সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 267

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

বিমা খাতে ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। নিজের ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৫টি ব্যাংকে ৩০টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

পদ্মা সেতু তৈরির চিন্তা শুরু খালেদা জিয়ার সময়: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয় খালেদা জিয়ার আমলে। ১৯৯৪-৯৫ সালে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তিনি (খালেদা জিয়া)।

সেতু নির্মাণ নিয়ে সে সময় বিশ্বব্যাংক ও জাপানের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে সেতুটির নির্মাণ ব্যয় স্থির করা হয় ৮ হাজার কোটি টাকা। মঙ্গলবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, পৃথিবীর কোনো সেতু এত ব্যয়বহুল বলে বিএনপির জানা নেই। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। তা হলে এত টাকা কোথায় গেল? তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের আসাম রাজ্যে লোহিত নদীর উপর নির্মিত ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে।

তিনি বলেন, পদ্ম সেতু নির্মাণে যে ব্যয় হয়েছে তা দিয়ে আরও তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেত। সরকার জনগণের জন্য উন্নয়ন করছে না। পদ্মা সেতু করেছে নিজেদের পকেট ভরতে ও টাকা পাচার করতে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ দুবেলা ঠিকভাবে খেতে পারছে না। বাচ্চাদের জন্য প্রোট্রিন জোগাড় করবে, সেটাও করতে পারছে না।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনারা যাবেন কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ প্রশ্ন ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। তার নেত্রী (শেখ হাসিনা) খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে টুস করে ফেলে দিতে বলেছেন। আপনি তাকে হত্যার হুমকি দেবেন আর তিনি সেখানে যাবেন-এটা মনে করার কারণ নেই। যে সেতু থেকে খালেদা জিয়াকে ফেলে দিয়ে হত্যার হুমকি দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কুমিল্লার সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, একজন সংসদ-সদস্যকে নির্বাচনি এলাকা থেকে বের করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাকে নির্বাচনি আইন মানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, নির্বাচন কমিশন কতটা অসহায়। আর এই কমিশনের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হবে আপনারাই বলেন।

মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মাসহ দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বিএনপি এর নিন্দা জানায়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচিত ছিল নিন্দা জানানো। এ ধরনের বক্তব্য আমাদের ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছে তা সরকারের বলা উচিত ছিল।

সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, মহিলা দলের নেত্রী ফোরাতুন নেহার প্যারিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, শ্রমিক নেতা দানেশ আলী, আব্দুল জব্বার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আগামীতে জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে: অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল ছিল উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিশ্বাস করতেন গ্রামবাংলার উন্নয়ন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি গ্রামকেন্দ্রিক প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেছিলেন; যার সুফল আজ গ্রামবাংলার মানুষ ভোগ করছে। তিনি নারী সমাজের জন্যও অনেক কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। তিনি বিশ্বাস করতেন, এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঘরে রেখে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না। তাই তিনি পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় মহিলা পার্টি গঠন করেছিলেন।

সোমবার দুপুরে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির এক কর্মী সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এসব কথা বলেন।

জাতীয় মহিলা পার্টির নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন আপনাদের কাজ হচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়া। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বুঝিয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির পতাকাতলে নিয়ে আসা এবং জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করা। পল্লীবন্ধুর নীতি আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, মানুষ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামল দেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা! তাতে মানুষ আজ দিশেহারা। সেদিকে সরকারের কোনো খেয়াল নেই। আর জাতীয় পার্টির শাসনামলে মানুষ কত সুখে শান্তিতে ছিল, পেট ভরে ভাত খেতে পারত। জাতীয় পার্টি উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে। শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হচ্ছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

গাজীপুর জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই কর্মী সমাবেশের উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও জাতীয় মহিলা পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাজমা আকতার এমপি।

গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব কাউন্সিলর কামরুজ্জামন মণ্ডলের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য তসলিমা আকবর রুনা, জেসমিন নূর পিয়াংকা, আসমা আক্তার রুমি, পারুল বেগম, মিথিলা রুয়াজা, গাজীপুর জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির নেত্রী জিন্নাত আরা, হাসিনা বেগম, ডলি আক্তার প্রমুখ।

উন্নত রাষ্ট্রের পাশাপাশি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, উন্নত রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের দেশকে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে। মানবিকতার চর্চা করতে হবে, মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা সেই মানবিকতারই চর্চা করছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, আমি জেনেছি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। মানবিক এমন কাজের জন্যে প্রচার ও প্রশংসারও প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এতে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হবে, উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালে ১০ জুন ১৯৭২ দেশে প্রথম স্বেচ্ছা রক্তদানের সূচনা হয়। এদিন বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরবর্তীকালে জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম নিজে রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম স্বেচ্ছা রক্তদান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক মোটিভেশন এম. রেজাউল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রায় তিনশ’ রক্তদাতাকে সম্মাননা স্মারক, মেডেল ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

