রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 250

স্বেচ্ছাসেবক পার্টির নেতা আবুল হাসনাতকে ছুরিকাঘাত

স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আজাদকে আশুলিয়ায় ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার গভীর রাতে হাসনাতের নিজ বাড়ির পাশে শেরআলী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আবুল হাসনাত আজাদ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদের বড় ছেলে। তিনি স্চেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি।

প্রতক্ষ্যদর্শী নাইটগার্ড সবুর উদ্দিন জানান, কাজ শেষে রাতে আবুল হাসনাত রিকশা করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার রিকশা শেরআলী মার্কেট ত্রিমোড় এলাকায় পৌঁছলে দুই যুবক তার রিকশার গতিরোধ করে।

এ সময় রিকশা থেকে হাসনাত নামলে এক যুবক চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার দুই ঘাড়ে, পেটের বাম পাশে ও পিঠেসহ ৬ জায়গায় চাকু দিয়ে আঘাত করে। এ সময় রিকশাচালক মনির হোসেন হাসনাতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করে।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসনাতের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ রানা বলেন, আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলারুশকে ইস্কান্দার দিয়ে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঝুঁকিতে ফেলছেন পুতিন

রাশিয়া শিগগিরই বেলারুশকে অত্যাধুনিক ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সাধারণ ওয়ারহেডের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খবর বিবিসির।

সেন্ট পিটার্সবার্গে শনিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন পুতিন।

এ অস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন করা হলে ইউরোপের বহুদেশ ও সেসব দেশে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ‘আনুষ্ঠানিক প্রার্থী’ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে পুতিনের এ বক্তব্যকে প্রথম প্রতিক্রিয়া বলা যেতে পারে।

পুতিন আরও বলেন, মস্কো বেলারুশের সুখোই-২৫ জঙ্গিবিমানের আধুনিকায়ন করে এগুলোকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম করে তুলবে।

প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর আবেদনে সাড়া দিয়ে পুতিন এসব কাজ করতে যাচ্ছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পাশ্চাত্যের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কে যে উত্তেজনা দেখা দেয় তা সাম্প্রতিক সময়ে বহুগুণে বেড়ে গেছে।

গত চার মাসে পুতিন বহুবার তার দেশের পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি যদিও পশ্চিমা দেশগুলোকে সরাসরি পরমাণু বোমা হামলার হুমকি দেননি; কিন্তু তিনি এর মাধ্যমে ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগিতা করার ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেন ও মলদোভাকে ইইউর সদস্যপদ পেতে ‘আনুষ্ঠানিক প্রার্থী’ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু সংস্কার এনে ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে পারলে দেশ দুটি পূর্ণ সদস্য হতে পারবে। এতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে৷

পদ্মা সেতুর খরচ উঠতে কতদিন লাগবে?

অনেক প্রতিকূলতা ও বাধা ডিঙিয়ে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক ও দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে পদ্মা সেতুর মতো এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্যি অবিশ্বাস্য।

সরকারের ধারাবাহিকতা, সদিচ্ছা— সর্বোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত অঞ্চলকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসবে।

অর্থনীতি ও জিডিপিতেও এই সেতু মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে দেড় শতাংশ পর্যন্ত।

পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই বিশাল বিনিয়োগের প্রাপ্তি হিসাবের দুটি উপায় আছে। একটি হলো— মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বাড়তি প্রাপ্তি বিবেচনা, অন্যটি সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া বিভিন্ন যানবাহন থেকে নির্দিষ্ট হারে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরাসরি খরচ উঠিয়ে আনা।

কোন উপায়ে কত বছরে পদ্মা সেতুর ব্যয় উঠে আসতে পারে, সরকারিভাবে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায় না। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নানা তথ্য-উপাত্ত থেকে এ বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এই সেতু দিয়ে দেশের ২৩ জেলায় প্রতিদিন ২১ হাজার ৩০০ যানবাহন চলাচল করবে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৬০০। এদের সবার থেকে টোল বাবদ যে আয় হবে, শুধু তা দিয়ে সেতুর ব্যয় উঠে আসতে সময় লাগবে সাড়ে ৯ বছর।

অন্যদিকে সেতু চালু হওয়ার কারণে আগামী এক বছর বা ১২ মাসে অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বাড়তি প্রাপ্তি যোগ হবে চলতি বাজারমূল্যে ৪২ হাজার ৩৬২ কোটি ২১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা জিডিপির ১.২ শতাংশের সমান।

