গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

0
22

মার্কেসকে নিয়ে সালমান রুশদির এ লেখাটি খুঁজে পেয়েছিলাম My Favorite Literary Encounters : Gabriel Garcia Márquez শিরোনামে ৯ ডিসেম্বর ২০২১ সালে প্রকাশিত এক ওয়েবসাইটে। পরে গত বছর প্রকাশিত রুশদির Language of truth নামক প্রবন্ধে Gabo and I নামে মার্কেসকে নিয়ে একটি লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দেখে কৌতূহলবশত দুটি লেখা মিলিয়ে পড়তে গিয়ে লক্ষ করলাম গ্রন্থভুক্ত দীর্ঘ লেখাটি মূলত মার্কেসের Hundred Years of Solitude বইটি নিয়ে, কিন্তু প্রসঙ্গে সেখানে এ ছোট্ট লেখাটির দুটি অংশ ঈষৎ পরিবর্তিত রূপে উল্লিখিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত নই অনূদিত এ লেখাটি রুশদি এ অনলাইন পত্রিকার জন্য আলাদাভাবে লিখেছিলেন কিনা। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে

https://salmanrushdie.substack.com/p/my-favorite-literary-encounters-gabrielsr নামক এই ওয়েবসাইটে। বাংলাভাষার পাঠকরা কিংবদন্তিতুল্য এ দুই লেখকের নাম ও কাজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। তারা দুজনই একই সময়ে বাস করলেও, মুখোমুখি দেখা হয়নি কখনোই। যদিও দুজনই পরস্পরের লেখার খোঁজখবর রাখতেন। ছোট্ট এ লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন

বছর বিশেক আগে আমি মেক্সিকো শহরে ছিলাম, সেখানে কয়োয়াকান-এ অবস্থিত কার্মেনের বাড়িতে নৈশভোজে মিলিত হয়েছিলাম বন্ধু ও লেখক কার্মেন বউইয়োসা আর কার্লোস ফুয়েন্তেসের সঙ্গে। গার্সিয়া মার্কেসের নাম উচ্চারিত হতেই কার্লোস লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের জগতে গাবোর বিরাট উপস্থিতি সম্পর্কে রসিকতা করে বললো, ‘তুমি হয়তো জান, One Hundred Years of Solitude-এর কথা না-ভেবে আমাদের কারোর পক্ষেই Solitude শব্দটা এখন ব্যবহার করা অসম্ভব। আমার খুবই আশঙ্কা যে one hundred years শব্দবন্ধটা ব্যবহার করাও অচিরেই অসম্ভব হয়ে পরবে।’

জানতে চাইলাম, গার্সিয়া মার্কেস শহরে আছেন কিনা-এ সময়টা তিনি মূলত মেহিকো শহরেই থাকতেন, জবাবে ফুয়েন্তেস বললেন, ‘না, সে এখন হাবানায়, তার জানেদোস্ত ফিদেলের সঙ্গে দেখা করতে গয়েছে।’ ফুয়েন্তেস বললেন, ‘দুঃখজনকভাবে তুমি কাস্ত্রোর কাছে হেরে গেছ।’ তারপর তিনি আরও বললেন, কী অদ্ভুত ব্যাপার যে পৃথিবীতে যত লেখক আছেন, একমাত্র আপনাদের দুজনেরই পরস্পরের সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি।’-এই বলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

উনি যখন ফিরে এলেন, তখন আমাকে ইশারায় তার অনুসরণ করতে বললেন। ‘তোমার সাথে ফোনে কেউ কথা বলতে চাচ্ছে,’ বললেন তিনি, ‘কলটা তোমার সত্যিই রিসিভ করা উচিত।’ তিনি হাবানায় কল করে গার্সিয়া মার্কেসকে বলেছেন যে আমি এ মুহূর্তে ফুয়েন্তেসের সঙ্গে আছি। এবং গাবো আমার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছেন।

আমার স্প্যানিশ একেবারেই দুর্বল, তবে লোকজন যদি খুব বেশি জটিল শব্দ ব্যবহার না করে ধীরে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলে, তাহলে ভাষাটা বুঝতে পারি। গার্সিয়া মার্কেস যদিও দাবি করতেন (আমার মতে তা ঠিক নয়) যে তিনি ইংরেজি খুব কমই জানেন। আমরা দুজনই প্রায় সমান দক্ষতায় কথা বলেছিলাম ফরাসিতে। অতএব, আমাদের কথাবার্তা এই তিন ভাষাতেই চলছিল।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আমার এ কথাবার্তার স্মৃতি বলছে, আমাদের মধ্যে ভাষার সমস্যা ছিল না। আমার মনে পড়ছে, আমরা পরস্পরের সঙ্গে একেবারে উষ্ণতা ও খোলামেলাভাবেই কথা বলে যাচ্ছিলাম। আমরা যখন কথা বলছিলাম, তখন তিনি আমার সম্পর্কে যা বললেন তা ছিল অন্য কোনো লেখকের কাছ থেকে আমার জীবনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তারিফ।

‘আমার যখন বয়স হয়েছে,’ তিনি বললেন, ‘তখন আমি স্প্যানিশ ভাষার বাইরে তেমন একটা পড়িনি। তবে ইংরেজি ভাষার দুজন লেখক আছেন যারা কী লিখছেন তা আমি জানতে চাই। তাদের একজন জে এম কোয়েৎজি আর অন্যজন আপনি।’

পক্ষান্তরে আমিও তার কাজ সম্পর্কে এ পর্যন্ত লিখে এবং বক্তৃতা দিয়ে সেই প্রশংসার ঋণ শোধ করার চেষ্টা করেছি।

মুখোমুখি আমাদের কখনোই দেখা হয়নি। তবে কার্লোস ফুয়েন্তেসের বদৌলতে, অন্তত ফোনে আমাদের

কথাবার্তা হয়েছিল।

আজ তারা দুজনই প্রয়াত। আমরা সবাই যারা তাদের উৎসাহী পাঠক, তারা এ দুজনের অভাব অনুভব করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here