‘এমন কিছু ঘটাতে পারে যাতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনটা করতে না পারি’

২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানসহ সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল- আমাদের কাছে তথ্য আছে, এমন একটা ঘটনা ঘটাবে যাতে আমরা উদ্বোধনটা করতেই না পারি।

সরকার প্রধান বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ পরিকল্পনার প্রথম দিন থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে বলে মিথ্যা অপবাদ আমাদের দিয়েছিল। দুর্ভাগ্য, আমাদের একজন স্বনামধন্য মানুষ, যাকে আমি সবচেয়ে বেশি সুযোগ -সুবিধা দিয়েছিলাম। সেই ড. ইউনুস বেইমানি করেছেন। তিনি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিন লাখ ডলার ডোনেশন দিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে হিলারিকে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। হিলারি আমাকে ফোনও করেন। আমার কাছে ধর্ণা দেন, তাকে আমি আইনের কথা বলেছি। বিশ্ব ব্যাংকের কাছে বার বার মেইল পাঠান, দুর্নীতি হয়েছে বলা হয়। আমি বলেছিলাম- দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম যে, এটা প্রমাণ করতে হবে। পরে এটা ভুয়া প্রমাণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এসএসফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শফিকুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ, তিন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এসএসএফ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলার ২০০ বছর পদার্পণে যুক্তরাজ্যে নোয়াখালী উৎসব

মেঘনার অববাহিকায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জন্ম নেওয়া নোয়াখালী বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি জেলা। যার পূর্ব নাম ছিলো ভূলুয়া। ১৮২১ সালে ভূলুয়া নামে প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৮৬৮ সালে এই জেলার নাম বদলে রাখা হয় নোয়াখালী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান, জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়অংশগ্রহণসহ নানা কারণে সারা বাংলাদেশে এই অঞ্চল বেশ আলোচিত। ২০২১ সালে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার ২০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে নোয়াখালী সমিতি ইউকের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে নোয়াখালী উৎসব ২০২২ উদযাপিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সি হলে ১২ জুন রোববার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় উদ্বোধন হয়ে নানা আয়োজন শেষে রাত ১১টায় শেষ হয় নোয়াখালীবাসীর এ উৎসব। এদিন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত নোয়াখালীর মানুষেরা দিনভর আনন্দ-উৎসবে পার করেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিলেতের স্থানীয় রাজনীতিবিদ, বেশ কয়েকজন এমপি, মেয়র, কাউন্সিলর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিসহ অনেকে। যোগ দেন সদ্য নির্বাচিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র লূতফুর রহমান। এ সময় যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের বেশ কয়েকজন নির্বাচিত কাউন্সিলর, মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা ও কমিউনিটিতে অবদান রাখা অনেক ব্যক্তিকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়াও শিশুদের চিত্রাংকন ও মেধাবী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা নোয়াখালীর ২০০ বছর ধরে চলে আসা ইতিহাস, ঐতিহ্যকে স্মরণ করেন। এ আয়োজন ঘিরে তারা বেশ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা বলেন, নোয়াখালীর ঐতিহ্যের ২০০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে বিলেতে বসবাসরত নোয়াখালীবাসীকে নিয়েএকটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে আজকের এ আয়োজনটি। এছাড়াও যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠা তরুণ প্রজন্মের কাছে নোয়াখালীর নাম ইতিহাস, সংস্কৃতি, গৌরব ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে পারা আমাদের আয়োজনের অন্যতম সার্থকতা।

অনুষ্ঠান আয়োজন শেষে রাফেল ড্র অনুষ্ঠিত ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনভর অনুষ্ঠান আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ সাইপ্রাসের কমিটি ঘোষণা

ইউরোপের পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ দেশ নর্থ সাইপ্রাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ সাইপ্রাসের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় আলসাঞ্জেক, গিরনে কনফারেন্স হল রিভারসাইড হোটেলে সালেহ আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা, মিনাজ উদ্দিনকে সিনিয়র উপদেষ্টা, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সভাপতি ও আরাফাতুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন সাইপ্রাস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুল হক সাইপ্রাস সাইন্স ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক অধ্যয়নরত আছেন।

কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- সহ-সভাপতি সাইদ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইসা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন মামুন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আহসান জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।

পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। নর্থ সাইপ্রাসে বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ সাইপ্রাস ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মিনাজ উদ্দিন। মিনাজ উদ্দীন ২০০৫ সালে জার্মান চলে যাবার পর দীর্ঘদিন অ্যাসোসিয়েশনের কাজ বন্ধ থাকে। মিনাজ উদ্দিন ২০১৮ সালে আবারো সাইপ্রাস ফিরে এলে তার সম্মতিতে সালেহ আহমেদ অ্যাসোসিয়েশন পুনরায় চালু করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলেন, নর্থ সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয়। যেগুলো অ্যাসোসিয়েশন থাকলে সমাধান করা সম্ভব। সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব কাজ করা হবে বলে তারা অঙ্গীকার করেন সেগুলো হলো- ১. নর্থ সাইপ্রাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বাসস্থানের ব্যাপারে সহায়তা করা। ২. পড়ালেখা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মেরিটের ভিত্তিতে স্কলারশিপ ব্যাবস্থা করে দেয়া। ৩. বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই টাকার সঠিক তথ্যের অভাবে ভিসা জটিলতায় পড়েন। তাদের গাইডলাইন করা এবং বিনা খরচে তাদের ভিসা জটিলতা দূর করতে সহায়তা করা। ৪. প্রতি বছর একাডেমিক প্রকাশনা এবং রেজাল্টের ভিত্তিতে “বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড ” প্রদান করা। ৫. শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা পর্ষদ আলোচনা করবেন। ৬. নিবন্ধিত সংগঠন বিধায় অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা পর্ষদ সহজেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কথা বলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। ৭. নর্থ সাইপ্রাসে প্রবেশকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অবৈধ উপায় অবলম্বনে নিরুৎসাহিত করা।

অ্যান্টার্কটিকায় লুকানো দুনিয়া

পৃথিবির দক্ষিণতম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় বরফের নিচে সন্ধান মিলেছে নতুন এক মেরিন দুনিয়ার।

সেখানে অদ্ভুত সব প্রাণী রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিউজিল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী। তারা জানিয়েছেন, অ্যান্টার্কটিকায় বরফের নিচে একটি মেরিন লাইফের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তাদের বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও টেকভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে লাইফ সায়েন্স।

বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকার রস আইস শেল্ফ থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি মোহনা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এ নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়েছেন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলার ফলে এর ভূমিকা কী হতে পারে, তা দেখাই ছিল বিজ্ঞানীদের মূল উদ্দেশ্য।

এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা বরফের মধ্যে ঢোকেন। আর সেখানেই তাদের ক্যামেরায় অস্বাভাবিক কিছু ‘মুভিং অবজেক্ট’ ধরা পড়ে। ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা জানান, বরফের নিচে ক্ষুদ্র প্রাণীদের বিরাট একটি দল রয়েছে।

এ বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য ক্রেগ স্টিফেন্স বলেন, কিছুক্ষণের জন্য আমরা ভেবেছিলাম আমাদের ক্যামেরার হয়তো কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যখন আমরা আরও খুটিয়ে খুটিয়ে লক্ষ করলাম, তখন দেখতে পাই ৫ মিমি আকারের আর্থ্রোপডের একটি ঝাঁক।

তিনি আরও যোগ করে বললেন, আমরা ওই আইস শেল্ফের অন্যান্য অংশেও পরীক্ষা করে দেখেছি এবং ভেবেছিলাম যে, আমাদের চারপাশের জিনিসগুলো আয়ত্তের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, চমকে গেলাম।

বৈশ্বিক সার্ভার বাজারের আয় বাড়বে ১৭ শতাংশ

চলতি বছর বিশ্বব্যাপী সার্ভার বাজারের আয় ১৭ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ১৭০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। এমনটাই জানা গেছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন উনুযায়ী।

প্রতিষ্ঠানটি গ্লোবাল সার্ভার সেলস ট্র্যাকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে আইটি অবকাঠামো নবায়ন ও উন্নয়নে ব্যয় কম থাকায় ওই দুই বছরে সার্ভার খাতের আয় কম ছিল। বর্তমানে সুপারকম্পিউটিং, এজ কম্পিউটিং ও ফাইভজি সংযোগের ওপর জোর দিয়ে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো। ডিজিটাল রূপান্তর ও ক্লাউডের ওপর জোর দেওয়ার কারণে চলতি বছরে সার্ভার খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিসার্চ অ্যানালিস্ট আকশারা ব্যাসি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে কোম্পানিগুলো তাদের অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে। অবকাঠামোর দিক থেকে ওয়েব ৩.০-এর চাহিদা বৃদ্ধি এতে ভূমিকা রাখছে। ডাটা বিবর্তনের চাহিদা পূরণ ও গ্রাহকদের ক্লাউড সেবার জন্য প্রস্তুত করতে আইটি অবকাঠামোয় বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে চাপের মুখে রয়েছে কোম্পানিগুলো।

সার্ভার বাজারে নেতৃত্বের আসনে রয়েছে ডেল ও এইচপিইর মতো কোম্পানি। তবে লেনোভো, ইনস্পার ও সুপারমাইক্রোর মতো কোম্পানিও শক্তিশালী অবস্থানের চেষ্টা করছে।