এই বিবেচনায় মাত্র ৯ মাসে উঠে আসবে ৩১ হাজার ৭৭১ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা, অর্থাৎ অর্থনীতিতে মাত্র এই ৯ মাসের প্রাপ্তি হবে পদ্মা সেতুর মোট ব্যয়ের সমান।

এদিকে আইসিএবির এক প্রবন্ধে বলা হয়, পদ্মা সেতু হলে আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ এবং ১০ বছরে ওই সব জেলায় ৩০-৪০ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। শুধু বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আগামী ১০ বছরে ৫০০-১০০০ নতুন কারখানা স্থাপন হবে। ফলে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে দেশের অর্থনীতিতে। এই সেতু চালু হওয়ার পর ভারত ও নেপাল থেকে পর্যটক সংখ্যা বাড়বে। পর্যটনশিল্পে বিপ্লব ঘটবে। সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্য কমবে ১.০১ শতাংশ। জাতীয়ভাবে দারিদ্র্য কমবে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সহজলভ্য হওয়ায় ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের ওপর চাপ কমবে।

বিশ্বব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, ৩ কোটি মানুষ পদ্মা সেতুর কারণে সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে। কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এ সেতু হওয়ায় ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পশ্চিমবাংলার যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। ফলে তারা এই সেতুকে অর্থনৈতিক করিডর হিসাবে ব্যবহার করায় বৈদেশিক মুদ্রায় আয় হবে। সেতুটির ফলে সরাসরি সড়ক ও রেলসংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে মোংলা, পায়রা, এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কসহ ভারতের সাত প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমে আসবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, এডিবির মতে আগামী ৩১ বছরে যোগাযোগ খাতে পদ্মা সেতু থেকে আয় হবে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা নির্মাণ খরচের ৫ দশমিক ৫ গুণ। এ ছাড়া সামাজিক অগ্রগতি অর্থনীতিতে যোগ করবে ২৫ বিলিয়ন ডলার। দুই পারে নদী শাসনের মাধ্যমে যে জমি রক্ষা হয়েছে তার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সেতুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেট লাইন গিয়ে সাশ্রয় করবে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ফেরি চলাচল না হওয়ায় খরচ সাশ্রয় হবে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে যে টাকা এই সেতুতে খরচ হয়েছে তা আগামী ৩০ বছরে সুদসহ অর্থ মন্ত্রণালয়কে ফেরত দেওয়া যাবে।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, সেতু নির্মাণে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ বছরে সুদসহ ৩৬ হাজার কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

লোন রিপেমেন্ট শিডিউল অনুযায়ী প্রথম বছরেই ৫৯৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আবার কোনো কোনো বছর পরিশোধ করতে হবে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত।

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা করছে, প্রথম বছরে টোল আসবে ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোলের বেশিরভাগ টাকা দিয়ে সরকারের ঋণ পরিশোধ করা হবে। বাকিটা খরচ হবে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। ৩৫ বছরে সরকারকে সুদে-আসলে ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধ, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, নদীশাসন এবং আদায়কৃত টোলের ট্যাক্স ও ভ্যাট বাবদ অর্থ পরিশোধে টাকা প্রয়োজন। এ টাকা টোল থেকে সংগ্রহ করা হবে।

তেলের দাম নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্য সচিব

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় আগামী দু-একদিনের মধ্যে দেশের বাজারেও সেটি কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তপন কান্তি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় অভ্যন্তরীণ বাজারে শিগগিরই এ দাম সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে আগামী দু’একদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসতে পারে। আশা করছি তেলের দাম কমবে। এখন সেই হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন তেল রিফাইনারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের জানালে তার পর আমরা জানাতে পারব কত টাকা কমবে। তবে এটি বলা যায় যে, তেলের দাম কমবে।

তারেক-জোবাইদার মামলা চলবে: হাইকোর্ট

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির সময় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বৈধতা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ফলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালত বলেছেন, তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান পলাতক থাকায় তার রিট গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করা হয়। মামলায় তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়।

পরে একই বছরে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী পৃথক রিট আবেদন করেন। রিটে জরুরি আইন ও এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। এর পর রিট মামলাগুলো কার্যতালিকায় আসে। পরে রুল শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

এদিকে একই মামলার বৈধতা নিয়ে আরেকটি ফৌজদারি আবেদন করেছিলেন ডা. জোবায়দা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে জোবাইদা রহমানকে আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জোবাইদা রহমান, যা গত ১৩ এপ্রিল খারিজ করেন আপিল বিভাগ।

