রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 257

তদন্তে সন্দেহজনক সাড়ে ৫ হাজার লেনদেন

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ব্যাংক লেনদেনকে সন্দেহজনকভাবে শনাক্ত করেছে বিএফআইইউ। চলতি অর্থবছরের গেল আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এমন চিত্র ধরা পড়ে।

এটি করতে গিয়ে গ্রাহকের সোয়া ২ কোটির বেশি আর্থিক লেনদেন (সিটিআর) যাচাই-বাছাই করা হয়। এক্ষেত্রে অর্থ পাচার ছাড়াও মোট ২৭টি ক্যাটাগরিতে এসব লেনদেনে অপরাধ সংঘটিত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছে।

তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্টভাবে যেসব লেনদেনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ মিলবে সেসব লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোকে।

তবে এমন উদ্যোগ নিয়ে তেমন একটা আশাবাদী নন অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম। বিএফআইইউর দেশ থেকে পুঁজি পাচার ঠেকানো নিয়ে তিনি খুবই সন্দিহান।

তার মতে, অর্থ পাচারের সঙ্গে সমাজের এক শ্রেণির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী জড়িত। ফলে বর্তমান সরকার এটি প্রতিরোধ করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

অর্থ পাচার নিয়ে দেশের সর্বত্র এখন আলোচনার ঝড় বাইছে। সম্প্রতি তথ্য বেরিয়েছে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় জমেছে।

মাত্র ১২ মাসে সেখানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা করেছেন বাংলাদেশিরা। সব মিলিয়ে সুইস ব্যাংকে এখন বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ ৮ হাজার ২৭৫ কোটি, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা নিয়ে সংসদেও নানা উত্তাপ ছড়িয়েছে। রীতিমতো বিরোধী দলগুলোর তোপের মুখে পড়ে সরকার।

প্রশ্ন উঠেছে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও। এমন পরিস্থিতিতে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকর ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা মাসুদ বিশ্বাস মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সিটিআর ও এসটিআর (সন্দেহজনক লেনদেন) রিপোর্টের সংখ্যা বেশি হওয়ার মানে হচ্ছে-ব্যাংকগুলোর সচেতনতা বাড়ছে।

আগে ভয়-ভীতি থেকে এসব রিপোর্ট কম হতো। এখন বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও কর্তৃপক্ষের প্রচার-প্রচারণার কারণে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম বেশি হচ্ছে।

আর এ ধরনের রিপোর্টের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিএফআইইউ অধিক পর্যালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। ভালো ও মন্দ লেনদেন শনাক্ত করতে পারছে।

সূত্রমতে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২০২১-২২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৩১৫টি নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) বিএফআইইউতে পাঠিয়েছে।

এরমধ্যে ৫ হাজার ৩১২টি লেনদেনকে সন্দেহজনক (এসটিআর) হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৬টি লেনদেন তল্লাশির জন্য পাঠানো হয় বিএফআইইউতে।

ওই অর্থবছরে সন্দেহজনক হিসাবে ৫ হাজার ২৮০টি লেনদেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬৭৫ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়ে ৩ হাজার ৫৭৩টি।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ধারা ২-এর(য) উপধারায় সন্দেহজনক লেনদেন বলতে বোঝায় ‘যাহা স্বাভাবিক এবং সাধারণ লেনদেনের ধরন হইতে ভিন্ন বা যে লেনদেন অপরাধ হইতে অর্জিত সম্পদ বা কোনো সন্ত্রাসী কার্যে, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে বা সন্ত্রাসীকে অর্থায়ন।

ব্যাংকিং নিয়মে একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট দিনে তার অ্যাকাউন্টে একাধিক বা একটি লেনদেনের মাধ্যমে দশ লাখ টাকা বা তারও বেশি জমা বা উত্তোলন করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিরুদ্ধে সিটিআর রিপোর্ট করে ব্যাংক।

সারা মাসে এ ধরনের লেনদেন তালিকাভুক্ত করে একটি নির্দিষ্ট তারিখে পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কাছে।