এদিকে করোনা মহামারিতে বছর দুয়েক শ্লথগতির পর চলতি বছরে এ খাত বেশ চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে হাইব্রিড ক্লাউড ব্যবস্থায় রূপান্তর ও বিদ্যমান অবকাঠামো নবায়নে নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে সার্ভার খাতের আয় বাড়বে। এ ছাড়া ফাইভজি সেবার বিস্তার, গাড়ি শিল্প, ক্লাউড গেমিং ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের চাহিদা বৃদ্ধি ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে অ্যাজ-অ্যা-সার্ভিস ও পে পার ইউজ মডেলের সেবার বিস্তার সার্ভার বাজারের রূপান্তরে ভূমিকা রাখছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে এইচপিইর পয়েন্টনেক্সট, ডেলের এপেক্স ও লেনোভোর ট্রুস্ক্যালের মতো সার্ভার কোম্পানি। গ্রাহকদের ন্যূনতম অর্থ ব্যয় এ পরিষেবা গ্রহণে নমনীয়তার কারণে ব্যবসায়িক মডেল দুটি বেশ সফলতা দেখছে।

বিয়ের রাতের বিড়াল সমাচার

বেশ অনেকদিন আগের কথা। ঘটনা পঙ্খানুপুঙ্খ মনে না থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন স্মৃতি থেকে বর্ণনা করছি। খুব সকালে মহানগর প্রভাতীতে যাত্রা করছিলাম চট্টগ্রামে অফিসের কাজে। ট্রেন ছাড়তে তখন বেশ বাকি। বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠার কারণে ক্লান্তি লাগছিলো। নির্দিষ্ট বগিতে উঠে আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম। মুখোমুখি দুটো আসন। জানালার পাশে। আমার হাতে একটি ছোট্ট ব্যাগ, যাতে একদিনের জামা কাপড় আর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সযতনে ব্যাগটি কোলের উপর রেখে চোখ বন্ধ করতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন জেগে উঠলাম দেখলাম প্রায় ঘন্টা খানেক ঘুমিয়েছি। ট্রেন মনে হয় অনেক আগেই চলতে শুরু করেছে। আমার সামনে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। গায়ের রং শ্যামলা, চোখে চশমা। ভদ্রলোক মনে হয়ে এতক্ষন আমাকেই দেখছিলেন গভীর ভাবে। আমি চোখ মেলতেই তিনি তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন আমার দিক থেকে। তাঁকে বেশ পরিচিতই মনে হচ্ছিলো। কোথায় যেন দেখেছি ? অথবা এমন চেহারার আর কাউকে হয়তো চিনি। সে যা হোক, যাত্রা পথে সাথে বই রাখি, যা পড়তে পড়তে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। এ আমার অনেক দিনের অভ্যেস।

রেলগাড়িতে ভ্রমণ আমার সবচেয়ে প্রিয়। শৈশবে যখন রেলগাড়িতে ভ্রমণ করতাম, তখন শরীরের প্রায় অর্ধেক থাকতো জানালার বাইরে। কখনো নির্মল, কখনো বা ধুলো মাখা বাতাস আমার সারা শরীরে পরশ বুলিয়ে যেত। জানালা দিয়ে খুব উপভোগ করতাম বাইরের বিস্তৃত শস্য খেত, প্রায় শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল, মাঝে মধ্যে নদী -নালা, দূরে আকাশের গায়ে মিশে থাকা গাছপালা। রেলগাড়ি চলার সময় যে দুলোনি হতো সেটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো। ক্লান্ত হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে রেলগাড়ির দুলোনি উপভোগ করতাম। দোলা খেতে খেতে একসময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখনো ভালো লাগে রেলগাড়ির দুলোনি।