আলালকে বিদেশ যেতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বিদেশ যেতে বাধা না দিতে সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বিদেশ গমনে বাধা সৃষ্টি করাকে কেন অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালতে আলালের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. ওমর ফারুক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ।

পরে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, গুরুতর অসুস্থ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গত ১২ জুন চিকিৎসার জন্য ভারত গমনকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই ফেরত পাঠায়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এই আচরণকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে ডোপ টেস্টের আইন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করার জন্য আইন তৈরি হচ্ছে (সংশোধন) বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ওই আইনের মধ্যেই থাকবে যে ভর্তির সময় মেডিকেল টেস্ট করা হবে, যেখানে ডোপ টেস্টও যুক্ত হবে।

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে ডোপ টেস্ট আগেই শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারাই নিয়োগ পাবেন, তাদের যেন ডোপ টেস্ট করা হয় এবং সিভিল সার্জন যে টেস্ট করেন, সেখানে যেন এই ডোপ টেস্ট যুক্ত করা হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেটিও চলে এসেছে। এটিও (ভর্তিচ্ছুদের ডোপ টেস্ট) করা হচ্ছে।

তবে এটি ব্যাপকভাবে করার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। সেই প্রচেষ্টাও শুরু করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র: কমিশন গঠন প্রশ্নে রুল শুনানি কাল

পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন ঠিক করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পদ্মা সেতু নিয়ে জারি করা রুলের বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করার পর তা শুনানির জন্য সোমবার নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। আশা করি নির্ধারিত ও ধার্য দিনে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

একটি জাতীয় পত্রিকায় ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি: আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পর দিন (১৫ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পsত্রিকার সংবাদের কথা উল্লেখ করে এ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
ওই সময় পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্টিকারীকে- তা জানতে চেয়ে এবং প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য ‘ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৫ (৩ ধারা)’ অনুসারে কমিশন গঠন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বঃপ্রণোদিত রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে তাদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল রুলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, যোগাযোগ সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
পাশাপাশি এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ওই বছরের ২০ মার্চ রুলের জবাব ও প্রতিবেদন দিতে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৭ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন হাইকোর্ট। পরে কয়েক দফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
এর মধ্যে কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর একজন সদস্যের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (কারিগরি) মো. কামরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করা হয়। এর পর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হওয়ায় রুলটি আর শুনানিতে ওঠেনি।

উচাইল শাহী মসজিদ

১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন শ্রীহট্ট অঞ্চলে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো সিলেট অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ইসলাম ধর্ম প্রচার হতে শুরু করে।

ইসলাম ধর্ম ব্যাপকভাবে বিস্তারের পাশাপাশি শ্রীহট্ট অঞ্চলে সুলতানি আমলে অসংখ্য অপূর্ব কারুকার্যময় মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। সেই আমলে নির্মিত বহু মসজিদের শিলালিপি পাওয়া গেলেও পুরো শ্রীহট্ট অঞ্চলে এখন অস্তিত্ব রয়েছে মাত্র একটি মসজিদের। বাকিগুলোর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

সুলতানি আমলের যে মসজিদটি এখনো টিকে আছে, সেটি হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল শাহী মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত।

এ ধরনের মসজিদের নমুনা দেখা যায় দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, পটুয়াখালীর মসজিদবাড়ি মসজিদ ও গৌড়ের খনিয়া দিঘি মসজিদে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শাহজীবাজার রেলস্টেশন থেকে মাত্র আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সিলেট বিভাগে সুলতানি আমলের সর্বশেষ নিদর্শন এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক সমাগম হচ্ছে।

উচাইল শাহী মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩২ ফুট। মসজিদের চারকোণে চারটি ও বারান্দার দুই কোণে দুটি অষ্টকোণ আকৃতির মিনার আছে। কেন্দ্রীয় মেহরাবের দুধারে পেছনের দেওয়ালেও দুটি মিনার ছিল বলে জানা গেছে। গত কয়েক বছর আগে মসজিদটি সংস্কারের সময় এ দুটি মিনার ভেঙে ফেলা হয়। বর্গাকারে নির্মিত মসজিদটির কেন্দ্রীয় কক্ষের ভেতরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। দুটিই ২১ ফুট ৫ ইঞ্চি। কেন্দ্রীয় মসজিদ কক্ষের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দেওয়ালে আছে তিনটি করে প্রবেশপথ।

