২৩-এর ডিসেম্বরে ভোটের প্রস্তুতি

0
3
২৩-এর ডিসেম্বরে ভোটের প্রস্তুতি

 

আগামী বছরের ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রেখে আজ বুধবার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রকাশ করবে ইসি। এ ছাড়া ভোটে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সব দলের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তার মধ্যেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে কোন দল অংশ নেবে, আর কোন দল নেবে না- সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে সময়মতো ভোট করতে চায় ইসি। আজ বেলা ১১টায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ সময় অন্য কমিশনার ও ইসি সচিবও উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, বিদায়ী কেএম নূরুল হুদা কমিশন ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল, বর্তমান কমিশনও তার আদলে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। রোডম্যাপে নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, আইন সংস্কার, নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক

দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের শর্তপূরণের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এ ছাড়া ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম এবং পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন ও নবায়ন কার্যক্রমের বিষয়টি উল্লেখ আছে।

রোডম্যাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো কখন শেষ করা হবে এবং ইসির কোন শাখা তা বাস্তবায়ন করবে, এর সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চ্যালেঞ্জসমূহ এতে উল্লেখ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা সৃষ্টি, প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন, অর্থ ও পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ, সব দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি অনুসরণ, নিয়মতান্ত্রিক প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, পুলিশ ও প্রশাসন কর্তৃক বাধার সম্মুখীন না হওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা।

নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসির পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে; মেট্রোপলিটন ও জেলা সদর আসনগুলোয় এ মেশিনে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পরদিন থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স।

রোডম্যাপে নির্বাচনের আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ) এবং আচরণবিধিতে সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যতদূর সম্ভব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের জনসভা করার স্থান, তারিখ ও সময় শিডিউল করে দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।

রাজনৈতিক দলের বিষয়ে রোডম্যাপে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো বিধিবিধানের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করে দেখতে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর নতুন দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে আগামী জুনে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে আইন সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত করা হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন সংস্কারের কাজ শেষ করা হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের খসড়া তালিকা তৈরি করা হবে মার্চে। আগামী বছর মে মাসে শুনানি শেষে জুনে চূড়ান্ত সীমানার গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনে প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত সফটওয়্যার আগামী বছরের আগস্টের মধ্যে শেষ করা হবে। এ ছাড়া জুলাইয়ে খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি থাকলে আগস্টে তা গ্রহণ করবে কমিশন। ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প নিয়ে আগামী সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। গতকাল নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সপ্তম ‘কমিশন সভা’ শেষে তিনি এ কথা জানান। এর আগে বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন ভবনে সভা শুরু হয়। ইভিএম কেনার প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবের খসড়া তোলা হয় সভায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্য কমিশনার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব জানান, সভায় ইভিএমের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সোমবার পরবর্তী সভা হবে। ওই সভায় ইভিএমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘ইভিএমের বাজারদর যাচাই করার জন্য কয়েকদিন আগে কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল। তারা এখনো তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি। যাচাই শেষ হলে তারা পরবর্তী কমিশন সভায় সেটি তুলে ধরবেন। এরপর কমিশন সেটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সেই হিসাবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে ভোট অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here