বই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। কারণ সামনের লোকটি আমার দিকে চেয়ে আছে। কেমন একটি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। পড়া বন্ধ করে হঠাৎ তাঁর দিকে তাকাতেই সে আবার তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। আমি ভনিতা না করে যতটুকু সম্ভব মুখের বিরক্তি দূর করে হাসি মুখে তাঁর দিকে তাকালাম। এবার তাঁর অস্বস্তির পালা। একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো, ভাই আপনাকে খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। ভাই কি চট্টগ্রামে থাকেন? আমি বললাম, না আমি ঢাকায় থাকি। তিনি বললেন, ঢাকা কি আপনাদের আদি বাড়ি। আমি বললাম, না আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তিনি যেন তড়িতাহত হলেন। বলেন কি, ‘ আমার বাড়িও তো সিরাজগঞ্জ। তা আপনার বাড়ি শহরের কোন এলাকায় ? আমি বললাম আসলে আমাদের আদি বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তবে আমি আমার মেঝো খালার সিরাজগঞ্জের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলাম। তাদের বাড়ির নাম “চিটাগং কুঠি”। তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, আপনি কি চররায়পুর স্কুলে পড়েছেন কখনো? আমি বললাম, হা দু’ বছর পড়েছি। তিনি ফুটবলের পেনাল্টি শটের মতই নিশ্চিত ভাবেই বললেন, আমার নাম সাত্তার, এ নামে কি কাউকে চিনতেন ? এবার আমার অবাক হবার পালা, আমি আমার নাম বলা মাত্রই উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু তোর সাথে এভাবে দেখা হবে কোনো দিন ভাবি নি। বললাম, তোর তো কোনো পরিবর্তনই হয় নি মুখের আদল অবিকল রয়ে গেছে, শুধু ছোট মুখটি আকারে বড় হয়েছে। তারপর অনেক কথা, অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প। জেনেছিলাম, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স করে সিরাজগঞ্জ এক বেসরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। তারপর সিরাজগঞ্জ বি এল কলেজে অধ্যাপনা করেছিল কিছুদিন। বর্তমানে ঢাকার এক বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করছে। পরীক্ষার এক্সটার্নাল হিসেবে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। এখন নাকি নতুন সিরাজগঞ্জ শহর আমি চিনতেই পারবো না। ভাবলাম, যে শহরে স্মৃতি নেই বললেই চলে তাকে চেনার আগ্রহ তেমন নেই। এখন আমার একমাত্র আগ্রহ সাত্তারের জীবন কাহিনী শোনার। নিজের চেষ্টায় একজন দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে তার এমন উত্থান আমার বেশ ভালো লাগছিলো। তখন হাতে অনেক সময় প্রায় পাঁচ ঘন্টা লাগবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে। আমি বললাম, তোর সংসারের কথা বল। সে বললো, বিয়ে করেছি প্রায় সাত বছর হয়ে গেলো। আমার একটি মাত্র মেয়ে নিয়ে আমরা ভালোই আছি। তারপর বললো , একটু বস আমি বাথরুম থেকে আসছি। আমি ফিরে গেলাম আমার শৈশবে, সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জের চররায়পুর স্কুলে। সাত্তার গ্রামের অতি সহজ সরল একজন মানুষ। সিরাজগঞ্জ চর রায়পুর স্কুলে আমার সহপাঠীদের মধ্যে যে বন্ধুরা স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলো তাদের মধ্যে সাত্তার অন্যতম। সে সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করতো, তাদের হিসাব জ্ঞান হলেই তাদের অভিভাবক লেখাপড়া বন্ধ করে তাদের ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দিতেন। সাত্তার উৎরাতে পেরেছিলো কারণ তার বড়ভাই লেখাপড়া শেষ করে স্থানীয় কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন যা সাত্তারকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো।

প্রতিটি মানুষের বন্ধুত্বের পেছনে রাসায়নিক বন্ধন থাকে। তা না হলে ঠিক বন্ধুত্ব গাঢ় হয় না। সাত্তারের সাথে আমার রাসায়নিক বন্ধন হয়েছিল। আমরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি তখন তার বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ওই বয়সে বিশবিদ্যালয় না বুঝলেও বুঝতাম অনেক উঁচু ক্লাসে পড়েন। ওরা নিম্ন বিত্ত পরিবারের। সাত্তারের সাথে আমার বন্ধুত্বের কাল মাত্র দু’ বছর। তারপর আমরা পাবনা চলে যাই। এরপর আর সিরাজগঞ্জ শহরে যাওয়া হয় নি। কারণ সে সময় আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে, পাবনার নগরবাড়ী ঘাট থেকে লঞ্চে সোজা আমাদের গ্রামে যেতাম।

