের অনেক সদস্য সিন্ডিকেটের পকেটে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

সিন্ডিকেটের চোখ এখন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে। ইতোমধ্যে তারা প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে বেশ কিছু নিম্নমানের পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসে।

বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর সব পণ্যের মান যাচাই বাছাই করা হয়। তাতে বেশির ভাগ পণ্য নিম্নমানের প্রমাণ হওয়ায় সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

বেবিচকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিন্ডিকেট এখন বেপরোয়া হয়ে পড়েছে প্রকল্পের লিফট, বৈদ্যুতিক কেবল, বৈদ্যুতিক সুইচ, ভাল্ব, টাইলস, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, স্কেলেটর, স্ক্যানিং মেশিন, এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) ও স্যানেটারি আইটেমসহ বেশ কিছু নিরাপত্তা পণ্য তাদের পছন্দের দেশ ও কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করার জন্য।

অভিযোগ, ঠিকাদার ও কনসালটেন্টের বেশির ভাগ সদস্যও সিন্ডিকেটের পক্ষে। জানা গেছে, কোনো পণ্য ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য মাত্র ছয়জনের স্বাক্ষর লাগে। সিন্ডিকেটের পক্ষে এর চেয়ে বেশি সদস্য থাকায় যেকোনো কার্যাদেশ পেতে বেগ পেতে হয় না।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, থার্ড টার্মিনালের প্রতিটি পণ্যের মান ও গ্রেড স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সুইচ, ভাল্বসহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য আনা হয়েছিল।

এগুলো যাচাই বাছাই করার পর দেখা গেছে সব নিম্নমানের। এ কারণে সব ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া একটি গ্রুপ নানাভাবে চেষ্টা করছে টার্মিনাল ভবনের লিফট ও স্কেলেটরসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইটেম কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে আনার।

আমরা বলে দিয়েছি ইরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের বাইরে এসব পণ্য আনা হলে সেগুলো ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা আছে পণ্যের মান নিয়ে কেউ কোনো হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে কোনো ছাড় নেই বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বেবিচক, কনসালটেন্ট ও ঠিকাদারের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। জড়িত আছে বেশ কিছু বিদেশি কোম্পানি ও তাদের স্থানীয় এজেন্ট।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য পুরো সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জানা গেছে, তার মালিকানাধীন একটি কোম্পানির পণ্যসামগ্রী ছাড়া অন্য কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থার্ড টার্মিনালে ঢুকতে পারে না।

দরপত্রে অন্য কোনো কোম্পানি নির্বাচিত হলেও তার ইশারা ছাড়া কার্যাদেশ পাচ্ছে না। বেবিচক ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছেন। শুধু তাই নয়, কোনো বিদেশি কোম্পানির প্রকল্পে কাজ পেতে হলে ওই প্রভাবশালী সদস্যকে নেপথ্যে লোকাল এজেন্ট (দেশীয় এজেন্ট) করতে হয়।

অভিযোগ আছে সম্প্রতি একটি বিদেশি কোম্পানি সংসদীয় কমিটির ওই সদস্যের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লোকাল এজেন্ট করে বিপুল অঙ্কের টাকার বৈদ্যুতিক কেবল সরবরাহের কাজ পান। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন একটি দেশীয় কোম্পানির কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকার মানহীন কেবল ক্রয় করে।

নিম্নমানের হওয়ায় দীর্ঘদিন কেবলগুলো প্রকল্প এলাকায় পড়ে ছিল। বেবিচক পুরো কেবল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সিন্ডিকেট সেগুলো অস্থায়ীভাবে প্রকল্পে ব্যবহার করে।

অভিযোগ উঠেছে, দেশে আন্তর্জাতিক মানের সরকারি-বেসরকারি কেবল কোম্পানি থাকলেও তাদের চেয়ে বেশি দামে বিদেশ থেকে নিম্নমানের কেবল ও বৈদ্যুতিক সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এসব কেবল আমদানি করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকার ভ্যাট ট্যাক্সও পরিশোধ করছে বেবিচক। জানা গেছে, সম্প্রতি কার্যাদেশ দেওয়া এ ধরনের একটি কেবল আমদানির চালানে ১শ কোটি টাকার বেশি গচ্চা যাবে সরকারের।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেবলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার কম গুরুত্বপূর্ণ ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে কঠোরতা আরোপ করেছে।

থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ ঠিকাদার সরকারের এই নির্দেশনা মানছে না। পারলে ইট-বালি, সিমেন্টও তারা বিদেশ থেকে আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনালের জন্য গোপনে সিন্ডিকেট বিদেশি একটি কোম্পানির কাছ থেকে কেবল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমনকি পুরো চালানের ভ্যাট-ট্যাক্সও দিচ্ছে বেবিচক। অথচ এর চেয়ে কম দামে সরকারি কোম্পানি ইস্টার্ন কেবল ও দেশীয় বিআরবি কেবল দিতে চাইলেও তাদের দাম বেশি বলে বাদ দিচ্ছে। দেশীয় কোম্পানির কেবল নিলে ভ্যাট-ট্যাক্সও দিতে হয় না। অভিযোগ মূলত ঘুস ও কমিশন বাণিজ্য করতে না পারায় আমদানির দিকে ঝুঁকছে সিন্ডিকেট।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, তিনি নিজেই ঠিকাদারকে বলেছেন, দেশে ইস্টার্নসহ বেশ কিছু ভালো মানের কেবল কোম্পানি আছে। বিদেশ থেকে আনার দরকার নেই। তিনি কোরিয়া থেকে আসা কেবলগুলোর মান যাচাই বাছাই করে দেখবেন বলেও জানান।

এর আগেও থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কেবল ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছিল। ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর আগে দেশীয় একটি কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকার কেবল ক্রয় করা হয়। কেবলের রোলগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছার পর সেগুলো দেখে সবাই আঁতকে ওঠেন।

সেগুলো এতটাই নিম্নমানের ছিল যে পুরো কেবল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী ছিল পরবর্তীতে পুরো চালানই প্রকল্পের নির্মাণকাজে লাগানো হয়। উলটো এতে বাধা দেওয়ায় বেবিচকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে থার্ড টার্মিনালের মনিটরিং থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, ওই চালানে বড় অঙ্কের টাকার আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের ফায়ার সেফটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দেশে তার উলটো। এখানে ফায়ার সেফটিকে অগ্রাহ্য করা হয়। তার মতে, দেশে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে।

শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে টার্মিনালেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মূল উৎস ছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট। কিন্তু তার পরও থার্ড টার্মিনালের ফায়ার সেফটি নিয়ে নির্বিকার বেবিচক। কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রকল্পে কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হলেও তারা নির্বিকার। উলটো কনসালটেন্ট ফার্মের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বেবিচকের নিয়োগকৃত কনসালটেন্ট ফার্মের কর্মকর্তা মাহতাব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পের চুক্তিতে বাধ্যবাধকতা থাকায় কেবলসহ কিছু বৈদ্যুতিক পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনতে হচ্ছে। দেশীয় কোম্পানির কেবলের দাম বেশি হওয়ায় ঠিকাদার কম দামে বিদেশ থেকে পণ্য আনছেন।

কারণ আমদানি করা পণ্যের ট্যাক্স ভ্যাট দিচ্ছে সরকার। যদি সরকার ২৫ শতাংশ ট্যাক্স-ভ্যাট বাতিল করে দেয় তাহলে বিদেশি কোম্পানির পণ্য দেশে আসা বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দাম বাড়ার কথা বলে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে নিয়েছেন ঠিকাদার। তার পরও নিম্নমানের পণ্য সামগ্রী ক্রয় করার রহস্য কী? এর অন্যতম কারণ হচ্ছে কমিশন বা ঘুস বাণিজ্য।

২০১৯ সালের শেষে শুরু করা হয় এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ। শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের জুনে। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রথমে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে প্রকল্প ব্যয় সাত হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়।

নির্মাণকাজে অর্থায়ন করছে জাইকা। জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুই দেশের চার শতাধিক দক্ষ জনবল কাজ করছেন প্রতিদিন।

জানা গেছে, কেনাকাটার জন্য প্রকল্পের মূল ঠিকাদার আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে সাব কনট্র্রাকটর নিয়োগ দিয়েছে। দুই সাব কনট্রাকটর আবার একাধিক সাব কনট্রাকটর নিয়োগ করে। যার কারণে কেউ কারও কথা শুনছে না। একটি পণ্য নানা ধাপে ক্রয় করতে গিয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। সবাই লাভ করছে। গুণগত মান কেউ দেখছে না।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনে উৎসবে মাতবে ৬৪ জেলা, হবে হাতিরঝিলে লেজার শো

দেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করা হবে। সেতুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একযোগে সারা দেশে দেখানো হবে। দেশের ৬৪ জেলা উৎসবে মাতবে এই উদ্বোধনী দিনে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।

এ উপলক্ষে ২৫ জুন থেকে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলায় পাঁচ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলে লেজার শোর আয়োজন করা হবে।

শুক্রবার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদযাপনে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২৫ জুন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় হবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এ উপলক্ষে ওই এলাকায় ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এর আগে সারা দেশে একযোগে পদ্মা সেতুর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করতে ১ জুন সব ডিসিকে চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী-২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। বাকি টুকটাক কাজও ১৫ জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিদিন সেতুতে আট হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করবে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।

কিডনি রোগী কোন খাবার কী পরিমাণ খাবেন

মানবদেহের জটিল রোগগুলোর মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। কিডনির রোগ হলে রসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সারাজীবন সতর্কতার সঙ্গে খাবার খেতে হয়।

দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসায় একমাত্র উপায় হলো সঠিক পথ্য। রক্তে ইলেকট্রোলাইটসের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ, রক্ত ও ইউরিনে এলবুমিনের পরিমাণ এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ভেদে পথ্যকে সাজাতে হয়।

কিডনি রোগী কোন খাবার কী পরিমাণ খাবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতি।

কার্বোহাইড্রেট : কিডনি রোগী মোট ক্যালোরি চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়। খাবারে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বলে কাবোর্হাইড্রেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শর্করার মাত্রা বিবেচনা করে কার্বোহাইড্রেট হিসাব করা হয়। ভাত, ময়দা, রুটি, চিরা, সুজি , চালের গুঁড়া, চালের রুটি, সাগু, সেমাই ইত্যাদি কিডনি রোগীর জন্য উত্তম কার্বোহাইড্রেট।

ক্যালরি : কিডনি রোগীদের সাধারণত ক্যালরির চাহিদা অন্যান্য রোগীদের তুলনায় বাড়ানো হয়। সাধারত প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোগী ভেদে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

প্রোটিন : প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগে প্রতি কেজি ওজনের জন্য পয়েন্ট পাঁচ থেকে পয়েন্ট আট গ্রাম প্রোটিন বরাদ্দ করা যেতে পারে। সাধারণত ডাল, বাদাম, কাঁঠালের বিচি, সিমের বিচি ইত্যাদি রোগীকে বর্জন করতে হয়।

প্রতিদিনের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির মাংস ও দুধ বা দই ইত্যাদি থেকে হিসাব করে বরাদ্দ করা হয়। গরু, খাসির মাংস, কলিজা, মগজ ইত্যাদি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে বলা হয়।

সবজি : রক্তে পটাশিয়াম, ইউরিক এসিডের মাত্রা, ফসফরাস ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সবজি হিসাব করা হয়। অতিরিক্ত পিউরিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি, পিচ্ছিল ও গাঢ় লাল রঙের শাক সবজি এড়িয়ে যেতে হবে। কিডনি রোগীদের জন্য চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিংগা ইত্যাদি পানীয় সবজি উপকারী। উপকারী হলেও এগুলোর পরিমাণ মেনে চলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা সবজির সালাদ, সবজি স্যুপ ইত্যাদি কিডনি রোগীদের এড়িয়ে চলতে হয়।

ফল : কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হয়। অক্সালিক এসিড, ইউরিক এসিডস, পটাশিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরো অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়। তিন চারটি ফল রোগী ভেদে সীমিত আকারে দেওয়া হয়। যেমন : আপেল, পাকা পেপে, পেয়ারা ইত্যাদি।

তরল/পানি : কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরল নিয়ন্ত্রণ জরুরি। দৈনিক চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে তরলের হিসাব করা হয়। শরীরের ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর- এসবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনো কখনো দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ হয়। অনেকেই অসুস্থ কিডনিকে সুস্থ করার জন্য অতিরিক্ত পানি খান, এটি ভুল।