কিন্তু কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন হলে সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যাংকের শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করে। পরবর্তীতে প্রধান কার্যালয় থেকে সেটি বিএফআইইইতে পাঠানো করা হয়।

কারণ এ ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সন্দেহ হিসাবে দেখে। আরও জানা গেছে, বিএফআইইউ সিটিআর এবং এসটিআর তালিকায় থাকা লেনদেনগুলো আরও অধিকভাবে যাচাই বাছাই করে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা একাধিক সার্ভারে গ্রাহকের লেনদেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর যেসব লেনদেন সন্দেহজনক হয় সেক্ষেত্রে সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরও অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়।

তবে এক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুস, দুর্নীতি, মাদক, চোরাচালনসহ ২৭ ধরনের অপরাধ ভাগ করা আছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী সন্দেহজনক লেনদেনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

যেমন-ঘুস ও দুর্নীতি হলে দুদক, মাদক হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চোরাচালান হলে পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।

তবে ২৭টি ক্যাটাগরির মধ্যে ২৩ থেকে ২৪টিই পুলিশের কাছে পাঠানো হয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও অনুসন্ধানে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

বিএফআইইউর সাবেক উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, সিটিআর চেক করতে করতে বোঝা যায় কোন লেনদেনটি ভালো ও কোনটি মন্দ। এটি এক ধরনের ক্যাশ লেনদেনের মনিটরিং টুলস।

সেখান থেকে কোনো মন্দ লেনদেন চিহ্নিত হলে বিএফআইইউ আরও অধিক তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়। তারা এটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

তিনি বলেন, সিটিআর থেকে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়ে। তবে সব সন্দেহজনক লেনদেন খারাপ নয়। দেখা গেছে একজন গ্রাহক হঠাৎ তার হিসাবে লাখ লাখ টাকা লেনদেন করছেন।

ব্যাংকে বসে আমরা ওই গ্রাহক সম্পর্কে জানতে পারছি না। তখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট করে।

প্রতিরোধ কার্যক্রম হিসাবে তথ্য বিনিময় করতে সর্বশেষ ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিএফআইইউ। এনিয়ে ৭৮টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক মন্দায়ও বেড়েছে কোটিপতি

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও তিন মাসে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবধারীদের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে কোটি টাকার ওপরে আমানতের হিসাব বেড়েছে ১৬০৩টি।

একই সঙ্গে ঋণ হিসাব বেড়েছে ২৪৮২টি। দুই হিসাবেই কোটি টাকার ওপরের গ্রাহকদের জমা টাকাও বেড়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার ওপরে জমা আছে এমন হিসাব ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টি। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫৭৯টি। আলোচ্য তিন মাসে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতের হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ৬০৩টি। ওইসব হিসাবে জমা টাকাও বেড়েছে। এসব হিসাবের বেশির ভাগই বেসরকারি খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে যখন আমানতের প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমছে, তখন কোটিপতি আমানতকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। এর মানে-আমানতের টাকা একটি শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

যে কারণে গুটিকয়েক আমানতকারীই ব্যাংকে আমানত রাখছেন। এছাড়া আমানতের বিপরীতে সুদ আরোপ ও নতুন করে টাকা জমার কারণে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার ওপরে জমা আছে এমন ঋণ হিসাব ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৬টি। ৩১ মার্চ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৪টি। আলোচ্য তিন মাসে কোটিপতির ওপরে ঋণ হিসাব বেড়েছে ২৪৮২টি। সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া করোনার কারণে অনেকেই আগের ঋণ শোধ করেননি। ফলে আগের ঋণের সঙ্গে সুদ যোগ করার কারণে কোটিপতি ঋণগ্রহীতা বেড়েছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ কোটির বেশি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮১ হাজার ৩৪৪টি হিসাবে জমা ছিল ১ লাখ ৬৮ কোটি টাকা। ৫ কোটির বেশি থেকে ১০ কোটি পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৮৭টি হিসাবে জমা ছিল ৮১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। ১০ কোটির বেশি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৬৫টি হিসাবে জমা ছিল ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ১৫ কোটির বেশি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭১টি হিসাবে জমা ছিল ৩১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