সাত্তার ফিরে এসে তার আসনে বসলো। কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে খাঁটি সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা বেরিয়ে এলো ওর মুখ থেকে। বললো, বন্দু, আমগোরে ডাকার বাসায় তোমার কিন্তু আসাই নাগবো নে। আবার কইলাম একলা আইসো না, পরিবার হাতে কইরা নিয়া আসপা, বুজছাও। আমি বললাম, অবশ্যই যামু। আমি আবার শৈশবে ফিরে গেলাম। ছেলেবেলায় আমার জীবনে একবারই সাত্তারের বাসায় গিয়েছিলাম। সেদিন স্কুল কি কারণে যেন ছুটি হয়েছিল, মনে পড়ছে না। দুই বন্ধু হাটছি , হঠাৎ সে বলে বসলো, নও আমগোরে বাড়িত যাই। আমিও কি মনে করে ওর সাথে রওনা হলাম। বাড়িতে ঢোকার মুখে, দেখি একটি ছোট ছেলে, চোখ বন্ধ করে একটি লাঠি ঘোরাচ্ছে আর বলছে, আন্দিকুন্দি ভাই, কারো যদি বাড়ি নাগে আমার দোষ নাই। আমি বিপদ দেখতে পেলাম। এটুকু বুঝেছিলাম ওর লাঠির বাড়ি আমার দেহে পড়লে তার জন্য সে দায়ী হবে না। মারাত্মক ঝুঁকি। এ ঝুঁকির মধ্যে না যাওয়াই ভালো তাই আর দেরি না করে এক দৌড়ে আমাদের বাড়িতে এসে বাঁচলাম। পরে জেনেছিলাম সে সাত্তারের ছোট ভাই, ভারী দুষ্ট ছিলো। আমি অতীত স্মৃতির কথা তাকে বললাম। সে হেসেই খুন। সে বললো, সে কথা তোমার মনে আছে ? আমি বললাম থাকবে না আবার, লাঠির বাড়ি বলে কথা। তারপর বললাম, এবার নিশ্চিন্তে তোমার বাড়ি যাওয়া যায়,কারণ তোমার ছেলে সন্তান নেই। দুজনেই প্রাণ খুলে হেসে উঠলাম। আমি ওর ছোট ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো না মানুষ হয় নাই, কোনো মতে এস এস সি পর্যন্ত পড়েছিল। আমরা তাকে মিডল ইস্ট পাঠিয়ে দেই। ওখানে বেশ ভালোই করেছে, বিয়ে করেছে আমার আগেই। এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখেই আছে ওখানে। পরিস্থিতি হালকা করার জন্য বললাম, বাদ দে, তোর কথা বল, তোর কি প্রেমের বিয়ে না কি দেখাদেখির বিয়ে ? লাজুক হেসে বললো, কহন যে ছাত্রীর প্রেমে পইড়া গেলাম তা কি কওয়া পারি ?তারপর আমার বাবা মাকে জানাইল্যাম, বিয়া কইরা একবারে বউ দ্যাশে নিয়ে আসমু। আমি বললাম, কেন তোর বাবা মাকে তোর সাথে রাখিস না কেন ? সে বললো, তাদের বার্ধক্য এমন পর্যায়ে গ্যাছে যে তাগো নড়াচড়ার উপায় নাই। সব কিছু চিন্তা কইরা দ্যাহাসনার লোক রাইহা দিসি। বললাম, তোর বড় ভাই ? সে বললো, তিনি পি এইচ ডি করতে সেই যে লন্ডন গেলেন আর দেশে ফিরলেন না। তবে বাবা মার জন্য প্রতি মাসে অনেক টাকা পাঠায় আমার মাধ্যমে। বললাম, তারপর? সে বললো, তারপর আবার কি ? আমি বললাম, গাছে উঠলো, পড়লো আর মরলো এমন গল্প শুনতে চাই না। ঝেড়ে কাশ। সে তার প্রথম প্রেম আর দ্বিতীয় প্রেম ও পরিণয়ের সব কথাই সুন্দর বর্ণনা করলো। সাত্তার খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারে। এক পর্যায়ে সে বললো, বন্ধু তোমার সাথে শুদ্ধ ভাষা বলতে ভালো লাগছে না। সিরাগঞ্জের লোকের হাতে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা মানে আঞ্চলিক ভাষাকে অপমান করা। আমি বললাম, কোনো অসুবিধা নাই। তারপরও আঞ্চলিক ভাষার সাথে মাঝে মাঝে শুদ্ধ ভাষা ওর অজান্তেই বেরিয়ে আসছিলো। তার সুন্দর সাবলীল বর্ণনায় আমি মুগ্ধ। আর কলেজের তরুণী প্রেমে পড়বে না তা কি হয় ! তার দুটি প্রেম কাহিনী গল্প-উপন্যাসের মত। আমি তার বলার মত করে লিখতে পারলাম না। ওর বলার মত লিখতে পারলে বেশ ভালো হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একবার প্রেম এসেছিলো নীরবে, কারণ সে প্রেম ছিল এক তরফা। সে প্রেম নিভৃতে নির্জনে গুমরে গুমরে কেঁদে শুধুই সাত্তারের হৃদয় জ্বালা বাড়িয়েছে এর বেশি কিছু না। তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল কিন্তু সাত্তার তাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয় নি। সদা ভয়, সদা লাজ , কি জানি সে কি মনে করে। সাত্তারকে আবার বাজে ছেলে ভেবে না বসে। হয়তো ভাবতে পারে প্রেম করে তো বখাটে ছেলেরা। বেশ কিছুদিন পর তারই এক সহপাঠী সবার সামনে সে মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। মেয়েটি রেগে চলে গিয়েছিলো। সাত্তার তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তার নিজের মনে ভালোবাসার ফল্গুধারার স্রোতস্বিনী নদীর বেগে বয়ে গিয়েছিলো। আবেগ উচ্ছাসে সে রাত ঘুমাতেই পারে নি। পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীষ্মের ছুর্টির বন্ধ তাই সে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো। ছুটি শেষে এসে যা দেখলো সে ধকল সাইবার মতো না। মেয়েটি সেই ছেলেটিকে নিয়ে সাত্তারের সাথে পরিচয় করে দিয়ে, বললো, ওকে তো জানিস সাহসী ছেলে। আমাকে কোনো ভনিতা না করে তোদের সবার সামনে আমাকে ভালোবাসার কথা বললো। অনেক ভেবে চিনতে মন স্থির করে ফেললাম ওর সাথেই বাকি জীবন কাটাবো। ওর কথা শুনে সাত্তারের হৃদযন্ত্র বন্ধ হবার উপক্রম। বলে কি! প্রেমের প্রস্তাব শুনে যে মেয়ে রেগে চলে গেলো সে কি না শেষ পর্যন্ত তাকেই বেছে নিলো ? তারপর অনেকদিন সে স্বাভাবিক হতে পারে নি। তার মনে একটি ক্ষোভের সৃষ্টি হলো। তারপর মেয়েদের এড়িয়ে চলেছে বাকি জীবন।

