শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 228

তীব্র দাবদাহে যুক্তরাজ্যে সতর্কতা জারি

যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর সতর্কতা জারি করেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার দেশটির আবহাওয়া দপ্তর এ সতর্কতা জারি করে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, আগামী সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় দাবদাহ থাকবে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে গরম থাকবে সবচেয়ে বেশি।

রবি ও সোমবার দেশটিতে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্পেন ও পর্তুগালসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্যে গরম কিছুটা কম পড়বে। স্পেন ও পর্তুগালে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই পূর্ব ইংল্যান্ডে।

ফখরুল-ইউনূসের কঠোর সমালোচনায় হানিফ, যা বললেন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপির মিথ্যাচারের অংশ।

সোমবার কুষ্টিয়ায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, মিথ্যাচার ছাড়া তাদের কোনো বক্তব্য নেই। কারণ তারা সরকারে থাকতে কোনো সেক্টরেই উন্নয়ন করতে পারেনি।

বিএনপি নেতাদের উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, মানুষের মাথাপিছু আয় ৬শ থেকে ২৯শ ডলারে উত্তীর্ণ, মেট্রোরেল, ফোর-ফাইভ লেন সড়ক এইসব উন্নয়ন কীভাবে হলো?

হানিফ বলেন, ‘সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিএনপির গা জ্বালা করছে… এটার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয় যে বিএনপি লাগাতার মিথ্যাচারই করছে।’

তিনি বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম এবং ড. ইউনূসের উন্নয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন।

হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবরা ড. ইউনুসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলেছিলেন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে।আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা নেই।উন্নয়ন যত হচ্ছে তত জ্বালা বাড়ছে বিএনপির।

নির্বাচন হবে ব্যালট সিলে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এ দেশের জনগণ ইভিএম মেনে নেবে না। আগামী নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে এবং নির্বাচন হবে ব্যালটে সিলের মাধ্যমে।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক মশাল মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মশাল মিছিলটি যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের সামনে থেকে শনিআখড়া গিয়ে শেষ হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মশাল মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

মশাল মিছিলে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি নেতা শিপন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সঞ্জয় দে রিপন, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বার বার গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ছে। জনগণের টাকা লুট করতে এসব জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রীলংকার সব অবস্থা বিদ্যমান। দেশকে দেউলিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে।’

ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুলল

ঈদের ছুটি শেষ। আজ থেকে অফিস, ব্যাংক, বিমা, আদালত, শেয়ারবাজার খুলেছে।

ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেছে মানুষ। গতকাল থেকেই ঢাকামুখী স্রোত শুরু হয়েছে।

আজ সকালেও অনেকে ঢাকায় এসে সরাসরি অফিসে যোগদান করেছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জেলার লোকজন ভোরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে অফিস করছে।

আজও ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। স্কুল-কলেজ ছুটি থাকায় এবং ঈদের আমেজ থাকায় অনেকেই বাসায়ই অবস্থান করছেন।

সোমবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পবিত্র ঈদুল আজহার তিন দিনের ছুটি শেষ হয়।

গত রোববার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনি, রবি ও সোমবার সরকারি সাধারণ ছুটি ছিল।

ঈদের ছুটির আগে দিন শুক্রবার ছিল সপ্তাহিক ছুটি।

গত বৃহস্পতিবার ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। সেই হিসাবে টানা চার দিন ঈদের ছুটি শেষে আজ অফিসপাড়ায় যোগ দিয়েছেন কর্মজীবীরা।

আজ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খুলেছে। তবে কর্মক্ষেত্রে বিরাজ করছে ঈদের আমেজ।

দায়িত্ব নিলেন নতুন গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নিয়েছেন। ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে আজ সকাল ১০টায় তিনি নতুন এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে বরণ করে নেন। তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিদায়ী গভর্নর ফজলে কবিরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রউফ। তিনি দেশের ১২তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের দায়িত্ব পাওয়া আবদুর রউফ তালুকদারের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। গভর্নর পদে যোগ দিতে তাকে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিতে হয়েছে। ১১ জুলাই থেকে তার স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় অনুমোদন দিয়েছে।

সরকারি চাকরি বিধি, ২০১৮-এর দ্বাদশ অধ্যায়ে ‘অবসর, ইস্তফা ইত্যাদি’ বিষয়ে বিবরণ দেওয়া আছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় একজন সরকারি কর্মচারী অবসর নিতে পারেন। তবে অবসর গ্রহণের ৩০ দিন আগে ওই কর্মচারীকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা লিখিতভাবে জানাতে হবে। আরও উল্লেখ আছে, এ ইচ্ছা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং তা সংশোধন বা প্রত্যাহার করা যাবে না।

আবদুর রউফ তালুকদারের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আবদুর রউফ তালুকদার সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন সচিবালয় ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে। এ ক্যাডার বিলুপ্ত হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। কর্মজীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরের উপনিবন্ধক, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

রাজধানীর শনি আখরা ও কামরাঙ্গীরচরে পথশিশুদের মাঝে তিনশত খাবার প্যাকেট বিতরণ

” আমাদের বিদ্যানিকেতন” এর উদ্যোগে আজ ,১২ ই জুলাই ২০২২,রোজ সোমবার,বিকাল ৫.৪৫ মিনিটে রাজধানীর শনিরআখড়া ও কামরাঙ্গীরচরে পথশিশুদের জন্য “আমাদের বিদ্যানিকেতন” এর উদ্যোগে ও আয়োজনে প্রায় তিনশত পথশিশুদের আস্ত গরুর মাংস দিয়ে তেহারী তৈরী করে বিতরন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমাদের বিদ্যানিকেতন এর সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকাগন সহ পথশিশু শিক্ষাথীগন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানব কল্যাণ, প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের জন্য সংস্থার চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ওয়াহিদু নবী বিপ্লব, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, সেক্রেটারি জেনারেল আবুল হাসান, উপস্থিত ছিলেন ফাইনান্স সেক্রেটারি মুহাম্মদ সুজন। পথশিশুদের জন্য কাজ করার উৎসাহ প্রদান করায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব বিপুল বাগমার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব দেলোয়ার হোসেনকে এ সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

ঈদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী

পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী দেশে ফিরছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের বিষন্নতা থেকে একটু আনন্দ পেতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে এবার ঈদুল আজহা পালনের উদ্দেশ্যে দেশে ফিরছেন প্রায় ৩০ সহস্রাধিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল-কলেজগুলোতে চলছে দুই মাসব্যাপী গ্রীষ্মকালীন ছুটি। স্কুল বন্ধের সাথে ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় দেশে ফিরে যাওয়া প্রবাসীদের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা গত দুই বছরে চারটি ঈদে দেশে গিয়ে নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা করতে পারেননি হাজার হাজার প্রবাসী। চলতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতর উদযাপানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছিল প্রায় ১০ সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রবাসী ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। বাকিরা বিমান টিকিট বিড়ম্বনার ফলে ঈদের একদিন আগে এবং কেউ কেউ ঈদের দিনে দেশে পৌঁছবেন।

শনিবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। সেই মোতাবেক প্রায় এক-দুই মাস আগে থেকেই প্রবাসীরা দেশে ফেরার প্রস্তুতি গ্রহণ করে বিমান টিকিট ক্রয় করেন। দেশের ফেরার জন্য প্রবাসীদের চড়া মূল্যে বিমানের টিকেট কিনতে হয়েছে। সাধারনত নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমানের ভাড়া ১ হাজার ডলারেরও কম, কিন্ত টিকেটের ক্রেতার সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানের ভাড়াও বেড়ে যায়। নিরুপায় হয়ে অধিকাংশ প্রবাসী নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমানের টিকেট কিনেছেন ১৪শ’ থেকে ১৬শ’ ডলার দিয়ে। গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই তারা দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।

নিউইয়র্কের বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সাথে কথা জানা যায়, গত দুই বছর ঈদের মৌসুমে নিউইয়র্ক-ঢাকাগামী বিমান যাত্রীর কাছে তারা তেমন কোন টিকিট বিক্রি করতে পারেননি, কিন্তু এবারে টিকিট বিক্রির হার তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। শুধু নিউইয়র্কেই প্রায় ২০-২৫টি ট্রাভেল এজেন্সি প্রত্যকেই ২-৩শ করে নিউইয়র্কে-ঢাকাগামী যাত্রীর টিকিট বিক্রি করেন। কেউ কেউ বিক্রি করেছে ৫শ’র বেশি। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও বিক্রি করেছে ১শ’ থেকে ২শ টিকিট। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী এবারে ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরছেন প্রায় ৩০ সহস্রাধিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক প্রবাসীর ঈদে দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও উচ্চশ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের স্কুল থেকে ছুটি না মেলায় তারা গত ঈদুল ফিতরে দেশে ফিরতে পারেনি। তাই ঈদুল আহজায় গ্রীষ্মকালীন স্কুল ছুটিতে তারা দেশে ফিরে পরিবার পরিজনদের সাথে মিলিত হচ্ছেন। ফলে ঈদে দেশে ফেরা প্রবাসীর সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অধুষ্যিত অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ডিসি ও কেন্টাকির প্রায় স্কুল-কলেজে চলছে দুই মাসব্যাপী গ্রীষ্মকালীন ছুটি। যারা ঈদের ছুটিতে দেশে যাচ্ছেন না তারা লম্বা ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

বারবিকিউ পার্টির কথা বলে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গ্রেফতার

রাজধানীর শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার কুমার অনিমেষ ভট্টাচার্য (৪২) ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং বিভাগের প্রভাষক। বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে শিক্ষকের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে সহপাঠী, তাকেও পুলিশ খুঁজছে।

মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি মহসীন বলেন, বারবিকিউ পার্টির কথা বলে গত ৬ জুলাই রাতে ওই শিক্ষার্থীকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে শিক্ষক কুমার অনিমেষের ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে অনিমেষ দরজা খুলে ওই ছাত্রীকে টেনে ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে শ্লীলতাহানি করে।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, শিক্ষকের বাসায় বারবিকিউ পার্টিতে সবাই আসবে বলে তাকে জানিয়েছিলেন তার সেই সহপাঠী (২৫)। মোবাইল ফোনে ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দিয়েছিল। পরে পরিবারের অনুমতি নিয়ে ছোট ভাইসহ ওই শিক্ষকের বাসায় যান তারা।

সহপাঠীর কথায় ছোট ভাইকে নিচে থাকতে বলে তারা দুজন ভবনের পঞ্চম তলায় শিক্ষক অনিমেষের ফ্ল্যাটে যান। কিন্তু সেখানে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছিল না বা অন্য কেউ ছিল না বলে এজাহারে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

শিক্ষক অনিমেষ বিবাহিত হলেও ওই ফ্ল্যাটে তিনি একা থাকেন জানিয়ে ওসি বলেন, রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইবিতে চোরের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ কিংবা খোলা সব অবস্থাতেই চোরের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না। সংরক্ষিত আবাসিক এলাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ, আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঘটছে চুরির ঘটনা। এসব ঘটনা নীরব পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফলে গত এক বছরে ছোট-বড় প্রায় এক ডজনের বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে। কখনো বন্ধ হলের কক্ষের তালা ভেঙে আবার হল খোলা থাকা অবস্থাতেও ঘটছে চুরি। এসব ঘটনার একটিরও কিনারা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। চোরের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না মসজিদের সরঞ্জামাদিও। প্রত্যেক চুরির ঘটনা পাশ কাটিয়ে যাওয়া আর দায়সারা তদন্ত কমিটি করেই নীরব থাকে প্রশাসন। ফলে চুরির ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ক্যাম্পাসে কায়েম হয়েছে চোরের রাজত্ব।

কর্তৃপক্ষের দায়সারা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বুলিতে ভরসা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে বন্ধ ক্যাম্পাসে হল ও বাসাবাড়িতে মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে আতঙ্কে রয়েছেন তারা। ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই বেড়ে যায় চুরির ঘটনা। কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকবার ছুটির পূর্বে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা সেল নিয়ে কয়েক দফায় মিটিং করলেও আসলে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয় কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে ক্যাম্পাস। একইসঙ্গে বন্ধ ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে কীভাবে নিরাপত্তার চাদর ভেদ করে এসব চুরির ঘটনা ঘটছে এ প্রশ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

তথ্যমতে, সাম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক কোয়ার্টারের গ্রিল ভেঙে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিনের বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওই ভবনে থাকেন। এর আগে চলতি বছরের ৬ জুন দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের জানালা দিয়ে এক ছাত্রীর টাকা চুরি হয়। ৮ই জুন কেন্দ্রীয় মসজিদের চারটি স্ট্যান্ড ফ্যান চুরি। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ছাত্রী হলের সামনের দোকান থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি, বঙ্গবন্ধু হলের দেশীয় ব্লক-১ এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে ১০টি পিতলের পাতিল চুরি হয়ে যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি। এর আগে ১৯ জানুয়ারি ক্রিকেট মাঠ থেকে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের খেলার সামগ্রীসহ লাইট সেট চুরি হয়।

এছাড়া করোনাকালীন বন্ধে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনে অন্তত ১০টি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। যার একটিরও সুরাহ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে খালেদা জিয়া হলের পুরাতন ব্লকের নয়টি কক্ষে চুরি, সাদ্দাম হোসেন হলের চার কক্ষের তালা ভেঙে চুরি ও ওয়াশরুমের ফিটিংস চুরি, শহিদ জিয়াউর রহমান হলের চার কক্ষে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে শেখ রাসেল হলের দুই লক্ষাধিক টাকার সাবমার্সিবল পাম্প চুরির ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। চুরি হয় নির্মাণাধীন রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের নির্মাণসামগ্রী। একই সময় ভবনের সামনে থেকে একটি ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু চুরিই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংলগ্ন এলাকা থেকে এক ছাত্রীর মোবাইল ও ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধের ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- প্রশাসনের এমন আশ্বাসে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তবে লিখিত অভিযোগে কোনো কাজ তো হয়নি বরং অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে বেশ কয়েকবার হাতেনাতে চোর আটক হলেও অদৃশ্য কারণে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি চুরির ঘটনার তিন দিন পূর্বে দুই চোরকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চুরির সময় হাতেনাতে আটক হয় চোর। তার স্বীকারোক্তিমতে অন্তত দুই লাখ টাকার সমপরিমাণ চুরি করে চোরচক্র। জিজ্ঞাসাবাদে গ্যাংদের তথ্য ও শেখ রাসেল হলের সাবমার্সিবল পাম্প চুরি ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার নামও জানায়। তবে অদৃশ্য কারণে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবাসিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান বলেন, আবাসিক ভবনে চুরির ঘটনা দুঃখজনক। প্রশাসনের সঙ্গে বসে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক ভবনে সিকিউরিটি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ছোট হোক আর বড় এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছোট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে চুরির ঘটনাগুলো জানতে পেরেছি তা অধিকাংশ মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্তদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রক্টরিয়াল বডিকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।

ঈদে সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই পরিমিত আহার

পশু কুরবানির মাধ্যমেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। এ সময়ে প্রায় সব বাড়িতেই মাংসের আধিক্য দেখা যায়। এ কারণে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় কুরবানির ঈদে মাংস খাওয়া হয় বেশি এবং তা হয় সময় ও হিসাব ছাড়া। অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে দেখা যায় শারীরিক অসুস্থতা। যেমন-বদহজম, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটে ব্যথা, বমি ইত্যাদি। পেট ফাঁপার ফলে অনেক সময় মাথা ব্যথা ও অবসাদ দেখা দেয়।

যদিও গরু-খাসির মাংসের মধ্যে থাকে সব এমাইনো এসিড, লৌহ, ফসফরাস, ভিটামিন বি১ ও ভিটামিন বি২। এতসব পুষ্টি উপাদান থাকার পরও মাংস বেশি খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে হজমের ব্যাঘাত ঘটে।

দেখা যায় ঈদের দিনে সবজি একেবারেই খাওয়া হয় না। এই কারণে টকদই, লেবু, শসা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ দিয়ে সালাদ করে খেলে ভালো হয়। আবার বিভিন্ন ধরনের সবজি হালকা তেল মসলা দিয়ে রান্না করে অথবা চাইনিজ ভেজিটেবল করে খাওয়া যেতে পারে। সবজির মধ্যে কাঁচা পেঁপে থাকলে খুবই ভালো হয়। এতে মাংসের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি হয় না। তেমনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও বাঁচা সম্ভব। বাড়িতে যারা বয়স্ক লোক আছেন তারা শক্ত মাংস খেতে না পারলে তাদের সুসিদ্ধ মাংস, শামিকাবাব, কিমা রান্না, কলিজা ও মগজ ভুনা করে দিতে পারেন। এতে তারা ঈদের আনন্দ ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

রান্নার ফলে মাংসে নানারকম পরিবর্তন ঘটে। তাপে মাংসের প্রোটিন জমাট বাঁধে ও নরম হয়। তবে এতে যে কোলাজেন নামক প্রোটিন আছে, সেটা জমাট বাঁধে না। খুব বেশি তাপে মাংসের প্রোটিন কঠিন ও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই শক্ত মাংস হজম করা কষ্টকর। সব ধরনের মাংসই কোমল হয় যদি অল্প আঁচে বেশিক্ষণ ধরে রান্না করা হয়। এতে খাদ্যগুণের কোনো ঘাটতি হয় না।

গরু-খাসি অর্থাৎ রেডমিট শরীরের জন্য উপকারী হলেও এতে অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। টিনিয়া সেলিয়াস নামক এক ধরনের পরজীবী রেডমিটে থাকে। যা দেহে বিশেষ ধরনের টিউবার কিউলোসিস (যক্ষ্মা) এর জন্ম দেয়। এই জাতীয় জীবাণু অন্ত্র, পাকস্থলী, যকৃত প্রভৃতি জায়গায় প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। অর্ধসিদ্ধ মাংসই দেহে এ ধরনের রোগের বিস্তার ঘটায়। এ কারণে শিককাবাব ও বারবিকিউ খেতে গেলে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। ঈদের দিনে অনেকেই এ ধরনের খাবার তৈরিতে উৎসাহ দেখান। বিশেষ করে বাড়ির ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।

এই গরমের মধ্যে অনেকের মধ্যে পানি স্বল্পতা দেখা যায়। এই কারণে যারা মাংস কোটা-বাছা এবং গোছাবেন, যারা রান্না ঘরে কাজ করবেন তাদের উচিত কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করা। এছাড়া খেতে পারেন ফলের রস, লেবু-পুদিনার শরবত, তোকমার শরবত, ঘোল, মাঠা ইত্যাদি।

কিছু কিছু অসুস্থতায় মাংস কম খাওয়া ভালো। যেমন-ওজন বেশি থাকলে, পেটের সমস্যা অর্থাৎ লিভারের সমস্যা থাকলে, কিডনি রোগ থাকলে। এছাড়া আর্থ্রাইটিস, রক্তে কলস্টেরল ও ট্রাইগ্লাইসেরাইড বেশি থাকলে, হৃদরোগ থাকলে মাংসের চর্বি, কলিজা, মগজ, পায়ার স্যুপ (নেহারি), ভুঁড়ি বাদ দেওয়া ভালো।

সুতরাং, ঈদের আনন্দ পুরোপুরি পেতে হলে মাত্রাজ্ঞান রেখে এবং সতর্কতার সঙ্গে জীবাণুমুক্ত মাংস খাওয়া উচিত। একেবারে বাদ না দিয়ে সীমিত পরিমাণে, সময় মেনে মাংস খেলে তেমন অসুবিধা হয় না। সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমিত আহারই উত্তম।

নিরাপদে কুরবানির কাজ সম্পন্ন করতে নিতে হবে বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কতা। যেমন-

কুরবানির কাজটি সম্পূর্ণ করতে অবশ্যই পরিষ্কার তিনস্তরের কাপড়ের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও শুরুর আগে-পরে সাবান পানি বা জীবাণুনাশক লিকুইড ব্যবহার করতে হবে। তাহলে সংক্রমণের আশঙ্কা একদম কমে যাবে।

স্বস্তির কথা হচ্ছে মাংস থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে; কিন্তু যদি যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি এসব কাজে যুক্ত থাকেন, তাহলে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ছড়াতে পারে। তাই কুরবানির স্থানে বেশি লোকসমাগম করা যাবে না। অন্যবারের চেয়ে কম সংখ্যক সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ রাখুন কুরবানির কাজে।

কুরবানি শেষে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করুন ও গায়ের পোশাক পরিবর্তন করুন।

নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানির পশু জবাই করতে হবে। এবং পর্যাপ্ত পানি ঢেলে রক্ত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পশু কুরবানির রক্ত গর্তে মাটি চাপা দিয়ে পরিবেশ স্বাস্থ্র্যকর রাখা যায়। এছাড়া যে স্থানে মাংস কাটা হবে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

কুরবানির মাংস তিনভাগ করে এক ভাই অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করুন। এ বছর ভিড়বাট্টা পরিহার করা উচিত।

প্রতিবারের মতো কুরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। কুরবানিরকৃত পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীকে সহায়তা করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্নতার দিকে একটু বিশেষভাবে ত্বরিৎ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দিকে নজর দিতে হবে।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা