মালদ্বীপকে আটকে রাখতে পারল না বাংলাদেশ

0
94

র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে ৩১ ধাপ এগিয়ে মালদ্বীপ ফুটবল দল। মাঠটাও তাদের। যে কারণে দুই পাশের গ্যালারিতে মালদ্বীপের সমর্থনেই হইচই, চিৎকার।

এমন প্রতিকূল পরিবেশেও প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের ঠেকিয়ে রাখে জামাল ভূঁইয়ারা। লাল-সবুজের প্রাচীর ভেঙে আর গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী জিকোকে পরাস্ত করে একবারও জালে বল জড়াতে পারেনি মালদ্বীপের স্ট্রাইকাররা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপকে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। দুটি গোল হজম করতে হয়েছে।

মালদ্বীপের রাজধানী মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দুটি গোলের একটি করেছেন হাজমা মোহাম্মদ। অন্যটি সফল পেনাল্টি কিকে করে ব্যবধান বাড়ান আলী আশফাক।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল বেশি। জাল সুরক্ষিত রাখতে ডি-বক্সের আশপাশে বেশ কয়েকটি ফাউল করেছে বাংলাদেশ, যার ফলে কয়েকটি ফ্রি কিক পায় মালদ্বীপ। তবে তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরাও। প্রতি আক্রমণে কয়েক বার উঠেছে মতিন-বিপুলরা। কিন্তু সেসব আক্রমণ ভীতি ছড়াতে পারেনি মালদ্বীপ শিবিরে।

মতিন মিয়া ও বিপলু কয়েক বার বল নিয়ে বক্সের মধ্যে প্রবেশ করলেও লক্ষ্যে ভালো শট নিতে পারেননি।

তবে ২৯ মিনিটে বিপদ ঘটতে পারত বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার আলী আশফাক দুর্দান্ত স্কয়ার পাস দিয়েছিলেন বাঁ দিকে থাকা নিহান হোসেনের উদ্দেশে। সাদউদ্দিন পথ আগলে দাঁড়ানোয় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি নিহান। বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।

এর আগে ২১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার নেওয়া কর্নার কিকে বলার মতো কিছুই ছিল না। ডিফেন্ডাররা ফেরানোর পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দূরপাল্লার ভলি উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে।

এদিকে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডার আহত হওয়ায় তারা প্রথমার্ধেই একজন খেলোয়াড় বদল করে। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে কোনো খেলোয়াড় বদল করেনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আশফাকের বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে জাল সুরক্ষিত রাখেন বাংলাদেশের ত্রাতা জিকো।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে ৫৫তম মিনিটেই দুর্দান্ত এক গোল করে মালদ্বীপকে লিড এনে দেন হামজা মোহাম্মদ। ৭৪তম মিনিটে সফল স্পটকিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আলী আশফাক।

বক্সের মধ্যে মিডফিল্ডার সোহেল রানা মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। চতুর ফরোয়ার্ড পড়ে গিয়ে পেনাল্টি আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজিয়েছেন সৌদি রেফারি। আলী আশফাক আলতো শটে ডান পাশ দিয়ে জিকোকে পরাস্ত করেন।

শেষ দিকে যোগ করা ৩ মিনিট সময়ে বাংলাদেশ গোলে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ ছেড়ে উপরে উঠে আসে জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণও। শেষ মিনিটে জুয়েল রানার দুর্দান্ত এক চেষ্টা ছিল দেখার মতো।

কিন্তু মালদ্বীপের জালে আর বল জড়ানো গেলে না। ফলে ২-০ গোলে জয় নিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ৩ পয়েন্ট পেল মালদ্বীপ।

এ ফলাফলের পর বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নেপাল।

নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরে মুকুট ধরে রাখার মিশন শুরু করা মালদ্বীপের দুই ম্যাচে পয়েন্ট ৩। দুই ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে সাফের রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। তিন ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে শ্রীলঙ্কা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here