তারপর দ্বিতীয় প্রেমের কথা। সাত্তার তখন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক। সে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বই পড়তে দিতো। একদিন একটি বইয়ের মধ্যে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি প্রেম পত্র পেলো, চিঠির শেষে কোনো নাম নেই, তাই বুঝতে পারছিলো না কে লিখেছে। অনেকদিন পর মেয়েটি নিজেই ধরা দিলো। সাত্তার খুবই অবাক! এ যে এমন ধারাবাহিক প্রেম-পত্র লিখতে পারে তা কখনোই ভাবতে পারে নি। এবার সে ভুল করলো না। লোক চক্ষুর অন্তরালে তাকে ভালোবাসার কথা জানালো। শিক্ষক ছাত্রীর প্রেমের কথা জানাজানি হলে সর্বনাশ। তাই তারা গোপনে প্রেম পত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের প্রেমের রাজ্যে স্বর্গের বাগান রচনা করলো। অবশেষে পরিবারে প্রস্তাব পাঠালো। আমি বললাম, বাহ্ বেশ ভালো তো ! তোদের প্রেম কাহিনী খুবই মজার। সে বললো তবে একটি ক্ষুদ্র সমস্যা হয়েছিলো বন্ধু। আমি বললাম, সে আবার কি? সাত্তার বললো, বুঝলি সবই কপাল। আমি বললাম, বল না কি সমস্যা। সে বললো, আমার বিয়ের উত্তেজনা সারা কলেজে ছড়িয়ে পড়লো। আমার তখন আর্থিক সঙ্গতি ছিল এমন যে কোনোমতে বিয়ে করে বৌ বাড়ি নিয়ে আসা। এতো লোক খাওয়ানের তো আমার সামর্থ্য ছিল না। তবে আমার শশুর মশায় সব ব্যবস্থা করে ধুমধামের সাথে বিয়ের দিয়েছিলেন। এমন সুন্দর আনন্দের সময় একটি ভুল করে ফেললাম। আমি বললাম, কি ভুল করলি, প্রেম পরিণয় সবই তো ঠিক !

কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো, আমরা সব সময় শুনে আসছি বিয়ের রাতে বিড়াল মারার কথা। এই জঘন্য চিন্তা মানুষের মনে কি ভাবে আসে বুঝলাম না। প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে অদ্যাবধি চলে আসছে কি ভাবে গৃহস্বামী স্ত্রীকে নিজের হুকুমের দাস বানাবে। স্ত্রীকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী, বন্ধু বা জীবনসঙ্গী না ভেবে অধীনস্ত কর্মচারী ভাবার উদাহরণ অনেক আছে। অনেকে অহংকার করে বলে, আমার ভাইয়ের মারাত্মক পার্সোনালিটি, আমাদের ভাবীকে সবসময় চোখের ইশারায় রাখে। কেউ কিন্তু একবার বলেন না আমার বাবার পার্সোনালিটি অনেক তিনি আমার মাকে দাপিয়ে বেড়ান। অথবা আমার বোনের স্বামী বোনকে করা শাসনে রাখেন, বাপরে তার কি পার্সোনালিটি! নিজের বেলায় ষোলো আনা। এ ব্যাপারে একটি কৌতুক মনে পরে গেলো, তোকে বলি, তুই হয়তো শুনে থাকবি তারপর বলছি, দুই মহিলা প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে খোশ গল্প করেন। একদিন প্রথম মহিলা জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা আপা আপনার ছেলে মেয়ের তো বিয়ে হলো বেশ ক’ বছর, তা তারা কেমন সংসার করছে ? দ্বিতীয় মহিলা বললেন, কি আর বলবো আপা আমার মেয়ের বর কি যে ভালো। আমার মেয়েকে কোনো কষ্টই দেয় না। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা রেডি করে মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকে। তারপর অফিসে যায়। কোনো সময় অফিস থেকে এসে বাইরে নিয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে রান্না করে খাওয়ায়। বুঝলেন আপা মেয়েটির বিয়ে খুব ভালো হয়েছে। প্রথম মহিলা বললেন, আর আপনার ছেলে ? দ্বিতীয় মহিলা এবার নাক ফুলিয়ে, রেগে বললেন, আমার ছেলের বউ খুবই অলস, কোনো কাজই করে না, আমার ছেলেকে দিয়ে রোজ নাস্তা বানায়, অফিস থেকে আসলে বাইরে নিয়ে যায় খেতে। বাসার সব কাজই আমার ছেলে করে। ছেলের বউ বড়ই বজ্জাত, আমার ছেলেকে খাটিয়ে মারছে।