ভেতরের পশ্চিম দেওয়ালে তিনটি মেহরাব আছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ কক্ষের বাইরে বারান্দার পূর্ব দেওয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে একটি করে প্রবেশপথ আছে। মসজিদের কেন্দ্রীয় কক্ষের ওপরে বিরাট আকারের গম্বুজ ছিল বলে জানা যায়। ওপরের এ গম্বুজটি কালের বিবর্তনে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে লোহার বর্গার ওপরে সমগ্র মসজিদে সমতল ছাদ নির্মিত হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদটির অনেক অবকাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। সুলতানি আমলে বাঁকাভাবে নির্মিত কার্নিশ ও প্যারাপেট সরল রেখায় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। কোণের মিনারগুলোকেও তোলে দেওয়া হয়েছে ছাদের অনেক ওপরে।

এতে সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদটির আদি ও আসল রূপ অনেকটা ম্লান হয়ে গেলেও মসজিদের আদি অলংকরণের বেশ কিছু নিদর্শন এখনো মসজিদটির গায়ে অক্ষত আছে। মসজিদের দেওয়ালগুলোর বাইরের দিকে পোড়ামাটির চিত্র ফলকের সাহায্যে অতি মনোরম অলংকরণের কিছুটা এখনো অক্ষত রয়েছে। এক সময় পুরো মসজিদের বাইরের দেওয়াল এভাবে পোড়ামাটির অলংকরণ ছিল। বর্তমানে যার অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

শাহী মসজিদটির মেহরাবগুলোর অলংকরণও ছিল অত্যন্ত উঁচু মানের। পত্রকারে নির্মিত মেহরাবগুলোর উপরিভাগে খাঁজকাটা ছিল। মেহরাবের ফ্রেমের স্তম্ভগুলোতে লতার সাহায্যে অসংখ্য ছোট ছোট বর্গ ও আয়তনক্ষেত্রের সৃষ্টি করে সেগুলোর ভেতরে চার বা আট দল বিশিষ্ট পুষ্পের প্রতিকৃতি অঙ্কিত করা হয়েছিল। মেহরাবের ভেতরের স্তম্ভগুলোতে ছিল ঝুলন্ত শিকল ও ঘণ্টার প্রতিকৃতি।

মেহরাবের উপরিভাগ ও ভেতরে ছিল লতাপাতা ও পুষ্পর প্রতিকৃতি। এমন সুন্দর মনোমুগ্ধকর অলংকৃত মসজিদ বাংলাদেশে রয়েছে হাতেগোনা। উচাইল (শঙ্করপাশা) শাহী মসজিদটির অনেক আদি অলংকরণ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেলেও এখনো যেটুকু অলংকরণ টিকে আছে তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। উচাইল (শঙ্করপাশা) শাহী মসজিদের কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি।

তবে মসজিদের গঠন পদ্ধতি ও শিল্প কৌশল দেখে বিশেষজ্ঞদের অভিমত এ মসজিদটি সুলতানি আমলেই নির্মিত হয়েছিল এবং তা খুব সম্ভবত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র রাজত্বকালে নির্মিত বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। মসজিদের দক্ষিণপ্রান্তে রয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী শাহ মজলিশ আমিন (রহ.) এর মাজার শরিফ। তিনি ইসলাম প্রচারে বাংলাদেশে এসে তরফ অঞ্চলে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। আদিকালে উচাইল গ্রামের নাম ছিল শঙ্করপাশা। কিন্তু এলাকায় ইসলামের বাণী প্রচারে এসে শাহ মজলিশ আমিন (রহ.) এ গ্রামের নামকরণ করেন উচাইল। এখন এ নামেই পরিচিত গ্রামটি।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক

তরুণ আলেমদের ক্যারিয়ার ভাবনা

হালাল উপার্জন ফরজ ইবাদাত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে সুন্দর জীবন গঠনে উন্নত ও সম্মানী পেশার দিকে ছুটছে মানুষ। বিশ্বায়নের এ যুগে নিজেকে মেলে ধরতে পিছিয়ে নেই তরুণ আলেমরাও।

এক সময় শুধু মসজিদ মাদ্রাসামুখী আলেম সমাজ বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। মাদ্রাসাগুলো থেকে যে হারে মাওলানা হয়ে বের হচ্ছেন সে তুলনায় মসজিদ মাদ্রাসা যথেষ্ট কম।