২০ কোটির বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৫টি হিসাবে জমা ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা। ২৫ কোটির বেশি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮৮৬টি হিসাবে জমা ছিল ২৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। ৩০ কোটির বেশি থেকে ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪৫৮টি হিসাবে জমা ছিল ১৪ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ৩৫ কোটির বেশি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২৯০টি হিসাবে জমা ছিল ১০ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

৪০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬৪৪টি হিমাবে জমা ছিল ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। ৫০ কোটি টাকার বেশি ১ হাজার ৬৯৭টি হিসাবে জমা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটির বেশি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৮৮৩টি হিসাবে জমা ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। ৫ কোটির বেশি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ১২৫টি হিসাবে জমা ৮২ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। ১০ কোটির বেশি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার ৮১২টি হিসাবে জমা ৪৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। ১৫ কোটির বেশি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭২টি হিসাবে জমা ২৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। ২০ কোটির বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৪টি হিসাবে জমা ২৬ হাজার কোটি টাকা। ২৫ কোটির বেশি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৯০১টি হিসাবে জমা ২৪ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। ৩০ কোটির বেশি থেকে ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪৩৮টি হিসাবে জমা ১৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। ৩৫ কোটির বেশি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২৮৫টি হিসাবে জমা ১০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। ৪০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৫৯১টি হিসাবে জমা ২৭ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। ৫০ কোটি টাকার ওপরে ১ হাজার ৭১৫টি হিসাবে জমা ২ লাখ ২৫৫ কোটি টাকা।

একইভাবে ঋণ হিসাব ও জমা বেড়েছে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ কোটির বেশি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮৮ হাজার ১৩৩টি হিসাবে জমা ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। ৫ কোটির বেশি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৩৭টি হিসাবে ৯৫ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। ১০ কোটির বেশি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬ হাজার ৩০৮টি হিসাবে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ১৫ কোটির বেশি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার ২২৩টি হিসাবে ৫৪ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। ২০ কোটির বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৮২টি হিসাবে জমা ৩৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। ২৫ কোটির বেশি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ২৩১টি হিসাবে ৩৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। ৩০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮২৯টি হিসাবে ২৬ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা।

৩৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬০৮টি হিসাবে ২২ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। ৪০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৯৫৮টি হিসাবে ৪২ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি ৩ হাজার ৫৭টি হিসাবে জমা ৩ লাখ ১০৮ কোটি টাকা। এদিকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ হিসাবের মধ্যে ১ কোটির বেশি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৬৮টি হিসাবে জমা ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ৫ কোটির বেশি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৫৪টি হিসাবে জমা ৯৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।

১০ কোটির বেশি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৮টি হিসাবে জমা ৭৩ হাজার কোটি টাকা। ১৫ কোটির বেশি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার ১৩৬টি হিসাবে জমা ৫৩ হাজার কোটি টাকা। ২০ কোটির বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৭১১টি হিসাবে ৩৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। ২৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৭টি হিসাবে ৩৪ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।

৩০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩৫ কোটি টাকার ৮১৭টি হিসাবে ২৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। ৩৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৬২৬টি হিসাবে ২৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা জমা। ৪০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৯২৭টি হিসাবে ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি ৩ হাজার হিসাবে ৩ লাখ ২২৮ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

অর্জন অনেক আছে ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দলটির অর্জন পাহাড়সম। টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।

দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা টানা সাড়ে ১৩ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার যোগ্য নেতৃত্ব দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। অর্জনের এই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একদিন পরেই যুক্ত হচ্ছে নতুন মাইলফলক।

বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে। তবে অমসৃণ দীর্ঘ এই চলার পথে আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে নানা বাধা-বিপত্তি, দুর্যোগ-দুর্বিপাক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা থেকে শুরু করে, সামরিক জান্তাদের রোষানল, নিষেধাজ্ঞা, হামলা-মামলাসহ কণ্টকাকীর্ণ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র‌্যালিসহ ব্যতিক্রমী আরও কিছু আয়োজন থাকবে। রাজধানীকে বর্ণিল সাজে সাজাবে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন স্থানে দলের ঐতিহ্য তুলে ধরে সাজসজ্জা করা হবে। প্রতিষ্ঠার স্মৃতিবিজড়িত রোজ গার্ডেন হয়ে নবাবপুর, নবাবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও রাজধানীজুড়ে ঐতিহ্যের আলোয় সজ্জিত করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

তবে এবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচিতে থাকবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী উৎসবের আমেজ। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকেও তৃণমূলে পাঠানো নির্দেশনাতেও এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা এবং জেলা-উপজেলা কার্যালয়কে সাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সভায় আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরেও নানা কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন সামনের দিনগুলোতেও নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে আওয়ামী লীগকে। তাদের মতে, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ক্ষমতাসীন দলটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ছাড়া করোনার ধাক্কা না কাটতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্যা। এগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে আওয়ামী লীগকেই। পাশাপাশি দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও সুসংগঠিত করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে তাদের। সবার আস্থা অর্জন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দায়ও আওয়ামী লীগেরই বেশি। তবে নেতারা বলছেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তারা এগিয়ে যাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ। আমরা চাই সেই লক্ষ্যে দলটি এগিয়ে যাক। কিন্তু ইতিহাস থেকে দেখা গেছে এই দলের বাইরে তো তাদের শত্রু আছেই, এমনকি ভেতরেও অনেক শত্রু ঘাপটি মেরে আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তার প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছে খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর; তারাই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, আজ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তাদেরকেও সেই ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। চলার পথে এই অগ্রযাত্রায় কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র যেন আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। কাজেই দেশ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর চেতনা কোনোভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল।

তাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। আমাদের স্বাধীনতার যে ঘোষণা আছে, আমাদের সংবিধানের যে অঙ্গীকার আছে, যেমন মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, এগুলো আমাদের দেশের ‘ফাউন্ডিং প্রিন্সিপাল’। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতি হিসেবে আমরা এগুলো থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি। আমাদের প্রত্যাশা, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ এগুলো প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেবে। আমি এটাও মনে করি এগুলো প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আর রাজনৈতিক দলকে সব সময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই চলতে হয়। দলটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর-পরবর্তী পর্যায় থেকে আজকের অবস্থানে তার নিজস্ব মহিমার প্রমাণ রেখেই টিকে আছে। আগামী দিনেও এই ধারাবাহিকতা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শান্তি ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ব। করোনা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ যে চ্যালেঞ্জই আসুক আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আগামী দিনেও সব সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংগঠনিকভাবেও আওয়ামী লীগের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে অতীতের তুলনায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ বেশ নাজুক অবস্থায় আছে। এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্ব অব্যাহত। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ঠাঁই দেওয়া হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের।

এভাবে বিশেষ ব্যক্তির বলয় তৈরি করাসহ নানাবিধ কারণে তৃণমূল প্রধান দলটির অবস্থা অতীতের চেয়ে কিছুটা দুর্বল বলে তারা মনে করেন। এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার পরও দলের প্রভাবশালীদের দ্বারা অনেক নেতা হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। আবার অনেকে অভিমান দলের কার্যক্রম থেকে স্থবির থাকছেন। সামনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ প্রস্তুতিও শুরু করেছে। তাই এই সংকট দূর করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বন্যাকবলিত জৈন্তাপুরে জাকের পার্টির ত্রাণ বিতরণ

সিলেটের জৈন্তাপুরের প্রবল বন্যাকবলিত বীরাখাই গ্রামে ত্রাণ বিতরণ করেছে জাকের পার্টি ।

মঙ্গলবার জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল আশ্রয়হীন বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দারকে পাঠান।

জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সিলেট জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বানভাসি নারী,পুরুষ, শিশু কিশোরদের হাতে রান্না করা খাবার, বোতলজাত পানি ও খাবার স্যালাইন তুলে দেন।
একই সাথে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে যেয়ে বন্যার্তদের হাতে খাবার সহায়তা তুলে দেন।

দিনব্যাপী চলে জাকের পার্টির এ কার্যক্রম।

ত্রাণ সহায়তা বিতরণকালে জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বানভাসি মানুষকে দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।

যেসব কারণে পদ্মা সেতু বাঁকা

‘এই সেতু হবে না, হলেও টিকবে না’- ছিল এমন নানা মন্তব্য, মাথা কাটার মতো নানা গুজবও ছড়িয়েছিল। সব গুজব, রটনা ও চ্যালেঞ্জকে পেরিয়েই পদ্মার উপর বসলো ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জোড়া লাগল রাজধানীর।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আসছে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা পাড়ি দিয়ে উদ্বোধন হবে সেতুটির। সাথে রয়েছে জমকালো আয়োজন।

এর আগেই পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ও এর নানা প্রকৌশলগত তথ্য নিয়ে চলছে আলোচনা। চায়ের কাপে উঠেছে ঝড়।

এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, পদ্মা সেতু বাঁকা কেন? সোজা করলে তো দৈর্ঘ্য কমতো, ফলে যে ব্যয় নিয়ে এতো সমালোচনা সেটা কিছুটা কমতো! কারণ রড-সিমেন্ট কম লাগতো।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা কি বিষয়টি খেয়াল করেননি? নাকি অন্য কোনো সমস্যা ছিল?

প্রশ্ন যুক্তিযুক্ত, কারণ পদ্মা সেতুর নকশার দিকে তাকালে একে বাঁক দেখা যাবে।

অনেকেই ভাবতে পারেন, কেবলমাত্র সৌন্দর্য রক্ষার্থে পদ্মা সেতুকে বাঁকা করে বানানো হয়। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়।

এর উত্তরে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেতুটি সোজাও হতে পারত। কিন্তু প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা ইচ্ছে করেই সেতু বাঁকা করে নকশা করেছেন।

এমনটা করার প্রধান কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন প্রয়াত বরেণ্য প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ছিলেন এই বিশেষজ্ঞ।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘সেতুটি যদি আমরা আকাশ থেকে দেখি তাহলে বোঝা যায়, সেতুটি ডাবলি কার্ভড। অর্থাৎ ডানে-বাঁয়ে দুবার সামান্য বাঁকানো। এমনটা শুধু পদ্মা সেতুর বেলায় করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা জাপানে লম্বা লম্বা মহাসড়কও এভাবে বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে।’

এর ব্যাখ্যায় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছিলেন, এটি মূলত করা হয় চালকদের কথা চিন্তা করে। একদম সোজা সেতু হলে চালকেরা সেতুতে উঠে একঘেয়েমিতায় ভোগেন। ক্লান্তি ও জড়তায় ড্রাইভিং থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। অনেকের তো স্টিয়ারিং একইভাবে ধরে রাখার কারণে ঝিমুনি আসে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। কিন্তু একটু বাঁকানো হলে চালকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের মাথা সচল থাকে শতভাগ। এড়ানো যায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

শুধু চালকের মনোযোগ টিকিয়ে রাখার জন্যই নয়; বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইট সরাসরি যেন চালকের চোখে না পড়ে সে বিষয়টিও মাথায় রেখেছিলেন ইঞ্জিনিয়াররা। সেতু বাঁকা থাকলে আলো সরাসরি চোখে পড়বে না। তাতেও দুর্ঘটনার শঙ্কা কমে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বেশ কিছু কারণ জানিয়েছেন পদ্মা সেতু বাঁকা বানানোর।

শুধু পদ্মা সেতু নয়; যে কোনো বড় সেতুই বাঁকা বানানোই যুক্তিযুক্ত।

এর কারণ হিসেবে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা – একটি সেতুকে তিন ধরনের ওজন বহন করতে হয়- নিজস্ব ওজন; যানবাহনের ওজন; নদীর বা প্রাকৃতিক দূর্যোগের চাপ বা ওজন।

