খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে

0
132

কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে। তার নিজ দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সোচ্চার হচ্ছেন। এদিকে, হত্যা মামলার ৯ নং আসামি মাসুদকে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নেতৃত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে।

এতে সব কাউন্সিলর ও নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে মেয়র সাক্কু বলেন, কুমিল্লার ইতিহাসে এমন নৃশংস ঘটনা কখনো ঘটেনি।

এ ধরনের ঘটনা এখনই থামাতে হবে। তা না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি বলেন, সোহেল একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলর ছিলেন।

তাকে যেভাবে খুন করা হলো-তাতে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি আরও বলেন, খুনের পরিকল্পনাকারী ও মূল ঘাতকরা এখনো গ্রেফতার হয়নি।

তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। এ সময় কুসিক প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন খান জম্পি, কাউন্সিলর সরকার মো. জাবেদ, মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

তারা বলেন, ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারকাজ বিলম্বিত করা হলে নগরভবন থেকে সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন। হত্যাকারীদের বিচার দাবি করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার-ফেস্টুনও লাগানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাউন্সিলর সোহেলের বাসভবনে গিয়েছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

কুসিকের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেলের মতো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না নগরবাসী।

এরইমধ্যে হত্যাকাণ্ডের একাধিক ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। ফুটেজে ফিল্মি স্টাইলের এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড দেখে নগরবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, সোহেল হত্যা মামলার ৯ নং আসামি মাসুদকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের সংরাইশ এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে মাসুদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেল সোহান সরকার।

সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে বৈঠককালে হামলার শিকার হন।

এ সময় কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে হরিপদ সাহা নামে তার এক সহযোগীও নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ পাঁচজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here