আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি আরও কঠোর করতে হবে: মির্জা ফখরুল

0
69

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে শুধু কথায় হবে না। যে আন্দোলন আমরা করছি তার গতিপ্রকৃতি আরও কঠোর করতে হবে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘লজ্জা হয়, দুঃখ হয়-একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলেন। আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের আসল চেহারা। আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয়। এখন তারা দানবে পরিণত হয়েছে। রোববার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কৃষক দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গৌতম চক্রবর্তী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিএস আইয়ুব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলছেন খালেদা জিয়ার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন। সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না, উলটো তারা (সরকার) শিষ্টাচারবিবর্জিত কথা বলছেন। খালেদা জিয়াকে সরকার ভয় পায়। র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে দেশের জন্য কলঙ্কজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৭৪ বছর। আমি কোনো দিন শুনিনি যে, পাকিস্তান আমলে হোক, বাংলাদেশ আমলে হোক আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর, কোনো কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের একটা কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে দুর্ভাগ্য, আওয়ামী লীগ এ অবস্থাটা তৈরি করেছে। আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত-সেগুলো তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পত্রিকায়ও এসেছে-পুলিশের এক অফিসার বলেছেন, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ। এভাবে সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। দুঃখ হয়, আমাদের সেনাবাহিনীর এক সাবেক প্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তিনি আর দেশটিতে ঢুকতে পারবেন না, তার পরিবারের সদস্যরাও ঢুকতে পারবেন না। অর্থাৎ বাংলাদেশ এমন একটা অসভ্য ও অগণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে, এখন আমাদের রাষ্ট্রের যারা উপরের দিক আছেন, যাদের ওপর রাষ্ট্র নির্ভর করে তাদের বিভিন্ন রাষ্ট্র গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না।

অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ এখন ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দকে গালি হিসাবে ব্যবহার করে-এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চায়ের দোকানে বসলেই বোঝা যায় কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি। সেখানে যে লোকটা সবচেয়ে জোরে কথা বলছে আর অশ্লীল কথা বলছে, ওই লোকটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। লজ্জা হয়, দুঃখ হয় সরকারের একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলেন। এটাই আওয়ামী লীগের আসল চেহারা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, এখন দানবে পরিণত হয়েছে। সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগ কিন্তু দেশ চালায় না, দেশ চালান আমলারা। গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সময়টা কঠিন। এখন কাজ করতে চাইলেও করা যায় না। এখন একটা সভা করতে চাইলেও করা যায় না। কৃষক দলের এ আলোচনা সভা প্রেস ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশ অত্যাচার করে। তবে এরমধ্য দিয়েই উঠে দাঁড়াতে হবে। কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাদের সংগঠিত করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here