তারপর বললো, বিয়ের রাতে বিড়াল মারার নানা ধরণের গল্প আছে। এমনকি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত কমেডি ” টেইমিং অফ দা শ্রু’র ” বাংলায় রূপান্তর করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মনির চৌধুরী “মুখরা রমণী বশীকরণ” নামে। কি ভাবে তার বউকে বশ করে তা তো নিশ্চয়ই পড়েছিস। তাছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচার হয়েছিল। যাহোক, আমার মনে পড়ে আমি যখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম সে সময় আমার অগ্রজদের কাছ থেকে নানা উপদেশ আসতে লাগলো। উপদেশ এমনই একটি জিনিস যা না চাইতেই পাওয়া। আমাকে একজন শেখালেন কি ভাবে বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরে বউকে বশ করতে হয়। আমি বললাম, ‘বউ কি বন্য হাতি না কি ? যে তাকে খাদায় ফেলে বশে আনতে হবে’ ! তিনি হতাশ হয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে পরে বুঝবে, অভিজ্ঞতার তো কোনো দাম নেই’। যে যাই বলুক বিড়াল মারার মত নিকৃষ্ট কাজ আমি করবো না। তারপর ভুলটি করে ফেলেছিলাম, আমাদের সহকারী অধ্যক্ষের উপদেশে। তিনি বললেন, রান্নাঘর থেকে বাঁচতে হলে একটি কাজ করতে হবে আপনাকে। আর তা করতে হবে বাসর রাতেই। তবে এটাকে ঠিক বিড়াল মারা বলবেন না। তার কথায় একটু আগ্রহ বাড়লো। বিড়াল মারা না অথচ বিয়ের রাতেই করতে হবে। তিনি বললেন, বৌয়ের সাথে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে চা বানিয়ে আসর কথা বলে রান্না ঘরে যাবেন। তারপর রান্না ঘর নোংরা করে রেখে আসবেন, দেখবেন আপনাকে কখনোই আর রান্না ঘরে যেতে দিবে না। কারণ মেয়েরা রান্না ঘর অপরিষ্কার রাখতে অপছন্দ করে।

যথাসময়ে বিয়ের রাতে ঘন্টাখানেক গল্প করার পর বউকে, বললাম একটি অপেক্ষা করো চা বানিয়ে নিয়ে আসছি। এতে সে প্রবল আপত্তি করলো। বললো, আপনি বসেন আমি চা করে আনছি। আমি বললাম, তুমি আজ রাতে আমার মেহমান, কাল থেকে তুমি সাংসারিক সব দায়িত্ব পালন করবে, এ শর্তে সে রাজি হলো। আমি রান্না ঘরে ঢুকে চায়ের পানি চাপিয়ে হাত দিয়ে এদিক ওদিক কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম। কাপে চা ঢালার সময় ইচ্ছে করেই কিছু চা ফেলে দিলাম। চায়ের কেতলী, চামচ, চিনি সব এলোমেলো করে রাখলাম। দু কাপ চা নিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি, দেখি বৌ পেছনে দাঁড়িয়ে। নিঃশব্দে কখন প্রবেশ করেছে বুঝতে পারি নি। আমাকে বললো, আপনি রান্নাঘর অপরিষ্কার করলেন কেন ? আমি অপ্রস্তুত। মনে মনে ভাবছি বিড়াল মারতে এসে কোন ঝামেলা পড়লাম। সবশেষে সে যা বললো, তা হচ্ছে, এগুলো পরিষ্কার করে আসবেন তা না হলে আজ আর বাসর ঘরে ঢুকতে হবে না। ড্রইংরুমে সোফায় বাকি রাত কাটাবেন। এখন বল বন্ধু কার বিড়াল কে মারলো।