হলের দায়িত্বে থাকতে নারাজ প্রভোস্টরা

0
111

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতাদের চাপ অনেক। যার কারণে হলের সিট বণ্টন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয় না। এছাড়া হল পরিচালনা কমিটি এবং ডাইনিং ম্যানেজার দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হয় ক্ষমতাসীনদের।

এসব কথা না শুনলে বিপাকে পড়তে হয় হলের প্রভোস্টদের। শুধু তাই নয়, ছাত্রনেতাদের মতের বাইরে গেলেই হলে নানান সমস্যা পোহাতে হয়। এসব কারণে হলে কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন একাধিক হলের প্রভোস্ট। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দুটি হলের প্রভোস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য ভিসি বরাবর আবেদন করেছেন। এছাড়া আরও চারটি হলের প্রভোস্টরাও পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ৩০ নভেম্বর ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন মারা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হলের ডাইনিং ম্যানেজার নিয়োগের বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাপ ছিল। এরপর তাকে একটি কক্ষের মধ্যে ছাত্ররা মানসিক নিপীড়ন করে। পরবর্তীতে বাড়ি যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. কল্যাণ কুমার হালদার তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ভিসির নিকট আবেদন করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রয়াত সেলিম তার বন্ধু ছিলেন। হলের অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হতো। তার মৃত্যুর পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। যার কারণে পদত্যাগ করি।

এদিকে মঙ্গলবার ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমানের অব্যাহতির বিষয়ে নিশ্চিত করেছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ। প্রয়াত শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার হওয়ায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান হলের ২০২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, আমি মৌখিকভাবে অনেক আগে থেকে হলের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চেয়েছিলাম। সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমার পরিবার থেকে চাপ দিচ্ছিল। যার কারণে আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি।

খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে জানান, আমিও অব্যাহতি চাইব। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে হল যেভাবে পরিচালনা করা যেত এখন আর সেভাবে যায় না।

ডা. এমএ রশীদ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সজল কুমার অধিকারী বলেন, হল সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগামী ৭ দিনের মধ্যে হলের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। তা না হলে গণপদত্যাগ করা হবে। আমি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ডা. আবুল বাশার মো. মামুন জামাল যুগান্তরকে জানান, মহিলা হোস্টেলে তেমন চাপ নেই। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে যে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে আমরা যে কোনো সিদ্ধান্ত নেব। প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট সবাই পরিস্থিতির অপেক্ষায় আছি। পদত্যাগ সময় এলে করব।

অমর একুশে হলের প্রভোস্ট প্রফেসর এএনএম এনামুল কবির বলেন, লালন শাহ হলের ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রকৃত ঘটনা উঠে এলে এবং হলের পরিবেশ ঠিক না হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত ছাত্র কল্যাণ (পরিচালক) প্রফেসর ড. ঈসমাইল সাইফুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, সেলিম স্যারের মৃত্যুর পর আমরা হলের সব প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টদের নিয়ে হল সমন্বয় কমিটির মিটিং করেছিলাম। সেখানে হলের ম্যানেজার নির্বাচন ও সিট বণ্টন নিয়ে যে জটিলতা হয় সেটা উঠে আসে। সবার দাবি, অতিদ্রুত বিষয়গুলোর সুরাহা করা। নয়তো তারা কেউই হলের দায়িত্বে থাকবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমরা ভিসিকে এখনও জানাইনি। এর আগেই দুইজন প্রভোস্ট দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগ করেছেন।

জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ও মিডিয়ার মুখপাত্র রবিউল ইসলাম সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, হাবিবুর রহমান স্যারের অব্যাহতিপত্র ৫ ডিসেম্বর ডিসপ্যাচ শাখায় দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত দুটি হলের প্রভোস্ট অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়ায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান জানান, হলের বিষয়ে কোনো শিক্ষককেই তারা কখনই কোনো চাপ দেয় না। তারা অনেক ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের জন্য অনুরোধ করে। শিক্ষকদের চাপ দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here