চলতি বছর সদ্য মাস্টার্স স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (ইসলামিক স্টাডিজ ও অ্যারাবিকে) কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ থেকে তাকমিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ২৪ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থী। ছাত্র রয়েছেন ১৫ হাজার ৩৬ জন আর ৯ হাজার ৮৯৩ জন ছাত্রী। এ ছাড়া কামিল পরীক্ষা দিয়েও মাওলানা হচ্ছেন হাজারো তরুণ আলেম। তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন-আহমদ ইসলামাবাদী

অনুবাদ, সম্পাদনা ও লেখালেখি : ক. মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ আলেমরা অনুবাদক ও সম্পাদক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। আরবি, বাংলা, উর্দু, ইংরেজি ভাষায় অনেক তরুণ আলেমদের ভাষা দক্ষতা রয়েছে। ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে আরব বিশ্বসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন লেখকদের বই অনুবাদ করে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন এক অনন্য উচ্চতায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বইয়ের সম্পাদনায়ও নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে ঢাকার বাংলাবাজারসহ দেশের বিখ্যাত প্রকাশনীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ যোগ্যতায় কাজ করতে পারেন।

খ. সৃজনশীল লেখালেখি : তরুণ আলেমরা সৃজনশীল লেখালেখি করে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারেন। বর্তমানে বইমেলায় ইসলামি বইয়ের চাহিদা অনেক। যুক্তির কষ্টিপাথরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়াবলিকে সামনে রেখে লেখা বইগুলো বাজারে বেস্টসেলার হচ্ছে। কোনো কোনো বই লাখ লাখ কপিও বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিকে ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা রয়েছে। সেখানে বিষয়ভিত্তিক লেখা চান সম্পাদক ও প্রকাশকরা। এখানে লেখালেখি করেও একটা ভালো সম্মানী পেতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন : বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি প্রফেশনাল পেশায় পরিণত হয়েছে। বই, খাতা, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যাশমেমো, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ম্যাগাজিনসহ যাবতীয় সেবায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে কোনো তরুণ আলেম মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস কোর্স করে ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন। এ থেকে ভালো উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন তরুণ আলেমরা।

অনলাইন বিজনেস ও ক্ষুদ্র ব্যবসা : বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব। তাই অনলাইন বিজনেস হতে পারে ব্যবসা ও উপার্জনের একটি সুন্দর মাধ্যম। অল্প পুঁজি নিয়ে পাইকারি মার্কেট থেকে পণ্য ক্রয় করে তা অনলাইনে শেয়ার করে ব্যবসা করতে পারেন যে কোনো তরুণ আলেম। নিজের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, নিজ পরিচিতজনের মাঝে এসব প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। ধীরে ধীরে একজন তরুণ আলেম একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন।

উপস্থাপনা ও সাংবাদিকতা : ক. উপস্থাপনা একটি নন্দিত শিল্প। রাসূল (সা.)-এর বাণী, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছিয়ে দাও।’ (মিশকাত শরিফ, কিতাবুল ইলম, হাদিস নং : ১৯৮) ইউটিউবে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির, ইতিহাস এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে খ্যাতির পাশাপাশি ভালো উপার্জনও করতে পারেন একজন তরুণ আলেম। তবে এক্ষেত্রে ভাষা সুন্দর, সাবলীল, আকর্ষণীয় ও গোছালো হওয়া অপরিহার্য। কথা বলার স্টাইল যত সুন্দর, মনোরম, গোছালো ও আকর্ষণীয় হবে ততই তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

বর্তমানে অনেক ওয়ায়েজ, খতিব, মোটিভেশনাল স্পিকার তাদের নিজস্ব বক্তৃতা ইউটিউবে আপলোড করে থাকেন। অনেক কণ্ঠশিল্পী হামদ, নাত, গজল পরিবেশন করে থাকেন। দেশ-বিদেশি কুরআনের প্রখ্যাত কারিরা ও বিশ্বজয়ী হাফেজরা তাদের সুন্দর তেলাওয়াত ফেসবুক, ইউটিউবে আপলোড করে কর্তৃপক্ষ থেকে প্লে বাটনও পেয়েছেন। প্রত্যেক পেশাজীবী মানুষও তাদের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ইউটিউবে আপলোডের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে নিজেদের কার্যক্রমকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নন্দিতভাবে।

খ. এ ছাড়া সাংবাদিকতা পেশায় যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে তরুণ আলেমদের। বর্তমানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সেখানে গ্রহণযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ খবরাখবর প্রচার করছেন আলেম সমাজ। দেশ, বিদেশ, আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি প্রবন্ধ, নিবন্ধও আগ্রহের সঙ্গে পড়ছেন মানুষ।

ফ্রিল্যান্সিং : ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং করতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য। এক্ষেত্রে কাজ চালানোর মতো ইংরেজি জানা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য গুগল, ইউটিউবের বিভিন্ন সোর্স থেকে বের করার দক্ষতা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সাররা কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইনার, কেউ ওয়েব ডিজাইনার, কেউ ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে কাজ করে থাকেন। এখানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সররা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

সরকারের আইসিটি বিভাগ বলছে, দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ, যারা অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তরুণ আলেমরা চাইলে ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাধীনভাবে আয় করতে পারেন।

অনলাইন টিচিং বা শিক্ষকতা : অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও তরুণ আলেমরা শিক্ষকতা করতে পারেন। জেনারেল শিক্ষিত অনেক ভাইদের এবং অনেক চাকরিজীবী কিংবা বয়স্কদের পবিত্র কুরআন শরিফ সহিহ শুদ্ধভাবে পড়ার আগ্রহ জাগ্রত রয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও শেখার আগ্রহ অসংখ্য জেনারেল শিক্ষিত ভাইদের। এক্ষেত্রে দেশে কিংবা বিদেশে বসেও জুম অ্যাপসে, ইমুতে, ভিডিও কলে অনলাইন পাঠদান করানো সম্ভব।

দোভাষী : যেহেতু আলেমদের বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শিতা রয়েছে তাই দোভাষী হিসাবে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করার সুযোগ যেমন হবে তেমনি যোগ্যতা ও নিত্যনতুন অভিজ্ঞতাও অর্জিত হবে।

ভূমি সার্ভেয়ার বা দলিল লেখক : একজন সার্ভেয়ার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর জন্য সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত পরিমাপের কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া কোনো স্থানের মানচিত্র তৈরি, খনন এবং আইনি উদ্দেশ্যের জন্য দরকারি ডাটা সরবরাহ করে থাকেন। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দুই বা একাধিক পরিবারের মাঝে জমিসংক্রান্ত সৃষ্ট ঝামেলায় একজন ভূমি সার্ভেয়ার খতিয়ান দেখে যাচাইপূর্বক সমাধান দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসাগুলোতে মুসলিম ফরায়েজি আইন ও এ সংক্রান্ত কিতাব ‘সিরাজি’ পাঠদান করানো হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের ভূমি জরিপের কোর্স সম্পন্ন করে এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া জমির খতিয়ান লেখার জন্য দলিল লেখারও চাহিদা রয়েছে সমাজে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার চালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে একজন তরুণ আলেম এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

হজ ও ট্রাভেলস এজেন্সি : ক. প্রত্যেক মুসলমানদের হৃদয়ের বাসনা থাকে জীবনে একবার হলেও হজ ও ওমরাহ করার। মক্কা মদিনার জেয়ারত করা। হজ ও ওমরাহে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। অর্থের বিনিময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান হজ, ওমরাহর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন এসব প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে হজ এজেন্সি গ্রুপ। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সরকারি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে হজ এজেন্সির ব্যবসা করে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারেন। সাধারণ মানুষের হজ ওমরাহে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘মুয়াল্লিম’ তথা যিনি হজ ওমরাহে হাজিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এমন আলেমদের চাহিদা রয়েছে। এ পেশায় আলেমরা সম্পৃক্ত হতে পারেন।

খ. ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস : মানুষের যতগুলো শখ রয়েছে তার মধ্যে ট্রাভেল অন্যতম। নতুন নতুন জায়গা, প্রাচীন স্থাপনা, সাগর, নদী, পাহাড় ঘুরে বেড়ানো অন্যতম। এ ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করে থাকেন। ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বা অর্থের জন্য বিদেশগামী মানুষদের সেবা প্রদানের জন্য ভিসা, টিকিট, পাসপোর্ট ইত্যাদি সেবা করে থাকে এজেন্সিগুলো। তরুণ আলেমরা এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন অনায়াসেই।

এ ছাড়া অসংখ্য পথ খোলা রয়েছে তরুণ আলেমদের জন্য। সব কাজে প্রয়োজন দক্ষতা, একনিষ্ঠতা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। এসব গুণাবলি মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। হতাশ না হয়ে তরুণ আলেমরা সম্মানী পেশায় নিজেদের মেলে ধরে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারেন।

লেখক : শিক্ষক- জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা।