বঙ্গবন্ধুর দর্শন এখন বহুমাত্রায় অনুশীলন হচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

0
125

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, বিগত শতকের ষাটের দশক ছিল বাঙালির সোনালি সময়। এ সময়ে মানুষ নিজেকে গড়ে তুলেছে। নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুনিচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করলেও তার আদর্শ মুছে ফেলতে পারেনি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার দর্শন এখন বহুমাত্রায় অনুশীলন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যান্ড হিজ লিগ্যাসি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনার শুরু হয়েছে। রোববার উদ্বোধনী দিনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক জন-ইতিহাস ইনস্টিটিউট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের যৌথ আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দুই দিনব্যাপী এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার হলে।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার চিন্তাভাবনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য সরকার উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্জনের দিকে সরকার মনোযোগী হয়েছে। একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের কাতারে নিয়ে আসার জন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, বাঙালির জাতিসত্তায় বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে মিশে আছেন। বঙ্গবন্ধুকে আঁকড়ে ধরে বাঙালি দুঃসময় অতিক্রম করে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখেছে।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে ভারতের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার বলেন, খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক জন-ইতিহাস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এবং সেমিনারের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ফিরে দেখার জন্য, তাকে মূল্যায়ন করার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুকে বহুমাত্রিকভাবে দেখবার জন্য এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেমিনারের যুগ্ম আহবায়ক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম আতিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন- ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টেকনিক্যাল সেশনে দেশ-বিদেশের শিক্ষক, গবেষকরা তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এদিকে যথাসময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে সেমিনারে অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তবে এ সেমিনারের উদ্বোধন করার কথা ছিল উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের। কিন্তু তিনি সেমিনারে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে উপস্থিত হয়ে দায় সেরেছেন।

এ নিয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চের পর ভিসি কখনো সশরীরে অফিস করেননি।

জাতির পিতাকে নিয়ে এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনারে ভিসি কেন সশরীরে উপস্থিত হননি- এ বিষয়ে জানতে ভিসিকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপাচার্যের অফিসের কর্মরত একজনের কাছে ভিসি অসুস্থ কিনা জানতে চাইলে অসুস্থতার প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভিসি তো মনে হয় অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি বের হবেন কিনা সেটাও আমি জানি না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here