অলস অর্থ উদ্ধার

0
60

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনার কার্যক্রম ঢিমেতালে চলার সংবাদ অনভিপ্রেত। উল্লেখ্য, স্বায়ত্তশাসিতসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে লাগাতে একটি আইন করেছে সরকার। এটি হলো ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন’, যা ২০২০ সালে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এই আইনের আওতায় সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব পরিচালনা, স্বঅর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে যে পরিমাণ অর্থ লাগে, তা তাদের তহবিলে জমা রাখার পাশাপাশি আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ অর্থ সংস্থাগুলো সংরক্ষণ করতে পারবে। এছাড়া সংস্থার কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ সংরক্ষণের পর যে টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে, তা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। আইনটি পাশ হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ৬১টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনতে পারলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তা ব্যয় করা যাবে, তা বলাই বাহুল্য। আশঙ্কার বিষয় হলো, এরই মধ্যে অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলছে। উদ্বৃত্ত অর্থ উদ্ধার না করা হলে এক সময় তা অনুদান ও ভর্তুকি হিসাবে চলে যাবে, যা মোটেই কাম্য নয়। বস্তুত উদ্বৃত্ত টাকাগুলো বিভিন্ন ব্যাংকে পড়ে আছে। কাজেই এগুলো পুরোপুরিভাবে উদ্ধার হলেও ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের আর্থিক খাতে কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না বলেই মনে হয়। গত দুই অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিলে মোট অলস টাকার পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, টাকাগুলো ব্যাংকে রেখে বড় অঙ্কের সুদ নেওয়া হচ্ছে। এমন কী এ ধরনের সুদ আয় হিসাবে দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা দেওয়ার মতো ঘটনাও ইতঃপূর্বে ঘটেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় উদ্বৃত্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হতো না। শুধু তাই নয়, এ টাকা দিয়ে নতুন কোনো প্রকল্পও গ্রহণ করা হতো না। এ অবস্থায় আইনি বাধ্যবাধকতায় টাকা উদ্ধার হলে তা ঘাটতি বাজেট পূরণে যেমন সহায়তা করবে, তেমনি সরকারের অনেক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কাজ, যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না, সেখানে এ অর্থ ব্যয় করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here