রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 254

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন, বিকালে জানাবেন চিকিৎসকরা

হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ১০ জুন থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এনজিওগ্রামের পর তার হৃদযন্ত্রে রিং পরানো হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার বিকাল ৩টায় হাসপাতালের সপ্তম তলায় কনফারেন্স কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা আজ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করবেন। বিকাল ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন।

বিএনপির সূত্র বলছে, হার্টে রিং পরানোর পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। ১৫ জুন তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এর পর থেকে অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

১০ জুন গভীর রাতে হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। হার্টে রিং পরানোর পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। ১৫ জুন তাকে হাসপাতালের সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত ১৮ জন সদস্য বোর্ডে এভারকেয়ার হাসপাতালের ১২ জন রয়েছেন। দেশের বাইরের চিকিৎসক আছেন ৯ জন। এভারকেয়ার হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান শাহবুদ্দিন তালুকদারে নেতৃত্বে গঠিত হয় এ বোর্ড।

পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলবে ৬০ কিমি গতিতে

পদ্মা সেতুতে ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না মর্মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (২৫ জুন) জাতির স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২৬ জুন ভোর ৬টা থেকে সরকার নির্ধারিত টোল দিয়ে সেতু পারাপার হওয়া যাবে।

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষার্থে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা, পদ্মা সেতুর ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা/হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

বিশেষভাবে জানানো যাচ্ছে যে তিন চাকা বিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, অটোরিকশা ইত্যাদি), পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়ি যোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না, গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া এবং ৫.৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না, সেতুর ওপরে কোনো ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না।

পদ্মা সেতু একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা বিধায় সেতু পারাপারে সর্বসাধারণকে উপরোক্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত।

একই সঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন। এরপর একে একে সব ধাপ পেরিয়ে পদ্মার বুকে ৪২টি পিলারের ওপর দৃশ্যমান হয়ে ওঠে স্বপ্নের সেতু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ থেকে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আগামী ২৫ জুন বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যেসব বিশ্বরেকর্ড গড়ল পদ্মা সেতু

নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে পদ্মা সেতু। মেলবন্ধন ঘটিয়েছে পদ্মার দুই পাড়ের।

অথচ এই সেতু নির্মাণে ব্যর্থ হবে সরকার— এমন বক্তব্যও ছড়িয়েছিল।

শুধু কি তাই; নির্মাণাধীন সময়ে ‘মাথা কাটা’সহ নানা গুজবও চলেছে।

শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, আমাজন নদীর পর দ্বিতীয় খরস্রোতা নদী পদ্মায় সেতু নির্মাণ কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শতভাগ সফল বাংলাদেশ।

বিশ্ব বিস্মিত যে, এমন খরস্রোতা নদীতে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে সফল বাংলাদেশ, তাও দাতাদের সহায়তা না নিয়ে দেশটির জনগণের টাকায়!

এদিকে এ সেতু নির্মাণে বেশ কয়েকটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। নদীশাসন, পাইল ও বিয়ারিংয়ের ব্যবহারে পদ্মা সেতু গড়েছে বিশ্বরেকর্ড। সেতু বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

নদীশাসন: পদ্মা সেতু তৈরির আগে নদীশাসনসংক্রান্ত কাজ বিস্ময় ছড়িয়েছে বিশ্বে। এ সেতু স্থাপনে ও রক্ষায় ১৪ কিলোমিটার (১.৬ কিলোমিটার মাওয়া প্রান্তে ও ১২.৪ কিলোমিটার জাজিরা প্রান্তে) এলাকা নদীশাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। পদ্মা নদী এমনিতেই খরস্রোতা। এর দুই পাড় অনবরত ভাঙনের শিকার। ভাঙনসহ নানা কারণে পদ্মা সেতু যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্যই নদীশাসন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীশাসন উল্লেখযোগ্য বিষয়। সেতুর জন্য ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন করা হয়েছে, যা বিশ্বের আর কোথাও নেই। এত গভীরে আর নদীশাসনও কোথাও হয়নি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেন ব্যবহার: পদ্মা সেতু নির্মাণে পিলারের ওপর স্প্যান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি বিশ্বরেকর্ড। ক্রেনটি চীন থেকে আনা হয়। এর ভাড়া গুনতেও রেকর্ড গড়া হয়েছে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সাড়ে তিন বছরে মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে প্রথম কোনো সেতু তৈরিতে এত দীর্ঘ সময় ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে।

