পিইসি পরীক্ষার জন্য আইন তৈরির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

0
118

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা পিইসি পরীক্ষা বাতিল না করে উলটো পাকাপোক্ত করতে শিক্ষা বোর্ড আইন তৈরির উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিক।

তারা বলেন, কোচিং ও নোট-গাইড ব্যবসা উসকে দেওয়া এই পরীক্ষা ইতোমধ্যে অভিভাবকদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়িয়েছে।

এটি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। আইন করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোর দাবি জানান তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন-২০২১ উদ্যোগ নিয়েছে। আইনটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনগণের মতামত নেয়ার জন্য তুলে দেয়া হয়েছে।

বিবৃতি প্রদানকারীরা হলেন-অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, রামেন্দু মজুমদার, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক এমএম আকাশ, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক মনজুর হোসেন, ইলিয়াস কাঞ্চন, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক প্রমুখ।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী স্বাক্ষরে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য বিনামূল্যে বই প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘গাইড বই’ ব্যবহারের প্রবণতা কিছুটা হলেও কমেছে।

একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় সংগত কারণেই শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষা ও বইয়ের বোঝা কমানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার প্রতিফলন আমরা লক্ষ্য করেছি ২০২১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখায়’ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা রাখা হয়নি-এটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নাগরিক সমাজের একটি অন্যতম প্রত্যাশিত বিষয় ছিল।

এমনকি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষাকে ‘পাবলিক পরীক্ষা’ হিসাবে ধরা হয়নি। এর পরিবর্তে বলা হয়েছে স্থানীয়ভাবে উপজেলা, পৌরসভা বা থানা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাকে আমলে না নিয়ে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-কে পাশ কাটিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন-২০২১’ নামে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। ‘শিক্ষানীতি ২০১০ ও জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর নীতি ও অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

বিবৃতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলা হয়, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এবং প্রতিভার উন্মেষ ঘটানোর জন্য শুধু পরীক্ষানির্ভর, সনদসর্বস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর করা, গাইড বই ও প্রাইভেট টিউশনকে বৈধতা দেওয়া এবং কোচিং বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার নানা অপচেষ্টা আমরা আগেও লক্ষ্য করেছি এবং প্রতিবাদও জানিয়েছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে সহায়তার সুযোগ সৃষ্টি করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here