আগরতলায় একাত্তরের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলায় ২০ নাগরিকের বিবৃতি

0
81

ভারতের আগরতলার চৌমোহনিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছিল। স্মৃতিস্তম্ভটি গত ৩ জুলাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানার পর দেশের বিশিষ্ট ২০ নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পাঠানো লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত তথা ত্রিপুরার মানুষের বিশাল সমর্থন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার কেন্দ্রস্থল পোস্ট অফিস চৌমোহনিতে ৪০ ফুট উঁচু শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ভারত ও বাংলাদেশের গণমানুষের অভিন্ন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সৌহার্দের অন্যতম প্রধান স্মৃতিচিহ্ন, যা দুই দেশের বীর শহীদদের সম্মিলিত রাখিবন্ধনের সাক্ষী।

স্মৃতি-বিজড়িত এই স্থান ঘিরে ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধরত গণমানুষকে ঐতিহাসিক ঋণবন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। এই স্মৃতিস্তম্ভটি সম্প্রতি বিলোপ করা হয়েছে বলে আমরা গণমাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছি। দুই দেশের রক্তরঞ্জিত সম্পর্কের ইতিহাস-জড়িত স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে ফেলায় আমরা ব্যথিত বোধ করছি। আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি যথাস্থানে স্ব-মহিমায় পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানাই। দুই দেশের মানুষের সম্পর্কের প্রতীকী স্মৃতিস্মারকসমূহ যথাযথ সংরক্ষণের প্রয়োজন বোধ করি।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন—লেখক ও ভাষা-সংগ্রামী আব্দুল গাফফার চৌধুরী, কথাসাহত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক অনুপম সেন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা ডা. সারওয়ার আলী, মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, সাংবাদিক আবেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেত্রী লায়লা হাসান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ খান বাদল, হাবীবুল আলম (বীর প্রতীক), একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুরুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবীব, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সংসদ সদস্য ও নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জাম নূর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here