গভীরতম পাইল: খরস্রোতা যে কোনো নদীতে সেতু নির্মাণে পাইলিং গভীর হতে হবে, অন্যথায় সেতু টিকবে না। আর পানি প্রবাহের বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরই পদ্মার অবস্থান। সে ক্ষেত্রে এ সেতুর পাইলিং যতটা গভীরে নেওয়া যায়। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুতে।মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে। পৃথিবীর অন্য কোনো সেতু তৈরিতে এত গভীরে গিয়ে পাইল প্রবেশ করাতে হয়নি। এটি একটি বিশ্বরেকর্ড।

১০ হাজার টনের বিয়ারিং: রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকবে পদ্মা সেতু। এর অন্যতম কারণ এই সেতুতে ব্যবহৃত ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’-এর সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। এটি আরেকটি বিশ্বরেকর্ড।

বিয়ারিংসংক্রান্ত আরেকটি বিশ্বরেকর্ড হলো এর পিলার। স্প্যানের মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ টন ওজনের একেকটি বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথিবীতে এর আগে কোনো সেতুতে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি।

এসব বিষয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু বিশ্বে কয়েকটি বিষয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সেটি হলো গভীরতম পাইল হয়েছে পদ্মায়। কারণ পদ্মার মতো এত খরস্রোতা নদী পৃথিবীর বুকে নেই বললেই চলে। আমরা ভূমিকম্প মোকাবিলায় যে বিয়ারিং ব্যবহার করেছি, এটা পৃথিবীতে একটা রেকর্ড। এত বড় বিয়ারিং আগে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। এটা প্রায় ১০ হাজার টনের কাছাকাছি।

সেতু নির্মাণে কংক্রিট ও স্টিলের ব্যবহার: পদ্মা সেতু নির্মাণে কংক্রিট এবং স্টিল উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বে আর কোনো সেতু নির্মাণে কংক্রিট এবং স্টিল একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ সেতুগুলো হয় কংক্রিটে নির্মিত, নাহয় স্টিলের।

পদ্মা সেতুর আরেকটি বিষয় চমকপ্রদ। তা হচ্ছে মাইক্রো ফাইন সিমেন্টের ব্যবহার।

পদ্মা সেতু নির্মাণের অন্যতম প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের বিবিসিকে বলেছেন, ৭১টি পাইলিংয়ে বেজ গ্রাউন্ড করতে ব্যবহৃত হয়েছে মাইক্রো ফাইন সিমেন্ট, যা পৃথিবীর অন্যতম দামি সিমেন্ট। সাধারণ সিমেন্টের বস্তা প্রতি দাম ৫৫০ টাকা, যা মাইক্রো ফাইনের দাম ১৫ হাজার টাকা। অস্ট্রেলিয়া থেকে এই সিমেন্ট আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ জুন থেকে সেতুতে সাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এ সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হতে যাচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলকে পৌঁছল বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০,১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আলসারে আক্রান্ত হয়ে জবি ছাত্রের মৃত্যু

আলসারে আক্রান্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র আশরাফুল ইসলাম মারা গেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আশরাফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের তাজমহল রোডে। তার বয়স হয়েছিল ২৩ বছর।

সহপাঠীরা জানান, বুধবার বিকালে তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধ খাওয়ার পর তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আশরাফুল। এছাড়া তিনি প্রায় তিন-চার মাস ধরে আলসারে ভুগছিলেন।

তারা আরও জানান, আশরাফুল মঙ্গলবারও তাদের সঙ্গে ক্লাস করেছে। তাকে দেখে অসুস্থ মনে হয়নি।

আশরাফুলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। সহপাঠীরা তার হঠাৎ চলে যাওয়া কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন বলেন, আমি মঙ্গলবারও তার ক্লাস নিয়েছি। আমি জানতাম না সে অসুস্থ। আমি খুবই মর্মাহত ও শোকাহত আশরাফুলের মৃত্যুতে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ঈদের পর হতে পারে এসএসসি পরীক্ষা, পেছাবে এইচএসসিও

বন্যার কারণে স্থগিত এসএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু করতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে। এখন পর্যন্ত ঈদুল আজহার পর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শুরুর চিন্তা চলছে।

চলতি মাসজুড়ে বন্যা স্থায়ী হওয়ার শঙ্কা আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বা ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। এ কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী আছে।

এই পরীক্ষার কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও পেছাচ্ছে। দুই পরীক্ষার মধ্যে কমপক্ষে দুই মাসের দূরত্ব প্রয়োজন শিক্ষা বোর্ডগুলোর। পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ফল তৈরির জন্য এ সময়টা তাদের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে এই পরীক্ষা সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নেওয়ার চিন্তা চলছে।

এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে-সেই সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এখনো আসেনি। কেননা, এখনও দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা চলছে। কবে নাগাদ পানি নেমে যাবে সেটাও বলা যাচ্ছে না।

তাছাড়া পানি নেমে গেলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এরমধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি আছে। সবমিলে ঈদের পরেই এই পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা আছে। আর এসএসসি পেছালে এইচএসসিও পেছাবে। কেননা, উভয় পরীক্ষার মধ্যে দুই মাসের পার্থক্য প্রয়োজন হয়।

সূত্র জানিয়েছে, বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় যোগ দেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। এ সময় তার সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব পরীক্ষার বিষয়ে কথা বলেন। এরপরই পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় ঠিক হয়।

স্বামীকে নিয়ে সিলেটে ছুটে গেলেন চিত্রনায়িকা মাহি

সুনামগঞ্জে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেটে অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই জেলার শত শত বাড়িঘর, হাটবাজার, স্কুল, মসজিদ, মন্দির এখনো পানিতে ভাসছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আর্তনাদ করছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও সমন্বয় না থাকায় সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চুলা জ্বলছে না বানভাসিদের। ধীরে ধীরে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় অনেকেই। কেউ কেউ ফিরলেও পানিতে তলিয়ে থাকা ঘর বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যস্ত।

এমন পরিস্থিতিতে স্বামী রাকিব সরকারকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সিলেটে পাঁচ হাজার মানুষকে ত্রাণ দেবেন মাহি।

এ বিষয়ে মাহির স্বামী রাকিব সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র আয়োজনে বানভাসিদের জন্য শুকনো খাবার নিয়ে যাচ্ছি সুনামগঞ্জে। জেলার যেসব গ্রামে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি, সেসব স্থানে নিজ হাতে ত্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আপাতত পাঁচ হাজার বানভাসি মানুষের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছি। মানুষ এখানে সত্যি অনেক কষ্ট করছে। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।

মাহির আগে বুধবার ত্রাণ নিয়ে সিলেটে ছুটে গেছেন রিয়াজ-নিপুণ ও সাইমন, জেসমিনরা। তারা গৌয়াইনঘাট, লক্ষ্মীনগর, মেওয়ার কান্তি এলাকায় ২৫০০ পরিবারের হাতে ত্রাণ ও নগদ টাকা তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে এ মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন চিত্রতারকারা।

ফের সভাপতি হলেন শমী কায়সার

অনলাইন উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ছিলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার।

ফের সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন তিনি।

গত ১৮ জুন ২০২২-২৩ মেয়াদে সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন শেষে শমী কায়সারকেই সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

শমী কায়সারের মতো টানা দুই মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। সহসভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন।

এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নাছিমা আক্তার নিশা এবং অর্থসম্পাদক হয়েছেন আসিফ আহনাফ। আসিফ আহনাফ বর্তমান কমিটিতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

নির্বাচনে ৩১ প্রার্থীর বিপরীতে পরিচালক পদে ৯ জন নির্বাচিত হন। ৭৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ৬১১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

কব্জি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা পেসার শোয়েবের

নিজেই নিজের হাতের কব্জি কেটে রক্তাক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের এক তরুণ ক্রিকেটার।

তার নাম শোয়েব। সিন্ধপ্রদেশের হায়দরাবাদ শহরের কাসিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা তিনি। পাকিস্তানের তরুণ উদীয়মান পেসার।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি টাইমস’ জানিয়েছে, বুধবার এভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পেসার শোয়েব। এ কাণ্ড ঘটানোর পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাণে বেঁচে ফেরেন এ ক্রিকেটার। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কোচ খেলায় না নেওয়ায় অভিমানে এ কাণ্ড করে বসেন শোয়েব— এমনটিই জানিয়েছে তার পরিবার।

হায়দরাবাদের নিয়াজ স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল শোয়েবের। অনেক আশা নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন এ পেসার। কিন্তু কোচ তাকে দলে রাখেননি। সেই অভিমান থেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

অবশ্য পাকিস্তানে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুহাম্মদ জারিয়াব নামে একজন তরুণ পাকিস্তানের ঘরোয়া খেলোয়াড় তার শহরের অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে বাদ পড়েন।

অভিমানে নিজেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

বন্যার্তদের পাশে ভারতের বিপক্ষে ৫ গোল করা নারী ফুটবলার

যে যার ক্ষমতা ও পরিসর থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যাদুর্গতদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গনে অনেকেই ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এখন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বানভাসিদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন দেশের আলেম সমাজও।

