অবৈধদের নামিয়ে ১৮ ছাত্রকে হলে তুলল প্রশাসন

0
21

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অবৈধদের নামিয়ে বৈধ ১৮ শিক্ষার্থীকে হলে তোলা হয়েছে।

শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে এসব শিক্ষার্থীকে তাদের বরাদ্দকৃত রুমের সিটে তুলে হল প্রশাসন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিছানাপত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করে। কিন্তু অবৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না ছাড়ায় তারা হলে উঠতে পারছিলেন না।

পরে রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সব হলের প্রাধ্যক্ষদের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। এরপর একে একে অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দেওয়া শুরু হয়।

ভোর ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে।

তিনি জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে হল থেকে বের করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। অবৈধভাবে যারা বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট দখল করেছিল তাদের নামিয়ে দিয়েছি। কারণ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় চলমান শিক্ষার্থী দেখে। শিক্ষাজীবন শেষ হলে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষার্থীর সিট বাতিল হয়ে যাবে। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে এটাই চিরাচরিত নিয়ম। এরপরও কেউ থাকলে চাইলে অন্যর অধিকার খর্ব করে থাকতে হবে।

হল সূত্রে জানা গেছে, হলে সিট বরাদ্দ পাওয়া আবাসিক অন্তত ৪৪ শিক্ষার্থী হলে উঠার জন্য হল গেটে অবস্থান করেন। যারা হলে না থেকেও হলের ভাড়া দেন। অন্যদিকে অনাবাসিক ও অবৈধ শিক্ষার্থীরা ৭২টি সিট দখল করে আছেন। এরই প্রেক্ষিতে অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় হল প্রশাসন।

এর আগে গত ২৩ জুন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, হলে অবস্থান করা অনাবাসিক, বহিরাগত ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী তার সমস্যার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ২৮ জুনের মধ্যে অভিভাবকসহ হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া কোনো বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে বাধা দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ১৬ জুন একজন অবৈধ শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র হল প্রশাসন জব্দ করায় হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম ওসমান হলের ফটকে তালা দেন। এই নেতাও অনাবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এরপর থেকেই হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং কঠোর অবস্থানে যায়। অবৈধ শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদ একাধিক সভা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here