সেতুতে গাড়ি ওঠার সময় কম্পনজনিত চাপ সৃষ্টি হয়। বাঁকা করে তৈরি করা হলে এটি পুরো সেতুতে ছড়িয়ে পড়ে ফলে কম চাপ পড়ে। সোজা হলে পুরো সেতুতে ছড়ায় না। নির্দিষ্ট স্থানে ব্যাপক কম্পন ও চাপ পড়ে। ফলে সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সেতু বাঁকা করে তৈরি হলে এতে যানবাহনের লোডগুলো সঠিকভাবে প্রতিটি পিলারে আরোপিত হয়।

এছাড়া নদীতে স্রোতের সময় পিলারে প্রচন্ড চাপ পড়ে, কিন্তু বাঁকা হলে চাপ কম পড়ে। মাটিতে সব জায়গায় সমান চাপ থাকে, তাই বাঁকা করলে ভূমিকম্পের সময় সব পিলার কাঠামো ধরে রাখতে পারে।

আরেকটি বড় কারণ বন্যার সময় পানির অধিক চাপেও পিলারগুলো সেতুর কাঠামোকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

এসব কারণে বড় সেতু যেমন পদ্মা সেতু বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির কোনো বিষয় নেই। সেতুকে বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্যই এমন বুদ্ধি। তাতে খরচ বাড়লেও আপত্তি নেই।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন আজ বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ জুন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্স করবেন।

পদ্মাসেতু উদ্বোধন, বন্যা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন বলে প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সিলেট সার্কিট হাউজে বক্তব্য দেন এবং বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার পর এটাই হবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এর আগেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তবে বেশিরভাগ সাংবাদিক ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে করোনা টেস্ট করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে।

বরাবরের মতোই রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার এ সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং পদ্মা সেতুর উদ্বোধনসহ সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে।

ভারি বৃষ্টিতে মহানবীর (সা.) আমল

ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা তিনি যেন সবার জানমালের সুরক্ষা করেন।

বৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে মহানবী (সা.) দোয়া করতেন তা এখন আমাদের অনেক বেশি বেশি করা প্রয়োজন।

হাদিসে এসেছে হজরত মা আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বৃষ্টি নামতে দেখলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিয়া’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি আমাদের ওপর বর্ষণ করুন।’ (বোখারি)

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসল নষ্ট হয় কিংবা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন-

`আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’ (বুখারি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’

আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময় করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘ-বৃষ্টির ক্ষতি ও ভয়াবহতা থেকে হেফাজত থাকতে তাসবিহ তাহলিল ও দোয়া পড়তেন। যাতে মেঘ-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে এ দোয়া পড়তেন-আল্লাহুম্মা হাওয়াইলানা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল ঝিবালি ওয়াল উঝামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজারি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের আশে-পাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর। আমাদের ওপরে করিও না। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনাঞ্চলে বৃষ্টি বর্ষণ কর।’ (বুখারি)

বৃষ্টি বর্ষণের বিষয়ে প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যদি আমার বিধান যথাযথ মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম আর সকাল বেলায় সূর্য (আলো) দিতাম এবং কখনও তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না।’ (মুসনাদে আহমদ)
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সবার দায়িত্ব বেশি বেশি দোয়া করা আর সামর্থ অনুযায়ী বন্যার্তদের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করা।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে মহানবী (সা.)এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

শীর্ষ আলেম আল্লামা আবদুল হালিম বোখারীর ইন্তেকাল

দেশের শীর্ষ আলেম ও চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি আবদুল হালিম বোখারী (৭৭) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শহরের সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

এর আগে রোববার বিকালে হঠাৎ শ্বাস কষ্টজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুফতি আবদুল হালিম বোখারী। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আল্লামা আব্দুল হালিম বোখারী দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক, সম্মিলিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের মহাসচিব।

এছাড়াও তিনি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের শরীয়াহ সুপারভাইজারি কমিটির সভাপতি, ইসলামি সম্মেলন সংস্থা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ তাহফিজুল কুরআন সংস্থার সভাপতি এবং জামিয়া পটিয়ার মুখপাত্র মাসিক আত তাওহীদের প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি প্রদানের নিমিত্তে আল হাইআতুল উলয়া গঠিত হলে তিনি এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

মুফতি আবদুল হালিম বোখারী ছিলেন দেশের একজন প্রথিতযশা আলেমে দ্বীন। মাদ্রাসা শিক্ষার উভয় ধারায় তিনি সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও তিনি ডিগ্রীপ্রাপ্ত হন। ইলমে হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের উপর তিনি গভীর জ্ঞান রাখতেন এবং যুগ সমস্যার উপযোগী সমাধান দিতে পারতেন। তিনি দেশের আলেমদের উল্লেখযোগ্য অংশের দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ৩ মেয়েসহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টায় পটিয়া মাদ্রাসায় মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হবে।

শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য আল্লামা আল্লামা মুফতি আবদুল হালীম বোখারী ইন্তেকালে দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

তার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

আজ এক শোক বার্তায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ধর্মীয় ব্যক্তিরাও গণমাধ্যমে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।

বেফাক নেতৃবৃন্দের শোক

আল্লামা আবদুল হালিম বোখারীর ইন্তেকালে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকসহ বেফাক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেন। সারাদেশের ওলামায়ে কেরাম ও ছাত্রদের কাছে তার জন্য বিশেষ দোয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের শোক

গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, আল্লামা আবদুল হালিম বোখারী একজন প্রাজ্ঞ হাদীস বিশারদ ও বিজ্ঞ আলেমেদ্বীন ছিলেন। ইলমী ও বিনয়াবনত সদাচরণ ও কথাবার্তায় তিনি সবাইকে খুব সহজেই মুগ্ধ করতে পারতেন। আদর্শবান মানুষ গড়ার লক্ষ্যে তিনি আজীবন দরস-তাদরিসের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। আজ তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষার্থীরা একজন পথপ্রদর্শক, আদর্শ শিক্ষককে হারালো, আমরা একজন মহৎপ্রাণ আলেমকে হারালাম।

জাতীয় মসজিদের খতিবের শোক

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা আবদুল হালিম বোখারীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ও কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তার অবদানের কারনে জাতী তাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, খেলাফত মজলিসের আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন ও আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানি শোক প্রকাশ করেছেন।

ইবির প্রধান প্রকৌশলীর বাসা থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহিদ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেকের বাসার নিচতলার ঘর থেকে রুবিয়া খাতুন (১৩) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড়সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

রুবিয়া শহিদ উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল আলম।

রুবিয়া খাতুন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের মো. নবী আলীর মেয়ে। রুবিয়া ঈদুল ফিতরের প্রায় এক সপ্তাহ পর শহিদ উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করে।

পুলিশ, বাড়ির মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর থেকে রুবিয়া মোহাম্মদ তারেকের বাসায় থেকে কাজ করছিল। রোববার বিকাল থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাসার লোকজন নিচতলার কক্ষটি বন্ধ দেখতে পায়। ডাকাডাকি করার পরও দরজা না খোলায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দরজা ভেঙে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

ওই বাড়ির মালিক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহিদ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খবর পাই রুবিয়া নিখোঁজ। পরে নিচতলার রুম বন্ধ পাওয়া যায়। ডাকাডাকি করে সাড়া না মিললে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমরা দোতলায় থাকতাম। মেয়েটি রোজার ঈদের এক সপ্তাহ পরে আমার বাসায় বুয়ার কাজ শুরু করে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল আলম বলেন, ঘরের দরজা ভেঙে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এইচএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়ল

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ানো হলো। সোমবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত ফরম পূরণ করা যাবে। ফরম পূরণের ফি জমা দেওয়া যাবে ৭ জুলাই পর্যন্ত।

করোনা মহামারীর কারণে চার মাস পিছিয়ে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আগামী ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে সরকার ইতোমধ্যে এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ৮ জুন থেকে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ শুরু হয়। ২২ জুন যা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এবার বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ২ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার ১ হাজার ৭৭০ টাকা। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কোনো শিক্ষার্থীর চতুর্থ বিষয় ও নৈর্বচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে অতিরিক্ত ১৪০ টাকা করে দিতে হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসিতে এবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা না নিয়ে তা সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হবে।