এদিকে পিছিয়ে নেই ক্রীড়াঙ্গনও। ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় আজ ও রোববারের ম্যাচ দুটির বিক্রি হওয়া টিকিটের সব অর্থ সিলেটে বন্যার্তদের সহায়তায় দেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

তবে দেশের এক কিশোরী ফুটবলার শাহেদা আক্তার রিপার সহায়তা নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় এ নারী ফুটবলার ঘোষণা দিয়েছেন, সিলেটের বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য তিনি নিলামে তুলতে চান তার জেতা সর্বোচ্চ গোলদাতার একটি ট্রফি।

গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্টে ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার ট্রফি জেতেন রিপা। বন্যার্তের সহযোগিতায় সেই ট্রফিই হাতছাড়া করতে চান রিপা।

এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাহেদা আক্তার রিপা।

লিখেছেন— ‘আমার ছোট্ট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে যেটি বড় পাওয়া, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ওই টুর্নামেন্টে আমি সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫ গোল) হয়েছিলাম। আমি তিন ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলাম। সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে পাওয়া ট্রফিটি আমি নিলামে তুলতে চাই। যার সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় হবে সিলেটের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য। কোনো দয়াবান ব্যক্তি যদি এই মহৎ কাজের অংশীদার হন, তা হলে আমরা কিছুটা হলেও বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকত পারব।’

বাড়িতে শো-কেসে রাখা ট্রফি তার জন্য সবসময় গর্ব জানান দিলেও এটি মানুষের কোনো কাজে আসবে না বলে জানান রিপা।

তিনি লিখেছেন— ‘এ মুহূর্তে সিলেটের সবচেয়ে বেশি যেটি দরকার, সেটি হলো সবার সহযোগিতা। আমি যদি সিলেটের পাশে একটু হলেও দাঁড়াতে পারি তা হলে আপনাদের সবার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’

হবিগঞ্জে বাড়ছে বন্যা, পানিবন্দি ৭ লাখ মানুষ

উজান-ভাটি দুদিক থেকেই চাপে পড়েছে হবিগঞ্জ। সিলেট ও সুনাগঞ্জের বন্যার পানি কালনি-কুশিয়ারা দিয়ে নামছে হবিগঞ্জে। অন্যদিকে জেলার ভাটি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীর পানি বেড়েই চলছে। এতে উজান-ভাটি দুদিক থেকেই হবিগঞ্জে ঢুকছে পানি। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৭ লাখ মানুষ। এতে দুর্ভোগের অন্ত নেই বানভাসি মানুষের।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জেলায় বন্যার পানি আঘাত হানে। শুরুতেই বাড়তে থাকে কালনী, কুশিয়ারা, খোয়াইসহ বিভিন্ন নদীর পানি। কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবল বেগে নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।

মুহূর্তের মধ্যেই প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্রমেই পানি বাড়তে থাকায় আক্রান্ত হয় বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলাও। আর সর্বশেষ বুধবার থেকে নতুন করে প্লাবিত হতে থাকে বাহুবল উপজেলাও।

এদিকে প্রতিদিনই বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে খাদ্য সহায়তা দিয়ে চলেছেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা। মাঠে আছেন জনপ্রতিনিধিরাও।

জেলা প্রশাসন বলছে, বানভাসিদের উদ্ধার তৎপরতা চলছে। সেই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য জেলায় ৯৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। রাস্তাঘাট, হাটবাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজারের দোকানপাট ডুবে গেছে।

লাখাই গ্রামের বাসিন্দা আবুল মনসুর রনি জানান, পানির অবস্থা খুব খারাপ। প্রতিনিয়তই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বশর মাহমুদ বলেন, গত ১৬ দিন ধরে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। হঠাৎ আমার ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে ভিজেই অনেক কষ্ট করে মালামাল সরাতে হয়েছে। ফ্রিজ, ফার্নিচার সব পানিতে ভিজছে। সরাতে পারিনি।

তিনি বলেন, পানির মধ্যে চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিতে ডুবন্ত ঘরের টিন, পিলার চুরি হয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জানান, জেলার চার উপজেলা বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার থেকে বাহুবল উপজেলায়ও পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বন্যায় আক্রান্তদের অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। তারা গবাদিপশু বা অন্যান্য জিনিসের কারণে বাড়ি ছেড়ে গ্রামের উঁচু জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন। কেউ আবার উঁচুতে আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।